নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তোমারও পতাকা যারে দাও তারে বহিবারে দাও শক্তি

মধুখোর

জীবনের প্রথমে পেশায় ছিলাম আইনজীবি, সেটা পরিত্যাগ করে হলাম সরকারি চাকুরে। এটার যখন মেয়াদ শেষ হলো, তখন শুরু করলাম লেখা। আর লিখতে গেলে গবেষণা করতে হয়। এখন সেটা নিয়েই আছি। এ পর্যন্ত আমার ৬ টি বই বেরিয়েছে, যার মধ্যে দুটো মুক্তিযুদ্ধের, ১ টি আইনের, ১ টি ইতিহাসের এবং অপরটি আমার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে। এক সময় বাম রাজনীতি করলেও বর্তমানে আমি আদর্শের দিক থেকে ধর্মনিরপেক্ষ, উদার গনতন্ত্রী, মানবাধিকারে বিশ্বাসী ও ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

মধুখোর › বিস্তারিত পোস্টঃ

কে আদিবাসী? বাঙালি ও বাঙলার বিবর্তন প্রসঙ্গ - আর্য জাতি ৩য় পর্ব

০৬ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫১

আর্যজাতি

রাইন নদী থেকে তুরস্ক পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে আর্যজাতির বাস ছিল। ঐ অঞ্চলের পূর্বদিকে বসবাসরত আর্যদের মধ্য থেকে ইরাণী এবং ভারতীয় আর্যদের উদ্ভব হয়। অনেকে মনে করেন হিন্দুকুশ পর্বত বেয়ে যারা উপমহাদেশে আগমণ করে তারাই ভারতীয় আর্য। আবার কেউ কেউ মনে করেন ভারতীয় আর্যগন ইরাণী আর্যদের পশ্চিমাঞ্চলের অধিবাসী। কারণ হিসাবে তারা আর্যজাতির সর্বপ্রাচীন ধর্মগ্রন্থ ঋগবেদে উল্লেখিত দেব দেবীর সাথে প্রাচীন ইরাণের Zoroaster প্রচারিত ধর্মের দেব দেবীর সঙ্গতির বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে থাকেন। ঋগবেদে উল্লেখিত অসুর, দেব, দস্যু ধর্মের গ্রন্থে উল্লেখিত থেকে বিবর্তিত হয়েছে। আবার জরস্ত্রুর গ্রন্থে বরুণকে দেবরাজ ও ইন্দ্রকে মন্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্ত সময়ের বিবর্তনে পরবর্তীতে আর্য ঋষিগন ঋগবেদে বিপরীতভাবে ইন্দ্রকে দেবরাজ হিসাবে ও বরুণকে অসুর হিসাবে বর্ণনা করেছেন। আবার কেউ কেউ বিশেষত হিন্দু পুণর্জাগরণ বাদীদের অনেকে বলেন যে আর্যজাতি ভারতের আদি অধিবাসী এবং সংস্কৃত ভাষা থেকে পশ্চিমা ইউরোপীয় ভাষার বিস্তার হয়েছে। কেউ কেউ এমনও বলছেন যে কশ্যপ মুণির নামানুসারে কাস্পিয়ান হ্রদের নাম করণ করা হয়েছে। কয়েকজন পশ্চিমা নৃবিজ্ঞানিও এ মতের সমর্থন করেছেন। এমতবাদ কে আউট অব ইন্ডিয়া (Out of India) হিসাবে অভিহিত করা হয। কিন্তু এ তত্ব শেষ পর্যন্ত পন্ডিত মহলে গ্রহণ যোগ্য হয়নি। বিশেষত ঋগবেদে মুন্ডা ও দ্রাবিড় ভাষার প্রভাব ( ঋগবেদে প্রায ৫০০ শব্দ মুন্ডা ভাষা থেকে গৃহীত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে), ইরাণী প্রাচীন ধর্মের দেবতাদের বিবর্তিত নাম এবং সাংস্কৃতিক ভিন্নতার কারণে এখন প্রায় সকলেই মনে করেন যে অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও আর্য ভিন্ন ভিন্ন মানবজাতি এবং আর্যরা উপমহাদেশের বাইরে থেকে আগমণ করেছে। ইরানী প্রাচীণ শাসকরাও নিজেদেরকে আর্যবংশ সম্ভূত বলে দাবী করতেন। পারস্যের স্বনামখ্যাত সম্রাট দারিউশ তাঁর প্রাসাদে যে শিলালিপি তাতে উৎকীর্ণ আছে '' আমি দারিউম ....যেশতাপের পুত্র....আর্য ও আর্য বংশ সম্ভূত.." । ইরানের সর্বশেষ ক্ষমতাচ্যুত সম্রাটও নিজের নামে যে আর্যমেহের বা আর্যসূর্য উপাধি ব্যবহার করতেন।



