নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

গল্প, অনুভূতি আর জীবনের টুকরো কথা

সুম১৪৩২

আমি লিখি আমার দেখা, শোনা আর অনুভবের গল্প। কল্পনা আর বাস্তবের মিলনে গড়ে তুলি নতুন এক জগত। কলমে আমি হলো আমার একান্ত লেখা, শুধু আমার নিজের শব্দের ভুবন।

সুম১৪৩২ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার কথা : তৃতীয় পর্বের পর

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩০



“আসলে উনি কে…?”
এই শিরোনামের একটি লেখা দিয়েই আমার লেখালেখির শুরু।
সামুতে।
এটার পর, আমি এই গল্পের কয়েকটা পর্ব লিখেছিলাম। মোট তিনটি । শেষ পর্বটির নাম ছিল—“পশ্চিম পাড়ার পথে”।

গল্পটার সময়কাল ১৯৯০ সাল।
রহস্য আছে, কিন্তু সেটা জোর করে নয়। ধীরে ধীরে আসে।

প্রথম দুই পর্ব লিখে আমার নিজেরই ভালো লাগছিল। মনে হচ্ছিল—গল্পটা কোথাও যাচ্ছে। কিন্তু তৃতীয় পর্বটা আমি খুব তাড়াহুড়ো করে লিখে ফেলি। তখন মাথায় বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই লিখে দিয়েছিলাম।
পরে সামুর কিছু ব্লগার সেই তৃতীয় পর্ব নিয়ে মন্তব্য করেন। বেশিরভাগ মন্তব্যই ছিল নেতিবাচক। সহজ করে বললে—যে টানটা প্রথম দুই পর্বে ছিল, তৃতীয় পর্বে এসে সেটা আর থাকেনি। পাঠকের হতাশা আমি বুঝতে পেরেছিলাম।
এরপর অনেক দিন, চিন্তা করে, শেষ পর্যন্ত গল্পটায় নতুন কিছু ঘটনা যোগ করলাম। কাঠামো বদলালাম। অপ্রয়োজনীয় জায়গা বাদ দিলাম। ধীরে ধীরে লেখাটা একটা পরিণত জায়গায় এসে দাঁড় করলাম ।

কিছুদিন আগে সেই সংশোধিত পাণ্ডুলিপি আমি প্রকাশনীর হাতে তুলে দিই। তারা খুব আন্তরিকভাবে পাণ্ডুলিপিটি গ্রহণ করেছে। প্রশংসাও করেছে। চেষ্টা করছে—২০২৬ সালের বইমেলায় যেন বইটির হার্ডকপি প্রকাশ করা যায়।

পাণ্ডুলিপি জমা দেওয়ার পর আমি আরো দুটো কাজ করেছি।
গল্পটি Google Books আর Amazon Kindle–এ ই–বুক হিসেবে প্রকাশ করেছি। অনেক ঝামেলার পর গতকাল দু’জায়গাতেই বইটি লাইভ হয়েছে।
এটা আমার প্রথম ই–বুক। তাই ফরম্যাট ঠিক হয়েছে কি না—পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছি না। বাংলাদেশ থেকে Google Books সরাসরি দেখা যায় না। তবে Kindle–এ বইটি ঠিকঠাকভাবেই প্রকাশ হয়েছে।

বইয়ের যে ভূমিকাটা আমি লিখেছি, সেটা নিচে দিলাম। সঙ্গে দিলাম অধ্যায়গুলোর নামও।

যাঁরা দেশের বাইরে থাকেন, তাঁদের বইটি পড়ার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ।
বাংলাদেশের পাঠকরা চাইলে Kindle থেকেই পড়তে পারবেন। আর যদি না পারেন—তাহলে একটু অপেক্ষা করুন। ইনশাআল্লাহ বইমেলায় হার্ডকপি পাওয়া যাবে।

ভালো থাকবেন।




অধ্যায় গুলোর নাম
অধ্যায় এক : আসলে উনি কে…?
অধ্যায় দুই : গ্রামের নীরব রহস্য
অধ্যায় তিন : যাত্রার শুরু, ভয়ও শুরু
অধ্যায় চার : কবরের হাসি
অধ্যায় পাঁচ : নদীর বুকে রক্ত
অধ্যায় ছয় : আগুনের আলোয় অচেনা ছায়া
অধ্যায় সাত : আঙুলের দাগ
অধ্যায় আট : রক্তের বালিশ
অধ্যায় নয় : পশ্চিম পাড়ার পথে
অধ্যায় দশ : উত্তরহীন

