নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

(⊙▂⊙)

---

শয়তান হন্তারক

লজ্জা আদিত্য অনীক পাখিটা উড়ে গেল নির্বিঘ্নে সীমানা পেরিয়ে বনের বাঘ বা হরিণও যেতে পারে পাসপোর্ট ভিসার প্রয়োজন হয় না। সারি বাঁধা পিপড়া বা দল বাঁধা হাতিও পারে, অথচ মানুষ পারে না সীমানা পেরোতে। অতীতে পোড়া লোহায় দাগিয়ে ক্রিতদাস চিহ্নিত করা হতো , পালিয়ে যাবার ভয়ে। এখনো হচ্ছে- ধর্মে , বর্ণে , ভাষায় , অবস্থানে; কতিপয় চতুর লোক শাসন করার জন্য সীমানা পেতে তোমাকে দাগিয়ে দিচ্ছে বিদ্বেষ আর মিথ্যা বিভেদের কালি দিয়ে, বোকার মত তুমি তা মেনে নিচ্ছ। হে মানুষ , বনের একটা পশুর সমান স্বাধীনতাও তুমি অর্জন করতে পারো নি, তোমার লজ্জা হওয়া উচিত।

শয়তান হন্তারক › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামী ধারাঃ আমাদের ইসলাম ও ইসলাম বিদ্বেষ

১১ ই জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৭



বাংলাদেশে রাজনৈতিক ভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় ১২০৩ খৃষ্টাব্দে। বখতিয়ার খিলজী প্রথম সেনা অভিযান চালায় বঙ্গ অঞ্চলে। অনেকেই ধারণা করেন বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের সূচনা ওখান থেকেই। আসলে বঙ্গ অঞ্চলে ইসলামের পদযাত্রা ঘটে ৭০০ সাল থেকেই। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সুফি ও দরবেশরা বঙ্গ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ অবদান রাখে। ১২০৩ সালে বঙ্গ অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা পায় মুসলিমরা। সে সময় থেকে এ দেশে গড়ে ওঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ধারার ইসলামী দল। বাংলাদেশের মুসলিম জনতার যে ইসলাম-চিন্তা তা ওতপ্রোতভাবে এ দলগুলোর সাথে জড়িত। বঙ্গ দেশের জনগণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইসলামের উৎসমূল থেকে দীক্ষা নেয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন দল ও ব্যাক্তির কাছ থেকে ইসলামী দীক্ষা নেয়।



বাংলাদেশের মুসলিম জনতার বিশ্বাস অনেকাংশেই যেমন বিভিন্ন দল ও মতের প্রভাবমুক্ত নয়, তেমনি এখানকার প্রগতিশীল ও প্রথাবিরোধী যে ধারা সক্রিয়, সেসবও এসব দল ও মতের প্রভাবমুক্ত না। অধুনা বাংলাদেশে বিভিন্ন ইসলামী দলের কার্যক্রম শুরু হয়। যেমন: তাবলীগ জামাত, জামায়াত ইসলামী , আহমেদিয়া জামাত, দেওয়ানবাগী, আটরশি, হিজবুত তাহরীর ইত্যাদি বিভিন্ন দল। ইসলামপন্থী ও ইসলাম বিদ্বেষী দুটি ধারার চিন্তাভাবনা কোন না কোনভাবে এদের সাথে জড়িয়ে আছে। একটি উদাহরণ দিলেই ব্যাপারটি স্পষ্ট হবে।



