নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি \n\[email protected]

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভবিষ্যতে করোনা পরিস্থিত যেরকম হতে পারে বলে আমি মনে করছি

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১১:৪৪

ভবিষ্যতে, হয়ত-বা অল্পকালের মধ্যেই, করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হবে, কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে তা খুব সহজলভ্য হবে না, এর দাম হবে অনেক বেশি। পৃথিবীর সব দেশের সরকারের পক্ষে গণহারে বিনামূল্যে এত মূল্যবান ভ্যাক্সিন সরবরাহ করা হয়ত সম্ভব হবে না। আবিষ্কারের প্রথম দিকে ধনী-গরীব নির্বিশেষে সব মানুষই এই প্রতিষেধক পাবে; কিন্তু দিন গড়ানোর সাথে সাথে বাজেটে টান পড়তে থাকবে, প্রতিষেধকের সরবরাহ হ্রাস পেতে থাকবে; তাতে কিছু গরীব মানুষ প্রতিষেধক পেলেও বেশির ভাগই পাবে না। কিছু মানুষ সরাসরি প্রতিষেধক পাবে (কারা পাবে বুঝে নিন); সচ্ছল ব্যক্তিরা টাকা দিয়ে প্রতিষেধক কিনবে।

করোনার বৈশিষ্ট্য দেখে মনে হচ্ছে, অতি শীঘ্রই পৃথিবী থেকে এর সমূলে বিনাশ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। আর যদি একেবারে করোনার বিনাশ সম্ভব হয়ও, তাতে সময় লাগবে অনেক বছর। আমেরিকার Harvard T.H. Chan School of Public Health এর একদল গবেষক বলেছেন, শীঘ্রই ভ্যাক্সিন আবিষ্কৃত না হলে আমেরিকাকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। আমেরিকা এরকম কোনো আশঙ্কা প্রকাশ করলে তা বাকি পৃথিবীর জন্যও যে প্রযোজ্য হতে পারে তা বলাই বাহুল্য।

এই অনেক বছরে যা যা হতে পারে তা হলো, মানুষের শরীর করোনার সাথে অ্যাডজাস্টেড হয়ে যাবে, বা মানুষের শরীর করোনা-প্রুফ হয়ে উঠবে, কিংবা বলা যায়, করোনার বিরুদ্ধে মানুষের শরীরে ইমিয়্যুন সিস্টেম গড়ে উঠবে, যদিও এর সম্ভাবনা ততটা জোরালো নয়। কারণ, মানুষের শরীর ম্যালেরিয়ার সাথে অ্যাডজাস্টেড হতে পারে নাই। অন্যদিকে, জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে পড়বে - এটা জেনেশুনেই যে, করোনায় তারা আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে, বা মারা যাবেই। কাজেই যা হতে পারে তা হলো, মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়াটা হয়ে যাবে একটা অভ্যাসের মতো, বা একটা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনার মতো, যেমন, আমাদের জ্বর-সর্দি-কাশি হয়, চিকিৎসা নিই বা না নিই, একসময় সেগুলো সেরে যায়, কেউ কেউ মারা যায়। (ডেঙ্গুর উদাহরণও দেয়া যায়) করোনার ক্ষেত্রেও তাই ঘটতে থাকবে। ১০০জন আক্রান্ত হলে ৫-১০-১৫-২০% মানুষ মারা যাবে, বাকিরা বেঁচে উঠবে, কেউ জ্বরাগ্রস্ত, পঙ্গুও হতে পারে, যদিও এরকম কোনো উদাহরণ এখনো দেখা যায় নি। এভাবেই জীবন ও জীবিকা চলতে থাকবে, তার মধ্য থেকে পৃথিবী একদিন করোনামুক্ত হয়ে ঝলমলে সুন্দর হাসি হেসে উঠবে।

একসময় গুঁটিবসন্ত ছিল আমাদের দেশে, এখন সেটা উধাও। কলেরার প্রকোপ ছিল, এখন সেই প্রকোপ নেই। করোনা হলো পৃথিবী গ্রাসকারী মহামারী। সমগ্র পৃথিবী এখানে জড়িত বলে এর প্রতিষেধক আবিষ্কার খুব দ্রুতই হবে এমনটা আশা করা যায়। (একজিস্টিং অনেক ওষুধ, যেমন অ্যাভিগান, ইত্যাদি নিয়ে জাপান, আমেরিকা ইতিমধ্যে অনেক গবেষণা করেছে)। কিন্তু যত দ্রুতই হোক না কেন, তার ফল ভোগ করার ক্ষেত্রে যা ঘটতে পারে, তা উপরেই বললাম।

