নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার পরিচয় খোলা চিঠিতে আছে। তবে আমি সবসময় সাধারন মানুষ হিসাবে বেচে থাকতে চাই।

অাল ইমাম

আমি সাদামাটা একজন মানুষ, খুবই সাধারন।

অাল ইমাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

”পরিচয় নিখোজ”

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩৫

অনেক চেষ্টা সাধন কইরা আমার পরিচয় বাইর করতে পারে নাই। তবে আমারে সব সময় খোজ করে না। কিছু কিছু সময় মানে বিপদে পারলে আমার খোজ মিলাইতে অনেক বড় বড় মর্তমারা খোজ করে আবার পরে নিখোজ বইলা চালাইয়া দেয়। সরকার আমার ওজন ভারী করে আর সরকারের সৎ বৌ আমারে গুম হিসাবে আখ্যায়িত করতে চায়। দেশের জন্মের সময় আমারে লইয়া ভালই ভোল ভেলকি দেখাইছিল, ওহ! মনে পরতাছেনা? মনে করনের চেষ্টা করেন তাবে তদবির কইরেন না কারন আমার পরিচয় তো জানেন না। জানলে বুঝবেন আমি কেডা? বেশী দিন আগের কথা না এইতো সেদিন, মনে হয় ১৯৭১ সাল হইবে কি তার আগপিছ........ কি? মাইন্ড খাইলেন? মানে.... চেতেন ক্যান? ওহ! কি? কি কন? ৪৪ বছর আগের কথা? আরে আমি তো... মনে করছিলাম কিছু দিন আগের কথা। মাফ কইরা দেন। ক্ষ্যামা প্রত-তনা কই-তেছি। দেশে আপনে আর আপনের সৎ বৌ মিল্লা যা শুরু করছেন তাতে মানে করছিলাম আমি ১৯৭১ এ আছি। যাক বাজে কথা বাইলা লাভ নাই, লোসক্ষন বেশী করতে চাই নে। আমার পরিচয় লাইয়া কথা কইতেছিলাম। আমারে আবার খোজ করা হইল সরকারী বাহিনী গন্ডগোলের সময়। অনেক গবেষনা, অনেক মিটিং, অনেক চিন্তা ভাবনা কইরা কইয়া ‍দিল অত অত জন নিখোজ। পেপারে বড় বড় হেড লাইন হইল, বড় নেতারা তাগে চেয়ে বড় বড় লেকচার-র্ফমুলা সাথে লাল মুলা কত কিছু করল। সরকারের সৎ বৌ বড় বড় ডেড লাইন দিল। এ্যয় কয় হেতার দোষ আর হেতায় কয় উণার দোষ আর জনগন কয় সব আমগো কপালের দোষ আমগোরে মাফ কইরা দে। ক্ষ্যামা প্রত-তনা কই-তেছি। খ্যাতা দিয়া চাপি আমারে মারি ফালা। যাক এই সব বাজে কথা। কথাডা হইল আমার পরিচয়। কোন এ গারমেনজে আগুন লাগলো ভদ্দলোকেরা কইলো ”পোশাক শিল্পে আগুন”। কতো শিল্পির গায়ে আগুন লাগলো কতো শিল্পির সংসারে অনল লাইগা পুইরা ছারখার হইয়া গেল। আবার বড় বড় হেড লাইন, ডেড লাইন, ভদ্দলোকের পোশাক শিল্পের মাইরা যাওনের পাইপ লাইন আর আমি নিখোজ সংবাদ। খালি খালি সময় নষ্ট, বিভেগের তারনায় শুধু শুধু কষ্ট। তারপরও কইলাম অনেক সহ্য করছি আর সহ্য করুম না। আমি আমার পরিচয় চাই। আমার পরিচয় চাই। হাহাহাহাহাহাহাহ শুইনা হাসতে হাসতে পেটি খিল লাইগা গেলরে..........রে। আন্জুমান আমারে একটা পরিচয় দিল আমি বেওয়ারিশ। না। না। না। পছন্দ হইল না। আমি আমার পরিচয় আবার খোজা শুরু করলাম। তাতে কি হইলো? পাইলাম ১০০ তে আন্ডা। নৌকা ডুব দেয়, দেখা দেখি ঝরের সময় বড় বড় লন্জ ডুব দিল, মনে করল তারা নিউকিলার সাবম্যারিন হইছে, কি হইল? কিছুই হইল না। আমার খোজ শুরু হইল আর কইল অত অত নিখোজ। সরকারী দল কইল অত অত জন উদ্ধার আর সরকারের সৎ বৌ কইল তত তত জন নিখোজ হইছে বাকি গুম করছে। আমি তো পুরাই ভেরা-ছেরায় পইরা গেলাম। আমি মরি আমার জ্বালায় আর তারা কয় নিখোজ, উদ্ধার, গুম। আরে ভাই আমি ক্যাডা তোমরা তো জানো না IF যদি জানতা তয় বুঝতা। পরে শুনলাম লন্জে সমস্যা ছিল, আরে লন্জের কি সমস্য? ঝর হইয়া তো গোলমাল হইয়া গেল, না হইলে কি এত গানজাম হইতো? ঝরে দোষ। সব ঝরের দোষ। একজন মাননীয় মনতী কইল ”আল্লার মাল আল্লায় নিছে”। ভালই তো......