১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বঙ্গবাসীদের উপর যে নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকে তার একটি ইসলামী বৈধতা দাঁড় করানোর চেষ্টা করে তৎকালীন পাকিস্তানী সরকার যাতে করে পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলিম জনতার মধ্যে তাদের অপকর্মের একটি ইসলামী বৈধতা দাঁড় করানো যায়। এ বৈধতা আদায় করার জন্য তাদের দরকার ছিল বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দের সম্মতি। অনেক ইসলামপন্থী দল এ কূটনৈতিক চাপে পড়ে সরকারি অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। এমনকি এতকাল ধরে পাকিস্তান সরকারের বিরোধিতা করে এসেছে এমন ইসলামী দলও পাকিস্তানী শাসকদের অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের বুঝানো হয়, এ হচ্ছে ইসলাম বনাম হিন্দু (পাকিস্তান বনাম ইন্ডিয়া) ধর্মের যুদ্ধ। ২ আর ২ যোগ করলে ৪ হয়। এক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। এ মিথ্যা প্রচারের শিকার ইসলামপন্থীরা যেমন হয়েছিল ঠিক তেমনি তার শিকারে পরিণত হয় প্রগতিশীল প্রথাবিরোধী ধারাটিও। কথিত প্রগতিশীল ধারাটিও ইসলামের এমন একটি ছবি ধারণ করে যাতে পাকবাহিনীর সাম্প্রদায়িক ও উগ্র জাতীয়তাবাদের অপকর্মের সুস্পষ্ট জলছাপ লেগে ছিল। অতঃপর ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধু পাকিস্তানের কাঁধে ভর করে তারা ইসলামকে বিচারের কাঠগোড়ায় দাঁড় করায়। পাকিস্তানী সরকারের রাজনৈতিক খেলাকেই তারা ইসলাম হিসেবে ধরে নেয়। এক কথায়, এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মভীরু জনতা যেমন মূল ইসলামী উৎস হতে বিচ্ছিন্ন থেকে বিভিন্ন দল ও ব্যাক্তির প্রভাবে ইসলাম সম্পর্কে দীক্ষা পেয়েছে ঠিক তেমনি এদেশের প্রথাবিরোধী প্রগতিশীল ধারাটিও এসব দল ও মতের উপর ভিত্তি করেই ইসলামের পর্যালোচনা দাঁড় করিয়েছে।



তাবলীগ জামাত, আহমেদিয়া জামাত, জামাত ইসলামী ,মাইজভান্ডারী, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ,হরকাতুল জিহাদ, দেওয়ানবাগী,আহলে হাদীস, জাকের পার্টি, হিজবুত তাহরীর, হিজবুত তাওহীদ ইত্যাদি দলগুলোর কাঁধে দাঁড়িয়ে যদি কেউ ইসলাম বিচার করে তাহলে ইসলামপন্থী ও প্রথাবিরোধী প্রগতিশীল দুটি ধারার-ই ভুল পথে পা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে এর অনেক নজির অবশ্য আমরা দেখেছি। কোন একটি দল বা মত হয়ত কিছুটা ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই বলে একটি বা দুটি দল দিয়ে ইসলাম বিচার করাটা শুধু বিভ্রান্তিকর নয়, তা হাজারো মানুষের পথভ্রষ্টতার কারণ।



আমাদের সবার ইসলাম-ই কোন না কোনভাবে কোন দল বা মতের সাথে জড়িত। বিভিন্ন দল ও মতের লোকজনের কাছ থেকেই ইসলাম সম্বন্ধে সবাই হাতে খড়ি দেয়। তাতে হয়তবা অনেক মানুষ ইসলামকে কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে। তবে কেউ কি কখনও এসব দলকে ইসলামের মূল উৎসধারা অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর স্কেল দিয়ে মাপার চেষ্টা করেছে? হাতের পাঁচ আঙুলে গোনা যায় এমন কয়েকজনকে বাদ দিলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা হয়েছে তা হল অন্ধ অনুসরণ। এর ফলে মুসলিমদের মধ্যে বিবাদ ও সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠেছে। মনে রাখতে হবে ইসলামে কোন অন্ধ অনুকরণ ও আনুগত্য নয়। অন্ধ অনুকরণ যদি করা যায় তা শুধু করতে হবে আল্লাহ ও তার রাসুল স. এর ক্ষেত্রেই। প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সুস্পষ্ট করে মুসলিম উম্মাহদের জানিয়ে দিয়েছিলেন:



