| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মেয়েটাকে আমার খুব ভাল লাগে ।
শুধু ভাল
লাগলে বললে ভুল হবে, অনেক
ভালো বাসি । হেন
কোন কথা নেই যা তাকে বলি না,
কিন্তু
ভালবাসার কথাটাই শুধু
কখনো বলতে পারি না ।
মাইশা, তার নাম । একই
সাথে পড়ি আমরা ।
ভার্সিটিতে এডমিশান নেয়ার পর
প্রথম
যে ক্যাম্পাসে আসি সেদিনই
একটা গাধার মত
কান্ড ঘটিয়ে ফেলি ! একটা ইটের
সাথে উষ্ঠা খেয়ে স্যান্ডেল
ছিঁড়ে ফেলি !
কি বিচ্ছিরি অবস্থা ।
আশে পাশে পরিচিত কেউ
নাই আর অপরিচিতজনদের আমার
এহেন
অবস্থা দেখে সে কি হাসি !!
পালিয়ে যাব কিনা ভাবছি এমন সময়
একটা মেয়ে এগিয়ে এল । ব্যাগ
থেকে একটা সুঁই
আর সুতা বের করে বলল- নাও, সেলাই
করে ফেল !
একবার কোচিং এ যাবার সময় আমিও
উষ্ঠা খেয়ে জুতা ছিড়ে ফেলি ।
সেদিন খুব
নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম । সেই
থেকে ব্যাগে সবসময় সুই/সুতা রাখি !
অনেক তার কান্ড দেখে অবাক
হয়েছিল আর
আমি হয়েছিলাম বাকরুদ্ধ ! ওর
চোখের
দিকে হা হয়ে তাকিয়ে ছিলাম ।
আমার এমন
অদ্ভুত দৃষ্টি দেখে ও বলল-
কি স্যান্ডেল সেলাই
করতে পার না ? নাকি সেলাই
করে দেব ?
আমি কাচুমাচু করে বললাম-
লাগবে না ।
আমি পারব ! মেয়েদের
ব্যাগে স্যান্ডেল সেলাই
করার সুঁইচ থেকে মেকাপ বক্স পর্যন্ত
সবই
পাওয়া যায়- এমন
কথা আগে শুনেছিলাম । কিন্তু
দেখার সৌভাগ্য এ প্রথম হল !
জীবনে কখনো মুচির কাছ থেকেও
স্যান্ডেল
সেলাই করে পরিনি ।
ছিঁড়ে গেলে সেটা ফেলেই
দিতাম ! কিন্তু ওর সামনে যে সেদিন
কিভাবে সেলাই করে ফেললাম
সেটা
ভেবে আমি এখনো অবাক হই ! অনেক
হা করে আমাদের
দিকে তাকিয়ে অবাক
চোখে আমাদের কর্মকান্ড দেখছে !
লজ্জায়
আমি মাথা তুলতে পারছি না । কিন্তু
তার
সেদিকে কোন ভ্রক্ষেপ নেই !
আমি সুই/
সুতা তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বললাম-
থ্যাংকস আপু !
ও রাগী দৃষ্টিতে আমার
দিকে তাকিয়ে- ওই
হাঁদারাম ! আমি কোন সূত্রে তোমার
আপু লাগি ?
আমিও তোমার মতই নিউ এডমিশন !
আমি লজ্জিত মুখে বললাম- ওহ স্যরি !
কিন্তু
আপনি কি করে বুঝলেন আমিও নিউ
এডমিশান ?
ও মুচকি হাসি দিয়ে বলল- তোমার ঐ
আবুল আবুল
চেহারা দেখে !
এরপর সে চলে গেল । কিছুক্ষণ
আবেশিত
হয়ে থাকলাম আমি । ওর চোখ.....
পৃথিবীতে অতি সৌভাগ্যবান কিছু
রমনী আছে যাদের নাকি চোখও
হাসে । এ
মেয়েটা তাদেরই একজন.....
"প্রহর শেষে রাঙা আলোয়-
সেদিন চৈত্র মাস,
তোমার চোখের দেখেছিলাম-
আমার সর্বনাশ !"
কেউ বিশ্বাস করবে না । কিন্তু এটাই
সত্যি । ওর
চোখ দেখেই
আমি প্রেমে পড়ে গেছি ।
আস্তে সাস্তে কোন পড়া নয়,
সিরিয়াসলিই ফল
করেছি !