উল্লেখযোগ্য যে দ্রাবিড় জাতি যাযাবর ছিলনা। তারা ইটের ব্যবহার জানত। দ্রাবিড়র ধান ও তুলার ব্যবহার জানত। ব্রোঞ্জছাড়াও তারা রৌপ্যের বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিল। পক্ষান্তরে আর্যরা ছিল যাযাবর। ঋগবেদে ইটের ও রৌপ্যের বা কোন নগরের উল্লেখ পাওয়া যায় না। চালের বিষয়ে ঋগবেদের প্রাচীন অংশে কোন উল্লেখ দেখা যায় না। ঋগবেদের শেষাংশে চালের উল্লেখ পাওয়া যায। রৌপ্যের উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় শতপথ ব্রাহ্মণে আর কার্পাসের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় গৌতমায়। ফলে আর্যরা যে দ্রাবিড়জাতির পরবর্তী সে সম্বন্ধে নিঃসংশয় হওয়া যায়।



তবে আর্যজাতি তৎকালীন ভারতীয়দের চেয়ে অনেক উন্নত ছিল। তারা ছিল অশ্বচালিত যানবাহনে পথ চলায় অভ্যস্থ। আর্যরা ছিল সভ্যতা, ভাষা, সংস্কৃতির দিক দিয়ে অনেক উন্নত। খ্রীস্টপূর্ব ১০০০ বৎসর পূর্বে ব্যসদেব মহাভারত রচনা করেন এবং খ্রীস্টপূর্ব ৪০০ থেকে ২০০ খ্রীস্টাব্দের মধ্যে আর্য মুনি বাল্মীকি কর্তৃক রামায়ণ রচিত হয়। কাব্যাকারে রচিত এদুটি প্রাচীন গ্রন্থ কাহিনীর বিশালত্বে, বিন্যাসের নিপুণতায়, ভাষার সুললিত বর্ণনায়, ছন্দের মাধুর্যে আজো তুলনাহীন। এছাড়া আর্যদের মধ্যে ধর্মের উদ্ভব এবং ঋগবেদ সহ অন্যান্য বেদ রচনা তাদের উচ্চমননের বড় প্রমাণ। ঋগবেদ আর্যজাতির সবচেয়ে প্রাচীন গ্রন্থ। খ্রীস্টপূর্ব ১৭০০ থেকে খ্রীস্টপূর্ব ১১০০ সালের মধ্যে ঋগবেদ রচিত হয। ঋগবেদ থেকে জানা যায় যে আর্যরা ঘোড়ার গাড়ী ও ব্রৌঞ্জের ব্যবহারে পারদর্শী ছিল। তবে ঋগবেদে লৌহের কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। এ থেকে অনুমান করা হয় যে ঋগবেদ রচনার সময় আর্যদের মধ্যে ব্রৌঞ্জযুগ বিরাজমান ছিল। এছাড়াও ঋগবেদের রচনাস্থল হিসেবে সপ্তসিন্ধুর (পাঞ্জাবে প্রবাহিত শতদ্রু, বিপাশা, বিতস্তা,অশ্বিনী, পরশ্বিনী ইত্যাদি সাতটি নদী থেকে সপ্তসিন্ধু নামের উৎপত্তি।) উল্লেখ থেকে অনুমান করা হয যে ঋগবেদ রচনা কালে আর্যজাতি পাঞ্জাবে বসবাস করত।