“ আমি যদি বাঁকা হয়ে যাই তাহলে তোমরা আমায় সোজা করে দিবে।”



আর বাঁকাকে সোজা করা যাবে তখন-ই যখন আমাদের ইসলাম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকবে। হযরত মুহাম্মদ স. , ইসলাম সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনকে প্রত্যেক নর নারীর জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন। নেতাদের অন্ধ আনুগত্য করার জন্য নয়। বরং নিজেদের বাঁচাতে এবং নেতারা বেঁকে গেলে তাদের সোজা করে দেওয়ার জন্য। এখন সময় এসেছে ইসলামের মূল উৎসের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ইসলামকে জানা ও বুঝার। এর জন্য দরকার কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের। কাঠখড় পোড়াতে হবে অনেক। ইসলামকে পরিচ্ছন্নভাবে বুঝতে হলে এ কষ্টটুকু অবশ্যই আমাদের স্বীকার করতে হবে। নয়ত বিভিন্ন দল ও মতের অন্ধ অনুসরণ না করে আমাদের আর কোন উপায় থাকবে না।

মন্তব্য ২১ টি রেটিং +৯/-১

মন্তব্য (২১) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫০

কবুতর সন্ধানী বলেছেন: val genta sb dik theke neoya uchit
মুসলিম শুধু না।

১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:০৬

শয়তান হন্তারক বলেছেন: সহমত

২| ১১ ই জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৯

অলস ছেলে বলেছেন: আরো কন্টিনিউ করেন। এ পর্যন্ত তো ভালো লেগেছে। নৈর্ব্যাক্তিক।

১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:০৮

শয়তান হন্তারক বলেছেন: ধন্যবাদ অলস ছেলে। ভবিষ্যতে আরো বিস্তারিত লিখব ইনশাল্লাহ।

৩| ১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:০০

বিদ্যালয় বলেছেন: ইসলাম কি শান্তি দিতে পেরেছে ? অশান্তির কারন হয়ে যাচ্ছে ।

১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:১১

শয়তান হন্তারক বলেছেন: যে সব অশান্তি হচ্ছে তা হল অন্ধ অনুসরণের ফল। যে কোন দল অথবা মতকে আমাদের কুরআন ও সুন্নাহর কষ্টিপাথরে যাচাই করে দেখতে হবে।

৪| ১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:০৮

শয়তান বলেছেন: এক সহ ব্লগার এই প্রশ্নটা করছিলেন । কেউরে এর উত্তর দিতে দেখি নাই

১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:২৯

শয়তান হন্তারক বলেছেন: পদ্মাচরের লাঠিয়াল যে প্রশ্ন করেছেন তা এ যুগের যে কোন মানুষের মনে উদয় হওয়াটা স্বাভাবিক। এর জন্য মুসলিমদের দায়ি করলে ভুল হবে। অসংখ্য দলবাজ ও ফিরকাবাজদের ব্যাক্তি স্বার্থ উদ্ধারের জন্য যে কাদা ছুড়াছুড়ির সৃষ্টি তার ধূম্রজালের কুয়াশায় আটকে পড়ে এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়া খুব-ই স্বাভাবিক।