অনেক খুঁজে খুঁজে ক্লাস বের
করে কোণার
দিকে একটা সিট বের
করে বসে পড়লাম । পাশের
সিটের দিকে চোখ পড়তেই টাশকিত
হয়ে গেলাম ! মনে মনে খুশিও হলাম ।
মেয়েটা তাহলে আমাদের
ডিপার্টমেন্টেই !
কিন্তু ওর কথা শুনেই
উচ্ছাসটা দমে গেল !
:- আরে এদেখি আবুল মিঞা ?
আমাদের
ডিপার্টমেন্টেই !
:- জ্বি ।
:- কি ব্যাপার ? মুখটা এমন পেঁচার মত
হয়ে গেল
কেন ? আবুল বলাতে রাগ করেছ ?
:- না না ! তা করব ক্যান ?
:- আমার তো মনে হয় করেছ ।
না করলেই ভাল ।
দেখ, আবুল/হাঁদারাম/গাধা/
কুত্তা এগুলো হল
আমার কমন কথা ! একই সাথে যেহেতু
পড়ব
এগুলো প্রায়ই শুনতে হবে । তাই
এগুলো শুনে কখনো রাগ
করতে পারবে না । ওকে ?
:- ওকে !
:- এই তো গুড বয় ! তা গুড বয়, তোমার
নাম কি ?
:- নীল ! আর আপনার ?
:- মাইশা ! তবে বদমাইশি খুব
বেশি করি তো !
তাই কলেজের বান্ধবীরা মাইশার
আগে বদ যোগ
করে বদমাইশা বলে ডাকে !
হি হি হি !
:- বাহ ! সুন্দর তো ! তাহলে আমিও
আপনাকে এটা বলেই ডাকবো !
:- মাথা ফাটাই ফেলবো যদি ভুলেও
কখনো শুনি এনামে ডেকেছ ! আর
তুমি আমাকে আপনি আপনি করছ কেন ?
আমাকে কি তোমার দশ বছরের
সিনিয়র মনে হয় ?
:- না না ! তা হবে কেন ? স্যরি ! আর
বলব না !
:- ফ্রেন্ডস ?
:- ফ্রেন্ডস !
সেই থেকে......
বন্ধু হয়ে ছিলাম । তিন বছর হয়ে গেল ।
এখনো বন্ধু হয়েই আছি । অনেক
চেষ্টা করেও
তাকে মনের গোপন
কথাগুলো বলতে পারি নি ।
সবসময় একটা ভয় কাজ করে-
যদি না করে দেয়,
যদি বন্ধুত্বটাই নষ্ট করে দেয়-
এটা আমি সহ্য
করতে পারব না ।
অবশ্য
বলতে যে চেষ্টা করি নি সেটাও
না ! ওর
সাথে এমনিতে সব কথা নির্দ্বিধায়
বলতে পারি । কোন সমস্যা হয় না ।
কিন্তু যখনই
এ কথা গুলো বলব ভাবি তখনই
গলা শুকিয়ে কাঠ
হয়ে আসে ! হাঁটু কাঁপতে থাকে !!
অদ্ভুত ।
সিঁড়িতে বসে আছি ।
মাইশা আসছে । দূর থেকেই
ওর হাসি মুখটা বুঝা যাচ্ছে । আজ
অনেক
খুশি মনে হয় । আমাকে দেখেই
এগিয়ে এল ।
:- জানিস হাঁদারাম, একটা গুড নিউজ
আছে !
:- হাঁদারাম বলাটা আর ছাড়লি না !
কি গুড
নিউজ !
:- আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে !
ও হাত টা বাড়িয়ে দিল । ওর
হাতে জ্বলজ্বল
করছে নতুন একটা রিং । আমার
অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল
সেটা দেখে ।
নিজেকে যথা সাধ্য শান্ত রাখার
চেষ্টা করে বললাম-
:- বলিস কি ? কবে ?
:- গত কাল । কাল
বিকেলে দেখতে এসেছিল
ছেলে । ছেলেতো আমাকে দেখেই
ফিদা ! ফোন
করে ওর বাবা মা কে ডেকে আনে ।
রাতেই
এনজেগডমেন্ট হয়ে যায় ! সামনের
শুক্রবারেই
বিয়ে !
