নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বদমেজাজী মন্দ লোক-www.meetmamun.com

ডি মুন

এস এম মামুনুর রহমান - www.meetmamun.com

ডি মুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

যে সিনেমাটি বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি আরো মানবিক করে তুলবে

২৩ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৪




কারুপ্পু দুরাই নামের আশি বছর বয়স্ক লোকটি আজ তিন মাস যাবত কোমায় শয্যাশায়ী। বাড়িতে একটি ছোট খাটের উপর নিথর পড়ে আছে তার দেহ। তার তিন ছেলে এবং দুই মেয়ে। এ পর্যন্ত তার চিকিৎসার পেছনে তারা বহু অর্থব্যয় করেছে কিন্তু কোনো ফল হয়নি। ছেলেরা কিংবা তাদের স্ত্রীরা কেউই আর এ বৃদ্ধের দায়িত্ব নিতে রাজি নয়। তাই শেষমেষ কারুপ্পু দুরাইয়ের সন্তানেরা ‘থালাইকুথাল’ প্রথানুযায়ী তাকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপর তার সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবে তারা।

রাতে তাকে মেরে ফেলার বিষয়টি নিয়ে ছেলেমেয়েরা আলাপ করছে। তার ছোট মেয়ে সিলভি কেঁদেকেটে তার ভাইদের কাছে বাবার জীবন ভিক্ষা চাইছে। ঠিক এমন সময় জ্ঞান ফেরে কারুপ্পু দুরাইয়ের। আস্তে আস্তে হেঁটে জানালার কাছে দাঁড়িয়ে সে শুনতে পায় তার প্রিয় সন্তানদের নিষ্ঠুর পরিকল্পনার কথা। প্রচণ্ড কষ্টে অসুস্থ আর অভুক্ত অবস্থায় তখনই নিজের বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সে। আর এরই সাথে শুরু হয়ে যায় কে ডি (K.D.) নামক সিনেমাটির গল্প।

ঠিক গল্প নয়, সত্যি। ২০১০ সালে তামিল নাড়ুর ভিরুধুনগর থেকে আশি বছরের বৃদ্ধ এক ব্যক্তি তার পরিবারের হাতে এভাবে ‘হত্যা’ হওয়ার কথা জানতে পেরে পালিয়ে যান। সেই ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই বানানো হয়েছে কে ডি নামের এই তামিল ভাষার সিনেমাটি। পরিচালকের নাম মধুমিতা।

অদ্ভুত শোনালেও তামিল নাড়ুর দক্ষিণাঞ্চলে বয়স্ক মানুষদের মেরে ফেলার ‘থালাইকুথাল’ নামক একটি প্রথাটি চালু ছিল। পরিবারের সদস্যরাই কখনো দারিদ্র্যের অযুহাতে, কখনোবা সম্পত্তি হাতে আনার জন্য বাড়ির বয়োবৃদ্ধ কর্তা ব্যক্তিকে থালাইকুথাল রীতি অনুসরণ করে মেরে ফেলত। এজন্য প্রথমে খুব ভোরে বয়স্ক লোকটির সারা শরীরে ও মাথায় তেল ডলে তাকে ‘তৈলস্নান’ করানো হতো। এরপর পর্যায়ক্রমে তাকে দশ থেকে বারোটি কচি ডাবের পানি খাওয়ানো হতো। এতে করে তার শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে স্বাভাবিকের অনেক নিচে নেমে যেত। এবং বয়স্ক শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় কিডনি-ফেইলিয়র, উচ্চমাত্রার জ্বর, ইত্যাদিতে লোকটি এক থেকে দুইদিনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করতো। এ উপলক্ষে মোটামুটি একটা ঘরোয়া উৎসবের আয়োজন করতো পরিবারের অনান্যরা। সামাজিক রীতি হিসেবেই এই ‘থালাইকুথাল’ পালিত হতো তামিল নাড়ুর দক্ষিণের অনেক অঞ্চলে। যদিও পরবর্তীতে সরকার এটাকে অবৈধ ঘোষণা করে।

নিষ্ঠুর অমানবিক এই বিষয়টিকেই দর্শকের সামনে তুলে এনেছেন পরিচালক মধুমিতা তার কে ডি সিনেমাটির মাধ্যমে।

