| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দুই বাংলাই চমৎকার ঋতুবৈচিত্রের ভূখণ্ড। এ ব্যাপারে বাল্যস্মৃতি খুব হানাদার ধরণের আর কি। আজ পর্যন্ত যে ক’বার বর্তমান বাংলাদেশে গেলাম তার সবক’টি বসন্ত আর শীতকালে। তো সেই হানাদার একবার বলে উঠলো– কী মিয়া খালি শীত আর বসন্তে গিয়ে গিয়ে গায়ে আলোয়ান জড়িয়ে হাওয়া খাচ্ছ ! আর বর্ষাকালটা ভুলে গেলে, একবারও মনে পড়ে না! মনে পড়ে না আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানিরে !
কথা শুনে মরমে মরি আর কি ! তা একবার যাব বলে স্থির করলাম। কিন্তু গেলাম রীতিমত ফেঁসে। সেবার (২০২২) এমন বর্ষা শুরু হলো যে বন্যা বন্যা অবস্থা। নেট এবং স্বজন বন্ধু মারফত খবর নিয়ে যা জানতে পারছি তা আর খুব স্বস্থিদায়ক নয়। জায়গায় জায়গায় বৃষ্টির জলে ফুলে ফেঁপে ওঠা তাণ্ডব। আমার প্রিয় অতিথপুর রেলস্টেশনের কাছে একটি রেলব্রিজ ধ্বসে গেছে। ট্রেন বন্ধ। এদিকে ভিসা হাতে এসে গেছে। গোঁ একবার চেপে গেলে যা হয়। যাত্রা ক্যান্সেল করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। পথকষ্ট কিছুটা লাঘব করার জন্য কলকাতা ঢাকা এয়ার জার্নি করলাম। তারপর কিছুটা রেল, কিছুটা সি এন জি করে করে গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম। আঃ বর্ষণস্নাত বাংলাদেশ। অপরূপ। প্রায় ষাট বছরের বেশি পুরনো স্মৃতি, কিছু কিছু তখন উঁকি দিয়ে যেন বলছিল— প্যাক কাদার বাংলার গ্রামে আইলা তাহলে!!
একবার যেন কাকে বলছিলাম একটা বছরের ছয় ঋতু ওই বারান্দায় বসে বসে আমি দেখব। কীভাবে হবে? বৃথা বিলাপ। লাইন দিয়ে কষ্ট করে পাওয়া যেত মোটে একমাসের ভিসা। দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যায়। কে কাকে বোঝাবে যে একমাসে কিছুই হয় না। অন্তত তিন মাস দিন ! না, হবে না। এ-ও অতীত এখন। ভিসা একেবারে বন্ধ এখন। এবং সেটা উভয় পক্ষ থেকেই। কী একটা অবস্থা ! দেশকালরাজনীতির অধীনে আমাদের বসবাস। এদিকে বয়সে পড়েছে টান । আর কি হবে ?
©somewhere in net ltd.