:- ও ।
:- কিরে ? তোর চেহারা এমন পেঁচার
মত
হয়ে গেলে কেন ? জানিস, আমার
হাজব্যান্ট
টা না যা স্মার্ট ! উজ্জ্বল ফর্সা !
লম্বায় সিক্স
ফিট টু ।
জিম করা ফিগার । MBA from OXFORD ! UK
তেই সেটেল্ড । আমার কিন্তু
হেব্বি পছন্দ
হইছে ! মনে মনে যেমনটা চাইছিলাম !
বিয়ের
করার জন্যই দেশে এসেছে । বিয়ের
পর
আমাকে নিয়েই উডাল দেবে !
:- দেখ, এসব ছেলেদের কারেক্টার
কিন্তু ভাল হয়
না ।
:- কি বলতে চাস তুই ?
ও রেগে যাচ্ছে বুঝতে পারছি ।
কিন্তু রাগার মত
আমি তো কিছু বলি নি । তারপরও
সাবধানে বললামঃ
:- ওয়েস্টার্ন কান্ট্রিগুলার কালচার
তো জানিসই । ওদের
কাছে রিলেশানসিপটা....
:- দেখ নীল, সবাইকে একই রকম ভাবিস
না । ও
অনেক ভাল । আমার অনেক পছন্দ হইছে ।
আর তুই
এসবের কি বুঝবি ?
গাঁইয়্যা কোথাকার !
ভেবেছিলাম আমার বিয়ের সব
এরেন্জমেন্টের
দায়িত্ব তোকেই দিব । তাই সবার
আগে খবরটা তোকেই জানালাম।
কিন্তু
হারামি কনগ্রেস্ট জানানোর
বদলে মেজাজটাই
খারাপ করে দিলি ।
তোকে এরেন্জমেন্টের
দায়িত্ব দেয়া তো দূরে থাক, এখন আর
বিয়েতেই
দাওয়াত দিব না !
বলেই ও আর দাঁড়ালো না । চলে গেল
। অকারণেই
রেগে গেল । কি বলেছি আমি ?
আমার ভিতর
যে কি অবস্থা চলছে সেটা আমিই
জানি । এটা ও
কি করে বুঝবে ? আর ফরেন জামাই
পেয়ে সব
ভুলে গেল ? আমাদের এত দিনের
সম্পর্ক সব মিথ্য
হয়ে গেল? আমি এখন গাঁইয়্যা ভূত
হয়ে গেলাম ?
হায়রে মেয়েমানুষ....... কত সহজে ওর
বিয়ের
কথা বলে গেল ! ও
কি জানে যে নিজের
অজান্তেই ও একজনকে মৃত্যুদন্ড
দিয়ে গেল ?
কাল শুক্রবার ওর বিয়ে । আজ বিয়ের
আগে শেষ
বারের মত ভার্সিটিতে এসেছে ।
সবার
সাথে এত
হেসে হেসে কথা বলছে দেখে
আমার
পিত্তি জ্বলতে লাগল । ঐদিনের পর
থেকে আর
আমার সাথে কথা বলে নি ।
আমি কয়েকবার কলার
চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু
আমাকে পাত্তাই দেয়
নি । এই ছিল শেষ পর্যন্ত আমার
ভাগ্যে....
আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে কয়েকজনকে
বিয়ের
দাওয়াত দিচ্ছি ও । কেউ একজন বলল-
নীলকে দাওয়াত দিবি না ? ওর দৃঢ
উত্তর- না !
আর দাঁড়ালাম না ওখানে । বাসায়
চলে আসলাম ।
আজ ওর বিয়ে । চিত্কার
করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে । হে খোদা,
কেন
এমনটা হল আমার সাথে ? কি অপরাধ
ছিল
আমার ? ভালোই তো বেসেছিলাম,
কোন পাপতো আর
করিনি। তবে কেন এত বড়
শাস্তি দিলে আমাকে ??
ওর বিয়ে হয়েছে আজ এক সপ্তাহ । এই
এক
সপ্তাহে আমার
চেহারা হয়েছে দেখার মত!
পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম সবার কাছ
থেকে ।
ভার্সিটিতে আসি নি । কিন্তু
কয়েকজন বন্ধু
গিয়ে ধরে এনেছে ! অনেকে অবাক
চোখে তাকিয়ে আছে আমার
দিকে, যেন
চিড়িয়াখানায় আনা নতুন প্রাণী !
