| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আওয়ামীলীগের পোড় খাওয়া নেতা বা কর্মী নন। তিনি পেশাদার রাজনীতিবিদও নয়।
মতিয়া চৌধুরী বা মোহাম্মদ নাসিমের মত রাস্তায় পুলিশের লাঠির বাড়িও খাননি কখনো।
কিছু পাওয়ার আশা না করেও পুলিশের লাঠি, গুলি, টিয়ার শেলের সামনে মনের সবটুকু আবেগ মিশিয়ে "জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু" স্লোগান দেয়ার যে সুখ, সেটা আনিসুল হকরা কখনো অনুভব করেনি।
কেয়ামতের বিভীষিকার সামনে দাড়িয়ে, নিজের প্রানের মায়া তুচ্ছ করে, মানব বর্ম তৈরি করে নিভু নিভু মুজিব প্রদীপকে রক্ষা করার সাহস আইনমন্ত্রীর কখনো হবেনা।
পিয়াস করিম ইস্যুতে তিনি মিথ্যাচার করেছেন অনেকটা দিনকে রাত বলার মত। কুমিল্লার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ইতিমধ্যে সেটা বলেছেন।
প্রশ্ন করার পরও পিয়াস করিম নিজেও কখনো তার বাবা বা নানার মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার সাফাই গায়নি। বরং কিছুটা বিব্রত ভাবেই সে তার পূর্বপুরুষদের কৃতকর্মের জন্য তাকে কেনো দায়ী করা হবে মর্মে প্রতিবাদ করতো। কিন্তু কখনো তাদের তৎকালীন ভূমিকাকে অস্বীকার করেনি, সে সুযোগও হয়তো ছিলোনা।
পিয়াস করিমের বাবা অ্যাডভোকেট এম এ করিম প্রাদেশিক পরিষদে প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাবক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। একাত্তরের এপ্রিলে ৮৬ বছর বয়সী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়ার পর প্রথমেই তার দুই হাত এবং পরে হাঁটু ভেঙে দেওয়া হয়। হাত এবং হাঁটু ভাঙা অবস্থায় পরের দুই মাস পর মারা যান তিনি।
মুক্তিযোদ্ধারা কুমিল্লা জজকোর্ট রোডের পিয়াস করিমের বাবা এমএ করিম এবং এখনকার গায়ক আসিফের বাবা এডভোকেট আলী আকবরের বাড়িতে গ্রেনেড চার্জ করেছিলেন। আর এ গ্রেনেড চার্জে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল কবির বীরপ্রতীক, বাহার উদ্দিন রেজা বীরপ্রতীক ও মুক্তিযোদ্ধা খোকন।
মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলে দালাল আইনে গ্রেফতার হয় পিয়াস করিমের বাবা অ্যাডভোকেট এমএ করিম। সে অনেকদিন কুমিল্লা কারাগারে বন্দি ছিলো।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লিফলেট বিলি করা বা অন্য ছোটখাটো কোনো কিছু করার কথা জীবদ্দশায় স্বয়ং পিয়াস করিমেরও জানা ছিলোনা।
কিন্তু আর কেউ না জানলেও আমাদের আইনমন্ত্রী মহোদয় এই গুপ্ত ইতিহাস জানতেন।
আজকের আমাদের প্রজন্মের আমরা কেউ পিয়াস করিমের ৭১ এর ভূমিকা দেখিনি, প্রসঙ্গক্রমে না আসলে সেটা নিয়ে আমরা (বুদ্ধিবেশ্যাদের ভাষায় অর্বাচীন বালক) খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছিওনা।
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, শহীদ মিনারসহ স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীক বিভিন্ন ভাস্কর্যের বিপক্ষে। তারা আজও লাখো শহীদের রক্তে কেনা আমাদের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি। পিয়াস করিম তাদের পক্ষে টেলিভিশন টকশোতে কথা বলতো। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণ মানুষের ক্ষোভের আগুনে গড়ে উঠা রাজনীতি সচেতন, অরাজনৈতিক শাহবাগের গণজাগরণ আন্দোলনের নোংরা বিরোধীতায় মেতে উঠেছিলো এই পামর।