ভূমিকা

আমি যখনই কোনো নতুন বই পড়া শুরু করি, ভূমিকা অংশটা খুব মন দিয়ে পড়ি। কারণ আমার মনে হয়—ওখানেই লেখক সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলছে।
এখন যেহেতু আমি নিজে লিখছি, তার মানে হচ্ছে—আমিও আপনার সঙ্গে কথা বলছি। সত্যি বলতে, বইয়ের ভূমিকা এমন একটা জায়গা, যেখানে লেখক আর পাঠকের মাঝখানে আর কোনো দেয়াল থাকে না।

এটি আমার দ্বিতীয় বই। আমার প্রথম বই ‘মৃত্যু’ ছিল একটি জীবনধর্মী লেখা। সেই বইয়ে আমি পাঠকদের কাছে কিছু বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম। যাঁরা বইটি পড়েছেন, আমার বিশ্বাস— তাঁদের জীবনের কারও না কারও সঙ্গে সেই গল্পগুলোর মিল তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন। কারণ গল্পগুলো ছিল আমাদের সবার।
প্রথম বই নিয়ে একটু প্রচারণা চালালাম— কিছু মনে করবেন না।

এবার এই বইয়ের কথায় আসি।
এই লেখার ধারণাটা অনেক আগেই এসেছিল। এমনকি এর কিছু অংশ একসময় ব্লগেও প্রকাশ করা হয়েছিল। নতুন লেখা লিখি করি, তবু তখন অনেক পাঠক লেখাটি পছন্দ করেছিলেন। কিন্তু গল্পটির ফিনিশিং পার্ট যখন প্রকাশ করলাম, তখন অনেক ব্লগার হতাশ হয়ে মন্তব্য করেছিলেন—
“আমি নাকি শেষ অংশটা খুব তাড়াহুড়া করে লিখে ফেলেছি।”

আসলে কথাটা পুরোপুরি মিথ্যা ছিল না। দ্বিতীয় অংশ লেখার পর আমি এত ভালো ভালো মন্তব্য পেয়েছিলাম, যে সেই উচ্ছ্বাসে মাত্র এক দিনের মধ্যেই ফিনিশিং পার্টটা লিখে ফেলেছিলাম। কথায় আছে—অতিরিক্ত উত্তেজনা বুদ্ধিকে অন্ধ করে দেয়; তাই কোনো কাজ তাড়াহুড়া করে করাই শ্রেয় নয়।

ফিনিশিং পার্টে নেতিবাচক মন্তব্য পাওয়ার পর আমি হুঁশ ফিরে পেলাম। লেখালেখির ব্যাপারে আরও সতর্ক হয়ে গেলাম। অনেক চিন্তা-ভাবনার পর, পরবর্তীতে আমি সেই ফিনিশিং পার্টে আমূল পরিবর্তন এনেছি। এতটাই পরিবর্তন এনেছি যে বর্তমান গল্পটির সঙ্গে আগের ব্লগে প্রকাশিত গল্পের
আর কোনো মিল নেই।

এই বই লেখার সময় আমি কয়েকবার থেমে গেছি। কারণ গল্পটা ঠিক কী—সে বিষয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই। কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, এটা কি ভূতের গল্প—
আমি হয়তো বলব, না।
আবার কেউ যদি বলে, এখানে ভয় আছে কি না—
সেক্ষেত্রে উত্তরটা একটু কঠিন।

আমরা সাধারণত ভূতকে ভয় পাই। কিন্তু একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, ভয়ের বেশির ভাগটাই আসে মানুষ থেকে—
মানুষের বলা গল্প, মানুষের বিশ্বাস, মানুষের নিশ্চিত উচ্চারণ থেকে। একজন মানুষ সম্পর্কে যদি সবাই একসঙ্গে বলতে থাকে, তাহলে একসময় সে মানুষটা বাস্তব হয়ে ওঠে। সে বেঁচে থাকুক বা না থাকুক।

এই গল্পে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলোর ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। আবার এমন কিছু আছে, যেগুলোর ব্যাখ্যা দিতে গেলেই গল্পটা নষ্ট হয়ে যায়। তাই ব্যাখ্যাটা শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি খুলে না ধরেই গল্পটা বলা হয়েছে।

পাঠক হিসেবে আপনার কাজ খুব সহজ—
গল্পটা পড়ুন।
বিশ্বাস করলে করবেন।
না করলে করবেন না।