ভাল না। এর মাঝে অনেক বার আমারে খোজ করল। কে আমারে খোজ করে নাই? সরকার, সরকারের সৎ বৌ, মিডিয়া, অমক সংগঠন, তোমক কোম্পানী। এ্যয় সাহয্য দেয়, ত্যায় সহযগীতা করে, সরকার ছাগল দেয়। শুধু মাত্র খোজ মিলাইলো না আমার পারিবারিক সম্পর্কের লোকজন। বৌ আমার চিৎকার কাইরা আকাশ পাতাল এক কাইরা ফালায় ভবিষৎ কথা চিন্তন কইরা, মাও আমার বৌ লাগে পাল্লা দিয়া কাতরায় সাত রাজার ধন হরাইয়া। বাপ আমার নির্বাক। শুধু নয়নের কোনা দিয়া একফোটা কইরা পানি পরে, এই ক ফোটা নোনতা পানি, সমুদ্রের লোনা পানিও যার কাছে হার মানে। তখন মিডিয়ও কচিতে মজা লয় “আপনার অনুভুতি কি”? আর সহ্য হয় না। সহ্য করতে পারিনা। পরিচয় লইয়া বহুত জ্বাতনায় আছি। কি আর কমু কিছুই কওনের নাই। কিছু দিন হইল আবার ভদ্দলোকের পোশাক শিল্পি লইয়া কি যেন হইল আর আমারে লাইলা শুরু হইল আরও টানা হেচরা, মনে হয় আমি একটা চোর আর ছেচরা। আরে বাপ আমি কি? কি আমি? আমার খোজ কি কেউ পায় না? দেশের আর্মি খোজে, র‌্যাব খোজে, মিডিয়া, পুলিশ, সরকার সবাই আমারে খোজে তার পরও কয় আমি নিখোজ। যা আমি আর বাচতাম চাই না। আমারে মাইরা ফালা। তারপরও আমার একটা পরিচয় দে। আমারে নিয়া টাল-বাহানা করিস না। আমারে খোজের আবার হিসাব আছে। একটা হইল সরকারী হিসাব ১০০ জন নিখোজ, সৎ বৌ এর গুনিতক হিসাব ১,০০০ নিখোজ, গুজব হিসাব ১০,০০০ নিখোজ। কেনটা ঠিক আর কোন টা গুজব তাই জানিনা। আমার দল যোগদান করল এক ভদ্দলোক। এহে! এত সোজা? ভদ্দলোক! তাও আমার লাগে, না। তারে খোজ করতে করতে বেনাপল পাইল কিন্তু আমার খোজ কেউ পাইল না। হুনছিলাম কি এক ভবন বইসা পরছে আর শিল্পিরা মারা গেছে, শিল্পিরা উদ্ধার হইছে, সাহীনারে বাচাইতে গিয়া কায়কোবাদ নিজের জীবন বাচাইতে সিংগাপুরে মারা গেছে। লাভ কি হইছে? কিছু হইছে? আবার ১০০ তে আন্ডা। কায়কোবাদরে সম্মানের সাথে দাফন করছে, সাহীনা আগুনে পুইরা মরছ, উদ্ধার কর্মীরা-আর্মি লোকেরা পত্-থরের মনও কাইনদা দিসে আর আমি নিখোজ। বিল্ডিং এর সব দোষ বাইর হইল পাইরা যাওনের পর। ক্যান অহন ওর দোষ ধরেন ক্যান? আগে কি করছিলেন? আরে এগুলা লইয়া চিন্তা করনের আপনেগো সময় কই? আপনেরা তো আছেন বাপ, জামাই আর পোলা পাইন লাইয়া। আমগো চিন্তা করবেন ক্যামনে? আমগো তো পরে কোন খোজ মিলাইতে পারেন না।

আমার পরিচয় আমি অহনও খুজতাছি ডুবন্ত লন্জে, পুইরা যাওয়া বিল্ডিং এর চাপা পরা ছাইয়ের নিচে, বাইংগা পরা ইট ক্রংকিটের মাঝে আরও কত জায়গায়। অনেক হরান লাগতাছে তারপরও খোজ মিলাইতে পারি না আমার নিখোজ পরিচয়। আমার পরিচয় কি? ”নিখোজ”?

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.