অনেকে কৌতুহলে এগিয়ে এসেছে
জিজ্ঞেসও
করছে কি হয়েছে আমার ? কি বলব
আমি এদেরকে ? কি করে বুঝাব
যে কি হয়েছে ?
কোন কথার উত্তর না দিয়ে চুপচাপ
আমার প্রিয়
কোণার
সিটটাতে গিয়ে বসে পড়লাম ।
আমার
না বলা কষ্টগুলো আমার একারই থাক ।
কেউ
সেটা জানার দরকার নেই ।
বিয়ের ১৫ দিন পর
মাইশা ক্যাম্পাসে এসেছে ।
আজই প্রথম ওকে শাড়ি পরা অবস্থায়
দেখলাম ।
চোখ ফেরাতে কষ্ট হচ্ছিল । অনেক
ফ্রেশ
লাগছে আজ ওকে ।
আমাকে দেখে হাসিমুখে এগিয়ে
এল
। বলল-
দোস্ত, হানিমুন করে এলাম ! জোস
কেটেছে রে সময়টা !! তা তুই আমার
বিয়েতে আসিস নাই কেন ? খুব
কান্না পাচ্ছিল
আমার । কিন্তু
ওকে সেটা বুঝতে দিলাম না ।
বললাম- তুই দাওয়াত দিস নাই তো,
তাই...
ও হেসে বলল- ধুর, তোরা বন্ধু না !
তোদের আবার
দাওয়াত দেয়া লাগে নাকি ?
এমনিতে এসে একবেলা খেয়ে
যেতি !!
হি হি হি । আচ্ছা যা, আমার
বাচ্চা হলে তার
আকীকাতে তোকে দাওয়াত দেব ।
তখন
এসে এটা সহ খেয়ে উসুল করে নিস !
অপমানের পালা এখানেই শেষ নয় ।
ব্যাগ
থেকে একটা প্যাকেট বের করে বলল-
আসস নাই
অবশ্য ভালোই করছস ! আমার
জামাইরে দেখেলে তুই
ট্যারা হয়ে যেতি ! এই
দেখ, ভিসা আর পাসপোর্ট
এসে গেছে । UK-র
একটা ইউনিভার্সিটিতে ক্রেডিট
ট্রান্সপারের
জন্যও আবেদন করেছি । দুই একদিনের
মাঝে সেটাও হয়ে যাবে । নেক্সট
মানথেই
আমরা উড়াল দিচ্ছিরে ।
দোয়া রাখিস.... এখন
যাই । কিছু কাজ আছে ।
ও চলে গেল । আচ্ছা,
ওকি আমাকে জ্বালানোর
জন্যই এসব করছে ? গত তিন
বছরে ওকি একবারও
বুঝতে পারে নাই
ওকে কতটা ভালবাসি আমি ?
মুখে কখনো বলি নি আমি। কিন্তু সব
কি মুখে বলে দিতে হয় ? না । আর
ভাবতে পারছি না । এভাবে তিল
তিল
করে যন্ত্রনা পেয়ে মরার কোন
মানে হয় না ।
আজই একটা দফারফা করতে হবে ।
সুইসাইড
করলে কেমন হয় ?
জানি মা বাবা অনেক কষ্ট
পাবে । কিন্তু
তারা সামলে উঠতে পারবে । ছোট
ভাইটা আমার অনেক রেসপন্সিবল । ও
তাদের
দেখে রাখতে পারবে ।
তাহলে এটাই ফাইনাল
ডিসিশান । সুসাইড.........
ডিসিশানটা নেয়ার পর অনেক
হাল্কা লাগছে ।
খুব ধীরে সুস্থে সুইসাইড নোট
টা রেডি করলাম ।
টেবিলের উপর পাপার ওয়েটের
নিচে সেটা রেখে রুমে তালা
লাগিয়ে বেরিয়ে এলাম
। পরে কেউ
যদি তালা ভেঙ্গে রুমে ঢুকে তবে
সেটা বাসায়
পৌঁছে দিতে পারবে । ফ্রেন্ডদের
কাছ
থেকে বিদায় নিয়ে এলাম । ওদের
কিছু
বুঝতে দেই নি ।
বলেছি বাড়িতে যাচ্ছি ! ওরাও
কোন আরগুমেন্ট করে নি । কোন
টেনশন করছি না ।
এ মূহুর্তে কোন টেনশান মাথায়
আসলে সুইসাইড
করাটা কষ্টকর হয়ে যাবে । আচ্ছা,
কিভাবে সুইসাইড করা যায় ? লাফ
দেয়া যায় !
