| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যাম আমার শুধু একটা কারণেই ভালো লাগতোঃ পাওয়ার ন্যাপের জন্য। সারাদিন ক্লাস নিয়ে ক্লান্ত হয়ে, দৌড়াদৌড়ি করে বাসে উঠার পর প্রায় সময়-ই ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসতো। হ্যাঁ, গরমের সমস্যা থাকত, ঝাঁকি থাকতো কিন্তু এসব কোন কিছুই পাওয়ার ন্যাপকে আটকাতে পারতো না। মাঝে মাঝে এমন হত যে মাত্রই চোখ লেগে এসেছে আর বাসার কাছেও চলে আসছি; তখন মনে হত আজকে আরেকটু জ্যাম থাকলে কি সমস্যা হত, অন্যসময় তো জ্যাম থাকে।
পাওয়ার ন্যাপের যেমন সুবিধা ছিল, তেমনি অসুবিধাও ছিল। কখনো কখনো পাওয়ার ন্যাপ গভীর ঘুমে পরিণত হতো; ফলাফল স্বরূপ মেরুল এ নামার কথা থাকলেও নামতাম গিয়ে রামপুরা ব্রিজ, রামপুরা কাঁচাবাজার এমনকি আবুল হোটেল এ । কিন্তু এই সমস্যা আমাকে এক বিন্দু টলাতে পারেনি পাওয়ার ন্যাপ থেকে। মাথায় বুদ্ধি আসলো এমন একটা মোবাইল অ্যাপের যেটা গন্তব্যে পৌছার আগে সংকেত দিবে, কিন্তু খুঁজে দেখি ওইরকম অ্যাপ আছে। ডাউনলোড ও করলাম, কিন্তু আফসোস, অ্যাপ হয় অনেক আগে নোটিফিকেশান দেই, নয়তো পরে। ওইদিকে মাঝে মাঝে ছাত্ররা আসতো সফটওয়্যারের আইডিয়া নিতে। নিজের উদাহরন দিয়ে বুঝিয়েও কাউকে দিয়ে বানাতে পারিনি। আইডিয়া কিন্তু খারাপ না; কেও যদি এখনো ডেভেলপ করতে চান, বিস্তারিত বর্ণনার জন্য আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাকে শুধু অ্যাপ টা দিলেই হবে, আইডিয়া ফ্রি।
এই ছিল ঢাকার জীবন। এখন বলি সিডনিতে কিভাবে চলছে। এখানে আসছি বেশিদিন হয় নাই। এখানে মানুষ সব কিছু ঘড়ি ধরে করে মনে হয়; ট্রেন কখন আসবে সেটা দেখে বাসা থেকে বের হয়, মিটিং করে ঘড়ি দেখে; টয়লেটেও যায় বোধয় ঘড়ি দেখে। আমি অবশ্য এখনো ঘড়ি ধরে চলা শিখি নাই। যখন মন চায় স্টেশানে যাই, ট্রেন আসলে উঠে পরি, কিন্তু সেই দৌড়াদৌড়ি নাই, ক্লান্তি নাই; সেই পাওয়ার ন্যাপও নাই। এটাও একটা সমস্যা; কিভাবে উন্নত পরিবেশে পাওয়ার ন্যাপের ব্যবস্থা করা যায় সেটা নিয়ে গবেষণার দরকার আছে। কেও আগ্রহী থাকলে আমি রিসার্চ প্রপোজাল লিখায় সাহায্য করতে রাজি; আমাকে শুধু পাওয়ার ন্যাপের ফর্মুলাটা দিলেই হবে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে অক্টোবর, ২০১৮ সকাল ৮:২৬
রাজীব নুর বলেছেন: সিডনি!!!!
ভাগ্যবান আপনি।