বয়োজ্যেষ্ঠ বা প্রবীণ মানুষেরা বেশিরভাগ সময়ই অবহেলিত। বিশেষ করে তাদের চাওয়া-পাওয়া, ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয়গুলো নিয়ে তাদের সন্তানেরা ভাবতে চান না। সবাই নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও সংসার নিয়ে সুন্দর ও স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে দেখা যায় যে, বেশিরভাগ সময় বিয়ের পর বাবা-মাকে ছেলেমেয়েরা তাদের ব্যক্তিগত জীবন উপভোগের অন্তরায় বলে মনে করে থাকে। ফলে পিতামাতার সাথে সন্তানদের অবস্থানগত এবং একই সাথে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়। পিতামাতা বৃদ্ধ হলে তাদেরকে দেখাশোনা করার কেউ থাকে না। সন্তানেরা শুধু মাসে মাসে কিছু টাকা পাঠিয়েই সব দায়িত্ব শেষ করতে চান। বয়োজ্যেষ্ঠ বা প্রবীণ মানুষদেরকে সম্পদ হিসেবে তো দূরের কথা, তাদেরকে সাধারণ মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেয়ার মানসিকতাও অনেকের মধ্যে তৈরি হয় না। এর অন্যতম একটি কারণ সঠিক মূল্যবোধের অভাব ও পিতামাতার চিন্তাভাবনা, চাওয়া-পাওয়ার সাথে তাদের সন্তানদের চিন্তাভাবনা, চাওয়া-পাওয়ার পার্থক্য। পরবর্তীতে দেখা যায়, সন্তানদের তাদের পিতামাতার খোঁজ নেয়ার প্রয়োজন হয় পিতামাতার জীবনের শেষ মুহুর্তে সম্পত্তি বণ্টনের সময়।

যাহোক, সিনেমার গল্পে ফেরা যাক। কারুপ্পু দুরাই বাড়ি থেকে পালিয়ে হেঁটে, তারপর বাসে করে উপস্থিত হয় নতুন একটি জায়গায়। ঘুরতে ঘুরতে একসময় একটি মন্দিরে তার পরিচয় হয় কুট্টি নামের আট বছরের এক বালকের সাথে। পিতৃমাতৃহীন এই ছেলেটির একরোখা স্বভাব আর স্বতঃস্ফুর্ত কথাবার্তা ভালো লাগে কারুপ্পু দুরাইয়ের। ক্রমে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। কারুপ্পু দুরাই হয়ে ওঠে কে ডি। অন্যদিকে, দুরাইয়ের ছেলেরা তাদের অঞ্চলের এক দুঁদে গোয়েন্দাকে ভাড়া করে তাকে খুঁজতে। কারণ, সম্পত্তির দলিলে দরকার বাবার হাতের টিপসই।

সমস্ত জীবন ধরে যে সন্তানদের কারুপ্পু দুরাই বড় করে তুলেছে, তারাই আজ তাকে হত্যা করতে চায় সম্পত্তির অধিকার পেতে। সে অসুস্থ হতে পারে, কিন্তু সবকিছুর পরেও সে তো তার সন্তানদের বাবা। তাদেরকে বড় করে তুলতেই তো সারাজীবন পরিশ্রম করেছে সে। আর এখন তাদেরই কারণে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি থেকে পালিয়ে আসতে হয়েছে তাকে। এই অবর্ণনীয় দুঃখ আর হতাশার মধ্যে কুট্টি নামের ছোট্ট ছেলেটির সান্নিধ্য যেন মরুভূমির মধ্যে এক পশলা বৃষ্টির মতো। আমরা দেখতে পাই, কুট্টিকে সাথে নিয়ে নানান জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসেও কারুপ্পু দুরাই যেন আবার নতুন করে আশাবাদী হয়ে ওঠে। আট বছরের কুট্টিই তাকে দেখতে শেখায় নতুন এক জীবনকে, যা বিগত আশি বছর তার অদেখা ছিল। সেই সাথে আমরা দর্শকেরাও জড়িয়ে যাই এই সংবেদনশীল প্রবীণ মানুষটির জীবনের সাথে, যার সবচেয়ে পছন্দের খাবার মাটন-বিরিয়ানি। কুট্টিকে সাথে নিয়ে আমরাও বেরিয়ে পড়ি নতুন এক জীবন ও জীবনবোধের সন্ধানে।