অধ্যাপক হপকিন্স-এর মতে উম্বালা নামক জেলায় ঋগবেদ প্রনীত হয় (^ সুত্র ৫)।



ঋগবেদ মূলত দেবতাদের উদ্দ্যেশ্যে লিখিত। ঋগবেদের মূল কেন্দ্রীয় চরিত্র দেবতা ইন্দ্র আর ইন্দ্রের প্রধান শত্র 'বৃত্তাসুর। বৃত্রের সাথে বরুণ, অগ্নিকেও অসুর জাতীয় হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ঋগবেদে অন্যান্যের মধ্যে ব্রহ্মা, উষা, রুদ্র, বৃহস্পতি, পৃথিবী, সূর্য, বায়ূর উল্লেখ আছে। ব্রত্রকে ইন্দ্রের শত্রু হিসাবে ঋগবেদে উল্লেখ করা হয়েছে। ইন্দ্র কর্তৃক অসুর বৃত্র-বিনাশের যে বর্ণনা ঋগবেদে আছে, তাতে ইন্দ্রের যুদ্ধপারদর্শিতর প্রমাণ পাওয়া যায়। ঋগবেদে বর্ণিত আছে যে বৃত্র জগতের সকল পানি আটক করে মানবজাতির বিনাশ সাধনে উদ্যত হয়। ইন্দ্র বৃত্রকে বিনাশ করার মাধ্যমে জগতের জন্য পানির ধারা উন্মুক্ত করেন। এ থেকে অনেকে মনে করেন হিমযুগে পৃথিবীর পানি পাহাড়-পর্বতে বরফ হয়ে আটকা পড়ে এবং নদী-নালা শুকিয়ে যায়। হিমবিরতিতে পাহাড়-পর্বত থেকে বরফগলা পানির ধারা উন্মুক্ত হয। বি.পি রাধাকৃষ্ণের মতে ঋগবেদে ইন্দ্র ও বৃত্রের দ্বন্দ্বের মধ্যদিয়ে সে বিষয়েরই প্রতিফলন ঘটেছে (^ সুত্র ৬ )। ঋগবেদে কৃষ্ণের উল্লেখ আছে, তবে শ্রীকৃষ্ণকে সেখানে ইন্দ্রের বিপরীতে অনুজ্জ্বল বর্ণের অসুর যোদ্ধা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

আর্যরা সাহিত্য সংস্কৃতিতে যেমন উন্নত ছিল, তেমনি তারা যোদ্ধা হিসাবেও উন্নত ছিল। বিশেষত ব্রৌঞ্জনির্মিত অস্ত্রশস্ত্রে কল্যানে তারা যুদ্ধস্ত্রের দিক দিয়েও উন্নত ছিল। সিন্ধু উপত্যকায় দ্রাবিড়দের নির্মিত নগরগুলো আর্যযোদ্ধারা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে। যুদ্ধে তারা নৃশংসতারও বড় ধরণের পরিচয় দেয়। দ্রাবিড়দের নগরগুলো ধ্বংস সাধনের সময় আর্যরা যে গণহত্যার আশ্রয় নেয় তা, ঐসব নগর সমুহের গণকবর বা বৈধ্যভূমি আবিস্কারের মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। ঋগবেদ থেকে জানা যায় যে আর্যরা যাযাবরের জীবন যাপন করা ছাড়াও পশুপালন করত। তবে তারা চাষাবাদ জানত না (দ্রাবিড়রা চাষাবাদ, পশুপালন ও নগরজীবনে অভ্যস্ত ছিল)। ফলে আর্য়রা জীবিকার জন্য যে দুধর্ষ ছিল তা অনুমান করা যায়। আর্যরা যাযাবর হওয়ায় তাদের কাছে নগর জীবন উপেক্ষিত ছিল। ফলে দ্রাবিড়দের পত্তনকৃত সিন্ধু উপত্যকার নগরগুলো ধ্বংস সাধনে তারা ভ্রুক্ষেপ করেনি। আর্যদের হাতেই মহোনঞ্জদারো ও হরপ্পা সভ্যতার বিনাশ ঘটে। আর্যরা ঋগবেদ ছাড়াও যযুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ রচনা করে। অথর্ব বেদে ’কালো ধাতু’র উল্লেখ থেকে অনুমান করা হয যে কালো ধাতু বলতে লৌহের উল্লেখ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে আর্যরা লৌহের ব্যবহার ও তাদ্বারা অস্ত্রশস্ত্র নির্মাণ কৌশল আয়ত্ব করে। অথর্ববেদে কুরু রাজ্যের শাসক হিসাবে পরিক্ষীত নামে এক রাজার উল্লেখ পাওয়া যায়। কুরু পাঞ্জাবের পূর্বে বর্তমান হরিয়ানায় অবস্থিত ছিল। ফলে দেখা যায় যে আর্যরা ঋগবেদে বর্ণিত সপ্তসিন্ধুর দেশ (পাঞ্জাব) থেকে অথর্ববেদ রচনার সময় পূর্বদিকে কুরু রাজ্য পর্যন্ত বি¯তৃত হয়েছে।



সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধের (আনুমানিক খ্রীস্টপূর্ব ৫৬৩ থেকে খ্রীস্টপূর্ব ৪৮৩) জীবনী থেকে জানা যায় যে তিনি ক্ষত্রিয় বংশের রাজকুমার ছিলেন। তিনি বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তন করেন। সংস্কৃত বৈয়াকরণবিদ পানিনির সুত্রে ও বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাবপূর্ব কালে উপমহাদেশে আর্যজাতি বিভিন্ন জন বা উপজাতিতে বিভক্ত ছিল। এসব জনদের বসতিকে জনপদ বলা হত। এসব জনপদ গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাবের পুবের্বই রাজ্যে পরিণত হয়। ঋগবেদে যেখানে মাত্র তিনটি জনপদের নাম উল্লেখ ছিল, সেস্থলে ৬ষ্ঠ শতকে আর্যদের ১৬ টি জনপদের বিবরণ পাওয়া যায়। বৌদ্ধধর্মীয় গ্রন্থে (^ সুত্র ৭) বিধৃত ১৬ টি জনপদ বা রাজ্য হচ্ছে, ১. কাশী (রাজধানী বাণারসী) ২. কোশাল (রাজধানী শ্রাবস্তী) ৩. অঙ্গ (রাজধানী চম্পা) ৪. মগধ (রাজধানী রাজগৃহ) ৫. বাজি (ঠধলর) বা বিজি (রাজধানী বৈশালী) ৬. মল্ল (গধষষধ) (ক্ষত্রিয় রাষ্ট্র) ৭. চেরী বা চেটি ৮. রামসা বা বাতশা (রাজধানী কৌসাম্বী) ৯. করু (রাজধানী ইন্দ্রপ্রস্থ) ১০. পাঞ্চালা (বর্তমান বদায়ূণ ও ফারূক্কাবাদ, কান্যকুব্জ বা কনৌজ পাঞ্চলার গুরুত্বপুর্ণ স্থান) ১১. মচ্ছ বা মৎস্য (বর্তমান রাজস্থান, রাজধানী বিরাটনগর) ১২. শুরসেন (রাজধানী মথুরা) ১৩. অশ্বকা (রাজধানী পাটালী) ১৪. অবন্তী (রাজধানী উজ্জয়িনী) ১৫. গান্ধারা (পাকিস্তানে অবস্থিত) ১৬. কম্বোজ। এই ১৬ টি রাজ্যকে ঐতিহাসিকগন মহাজনপদ হিসাবে আখ্যায়িত করে থাকেন। বৌদ্ধগ্রন্থ Digha Nikya তেও প্রথম ১২ টি রাজ্যের বর্ণনা আছে। Chulla Niddesa বৌদ্ধগ্রন্থে কলিঙ্গ রাজ্যের উল্লেখ আছে। এছাড়া জৈন ভগবত সুত্রে যে ১৬ টি জনপদের উল্লেখ আছে, সেগুলো হচ্ছে ১. অঙ্গ ২. বঙ্গ ৩. মগধ ৪. মালয় ৫. মালবিকা ৬. আচ্ছা ৭. বাচ্ছা ৮. কোচ্ছা ৯. পদ ১০. লদ ১১. বাজ্জি ১২. মলি ১৩. কাশী ১৪. কোশাল ১৫. অভ ১৬. সম্বুত্র । এসব থেকে প্রতীয়মান হয যে, আর্যরা তাদের বিকাশের সাথে সাথে তাদের মধ্যে বিভিন্ন জন বা উপজাতির এবং সেই সঙ্গে জনভিত্তিক বিভিন্ন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটায় এবং তারা উপমহাদেশের উত্তর, দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত পূর্বদিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই পূর্বযাত্রা দীর্ঘকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ও এমত সমর্থন করে লিখেছেন, ''খৃস্টপূর্বক্ষ প্রথম সহস্রাব্দে উত্তরাপথের পূর্ব্বসীমান্তস্থিত প্রদেশগুলি আর্যগণের করায়ত্ব হইয়াছিল। তবে আর্যকরণ বা আর্যদের সমপ্রসারণবাদিতার মধ্যেও প্রবল প্রতিরোধের সৃষ্ঠি হয়। রাখালদাস বন্দোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে দ্রুত আর্যায়নের প্রায তিন বা চার শতব পরে সমগ্র আর্যাবর্ত শুদ্রবংশীয় রাজাদের অধীনস্ত হয়। শিশুনাগ বংশের মহানন্দের শুদ্রাণী স্ত্রীর গর্ভজাত পুত্র ভারতের সমস্ত ক্ষত্রিয়কূল নির্মূল করে একচ্ছত্র আধিপত্য লাভ করে। তার মতে বিজয়ী এই শুদ্রগণ "অনার্যবংশ সম্ভূত ছিল।'' ( ^ সুত্র ৮) খ্রীস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে আর্যরা বঙ্গ অধিকার করে এবং বঙ্গ মৌর্যসাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত হয়। ইতিমধ্যে সংস্কৃত ভাষার প্রভূত উন্নতি সাধন ঘটে। শ্রুতি থেকে আর্যদের গ্রন্থ সমুহ লিখিত রূপ পরিগ্রহ করে। খ্রীস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্ধীতে পানিনি (পানির পুত্র) নামে বিখ্যাত বৈয়াকরণ ’অষ্ঠাধ্যায়’ নামে সংস্কতভাষার ব্যাকরণ রচনা করেণ। এছাড়া বেদ ঘিরে শতপথ ব্রাহ্মণ, ঐতেরিয় ব্রাহ্মণ, পুরাণ (গল্পাকারে পূর্বকথা) সমুহ রচিত হয়। সংস্কৃতের এই অভাবনীয় উন্নতির কারণে এক সময় আর্যদের ভাষা ও সংস্কৃতি ক্রমাণ্বয়ে সারা ভারতে প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হয। তবে খ্রীস্টপূর্ব ১৮৫ অব্দে মৌর্যশাসন লুপ্ত হয এবং মধ্য এশিয়ার শকগন উপমহাদেশে আক্রমণ করে ও কপিশা সহ পঞ্চনদ দখল করে।