যদি কেউ শুধু রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের কথা চিন্তা করে তাহলে প্রশ্নটির উত্তর হবে অবশ্যই না। কিন্তু অন্যদিক দিয়ে চিন্তা করলে এর উত্তর হ্যা। বলতে গেলে পৃথিবীর সব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে এমন অনেক মানুষ-ই আছেন যারা ইসলামকে অন্তত কাদা ছুড়াছুড়ির জগৎ থেকে আলাদাভাবে চিন্তা করতে পারে। অনেকেই ইসলামকে পৃথিবীর কোথাও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত না দেখে হতাশ হন। রাষ্ট্রীয় ভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত নেই বলে এ ভাবার কোন অবকাশ নেই যে কেউ বিশুদ্ধ বিশ্বাসে ইসলাম চর্চা করছে না। আপনার প্রশ্নের উত্তর হল, প্রকৃত ইসলাম কুরআন এবং সুন্নাহর মধ্যে আছে। যে কেউ চাইলে তা খুঁজে দেখতে পারে। এটা না করে হাতে গোনা কিছু আলেম ওলামা ও মাশায়েখদের হাতে সেটি খুঁজে বের করার দায়িত্ব দিয়ে আমরা নিজেদের অসহায় করে ফেলেছি।

৫| ১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:২১

শাহ জাহান মাহমুদ বলেছেন:

বিদ্যালয় বলেছেন: ইসলাম অনেক আগেই পচে গেছে । পচা গলা থেকে এখন গন্ধ বেরুচ্ছে ।

সে মুসলমান কিনা চিন্তা করুন, আসলে ইসলামি ড্রেস পরইয়া, সে ইহুদী জারজ ।

৬| ১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:২৪

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: হযরত মুহাম্মদ স. , ইসলাম সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনকে প্রত্যেক নর নারীর জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন। নেতাদের অন্ধ আনুগত্য করার জন্য নয়। বরং নিজেদের বাঁচাতে এবং নেতারা বেঁকে গেলে তাদের সোজা করে দেওয়ার জন্য। এখন সময় এসেছে ইসলামের মূল উৎসের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ইসলামকে জানা ও বুঝার। এর জন্য দরকার কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের। কাঠখড় পোড়াতে হবে অনেক। ইসলামকে পরিচ্ছন্নভাবে বুঝতে হলে এ কষ্টটুকু অবশ্যই আমাদের স্বীকার করতে হবে। নয়ত বিভিন্ন দল ও মতের অন্ধ অনুসরণ না করে আমাদের আর কোন উপায় থাকবে না।

++

১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১০:৩৬

শয়তান হন্তারক বলেছেন: ধন্যবাদ ভৃগু। ভাল থাকবেন।

৭| ১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:৩৮

এস এইচ খান বলেছেন:


সহমত।

সমাধান অর্থাৎ শেষ প্যারাটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হয়েছে। ভাল লেগেছে।

পোস্টটি যথাযথ এগিয়ে নিতে কোনরুপ ক্যাচাল এড়িয়ে চলুন।

১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১০:৪২

শয়তান হন্তারক বলেছেন: পোস্টটি পড়ার জন্য ও আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।

৮| ১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:৩৯

বিপ্লব কান্তি বলেছেন: চার নম্বর কমেন্ট নিয়ে একটু আলোচনা করি । ভারত উপমহাদেশ পুরোপুরি শ্রীকৃষ্ণ নির্ভর । চলনে, বলনে, কথনে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি, প্রেম ইত্যাদি দখল করে আছে। শুধু হিন্দু না । মুসলমানদের মধ্যে ও । ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের পূর্বপূরুষ ছিলেন , সাধারনত নিম্নশ্রেনীর হিন্দু ।

গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন , আমি চারটি বর্ন সৃষ্টি করেছি । বলেছেন কাজ করতে । সৎভাবে কাজ করে যেতে । ফল নিয়ে চিন্তা না করতে ।

তারপর দেখা গেল , সমাজপতি অনেক রাজারা,( কেউ কেউ ব্রাহ্মনরা এটার জন্য দায়ী বলে থাকেন, আসলে ব্রাহ্মনরা রাজার কথায় চালিত হতো। ) নিম্নশ্রেনীর লোকেদের মানুষই মনে করত না। তাদের টোলে (হিন্দু ধর্ম প্রকৃত শিক্ষা করার কথা বলে) যেতে দিত না , মন্দিরে যেতে বারন করত । বিশাল খারাপ অবস্হা ।