বসুন্ধরা শফিং কমপ্লেক্সের ছাদ
থেকে লাফ
দিলে কেমন হয় ? অনেক ভালো হয় !
সেদিকেই
হাঁটা দিলাম । মৃত্যুর পূর্বমূহুর্তে এমন
হেলে দুলে হাঁটতে বেশ মজাই
লাগছে !!
৮ তলার ছাদে গত
আধা ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি ।
জীবনের শেষ
মুহুর্তে এসে দাঁড়ানোটা আসলেই এক
ভয়ংকর
ব্যাপার । লাফ দেবো দেবো করেও
দেয়া হচ্ছে না । আমি আসলেই
একটা ভীতুর ডিম ।
বেঁচে থাকার শক্তি নেই এখন মরারও
সাহস
পাচ্ছি না ! নাহ,
যা থাকে কপালে....
আগে একবার লাফ দিই !
:- কি ? লাফাতে ভয় লাগছে ?
তড়িত্গতিতে পিছনে তাকিয়ে
দেখি মাইশা !!
মুচকি মুচকি হাসছে !
:- মানে ? লাফবো কেন ?
:- আমি তো ভাবছিলাম তুমি সুইসাইড
করছ ?
:- সুইসাইড ? আমি ? মাথা খারাপ ?
:- ও ! একটু আগে যে তোমার সুইসাইড
নোট
টা পড়ে এলাম !
:- হোয়াট ? তু-তু-তুমি আমার রুমে কেন
ঢুকছ ?
কেমনে ঢুকছ ?
:- হি হি হি ! আসলেই তেমন কিছু
একটা লিখেছিলে নাকি ?
আমি তো আন্দাজে মারছি !!
:- ওহ শীট !
:- আচ্ছা নীল, তুমি এত গাধা কেন
বলত ?
:- আমি মোটেও গাধা না !
:- গাধা না হলে কি ? আবুল মিঞা ?
আজ
যদি তোমার বন্ধুরা আমাকে ঠিক
সময়ে ফোন
না করত ? আমি যদি ঠিক
সময়ে এখানে এসে না পৌঁছাতে
পারতাম,
তবে কি হত ভেবে দেখছ ?
:- কি আর হত ?
:- আবার কি হতও বলে ! হাঁদারাম !
আমাকে ছেড়ে এভাবে চলে যেতে
?
তাহলে আমি কি নিয়ে থাকতাম ?
(বলে কি এ মেয়ে ?)
:- মানে ?
:- মানে ? মানে গত তিন
বছরে তুমি কি একটুও
বুঝতে পার নাই
যে তোমাকে কতটা ভালবাসি আমি
?
(এসব কি বলছে মাইশা ? আর এখন বলেই
বা কি লাভ ?)
:- ভাল তো আমিও তোমাকে বাসি ।
কিন্তু এখন আর
এসব বলে কি লাভ ? তুমি তো এখন
অন্যের ঘরণী ।
:- হি হি হি ! বুদ্ধ !! আমার বিয়ে হয় নাই
।
(আমার ভিতর তখন কম্পন শুরু হয়ে গেছে ।
কিন্তু
স্থির থাকার সর্বোচ্চ
চেষ্টা করে হ্যাবলা সাজার
চেষ্টা করলাম)
:- মানে ? বিয়ে হয় নাই মানে ?
:- বিয়ে হয় নাই মানে বিয়ে হয় নাই !
এতে আর
কিসের মানে ?
:- তাহলে ঐ এংগেজমেন্ট রিং, ঐ
দিনের
ফাংশান, হানিমুন.....
:- হি হি হি ! ঐ রিংটা ছিল আমার
বার্থডে গিফট, আমার বড় ফুফু
জার্মানি থেকে পাঠিয়েছে,
ফাংশানটা ছিল
আমার বার্থ ডের ফাংশান । ইডিয়ট,
তুমি ভুলে গেছিলে সেটা ! আর
বিয়ে না হলে কিসের হানিমুন রে ?
আমরা গ্রামের বাড়িতে গেছিলাম
। ওখানেই
ছিলাম পনের দিন !
:- তাহলে তুমি ক্রেডিট ট্রান্সপার
করে বিদেশ
চলে যাচ্ছ কেন ??
