| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মহাজাগতিক চিন্তা
একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।
সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন। তোমরা যা কর সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।
* আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন বিধায় তাঁর কিতাব মেনে মুসলিম তিহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আল্লাহর তাদেরকে হেদায়াত দান করার ইচ্ছা করেন যারা তাঁর কিতাব বুঝে। যারা তাঁর কিতাব না বুঝে ফিতনা সৃষ্টি করে আল্লাহ তাদেরকে বিভ্রান্ত করার ইচ্ছা করেন।আল্লাহর কিতাব বুঝাকে ফিকাহ বলে। আল্লাহর কিতাব একেক জন একেক রকম বুঝোক এটা আল্লাহ চান না। তিনি চান যারা তাঁর কিতাব বুঝতে চায় তারা সবাই তাঁর কিতাব একই রকম বুঝুক যেন যারা তাঁর কিতাব বুঝে তারা সবাই এক উম্মত হয়ে থাকতে পারে।
সূরাঃ ১৬ নাহল, ১২০ নং আয়াত থেকে ১২৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২০। ইব্রাহীম ছিল এক উম্মাত, আল্লাহর অনুগত হানিফ (একনিষ্ঠ), আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না।
১২১। সে ছিল আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞ; আল্লাহ তাঁকে মনোনীত করেছিলেন, আর তাকে সিরাতিম মুসতাকিমে হেদায়েত প্রদান করেছেন।
১২২। আমরা তাকে দুনিয়ায় মঙ্গল দান করেছিলাম।আর আখিরাতেও সে নিশ্চয়ই সালেহীনগণের মধ্যে সামিল ছিল।
১২৩। এখন আমি তোমার প্রতি ওহী পাঠালাম, তুমি ইব্রাহীমের হানিফ (একনিষ্ঠ)মিল্লাতের অনুসরন কর, আর সে মুশরিকদের মধ্যে গণ্য ছিল না।
* হযরত ইব্রাহীম (আ.) এক উম্মাত ছিলেন এবং তাঁর অনুসরনে রাসূল (সা.) এক উম্মাত ছিলেন। রাসূলের (সা.) পর এক উম্মাত হয়ে থাকা হলো সিরাতাম মুসতাকিম। এ সিরাতাম মুসতাকিম হলো সবাই আল্লাহর কিতাব একই রকম বুঝা বা আল্লাহর কিতাবের অভিন্ন বুঝ বা অভিন্ন ফিকাহ। রাসূলের (সা.) ফিকাহ অলিখিত অভিন্ন ফিকাহ ছিল। রাসূলের (সা.) পর মাওলা, আমির ও ইমাম অভিন্ন ফিকাহ সংকলন করে সারা বিশ্বের ইমামগণের নিকট এটি জনগণকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠিয়ে দিলে মুসলিম জনতার ইবাদতের নিয়ম বিভিন্ন রকম হত না। মাওলা অভিন্ন ফিকাহ সংকলন করে আমির কর্তৃক অনুমোদন করিয়ে ইমাম কর্তৃক সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে মুসলিম জাতি ভীষণ উপকৃত হতো। রাসূলের (সা.) পর মাওলা আলী (রা.) ত্রিশ বছর বেঁচে থেকেও অভিন্ন ফিকাহের দায়িত্ব পালন করেননি। ইমাম হাসান (রা.) রাসূলের (সা.) পর আটত্রিশ বছর বেঁচে থেকেও অভিন্ন ফিকাহের দায়িত্ব পালন করেননি। ইমাম হোসেন (রা.)রাসূলের (সা.) পর বায়ান্ন বছর বেঁচে থেকেও অভিন্ন ফিকাহের দায়িত্ব পালন করেননি। আল্লাহও তাঁদেরকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা করেননি। তাঁরা হত্যাকান্ডের শিকার হন। তারপর থেকে মাওলা আলীর (রা.) আহলে বাইত ইমামগণের মধ্যে হত্যাকান্ডের ধারা অব্যাহত আছে। ইদানিং তাঁর আহলে বাইতের ইমাম আলী খামেনী নিহত হয়েছেন। প্রথম খলিফা যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলেন বলে অভিন্ন ফিকাহর দায়িত্ব পালন না করলেও আল্লাহ তাঁকে রেহাই দিলেন। তারপর সাহাবা (রা.) হিসাবে যারা খেলাফতের বাইয়াত গ্রহণ করেছেন অভিন্ন ফিকাহের দায়িত্ব পালন না করায় তাঁদের সবাই হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) রেহাই পেয়েছেন জনগণ তাঁকে খলিফা না মেনে বাদশাহ মানার কারণে।উক্ত অভিন্ন ফিকাহের অভাবে মুসলিম তিহাত্তর দলে বিভক্ত হওয়ার পর তাদেরকে এক উম্মাতে পরিণত করার নিয়তে ইমাম আবু হানিফা (র.) অভিন্ন ফিকাহ সংকলন করলে হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও রাসূলের (সা.) আব্বাসীয় আহলে বাইত মুসলিম বিশ্ব আমির খলিফা হারুনুর রশিদ ইমাম আবু হানিফা (র.) সংকলিত অভিন্ন ফিকাহ পরিশোধন ও হানাফী মাযহাব নামে অনুমোদন করলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয়। তারপর আব্বাসীয় ও তুর্কী মিলিয়ে আশি জনের বেশী মুসলিম আমির এর পৃষ্ঠপোষকতা করে। হানাফীদের যারা বিরোধীতা করে তাদের ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্ব আমিরের