| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
২০২৪ এর ৫ই অগাস্টে গনঅভ্যূত্থানে স্বৈরাচার পতনের পর অভ্যূত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র নেতারা বহুল প্রত্যাশিত রাজনৈ্তিক দল এনসিপি গঠন করে। পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বীপরিতে বহুকাল ধরেই একটা তৃতীয় শক্তির উত্থান আকাংখিত ছিল আমাদের দেশে। সেই জনআকাংখার উপর ভিত্তি করেই এনসিপির রাজনৈতিক ময়দানে অনুপ্রবেশ। ২০২৪ এ বৈষম্যবিরোধি ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী নাহিদ , আসিফরা ঢাবির প্রচলিত কোন রাজনৈ্তিক দলের লেজুরভিত্তিক ছাত্র সংগঠন থেকে আগত নয়। ছাত্রশক্তি নামে একটা ভিন্ন ধারার রাজনৈতিক প্ল্যটফর্ম তারা ক্যম্পাসে পড়াশোনাকালীন সময়ে গঠন করে। এই ছাত্রশক্তিই মুলত বৈষম্যবিরোধি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায় যে , বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে একটা ভিন্ন ধারার রাজনৈ্তিক দল গঠনের চিন্তা নাহিদদের আগে থেকেই ছিল। মাহফুজ আলমই মুলত এনসিপির দায় ও দরদের রাজনীতির প্রবক্তা।
রাজনৈতিক দল গঠনের পর থেকেই এনসিপির সমালোচনায় মুখর এদেশের মিডিয়া , কথিত বুদ্ধিজীবি ও অনলাইন এক্টিভিস্টরা। এনসিপির নেতাদের আয়ের উৎস নিয়ে নানান ধরনের সমালোচনা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটা রাজনৈ্তিক দল চালাতে যে পরিমান টাকা লাগে তা মুলত ডোনেশনের মাধ্যমেই আসে। কিন্তু বহুল প্রত্যাশিত রাজনৈ্তিক দল এনসিপির কাছ থেকে জনগন ভিন্ন কিছু আশা করে। তারা যদি প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর মতই আচরন করে , তাহলে তারা ভিন্ন ধারা হিসাবে কিভাবে নিজেদের প্রমান করবে ? জনগনই বা তাদের কেন বেছে নেবে? দলকে টিকিয়ে রাখতে হলে এই বিষয়গুলো নিয়ে সামনে এনসিপিকে ভাবতে হবে।এদেশে আরেকটা গন অধিকার পরিষদের কোন প্রয়োজন নাই।
নানাবিধ সমালোচনার মধ্যেও এনসিপি ব্যপক জনসমর্থন পাচ্ছে তাদের বলিষ্ঠ কিছু অবস্থানের কারনে। সংস্কার , বিচার ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ইস্যূ্তে এনসিপি শুরু থেকেই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ডক্টর ইউনুসের জুলাই সনদ সাক্ষর অনুষ্ঠানেও তারা সনদে সাক্ষর করেনি। কারন আইনি ভিত্তি না থাকলে এসব সাক্ষর স্রেফ লোকদেখানো ভন্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।মুলত এনসিপির শক্ত অবস্থানের কারনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকারকে গনভোট আয়োজন করতে হচ্ছে।
এনসিপির নেতা নেত্রীরা টকশোগুলোতে দুর্দান্ত স্পীচ দিয়ে জনগনের মাঝে ব্যপক জনপ্রিয়তা তৈরী করতে সমর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যনেলের টকশোগুলোর প্রতি আগে কোনদিন আগ্রহ অনুভব করিনি। রাজনৈতিক দলের নেতাদের মিথ্যাচারে ভরপুর কথাবার্তা শুনতে কারই বা ভাল লাগে!। তবে এনসিপির নেতা নেত্রীরা সেই ট্রেন্ড একেবারে ভেঙ্গেচুরে ফেলেছে। এরা সবাই বিতার্কিকের মত টানা স্বছ ও তীক্ষ্ণ বক্তব্য দিতে সক্ষম। নাহিদ, হাসনাত, সারজিসের পাশাপাশি সাইফ মুস্তাফিজ , সালেহিন সিফাত , তাসিন রিয়াজ , সারোয়ার তুষার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । টকশোগুলোতে এরা যেভাবে রাজনীতিবিদদের নাস্তানাবুদ করে , তা দেখার মত হয়। এদের সাথে কথায় না পেরে অনেক রাজনীতিবিদ / রাজনৈ্তিক এনালিস্টদের রেগে উঠতে দেখা যায় প্রায়শই।
