| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোঃ ফরিদুল ইসলাম
জন্ম- ১৯৮৭ খ্রিঃ চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলাধীন ২নং বাকিলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের লোধপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। পিতার নাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মাতার নাম ফাতেমা বেগম।
তাহাজ্জুদ নামাজ ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং মর্যাদাপূর্ণ একটি নফল বা সুন্নাহ ইবাদত। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাহাজ্জুদের স্থান। নিচে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম, সময় এবং রাকআত সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. তাহাজ্জুদ নামাজের সময়
* শুরু ও শেষ: এশার নামাজের পর থেকে শুরু করে সুবহে সাদিকের (ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার) আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া যায়।
* উত্তম সময়: রাতের শেষ তৃতীয়াংশ হলো তাহাজ্জুদের জন্য সবচেয়ে উত্তম সময়।
* শর্ত: তাহাজ্জুদ নামাজের মূল শর্ত হলো, ইশার নামাজের পর রাতের কিছু অংশ ঘুমাতে হবে এবং এরপর ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়তে হবে। (তবে কেউ যদি রাতে না ঘুমান, তবে তিনি শেষ রাতে নামাজ পড়লে তা 'কিয়ামুল লাইল' বা নফল হিসেবে গণ্য হবে এবং তাহাজ্জুদের সওয়াবও পেতে পারেন)।
২. রাকআত সংখ্যা
* তাহাজ্জুদ নামাজ ২ রাকআত করে পড়তে হয়।
* সর্বনিম্ন ২ রাকআত পড়া যায়। তবে ২ রাকআত করে ৪, ৬, ৮ অথবা ১২ রাকআত পর্যন্ত পড়া উত্তম।
* রাসূলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ৮ রাকআত তাহাজ্জুদ এবং ৩ রাকআত বিতরসহ মোট ১১ রাকআত পড়তেন।
৩. নামাজের নিয়ত
মুখে আরবিতে নিয়ত করা জরুরি নয়, অন্তরের ইচ্ছাই যথেষ্ট। আপনি মনে মনে এই নিয়ত করতে পারেন:
"আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ক্বিবলামুখী হয়ে ২ রাকআত তাহাজ্জুদের সুন্নাহ (বা নফল) নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।"
৪. নামাজ পড়ার নিয়ম
তাহাজ্জুদ নামাজ অন্যান্য সাধারণ সুন্নত বা নফল নামাজের মতোই পড়তে হয়। তবে এর কিছু বিশেষত্ব রয়েছে:
* ১ম রাকআত: 'আল্লাহু আকবার' বলে নিয়ত বেঁধে ছানা পড়বেন। এরপর সূরা ফাতিহা পড়ে পবিত্র কোরআনের যেকোনো একটি সূরা মেলাবেন।
* ২য় রাকআত: সূরা ফাতিহার পর অন্য একটি সূরা মেলাবেন। এরপর রুকু, সেজদা করে তাশাহহুদ, দরুদ শরিফ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরাবেন।
* সূরার ধরন: তাহাজ্জুদের নামাজে দীর্ঘ সূরা পড়া এবং রুকু ও সেজদায় বেশি সময় কাটানো উত্তম। তবে বড় সূরা মুখস্থ না থাকলে ছোট সূরা দিয়েও পড়া যাবে।
* তাসবিহ: রুকু এবং সিজদার তাসবিহ সাধারণ ৩ বারের জায়গায় ৫, ৭ বা ৯ বারও পড়া যেতে পারে।
৫. বিতর নামাজ পড়া
আপনি যদি তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ত করে থাকেন, তবে ইশার নামাজের পর বিতর নামাজ না পড়ে রেখে দেওয়া উত্তম। তাহাজ্জুদ নামাজ শেষ করার পর সবশেষে বিতর নামাজ পড়ে রাতের ইবাদত শেষ করা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ। তবে যদি রাতে ঘুম থেকে ওঠার ব্যাপারে সন্দেহ থাকে, তবে এশার পরই বিতর পড়ে নেওয়া ভালো।
৬. তাহাজ্জুদের পর দোয়া
রাতের শেষ ভাগ দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময়ে আল্লাহ প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকেন। তাই নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে নিজের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করবেন এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করবেন।

©somewhere in net ltd.