| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইসলামী শরীয়তে সুন্নাহর গুরুত্ব ও তাৎপর্য:
ইসলাম কোন মানব রচিত জীবন ব্যবস্থা নয় বরং এটি একটি ওহী ভিত্তিক ও আল্লাহ প্রদত্ত ও তাঁর মনোনীত জীবন ব্যবস্থা। ইসলামী শরীয়তের মূলনীতি হল কুরআন ও সুন্নাহ। পবিত্র কুরআন যেমন ওহী প্রদত্ত, সুন্নাহও তেমনি ওহী। শরীয়তের এ দুটি মূলনীতি একটির সাথে অপরটি ওঁৎপ্রোতভাবে ভাবে জড়িত এ দুটির কোন একটিকে বাদ দিয়ে শরীয়তের কথা চিন্তা করার কোন অবকাশ নাই। কুরআন যেমনিভাবে আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ ওহী, ঠিক তেমনিভাবে হাদিসও কুরআনের ব্যাখ্যা হিসেবে প্রাপ্ত ওহী। কুরআনের কোন বিধানের উপর আমল করতে হলে হাদিস অবশ্যই জরুরি। হাদিস ছাড়া কুরআন অনুযায়ী আমল করা কোন ক্রমেই সম্ভব নয়।
এক- আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু হতে হাদিস বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
﴿دعوني ما تركتكم إنما أهلك من كان قبلكم لكثرة سؤالهم واختلافهم على أنبيائهم فإذا نهيتكم عن شيء فاجتنبوه وإذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم﴾
“আমি তোমাদের যে অবস্থায় রেখে যাই তার উপর তোমরা অটুট থাক। তোমাদের পূর্বের উম্মতরা অধিক প্রশ্ন করা এবং নবীদের সাথে বিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। আমি যখন তোমাদের কোন বিষয়ে নিষেধ করি, তোমরা তা হতে বিরত থাক। আর যখন তোমাদের কোন বিষয়ে নির্দেশ দেই তা যথা সম্ভব পালন করতে চেষ্টা কর”। [বুখারী, হাদিস:৭২৮৮, মুসলিম: 1337]
দুই- ইরবাদ ইবনে সারিয়া রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
﴿عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين عضوا عليها بالنواجذ﴾ رواه أبو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح
“তোমরা আমার সূন্নাতকে আঁকড়ে ধর এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সূন্নাতকে আঁকড়ে ধর। তার উপর তোমরা অটুট থাক। ইমাম আবু দাউদ, ইমাম তিরমিযি হাদিসটিকে হাসান বলে আখ্যায়িত করেন”। [তিরমিযী, হাদিস নং: ২৬৭৬, ইবনে মাজাহ,হাদিস নং: ৪৭]
তিন- আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبى ، قيل: ومن يأبى يا رسول الله؟ قال: من أطاعني دخل الجنة ومن عصاني فقد أبى رواه البخاري
“আমার উম্মতের সকল ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে কেবল সে ছাড়া, যে অস্বীকার করল; সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! অস্বীকারকারী কে? তখন তিনি বললেন: যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্য, সে ব্যক্তিই অস্বীকার করে।”[বুখারী, আস-সহীহ: ৬ / ২৬৫৫ / হাদিস নং- ৭২৮০]
সুতরাং যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবাধ্য হয় এবং তাঁর সুন্নাহ’র বিরুদ্ধাচরণ করে, সে ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করতে অস্বীকার করে; আর আবদ্ধ হয় জাহান্নামের প্রচণ্ড হুমকির জালে।
চার- আবু রাফে রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لا ألفين أحدكم متكئا على أريكة يأتيه الأمر من أمري مما أمرت به أو نهيت عنه فيقول لا أدري: ما وجدناه في كتاب الله اتبعناه حديث صحيح رواه الشافعي ،
“তোমাদের কাউকে কাউকে দেখা যাবে, সে হেলান দিয়ে বসে আছে, কিন্তু তার নিকট যখন আমার কোন আদেশ- যে বিষয়ে আমি আদেশ দিয়েছি বা কোন নিষেধ- যে বিষয়ে আমি নিষেধ করেছি তা পৌঁছবে তখন সে বলবে, এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি তাই মানবো”।
ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশের অনুসরণ করা মানুষের উপর ফরয প্রমাণ করে রাসূলের সূন্নাত আল্লাহর পক্ষ থেকেই গৃহীত। যে ব্যক্তি রাসূলের সূন্নাতের অনুসরণ করল, সে আল্লাহর কিতাবেরই অনুসরণ করল। কারণ, আমরা এমন কোন প্রমাণ পাই নাই যাতে আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাদের শুধু আল্লাহর কিতাবের অনুসরণের জন্য বাধ্য করেছেন। বরং সব জায়গায় আল্লাহ তা’আলা প্রথমে তার কিতাব তারপর তার নবীর সূন্নাতের অনুসরণের কথা বলেছেন।
(চলবে...) 
©somewhere in net ltd.