এনসিপি ১১ দলীয় জোটে যোগদানের পর কিছু নারী নেত্রী দল থেকে পদত্যাগ করেছে। আবার বেশ কিছু নেতা কর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছে বলেও পত্রিকায় খবর এসেছে। । তবে রাজনৈতিক দল এরকম ভাঙ্গা গড়ার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যায়। কিছু পলিটিকাল এনালিস্ট বলছে যে, এত মানুষ পদত্যাগের পর দল হিসাবে এনসিপির টিকে থাকা কঠিন হবে। সময়েই একমাত্র এই প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম। তবে এখন পর্যন্ত এনসিপিতে ২৪এর গনঅভ্যত্থানে নেতৃত্বদান বা অংশগ্রহনকারী সদস্যদের মাঝে ফাটল ধরেনি। দলের ভেতরে বিপ্লবীদের মাঝে ঐক্য ধরে রাখতে পারাটা খুব জরুরী। আসিফ মাহমুদ নির্বাচনে অংশগ্রহন না করে এনসিপিতে যোগ দিয়েছে এবং দলের মুখপাত্র হয়েছে। মাহফুজ আলম এখন পর্যন্ত যোগ না দিলেও আশা করা যায় যে সামনে যোগ দেবে। ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে যোগ দেবার কারন নাহিদ সুস্পষ্টভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ব্যখ্যা করেছে। দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই নাহিদ, আখতার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা যেখানে রাজনৈ্তিক দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তির (চেয়ারপারসন) সিদ্ধান্তকে দলীয় সিদ্ধান্ত হিসাবে দেখে অভ্যস্ত , সেখানে এনসিপি গনতান্ত্রিকভাবে দলীয় সিদ্ধান্তের নজির সৃষ্টি করেছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যে দল বা যারাই বিজয়ী হোক না কেন এনসিপির বিতার্কিকদের বিজয়ী হতে দেখতে চাই। নির্বাচনে যদি এনসিপির ৩/৪ জন সদস্যও বিজয়ী হয়ে সংসদে যেতে পারে তবে সেটাই এনসিপির জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। সংসদে কয়েকজন প্রতিনিধি এবং সংসদের বাইরে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজুল আলমের নেতৃত্বে এনসিপি একটি শক্তিশালী রাজনৈ্তিক দল হিসাবে স্থায়ীভাবে টিকে থাকতে পারবে বলে আশা করা যায়।
২|
০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার লেখাটা পড়ে আমি অনেক কিছু জানতে পারলাম। এনসিপি সম্পর্কে আপনার আশাবাদের পিছনের কারণগুলোও আপনি বেশ ভালোভাবে তুলে ধরেছেন।
এনসিপি সম্পর্কে আমার জানাশোনা সীমিত, তবে খুবই হতাশ হয়েছিলাম যখন সামান্তা শারমিন খালেদ মুহিউদ্দীনের ইন্টারভিউয়ে নারী-পুরুষ সমতার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। এরপর সার্জিস আলম ও অনেকের শিবির-সংশ্লিষ্টতার বিষয় জানার পর আরও হতাশ হয়েছি।
আমার ধারনা, বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘ মেয়াদে কখনোই ধর্মান্ধতার উপর দাঁড়াতে পারবে না, অথচ এনসিপি তাদের মূল আদর্শের কেন্দ্রে সেটাই এনেছে।
৩|
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৫১
কলাবাগান১ বলেছেন: ১১ দলীয় জোট না বলে, বলুন যে জামাতে যোগ দিয়েছে
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫১
রাজীব নুর বলেছেন: এনসিপি হলো জামাতের একটি দল।
এরা জাস্ট জামাতের কথা মতো অভিনয় করে যাচ্ছে।