এসব করতেই করতেই অনেক হিন্দু বৌদ্ধ ধর্মে কনভার্ট হল । তারপর মুসলমান ধর্মে । আপনারা যদি কেউ মনে করে থাকেন যে আপনার পূর্বরা কোন ধর্ম পড়ে লিখে বুঝে কনভার্ট হয়েছে তাহলে ভুল করবেন । কারন তারা নিতান্তই অশিক্ষিত ছিল । তারপর আরবী তাদের পড়ার কথা না । তারা শত শত বছর থেকে অসম্মান থেকে বাঁচার জন্য এমন করেছিল । আর যুদ্ধের একটা ব্যাপার তো আছেই । ওটা নিয়ে এখন লিখছি না ।

যা বলছিলাম , আপনারা ইসকনের নাম শুনেছেন , ইউরোপ আমেরিকার খ্রিষ্টানরা ইসকনের ভক্ত হয়ে হিন্দু হয়ে যায় । সবজি খায়, শাড়ি পরে । কপালে তিলক দেয় । গান বাজনা করে , কৃষ্ণ - শ্রি-গোরাঙ্গ নাম করে ।


একজন ইউরোপ আমেরিকার খ্রিষ্টানরা ইসকনের ভক্ত হয়ে যতই ভারতীয় দর্শন, বাউল-বৈষ্ণব দর্শন গিলার চেষ্টা করুক সে আমার মত হতে পারবে না । আমি জিন গতভাবে এই দর্শনের অনুসারী ।



ধর্ম পালনে সংস্কৃতি একটি বিরাট বিষয় । বাংলাদেশের মুসলমানের বাঁশির সুর পছন্দ করে । কিন্তু এরাবিয়ানরা এটা করে না। বাংলাদেশে যে এরাবিয়ানরা ধর্ম প্রচার ও রুটি রুজগারের আশায় এসেছিল তাদের কবরে আজ বাংলাদেশীরা বাউল নাচ গান করে :) আসলে ধর্ম পালনে সংস্কৃতির কথা বলছিলাম ।

আমি ছোট বেলায় দেখেছি , মুসলমানরা হিন্দুদের শীতলা পূজায় টাকা দিত । হাম হলে মনসা মূর্তির হাতের মাটির সাপ নিয়ে যেত । আসলে ধর্ম পালনে সংস্কৃতির কথা বলছিলাম ।


এক ইসলাম ধর্মপ্রচারককে গিলে ফেলার কারনে আরবরা বোয়াল মাছ মোটেই খায় না । বাংলাদেশিরা খায় । আসলে ধর্ম পালনে সংস্কৃতির কথা বলছিলাম ।