গল্পটা শেষ করার পর যদি আপনি একটু থেমে যান আর মনে প্রশ্ন আসে—
আচ্ছা, ব্যাপারটা কী ছিল?
তাহলে ধরে নেবেন, গল্পটা ঠিক জায়গাতেই শেষ হয়েছে।

সুমন ভূইয়াঁ
[email protected]

বাড়তি কিছু কথা

এই বইটা পড়া শুরুর আগে ছোট করে দু–একটা কথা বলে নেওয়া দরকার বলে মনে হলো।
প্রথম কথা হলো—এই গল্পে আমি কিছু আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করেছি। কোথাও কোথাও শব্দের অর্থ বন্ধনীর ভেতরে লিখে দিয়েছি। তবে বেশির ভাগ জায়গাতেই তা দিইনি। কারণ গল্পটা যেন কাগজের নয়, মাটির কাছের থাকে—সেই চেষ্টাই করেছি। তবু পাঠকের সুবিধার কথা ভেবে বইয়ের শেষ দিকে আলাদা একটা পাতায় ব্যবহৃত বেশির ভাগ আঞ্চলিক শব্দের অর্থ দেওয়া আছে। আমার বিশ্বাস, আঞ্চলিক ভাষা গল্প পড়ার পথে বড় কোনো বাধা হবে না। আর যদি কোথাও আটকে যান, শেষের পাতাটা নিশ্চয়ই কাজে লাগবে।

দ্বিতীয় কথাটা একটু গুরুত্বপূর্ণ। এই গল্পটি সম্পূর্ণই আমার কল্পনা প্রসূত। গল্পে ব্যবহৃত সকল চরিত্র, ঘটনা, স্থান ও সংলাপ কাল্পনিক। বাস্তব কোনো ব্যক্তি—জীবিত বা মৃত—বা বাস্তব কোনো ঘটনার সঙ্গে এই গল্পের কোনো মিল পাওয়া গেলে তা সম্পূর্ণই কাকতালীয়। গল্পে যে চরিত্রগুলো এসেছে, তাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই। এই লেখার উদ্দেশ্য কাউকে আঘাত করা, ইঙ্গিত করা বা বাস্তব কাউকে উপস্থাপন করা নয়—শুধু একটি কল্পিত গল্প বলা।

তৃতীয় কথা যুক্তি নিয়ে। এই গল্পে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর কিছু আমার কল্পনা, আবার কিছু মনস্তাত্ত্বিক (psychological) ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এসব ব্যাখ্যার সঙ্গে সবার মতামত মিলতে নাও পারে—এটাই স্বাভাবিক। কারণ এমন অনেক ঘটনা আছে, যেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। আবার ব্যাখ্যা থাকলেও, তা অনেক সময় পুরো সন্তুষ্ট করতে পারে না। তাই অনুরোধ থাকবে—এই গল্পটিকে যুক্তির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিচার না করে, গল্প হিসেবেই পড়বেন।

আর শেষ কথাটা একেবারে ব্যক্তিগত। আমি নিজে খুব ভীতু মানুষ। সাধারণত হরর সিনেমা দেখি না, হরর বইও পড়ি না—ইচ্ছা করেই এড়িয়ে চলি। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ স্যারের ভৌতিক সমগ্র পড়ার পর হঠাৎ মনে হলো—ভয়টা হয়তো বাইরের কিছু নয়, ভয়ের অনেকটাই আমাদের মাথার ভেতরে। সেই ভাবনা থেকেই এই গল্পটা লেখার চেষ্টা। বলা যায়, এই লেখার পেছনে তাঁর লেখার প্রতি ভালোবাসা আর অনুপ্রেরণাই সবচেয়ে বড় কারণ।

এইটুকুই।


মন্তব্য ৪ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩৫

সুম১৪৩২ বলেছেন: আসলে উনি কে... ? পর্ব ১
মিজান: গ্রামের নীরব রহস্য . পর্ব ২
পশ্চিম পাড়ার পথে . পর্ব ৩

২| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১২

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: গল্পটি Google Books আর Amazon Kindle–এ ই–বুক হিসেবে প্রকাশ করেছি।
..........................................................................................................................
চমৎকার !
আপনার এই উৎসাহ দেখে ভালো লাগছে
অতএব, ব্লগেও কিছু লিখতে থাকুন
যা আগামী দিনে আরেকটি বই হতে পারে ।

৩| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:২৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পড়লাম।

৪| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৩

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: শুভ কামনা রইলো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.