আর্যজাতি উপমহাদেশে বসতি স্থাপনে বা ভূমি দখলে তাদের পূর্ববর্তীদের প্রবল বিরোধিতার অজস্র প্রমাণ পাওয়া যায়। তা সত্বেও উপমহাদেশে আর্যজাতির সমপ্রসারণ অব্যাহত ছিল। ৭ম শতকে আর্যরা বঙ্গ সহ উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হয়।

পূর্ব সুত্রঃ

১. কে আদিবাসী? বাঙালি ও বাঙলার বিবর্তনঃ প্রসঙ্গ - অস্ট্রালয়েডঃ ১ম পর্ব

২. কে আদিবাসী? বাঙালি ও বাঙলার বিবর্তন প্রসঙ্গ - দ্রাবিড় জাতি ২য় পর্ব



^ সুত্র ৫ : India Old and New, Prof, E.W.Hopkins, 1901,

^ সুত্র ৬ : (Radhakrishna, B.P (1999). Vedic Sarasvati and the Dawn of Indian Civilization, 42, Memoir Geological Society of India.)

^ সুত্র ৭: Anguttara Nikaya

^ সুত্র ৮: রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়, বাঙ্গালার ইতিহাস ১ম খন্ড, দে'জ পাবলিশিং, কলকাতা, ১৪১৩ বঙ্গাব্দ (মূল ১৩২৪ বঙ্গাব্দ)

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:১০

জোবাইর বলেছেন: 'আর্যজাতি' উপমহাদেশের একটি জটিল বিষয়। লেখাটা ভালো হয়েছে, অল্প কথায় অনেক কিছু জানা গেল। সহস্র ধন্যবাদ।

১০ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৩০

মধুখোর বলেছেন: জটিল বলেই অনুসন্ধানের প্রয়োজন।

২| ০৬ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৫৪

আহমদ আবদুল হালিম বলেছেন: চলুক । শেষ পর্যন্ত থাকবও আশা করছি ।

০৭ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৩২

মধুখোর বলেছেন: দেখা যাক কতজন থাকে!

৩| ০৬ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:০২

বাফ্রু মারমা বলেছেন: বাঙ্গালি আসলে শঙ্কর জাতি। আদি জনগোষ্ঠী হচ্ছে-mongolo-dravidians. যুগে যুগে বাঙ্গালি জাতির রক্তের সাথে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর রক্ত মিশেছে। তাই বাঙ্গালির পরিচয় পরিবর্তিত হয়েছে যুগে যুগে। কিন্তু উপজাতি বা আদিবাসীরা হচ্ছে mongoloid গোত্রভূক্ত। এদের পরিচয় পরিবর্তিত হয়নি। তাছাড়া বাঙ্গালী জাতির এই বিবর্তন কিছুটা অনুমানলব্ধ। একেক গবেষক একেকভাবে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বাঙ্গালির আসল পরিচয় জানার জন্য wikipedia best। লেখক তিন আদি জনগোষ্ঠী- caucasoid, mongoloid r negroid এর কথা উহ্য করেছেন।