১২ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১২:৪৮

শয়তান হন্তারক বলেছেন: আপনার বক্তব্য থেকে জানলাম অনেক কিছু, সে জন্য ধন্যবাদ। বিশেষ করে ইসকোনকে জানতাম না। তিনি মনে প্রাণে হিন্দু হয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়। আপনি ঠিক-ই বলেছেন। ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে হিন্দুদের অনেকেই বৌদ্ধ ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। তার উপর নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের মন্দির, টোলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ব্রাহ্মণদের প্রতাপ প্রতিপত্তি বজায় রাখার জন্য, অনেকটা ইচ্ছাকৃতভাবে নিম্নবর্ণের হিন্দুদের অশিক্ষিত করে রাখা হয়। কোন শুদ্র যদি কৌতুহল বশত বেদ, গীতা ইত্যাদি পাঠ শুনে ফেলতে তাহলে তাদের কঠিন শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। পূনর্জন্মে হরিণ, চড়ুই অথবা শালিক হওয়া ছাড়া এ অভিশাপ থেকে মুক্তির আর কোন উপায় ছিল না শুদ্রদের। তাই প্রথমে তারা জন্ম চক্রের এই আবর্তন থেকে বাঁচার জন্য বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করে নির্বাণপ্রাপ্তির পথ খোঁজে। পরবর্তীকালে মুসলমানরা যখন ভারতবর্ষে পদার্পণ করে তখন নিম্নবর্ণের হিন্দুরা ব্যাপকহারে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়। এ ক্ষেত্রে তারা কোন বৈষম্যের শিকার হয় নি। ভারতবর্ষে আসা ধর্ম প্রচারকরা নির্দ্বিধায় নওমুসলিম শুদ্রদের সাথে মিশে যায়। ইসলাম শিক্ষায় কোন বর্ণবৈষম্য নেই। বিদেশি মুসলিমরা এখানে মুসলিম হওয়া শুদ্রদের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াতেও কোন ধর্মীয় বাধা দেখতে পায়নি। সুফি দরবেশ ও ধর্মপ্রচারকরা, নতুন কালো মুসলিমদের নিজেদের ভাই হিসেবেই গ্রহণ করে। শত শত বছর ধরে ব্রাহ্মণদের হাতে নিপীড়িত শুদ্র জনতার কাছে ইসলাম ছিল হিন্দুদের পূনর্জন্ম আর বৌদ্ধদের নির্বানপ্রাপ্তির মতই। এ যেন ইহজগতেই পূনর্জন্মের অভিষেক। তাই সমস্ত ভারতবর্ষ জুড়ে নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুদের মধ্যে মুসলমান হওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ইসলামের অসাম্প্রদায়িক ও উদার নীতি শত বছরের নিষ্পেষিত শুদ্র ভাইদের জন্য ছিল এক স্বর্গীয় উপহার। লক্ষ কোটি শুদ্র আর সুফি দরবেশদের মেলায় ভারতবর্ষ পরিণত হয়েছিল এক ক্ষুদ্র অসাম্প্রদায়িক স্বর্গে।

তবে দুঃখজনকভাবে, পরবর্তীকালে মুসলিমদের মধ্যে ব্রাহ্মণদের মত শ্রেণীবিভেদ দেখা দেয়। তারা মুসলিম জনতাকে ব্রাহ্মণদের মত দুভাগ করে ফেলে। আশরাফ ও আতরাফ। আশরাফ (অর্থ সম্ভ্রান্ত) হল হযরত স. এর বংশধর আর আতরাফরা (এর অর্থ খারাপ বা নিম্ন শ্রেণী) হল নিচু জাতের। ধর্মীয় শিক্ষা থেকে আতরাফদের বঞ্চিত রাখা হয়। বড় বড় ইসলামী পণ্ডিত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছিল তথাকথিত আশরাফ। রাজদরবারের মন্ত্রী, উযির ও অন্যান্য উঁচু পদ সব আশরাফদের জন্য বরাদ্দ করা হল। আর আতরাফরা পড়ে রইলো আশরাফদের অবহেলা ,ঔদাসিন্যতা ও উন্নাসিকতায়। এমন নীতির ফলশ্রুতিতেই ভারতবর্ষের ক্ষমতার মসনদ থেকে ধীরে ধীরে মুসলিমদের বিদায় নিতে হল।

সহমত, ধর্ম পালনে সংস্কৃতির প্রভাব অনস্বীকার্য।

৯| ১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:৪৭

এস এইচ খান বলেছেন: ।

১০| ১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৯:২৯

কালীদাস বলেছেন: আমি যতটুকু জানি তাবলীগ পার্টি কোন রাজনীতির সাথে জড়িত না। এদের কোন ইসলামি দলের মধ্যে না ধরাই ভাল। কে জানি একবার বলেছিল সাত আসমান উপরের জিনিস আর সাত জমিন নিচের জিনিস নিয়েই তাবলীগি জমাতের যত কাজ:):)

বাকি যতগুলোর নাম বললেন, সবকটাই কারো কারো না ব্যাক্তিসার্থে বানানো, এবং সেটাই তাদের মেইন উদ্দেশ্য থাকে যাবতীয় কর্মকান্ডে। তবে ইদানিং দেওয়ানবাগীরে উটের দুধ বিক্রি করতে দেখি :P :P