আমার মতো ঘরকুনো লোকও এখন আর ঘরের ভেতর মন আটকে রাখতে পারছে না, অথচ আমি নিজেই একদিন ভাবতাম, একটা ল্যাপটপ আর ইন্টারনেট ফ্যাসিলিটি থাকলে ক্ষুদ্র এক কুঠরির ভেতর আমৃত্যু কাটিয়ে দিতে পারব। এখন মনে হচ্ছে, সব ভাবনাই ভুল ছিল। নিজেকে এখন আল্লাহর কাছে ভবিষ্যতের হাতে ছেড়ে দিলাম, পুরো পরিবারসহ।


১৭ এপ্রিল ২০২০

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:২৫

রাফা বলেছেন: মানুষ'কে খাঁচাবন্দি করে রাখা সম্ভব নয় দীর্ঘ সময়ের জন্য।আগামী ২ বছরে এমন কিছু ঘটবে যা হয়'তো ১০ বছরে ঘট'তো।
দেখা যাক মানুষ কত দ্রুত হারিয়ে দেয় করোনা'কে। ভালোটার জন্যই অপেক্ষা করতে চাই।

ধন্যবাদ,সো.অ.ধুলোবালিছাই।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১:১৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আগামী ২ বছরে এমন কিছু ঘটবে যা হয়'তো ১০ বছরে ঘট'তো। যদি মৃতের কথা বলি, তাহলে গত ৪/৫ মাসে যত মানুষ মারা গেছে, গত ২০ বছরে সাধারণ রোগ-ব্যাধিতে এত মানুষ মারা যায় নি, যদিও ২০০৯-১০ সালে সোয়াইন ফ্লুতে 151,700 - 575,400 মানুষ মারা গেছে বলে তথ্য রয়েছে।

এখন পজিটিভ কিছু আশা করা ছাড়া আর কিছু সামনে দেখি না।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ রাফা।

২| ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:২৭

বিষাদ সময় বলেছেন: এ রকম হওয়ার আশা/আশঙ্কাই বেশি। তবে ট্রাম্পের মত বেহুদা লোকরা যদি বাধা না দেয় তবে হয়তো WHO ্বা অন্য কোন সাহায্য সংস্থার মাধ্যমে এখনকার হাম, পোলিও এর মতো করোনার টিকা সবাই পাওয়ার ক্ষীণ আশা আছে।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১:১৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: বেহুদা একটা অজুহাতে WHO-কে ডোনেশন দেয়া বন্ধ করে দিল। শান্তিকালীন সময়ে যেমন সারা পৃথিবীতে যুদ্ধ অবস্থা বাঁধাইয়া রাখে, এই মহামারীর সময়েও ঐ ইডিয়ট তার নিজের অ্যাজেন্ডা নিয়াই ব্যস্ত আছে।

৩| ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:৪৭

নেওয়াজ আলি বলেছেন: মানুষের জয় হবেই। তবে একটু সময়ের দরকার । বিধাতা সব মেরে ফেলবেন না

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১:১৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: সুখ দুঃখ তরঙ্গের খেলা- আশা তার একমাত্র ভেলা। আমরা করবো জয়- এটাই এখন ভরসা।

৪| ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১:৪৬

আধাপাগল বলেছেন: যাদের চোখ থাকতেও আন্ধা, তারা দূরে থাকুন। যাদের মাথা ঘাড়ের উপরে, কিন্তু মগজ পাছার ভিতরে (চিন্তা শক্তি কম) তারা দূরে থাকুন। বৈজ্ঞানিকভাবে কোরোনা হয় চিনে, না হয় আম্রিকায় ল্যাবরেটরীতে তৈরী হইছে। তো, ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে, অথবা টুরিষ্ট হিসাবে পৃথিবীর সকল মানুষই এক দেশ থেকে আরেক দেশে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য যাতায়াত করেই। ২০ কোটি আম্রিকানের কয়জন চিনে যায়? কয়জন ইটালী ফ্রান্সী স্পেনিশ চিনে যায়?

প্রশ্ন ২: ৫০০ বাঙালীও কি চিনে যায় না? ৫০০ ইন্ডিয়ান, ৫০০ পাকিস্তানী .......?

চিনে তৈরী হোক, বা আম্রিকায় তৈরী হোক, ভাইরাসটা সারা পৃথিবীতে ছড়ানোর কথা। ইন্ডিয়া একাই একশ। দেড়শ কোটি মানুষের দেশের মানুষ, ডেইলি কতজন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাওয়া ও আসা করে?