০৬ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:৫৬

মধুখোর বলেছেন: আপনি সম্ভবত আমার আগের পোস্টগুলো পড়েন নি। বাংলাদেশের সব উপজাতি মঙ্গোলীয় গোত্রের নয়। বাংলাদেশে পিগমী জাতিয় একটি ক্ষুদ্র জাতি আসার পর আদি অস্ট্রালযেডরা বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে আগামণ করে। তাদের বর্তমান বংশধর হল সাওতাল। সাওতালরা হচ্ছে বাঙলার আদিবাসী এবং আদি অস্ট্রালেয়েড গোত্রভুক্ত। যদি ধৈর্য থাকে তাহলে শেষ পর্ব পর্যন্ত পড়ুন।
অবশ্য আমি ব্লগ লিখি আমার চিন্তা চেতনাকে ইন্টারনেটে সংরক্ষিত রাখার জন্য। সেই সাথে যদি কেউ ব্লগ দেখেন ও মন্তব্য করেন তাতে উৎসাহিত হই।
উইকিপিডিয়া সদা পরিবর্তনশীল, সম্ভবত এটা আপনার জানা।
হাজার হাজার বছর আগের বিষয় ঠিক অংকের মত মিলানো যায় না। সেজন্য অতীত নিয়ে গবেষণার বিরাম নেই।

৪| ০৬ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১১:৫২

িঠকানা বলেছেন: কত পর্ব পর্যন্ত চলবে ? ধন্যবাদ আপনাকে ।

০৭ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৮

মধুখোর বলেছেন: অন্তত আরো ৫/৬টি পর্ব লাগতে পারে। ভবিষ্যত পর্বগুলোর মধ্যে দিনারিয় ও আলপাইন জাতি, বঙ্গ নামের উৎপত্তি, উপমহাদেশে মঙ্গোলিয় জাতির আগামণ, বাঙ্গালা নামে এলাকা, বাঙালি নামে জাতির উদ্ভব নামে পর্বগুলো ভেবে রেখেছি। দেখি কি দাঁড়ায়!

৫| ০৮ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৪৭

বাফ্রু মারমা বলেছেন: আমার লেখায় mongolo-dravidians আর mongoloid এর কথা বলেছি। পাহারী এলাকার আদিবাসীরা হচ্ছে mongoloid গোত্রভূক্ত। আমি কিন্তু বলিনি সাঁঅতালরা mongoloid গোত্রভূক্ত।

০৯ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১:৪১

মধুখোর বলেছেন: পাহাড়ি এলাকা বলতে কিন্তু বিরাট এলাকা বুঝায়। আপনি এলাকা নির্দিষ্ট করে বললে উত্তর দেয়া সহজ হত। কারণ পাহাড়ি এলাকা বলতে বাংলাদেশে কেবল পার্বত্য চট্টগ্রাম বুঝায় না। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মগজাতি মঙ্গোলয়েড নরগোষ্ঠির জাতক। পার্বত্য চট্টগ্রামে মঙ্গোলীয় নরগোষ্ঠীজাত গোত্রগুলোর আগমণকাল সম্বন্ধে আপনি আমাকে সুত্র দিয়ে সহায়তা করলে ভাল হয়।
আদিবাসী প্রশ্নটা নৃতাত্ত্বিক নয়, ঐতিহাসিকঃ এটা বুঝতে হবে।

৬| ১৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:২৩

বাফ্রু মারমা বলেছেন: আপনি জানেন না পাহাড়ী এলাকার লোকজন কখন এসেছে?? তাহলে এই রচনার উদ্দেশ্য কি?? নৃতত্বের বিবর্তনের সাথে মানব জাতির ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

১৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৪০

মধুখোর বলেছেন: আমার লেখাটা বেশ দীর্ঘ হবে আর আপনি চাচ্ছেন এখনি প্রকাশ করি বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে যারা বাসকরে, তাদের ঐ জায়গায় কখন এসেছে। এর জবাব জানার জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। আপনার আগ্রহ দেখে খুব উৎসাহিত বোধ করছি। আশা করি ইতোমধ্যে আমার পরবর্তী অর্থাৎ ৪র্থ পর্ব আপনার চোখে পড়েছে। না পড়লে লিংকটা দেখুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.