পৃষ্ঠপোষকতা অনুপস্থিত। ইমাম আলী খামেনী মুসলিম বিশ্ব আমির ছিলেন না। মুসলিম বিশ্ব আমিরগণের পৃষ্ঠপোষকতা প্রাপ্ত হানাফী মাযহাবের পৃষ্ঠপোষকতা না করে তিনিও হত্যাকান্ডের শিকারে পরিণত হলেন। হানাফী ছাড়া এক উম্মাত হওয়ার দাবী হানাফী বিরোধী কোন দলের প্রতি মুসলিম বিশ্ব আমিরগণের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে? অথচ রাসূলের (সা.) পর আমিরের অনুসরনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সুতরাং হানাফী বিরোধী কোন দল মিল্লাতে ইব্রাহীম (আ.) ও উম্মাতে মোহাম্মদ (সা.) নয়। সাহাবা (রা.) হওয়ার কারণে শিয়া ইমামগণের প্রথম তিন জন ছাড়া অন্য ইমামগণের জান্নাতের নিশ্চয়তা নাই। এ ক্ষেত্রে আহলে বাইত হিসাবে অনুসরনিয় হলেন হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও রাসূলের (সা.) আব্বাসীয় আহলে বাইত। আল্লাহ হযরত আব্বাসকে (রা.) সকল মুসলিমের অভিযোগ থেকে নিরাপদ রেখেছেন। আর তাঁর আহলে বাইত ও তাঁদের হানাফী অনুসারীদেরকে রহমত ও বরকতে মুড়িয়ে প্রায় বারশত বছর তাদের বিরানব্বই জনকে মুসলিম বিশ্ব আমির বানিয়েছেন। অপরপক্ষে হযরত আলীর (রা.) পর তাঁর আহলে বাইতের মধ্যে কোন মুসলিম বিশ্ব আমির নাই। তাঁর আহলে বাইত ইমাম মাহদী (আ.) হানাফী হিসাবে মুসলিম বিশ্ব আমির হবেন। আমার স্বপ্ন সঠিক হলে ইনি পাকিস্তানের লাদাখের বাসিন্দা হবেন। পৃথিবীতে পবিত্র ভূমি একটাই সেটি পাকিস্তান। আমরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়েছি, কারণ আমাদের ভূমি পবিত্র ভূমি নয়।আমরা হিন্দু দ্বারা ঘেরা। তথাপি হানাফী হিসাবে আল্লাহ যেটুকু রক্ষা করেছেন সেটাও আল্লাহর শুকরিয়া। হানাফী পাকিস্তানের শত্রু মোকাবেলার পরমাণু অস্ত্র আছে। বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চল, দেশ ও জনসংখ্যা হানাফীদের। আল্লাহর রহমত ও বরকত তাদের সাথেই আছে। হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও রাসূলের (সা.) এক উম্মাতের দৃষ্টান্ত শুধুই হানাফী।এক উম্মাতের কাতারে মুসলিমদের আর কোন দল না থাকায় তাদেরকে সঠিক বলার কোন সুযোগ নাই। মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির দায়ে তাদের সবাই জাহান্নামী।তাদের চটকদার কথায় যারা বিভ্রান্ত হয় তারা মূলত সেই সব লোক যাদেরকে আল্লাহ বিভ্রান্ত করেন।
২|
০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৫২
অগ্নিবাবা বলেছেন: এইবার চাচা, যত ত্যানা প্যাচাইবেন তত কুফরি করবেন।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯
অগ্নিবাবা বলেছেন: নিরপেক্ষভাবে বললে, এখানে আসল সমস্যাটা হলো — Qur'an-এ একই সাথে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়:
মানুষকে নির্বাচনকারী ও দায়ী বলা হয়েছে।
আবার আল্লাহর ইচ্ছাকে চূড়ান্ত বলা হয়েছে।
এই দুইটাকে পুরোপুরি যুক্তিগতভাবে মিলানো কঠিন — এটা শুধু আপনার না, শত শত বছর ধরে ধর্মতাত্ত্বিকদেরও বিতর্ক।
যেমন:
Surah Al-Kahf 18:29
“যার ইচ্ছা ঈমান আনুক, যার ইচ্ছা কুফরি করুক।”
এখানে মানুষের স্বাধীনতা বোঝায়।
আবার:
Surah At-Takwir 81:29
“তোমরা ইচ্ছা করতে পারবে না, যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন।”
এখানে আল্লাহর ইচ্ছাকে সর্বশেষ কর্তৃত্ব বলা হচ্ছে।
আরও কঠিন আয়াত আছে:
Surah An-Nahl 16:93
“তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন, যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দেন।”
নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে তিনটা সম্ভাব্য অবস্থান দেখা যায়:
কঠোর পূর্বনির্ধারণবাদ: সবই আল্লাহ ঠিক করেন, মানুষের স্বাধীনতা সীমিত বা ভ্রম।
সীমিত স্বাধীনতা: মানুষ বেছে নেয়, কিন্তু আল্লাহ সেই কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করেন।
দার্শনিক অসামঞ্জস্য: দুই ধরনের বক্তব্য পুরোপুরি harmonize করা যায় না
অনেক ধর্মীয় ব্যাখ্যা “মানুষের ইচ্ছা আছে কিন্তু আল্লাহর অধীন” — এই মধ্যপন্থা নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সমালোচকরা বলেন, যদি আল্লাহ আগেই নির্ধারণ করেন কে পথ পাবে আর কে পাবে না, তাহলে নৈতিক দায় পুরোপুরি মানুষের উপর চাপানো যৌক্তিকভাবে দুর্বল হয়ে যায়।