:- হুম । ইংল্যান্ড যাচ্ছি এটা ঠিক
কিন্তু
পড়তে নয় রে গাধা ! তুমি তো জানই,
আমার বড় আপু
হাজব্যান্ড সহ ওখানে থাকে । আপুর
ছেলে হয়েছে ।
তাকে দেখতে যাচ্ছি । একমাস
থাকব । এরপর ব্যাক করবো । ঐ পেপার
টা ছিল
লিভ এপ্লিকেশান । ক্রেডিট
ট্রান্সপারের
পেপার নয় । বুঝেছেন
মিঃ হাঁদারাম ?
(কি করব বুঝতে পারছি না)
:- এত কিছু কেন করলে তুমি ? কেন এত
কাঁদালে ?
:- শুধু এটুকু শোনার আশায়
যে তুমি আমাকে ভালবাস ।
:- এত নাটক না করে একবার
বলতে পারতে না যে আমাকেও
তুমি ভালবাস ?
:- বুদ্ধ । এ পর্যন্ত কোন
মেয়েকে দেখেছ
আগে কি গিয়ে কোন
ছেলেকে তার ভালবাসার
কথা বলতে ?
:- না ।
:- তাহলে ?
:- তাহলে কি ?
:- কিছু না গাধা !
:- তুমি আসলেই বদমাইশা !
:- এই মাথা ফাটামু । কইয়্যা দিলাম
কিন্তু ।
:- পারলে পাঠাও !
(মাইশা আমার
দিকে তাকিয়ে আছে । ঠোঁটের
কোণায় তার ট্রেড মার্ক হাসি ।
আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় । নিচের
দিকে তাকিয়ে আছি ।
মাইশা যদি সামনে না থাকত
তবে আমি ধেঁই ধেঁই
করে নাচা শুরু করতাম । কোন সন্দেহ
নাই । যাই
হোক, ও অনেক কাঁদাইছে আমারে ।
এবার আমি একটু
পার্ট লমু !)
:- কিন্তু তোমার তো পছন্দ উজ্জ্বল
ফর্সা,
OXFORD থেকে পাস করা ছেলে, UK
তে সেটেল্ড ! আমার তো এসব
কোয়ালিফিকেশন
নাই ! আর UK তে দূর থাক, আমার
খেয়াল
হচ্ছে গ্র্যাজুয়েশনের পর
গ্রামে গিয়ে থাকব !
:- হুম ! এগুলো অবশ্য একটা ফ্যাক্ট বটে !
আসলে একটা বিষয় কি জানো ?
ছেলেরা উজ্জ্বল
ফর্সা হলে তাদের চেহারায়
একটা মেয়েলী ভাব
চলে আসে ! তাদের জন্য
তামাটে রংটাই
পারফেক্ট । এটাই পুরুষালি রং । আর
OXFORD
গ্র্যাজুয়েশনের কথা বলছ ? জান না,
ঢাবিকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে !
:- ও । এব্যাপার ?
:- হুম ! তোমাদের গ্রামের
নামটা যেন কি ?
:- উত্তর কালিগন্জ্ঞ !
:- দেখো তো উত্তর কালিগন্ঞ্জের
ইংলিশ
স্পেলিং এর কোড ওয়ার্ড UK হয়
কিনা ??
:- ওহ ! আমিও তাহলে UK-র বাসিন্দা ?
(ওর যুক্তি শুনে আমি তো পুরাই থ !)
:- কি ? এভাবে দাঁড়িয়েই থাকবে ?
আর কিছু
করবে না ?
:- আআ.... কি করব ?
:- তুমি মুভি দেখ না ? মুভিতে নায়ক
নায়িকা প্রেমের প্রোপাজালের
পর কি করে ?
:- তারা তো নাচানাচি করে, গান
গায় । কিন্তু
আমি তো নাচ গান কোনটাই
জানি না !
:- ইডিয়েট ! দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা !
মাইশা মারার
ভঙ্গি নিয়ে তেড়ে আমার
দিকে এল ! আমি দৌড় লাগালাম ।
সে আমার
পিছনে দৌড়াচ্ছে । দৌড়াক ! গত
তিন বছর ওর
পিছনে অনেক দৌড়িয়েছি ।
বাকি জীবনটা ও
আমার পিছনে দৌড়াক !!!
©somewhere in net ltd.