তবে পোস্টের মূল বক্তব্যের সাথে সহমত। ইসলামী আন্দোলনের নামে জানোয়ারগুলো যা করে তা মোটেও মানার মত না।++++++++

১২ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১২:৫৩

শয়তান হন্তারক বলেছেন: আপনার গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যবহুল মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

১১| ১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১০:০৩

মেগামেন বলেছেন: আমাদের সমস্যা হল যখন আমরা unity এর কথা বলি তখন আমাদের মাথায় থাকে সবাই যেন আমার মতের অনুসারি হয়ে যায়। কিন্তু unity মানে অন্যের কথা ধর্য্য ধরে শুনা।
এই লেকচারটা না শুনলে অনেক কিছু অজানা থেকে যেতে পারে...

১২ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:০২

শয়তান হন্তারক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১২| ১৫ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৬:১৫

শয়তান বলেছেন: তাহলে আপনার মতানুসারে রাস্ট্রিয় অথবা দল ভিত্তিক ধর্ম রাজনীতির তেমন প্রয়োজন নেই ! ব্যাক্তি নিজেই শুদ্ধরুপে ধর্ম চর্চা করতে সক্ষম ।

১৫ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৭:৩৬

শয়তান হন্তারক বলেছেন: দল ভিত্তিক রাজনীতি অথবা রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম যেখানে নেই সেখানে ইসলামও নেই অথবা ধর্মহীন রাষ্ট্রে কেউ চাইলেও ইসলাম চর্চা করতে পারবে না তা নয়।

দলভিত্তিক ধর্ম রাজনীতি বলতে যদি + - ফর্মুলায় ধর্মকে কাটছাট করা বোঝায় তাহলে তেমন কোন দল ভিত্তিক রাজনীতির প্রয়োজন নেই। ধর্মকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার রাজনীতিও অবাঞ্ছিত। তাই বলে রাজনীতির জগতে ইসলামের প্রবেশ নিষেধ, একথাও মেনে নেয়া যায় না। রাজনৈতিক জগতে ইসলামের বক্তব্য দেয়ার অধিকার থাকবে। ইসলাম সমাজ জীবনকে পরিশুদ্ধ করতে চায়। সমাজ থেকে পাপাচার, নিপীড়ন, দুর্নীতি, মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হয় এমন সব ধরনের কাজকর্ম থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি অংশকে সে পরিশুদ্ধ করতে চায়। ইসলাম দাবী করে, সভ্যতা নির্মানের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার বক্তব্য আছে। তাহলে রাজনীতির নোংরা জগতকে পরিশুদ্ধ করার দায়িত্ব ইসলাম কেন এড়িয়ে যাবে? তবে রাষ্ট্রযন্ত্রে ইসলামের ভূমিকা না থাকলে কোন ব্যাক্তি ধর্ম চর্চা করতে অক্ষম হয়ে যাবে তা অবশ্যই না। রাষ্ট্র ব্যক্তি জীবনের ধর্মকে পুরোপুরি প্রভাবিত করতে পারে তা বললে ভূল হবে। তবে ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের সামনে ইসলামের বক্তব্য তুলে ধরতে হবে, এ দায়িত্ব এড়ানোর কোন উপায় তার নেই। এরপরও রাষ্ট্র যদি জেনে বুঝে ভুল পথে পা বাড়ায় তাহলে ব্যক্তি সেখানে দায়ি থাকবে না।

"مَنِ اهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ ۖ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا ۚ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۗ وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّىٰ نَبْعَثَ رَسُولًا"

যে কেউ সৎপথে চলে, সে নিজের মঙ্গলের জন্যেই সৎ পথে চলে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়, সে নিজের অমঙ্গলের জন্যেই পথ ভ্রষ্ট হয়। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না।[sb/] ১৭:১৫

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.