অনেক পথ পাড়ি দিয়ে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে যে মানুষ, সে আসলে কি চায়? কতটুকু প্রত্যাশা বাকী থাকে জীবনের কাছে? সন্তান ও স্বজনদের কাছে? জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নতুন কিছু কি আবিস্কৃত হবে? নতুনভাবে উপভোগ করা যাবে কি প্রতিদিনকার একঘেয়ে এই জীবনকে? জীবনের শেষ সময়টাকে নিয়ে কিংবা যে মানুষগুলো সে সময়টা পার করছেন তাদেরকে নিয়ে, আমাদের কি নতুন করে ভাবা উচিত?

কে ডি নামের ১২৩ মিনিটের এই তামিল সিনেমাটি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজেছে। জীবনের দুটি পৃথক সময়কে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে দেখতে চেয়েছে এর অন্তর্গত রসায়ন। একদিকে আশি বছর বয়স্ক বৃদ্ধ, অন্যদিকে আট বছর বয়সের একটি ছোট্ট ছেলে। জীবনের এই দুই বিপরীত মেরুকে একসাথে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছেন পরিচালক মধুমিতা।

অসাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর আর দুর্দান্ত স্টোরিটেলিং – সবমিলিয়ে কে ডি একটি অনবদ্য সিনেমাটিক-এক্সপেরিয়েন্স দেবে আপনাকে। আর সেই সাথে বদলে দেবে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি। এবং এটি অত্যন্ত জরুরী; কারণ আপনি না চাইলেও জীবনসায়াহ্নের বিশেষ সময়টা আপনাকে পাড়ি দিতেই হবে। আর তাই যারা এখন পাড়ি দিচ্ছে জীবনের শেষ অধ্যায়, তাদের প্রতি আপনার মানবিকবোধ জাগ্রত হওয়া আবশ্যক।

মন্তব্য ২৬ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (২৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫১

রাজীব নুর বলেছেন: মুভিটি কোথাও হিন্দি ডাব পেলাম না। সাউথ ইন্ডিয়ান ভাষা তো বুঝি না।

২৩ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩২

ডি মুন বলেছেন: আমি নেটফ্লিক্সে ইংরেজি সাবটাইটেলে দেখেছি।

২| ২৩ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৬

ডার্ক ম্যান বলেছেন: চমৎকার একটা সিনেমার রিভিউ দিয়েছেন । রিভিউ পড়ে মনে হচ্ছে সিনেমাটি দেখতে হবে । সম্ভবত ৬০ বছর বয়স হলে মানুষ আবার নতুন করে জীবন শুরু করে ।
piku সিনেমাতে পিকু তার বাবার নানান ছেলেমানুষি অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছিল । বাবার মৃত্যু পর্যন্ত বাবাকে আগলে রেখেছিল ।

waiting নামে নাসিরউদ্দিন শাহ এর একটা সিনেমা আছে । সেটাও দেখতে পারেন ।

অনেক সিনেমার কথা হল । আপনি কেমন আছেন । এখনো কি পত্রিকা অফিসে আছেন । নতুন কোন বই কি বের করেছেন

২৩ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৬

ডি মুন বলেছেন: 'ওয়েটিং' দেখা হয় নাই। দেখতে হবে।

ভালো আছি। করোনার মধ্যে যেমন থাকা আর কি। বের হওয়া মানা তাই নানান টিভি সিরিজ আর মুভি দেখে সময় কাটাচ্ছি।
নতুন বই আর বের করিনি। তবে সামনে চিন্তা আছে একটা গল্পগ্রন্থ বের করার। আসলে নিজের লেখা নিয়ে নিজে সন্তুষ্ট হতে পারতেছি না বলে বই বের করা হচ্ছে না। আর প্রথম বই যেটা বের করেছিলাম ওটা এখন দেখলে বেশ অপরিপক্ক লাগে।
এ অবস্থা কবে কাটে দেখি।

আপনি ভালো আছেন তো ?