সাইদীকে চাঁদে দেখা যাবার খবরে অভিভূত হয়েছিলো এই জ্ঞানপাপী। সাইদীর রায়কে কেন্দ্রকরে জামাতি তান্ডবের স্বপক্ষে টিভিতে ননস্টপ সাফাই গাইতো এই নরাধম।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সবকিছুই তার কাছে অনেকটা হাস্যকর মনে হতো। আমাদের ইতিহাসের দায়মুক্তির পথকে বাধাগ্রস্ত করে প্রতি পদে পদে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছ এই বরাহ্ শাবক।
যে জীবদ্দশায় শহীদ মিনারের চেতনার বিরুদ্ধে ছিলো, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের পক্ষেই যার আজন্ম অবস্থান। তার লাশ আমাদের প্রানের মিনারে এনে শহীদ মিনারকে অপবিত্র করতে দেইনি আমরা। আমাদের মধ্যে নানা বিভক্তি থাকা সত্ত্বেও এই ইস্যুতে একজোট হয়ে শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা করেছি। আর এই সবকিছুই করা হয়েছে পিয়াস করিমের বর্তমান ভূমিকার জন্য, খুব সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে মূলত শাহবাগ আন্দোলন শুরু হওয়ার পরের নির্লজ্জ ভূমিকার জন্য।
তাই, পিয়াস ৭১ এ কি করেছিলো? তার বাবাকে জোর করে শান্তিবাহিনীর প্রধান বানানো হয়েছিলো কিনা? এসব প্রশ্ন এখানে অবান্তর।
স্বাধীনতা বিরোধীরা বরাবরই একটা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বলে বেড়াবে। আর আমরা যখন যুক্তি প্রমান দিয়ে সেটা মিথ্যা প্রমাণ করবো, তখন তারা আরেকটি মিথ্যা ছড়াবে। সেটা প্রমাণ করলে আরেকটা ছড়াবে। এই সার্কেল চলতেই থাকে। আমাদেরকে সর্বক্ষণ তারা একাজেই ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে, যাতে তাদের কুকর্মের ব্যাপারেও প্রশ্ন তোলার সময় না পাই আমরা। তাই আমাদের উচিৎ একটা সুনির্দিষ্ট ইস্যুর সময়ে শুধু সেটারই ফলোআপ করা এবং পুরোপুরি শেষ দেখা।
তিরিশ লাখ শহীদ, দুই লাখ মা,বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা নিয়ে টিভিতে রাতের সার্কাসে কিছু বুদ্ধিবেশ্যা নিজের ইছামত সার্কাস দেখাবে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দলের সরকারের আমলে আমরা এই সার্কাস চলতে দিতে পারিনা।
পিয়াস করিম গংদের কয়েক কয়কজনকে শহীদ মিনারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে এদের আস্ফোলন দেখে মনে হচ্ছে এটা মোটেও যথেষ্ট নয়।
হাড্ডীগুড্ডী ভেঙে পঙ্গু করে দিতে না চাইলেও, মিনিমাম জুতাপেটার সহিত অপমান করে দেয়া অর্বাচীন বালকদের জন্য এখন অবশ্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছ।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
জয় অর্বাচীন বালক-বালিকা
[কিছু অশ্লীল শব্দ ব্যবহারের জন্য দুঃক্ষিত]
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৫:৫২
তিক্তভাষী বলেছেন: যা হচ্ছে তাতে কিন্তু আমার মনে হচ্ছে তেমন ঘাগু আওয়ামি না হওয়ায় একে খন্দকার বা আনিসুল হকরা মিথ্যাচার তেমন একটা রপ্ত করতে পারেননি। যা দরকার তা হচ্ছে মিথ্যাচার শেখানোর জন্য একটা আওয়ামী কোচিং সেন্টার খোলা।