৩| ২৩ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৯

অপু তানভীর বলেছেন: এঈ প্রথাটার কথা আগে শুনেছিলাম । কি নিষ্ঠুর একটা নিয়ম । তবে খুব কাছ থেকে একটা ঘটনা শেয়ার করি ! আমাদের একদম কাছের প্রতিবেশি । পাশের বাড়ির কথা। বৃদ্ধ লোকটার দুই ছেলে আর চার মেয়ে সবারই বিয়ে হয়েছে ! ছেলেরা সাথেই থাকে । হঠাৎ একদিন প্যারালাইজড হয়ে গেলেন । দীর্ঘ নয় বছর একেবারে বিছানাতে পড়ে । বিছানাতেই খাওয়া দাওয়া বিছানাতেই বাথরুম । প্রথম প্রথম দেখতাম ছেলে ছেলের বউ, মেয়েরা বউ সবাই মিলেই তার দেখা শুনা করছে । এক বছর দুই বছর দিন বছর । শেষের বছর গুলোতে এসে সেই বৃদ্ধের ঘরে ঢোকা যেত না গন্ধে । কেউ আর এগিয়ে আসছে না । তার সেবা করতে করতে ক্লান্ত হয়েছে। তখন তার ছেলে মেয়ে বউদেরই এইমনভাব ছিল যে বুড়ো মারা গেলে ভাল হয় ! আমাদের সমাজে এই নিয়ম থাকলে আমি নিশ্চিত তারা এই প্রথার প্রয়োগ করতো ! বাস্তব খুবই নিষ্ঠুর !

সাউথের একশন সিনেমা গুলো বাদ দিলে অন্য যেকোন সিনেমা গুলো তৈরি হয় সেগুলোর কাহিনী সবই খুবই চমৎকার হয় । সিনেমা টা দেখার ইচ্ছে জাগলো ।

ইয়ে মানে ফেসবুক কি আর ওপেন করবেন না ? না ওপেন করলে মেসেঞ্জারে আপনার নাম্বার দিয়েন ! একেবারে বিছিন্ন হয়ে গেলে কেমন দেখায় !!

২৩ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৭

ডি মুন বলেছেন:
বৃদ্ধ বয়সটাকে আমি ভীষণ ভয় পাই। অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে নির্মম কিছু আর নাই।

আপনার প্রতিবেশির ঘটনাটা আসলেই কষ্টের। শরীর অক্ষম হলে বেশিরভাগ সময়েই বেঁচে থাকাটা মরে যাওয়ার চেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। তামিলনাড়ুর দক্ষিণে এখনো এমন প্রথা চালু আছে। ওদের প্রায় ২৬ রকম পদ্ধতি আছে বৃদ্ধদের এভাবে মেরে ফেলার। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানেরা সম্পত্তি দখলের জন্য এই থালাইকুত্থাল পদ্ধতি ব্যবহার করে। মানুষ বড়ো বিচিত্র।

আমি দারুণ কিছু সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি দেখলাম। একেবারে অন্যরকম। যেমন গল্প, তেমন নির্মান। হলিউড, বলিউডও ওদের সিনেমার কাছে নস্যি। বিশেষত মালায়ালাম, আর তেলেগু অফবিট মুভিগুলোর কাছে।

ফেসবুক, মেসেঞ্জার এবছর আর ব্যবহার করবো না। শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপে আছি। নক দিচ্ছি আপনাকে। যোগাযোগ থাকবে ইনশাআল্লাহ।

৪| ২৩ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১২

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

৫| ২৩ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২১

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: দারুন রিভিউ মুভি দেখার আকর্ষন বাড়াল বৈকি!

গত কয়েকদিন একটা ভিডিও ক্লিপ ঘুরছে.. ইন্ডিয়ার
এক ছেলে হাসপাতালে বৃদ্ধ পিতাকে হত্যা করার চেষ্ট করছে..
খুব সম্ভব ঐ গোত্রেরই কেউ হবে!
বিভৎস এক প্রথা বৈকি!

২৩ শে মে, ২০২০ রাত ৮:৩০

ডি মুন বলেছেন: আসলেই বীভৎস আর অমানবিক প্রথা।

৬| ২৩ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এই পোস্টে ডার্ক ম্যান আপনার কথা এবং মাহমুদ ভাইয়ের কথা স্মরণ করেছিলেন। আমি দুঃখিত, ওখানে কমেন্ট করতে যেয়ে আপনাদের কথা কিছু হাইলাইট করবো ভাবলেও শেষে গিয়ে ভুলে গিয়েছিলাম। মাঝে মাঝে পুরোনো পোস্টে গেলে আপনার মন্তব্যও চোখে পড়ে।

এ বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি আমার বাবা মারা গেছেন। তার আগে ৩/৪ মাসের মধ্যে দুই দফায় বাবার স্ট্রোক করেছে, একবার দেড় মাস, আরেক বার ২৫ দিনের মতো বাবাকে আমার কাছে রেখে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। জীবনের খুব নিষ্ঠুর কিছু বাস্তবতা বোঝার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। আমার ঘরে সৎ মা এবং সেই ঘরে ৩ ভাই আছে। পুরো বিষয়টা আমি ক্লিয়ার করে বলছি না, শুধু এটুকু বলছি, একসময় মনে হয়েছে বাবা শুধু আমারই সম্পদ, এর দায়-দায়িত্ব আর কারো নেই। উপরে অপু তানভীরের কথাটা ঘুরিয়ে বলতে হয়- মনে হলো, বাবা যত তাড়াতাড়ি বিদায় নেবে, সবাই তত তাড়াতাড়িই যেন ফ্রি হয়ে যাবে। মানুষ মরণশীল। বাবা চলে গেছেন। বাবার মৃত্যুপূর্ব অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক লেসন দিয়ে গেছে। পৃথিবীতে কোনো মানুষের আপন বলতে যদি থেকে থাকে, সে হলো মা। একমাত্র মা-ই তার সন্তানকে যে-কোনো অবস্থায় বুকে আঁকড়ে রাখবে। বাকিরা অসুস্থ মানুষকে আপদ ভাববে, যত তাড়াতাড়ি এই আপদ শেষ হয়, সেই কামনায় বিভোর থাকে।

ভারতের দক্ষিণের 'থালাইকুথাল' প্রথার কথা জেনে আঁতকে উঠেছি। একটা সভ্য সমাজে এরকম নিষ্ঠুর ভয়াবহ প্রথা থাকতে পারে না। তবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে জেনে স্বস্তি পাচ্ছি।

এরকম প্রথা না থাকলেও ওরকম কাজ যে হয় না তা তো না। আমাদের মানবতা চরম নিকৃষ্ট অবস্থানে পৌঁছে গেছে, করোনায় মৃত বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানদের অমানবিক আচরণের কথা জানতে পেরে।

ব্লগে ফিরতে দেখে ভালো লাগলো ডি মুন ভাই। শুভেচ্ছা রইল।

ইদ মোবারক।


২৩ শে মে, ২০২০ রাত ৮:৪২

ডি মুন বলেছেন: ডার্ক ম্যান ভাইয়ের পোস্ট দেখলাম। ধন্যবাদ আপনাকে।

আপনার মন্তব্য পড়ে মন খারাপ হয়ে গেল। কি বলব বুঝতে পারছি না।পিতামাতা বৃদ্ধ হলেই আসলে সন্তানদের আসল চরিত্রটা ধরা যায়। সবাই নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। তাদের কথা মনে রাখার সময় কই। আর সম্পত্তি যদি আগেই বন্টন হয়ে যেয়ে থাকে তাহলে তো পিতামাতার মৃত্যুতেও সন্তান উপস্থিত থাকার প্রয়োজন মনে করে না।
আপনার বাবার জন্য আপনার পরিশ্রম নিশ্চয়ই বৃথা যায়নি। মৃত্যুর সময় আপনাকে তো তিনি পাশে পেয়েছেন। শেষ মুহুর্তে পিতামাতাকে সেবার করার সুযোগ ক'জন পায়! আল্লাহ উনাকে জান্নাত নসিব করুন।

থালাইকুত্থাল প্রথার কথা শুনে আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটা বুঝি মধ্যযুগীয় কোনো প্রথা। কিন্তু যখন জানলাম এটা এখনও এই একবিংশ শতাব্দীতেও চলছে তখন রীতিমতো আঁতকে উঠেছিলাম। এটাও সম্ভব !!!

যাহোক, মানুষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক, এটাই কামনা।



৭| ২৩ শে মে, ২০২০ রাত ১০:০৪

রাজীব নুর বলেছেন: গতকাল 'আমীষ' মুভিটা দেখলাম।
আপনি দেখেছেন?

২৩ শে মে, ২০২০ রাত ১০:২৫

ডি মুন বলেছেন: না। দেখিনি এখনো।
সামুতে একজন রিভিউ দিয়েছে দেখলাম।
দেখতে হবে মুভিটা।

২৪ শে মে, ২০২০ রাত ১২:৪২

ডি মুন বলেছেন: 'আমিষ' মুভিটা দেখলাম। ভালো লাগে নাই আমার কাছে।
পুওর স্টোরি এন্ড মেকিং। অযথা সময় নষ্ট।

৮| ২৪ শে মে, ২০২০ রাত ১২:৫১

ডার্ক ম্যান বলেছেন: আর দুই তিন বছর অপেক্ষা করলে আমি হয়তো হেল্প করতে পারবো ।
মাহমুদ পাগলা কয় থাকে???
01632081988 একটা মেসেজ দিয়েন

২৪ শে মে, ২০২০ রাত ৮:৫৪

ডি মুন বলেছেন: পাগলা এখন নারায়ণগঞ্জে থাকে। তিনি এখন নারায়ণগঞ্জের নারায়ণ।
ঠিকাছে, আপনাকে মেসেজ দিচ্ছি।

৯| ২৪ শে মে, ২০২০ রাত ১:৪৫

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
চমৎকার রিভিউ দিয়েছেন
সিনেমাটার অর্ধেক দেখা
হয়ে গেল। বাকীটা না দেখলেও
আফসোস রইবেনা। আপনাকে ধন্যবাদ

২৪ শে মে, ২০২০ রাত ৮:৫৪

ডি মুন বলেছেন: ধন্যবাদ।
সিনেমাটা মিস করবেন না।

১০| ২৪ শে মে, ২০২০ রাত ২:২১

কল্পদ্রুম বলেছেন: চমৎকার রিভিউ। আধুনিক রাষ্ট্রে একই রকম ইউথেনিশিয়া আইনের চল আছে। থালাইকুথাল প্রথায় কি বৃদ্ধের অনুমতি নেওয়া হতো?

২৪ শে মে, ২০২০ রাত ৯:০৮

ডি মুন বলেছেন: বৃদ্ধের অনুমতি থাকে না।কারণ তারা বেঁচে থাকতে চান।
পরিবারের সদস্যরা মিলেই এই থালাইকুথাল এর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। এর পেছনে অর্থনৈতিক কারণ জড়িত।

নিচের লিংকগুলো দেখতে পারেন।

১। 'Thalaikoothal': A gruesome tradition of mercilessly killing elderly in India

২। End-of-Life Practices in Rural South India: SocioCultural Determinants

১১| ২৪ শে মে, ২০২০ রাত ৩:০৬

উম্মে সায়মা বলেছেন: দেখতে হবে তো মুভিটা :)

২৪ শে মে, ২০২০ রাত ৯:০৯

ডি মুন বলেছেন: দেখে ফেলুন। ধন্যবাদ।

১২| ২৪ শে মে, ২০২০ রাত ৩:৩৯

অন্তরন্তর বলেছেন: বাহ খুব সুন্দর রিভিউ। দেখার চেষ্টা থাকবে। তবে এমন একটা প্রথা শুনে অবাক হলাম এবং খুব কষ্ট লাগল। অনেক দিন পর আপনাকে দেখে ভাল লাগ। ঈদ মোবারক।

২৪ শে মে, ২০২০ রাত ৯:১০

ডি মুন বলেছেন: হ্যাঁ। অমানবিক এক প্রথা।
ঈদ মোবারক

১৩| ২৪ শে মে, ২০২০ দুপুর ২:৪৯

রাজীব নুর বলেছেন: সাব দিয়ে দেখে আরাম পাই না।
হিন্দি ডাব আসুক তার পর দেখব।

২৪ শে মে, ২০২০ রাত ৯:১১

ডি মুন বলেছেন: ঠিকাছে।

ঈদ মোবারক

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.