এবার নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন, সব দেশে অল্প স্বল্প কোরোনা এফেকশন হচ্ছেই। কিন্তু ইউরোপ আম্রিকার কিছু দেশে ভয়াবহ রূপ কেন ধারণ করলো - এ প্রশ্নটা নিজেকে নিজে করুন, অথবা উত্তর খুজে পেতে চেষ্টা করুন।

জানি এ উত্তর কেউ পাবেন না। প্রশ্নও করতে হবে আমাকে, উত্তরও দিতে হবে আমাকে।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৩৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ঠিক আছে, আপনি আবার এসে প্লিজ নিজেই উত্তরটা দিয়ে যাবেন।

৫| ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:০৩

রাজীব নুর বলেছেন: আমি ভাবছি খাদ্য সংকট নিয়ে।
জিনিসপত্রের দাম তো বাড়বেই। অলরেডি বেড়েও গেছে।
যদি সত্যি অভাব দেখা দেয়, করোনার চেয়ে বেশি মানুষ মরবে না খেয়ে ।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৪৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: খাদ্য সংকটের আশঙ্কাই এখন বড়ো আশঙ্কা। লক ডাউনের জন্য ধান কাটার লোকের অভাব হচ্ছে। চাষবাসের লোকেরও অভাব হবে। ফ্যাক্টরি-কলকারখানা বন্ধ থাকলে রফতানিযোগ্য পণ্যের সরবরাহ কমে যাবে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হ্রাস/বন্ধ হবে। পোশাক-আশাক তো বানানো যায়, খাদ্য বানানো যায় না, উৎপাদন করতে হয় মাটি থেকে। উৎপাদনের কাজ কতদিন মানুষ বন্ধ রাখবে? পেটের প্রয়োজনেই একদিন ঘর থেকে বেরিয়ে পড়বে তারা।

৬| ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৪৬

নতুন বলেছেন: করোনার ভ্যাকসিন খুব দ্রুতই বাজারে আসবে এবং সারা বিশ্বের সরকারই জনগনের জন্য দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। এটা ফ্রি ই হবে।

দাম খুব বেশি হবে না কারন এখন প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। অনেক গুলি কম্পানি করোনার ব্যাকসিন তৌরির জন্য চেস্টা করছে। তাই একটা কম্পানিই ভ্যাকসিন তৌরি করে চড়া দামে বিক্রি করতে পারবেনা।

আমি আশাবাদি ১ মাসের মধ্যেই বিভিন্ন দেশ লকডাউন থেকে সরে আসবে এবং সাধারন জীবন চালু করবে।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৪:৩৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: পুরো পৃথিবী প্রায় রুদ্ধশ্বাসেই একটা কার্যকরী ড্রাগ বা ভ্যাক্সিনের জন্য অপেক্ষা করছে, কিন্তু টেস্ট এন্ড ট্রায়ালে অনেক সময় চলে যাচ্ছে। অনেক আগে, সম্ভবত ফেব্রুয়ারি বা মার্চেই শুনেছিলাম, আমেরিকা ইঁদুরের উপর টেস্ট না করেই একটা ভ্যাক্সিন চালু করতে যাচ্ছে, সেই ভ্যাক্সিনের কোনো খবর পাচ্ছি না আজও।

ভ্যাক্সিন তৈরিতে দেরি হলে হতাশা বাড়বে। লকডাউন ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, এবং করোনা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

আশায় বুক বেঁধে ধৈর্য ধারণই এখন সবচাইতে বড়ো পরীক্ষা।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৭| ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৫:২৫

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
আধা পাগলা কইলো কি ?
ওরে জিগান উত্তরটা কি?
পাগল মানুষ পরে আবার
নিজেই ভুইল্যা যাইবো
কি কইছিলো !!!

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৫:৩৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আধা পাগলা কইলো : জানি এ উত্তর কেউ পাবেন না। প্রশ্নও করতে হবে আমাকে, উত্তরও দিতে হবে আমাকে। আমি তারে বইলা দিলাম, সে যেন পুরা পাগল হওয়ার আগেই উত্তর দিয়া যায়।

৮| ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৫

মিরোরডডল বলেছেন: নো নেগেটিভ ভাবনা ধুলো । এসময় যেটা সবচেয়ে প্রয়োজন মেন্টাল স্ট্রেংথ আর পজিটিভ ভাবনা ।
বাংলাদেশে এখন যেটা হচ্ছে প্রাইমারি স্টেজ, আরও চার সপ্তাহ লকডাউন রাখলে অন্যদেশগুলোর মতো কিছুটা স্টেবল হবে । ভ্যাকসিন হতে একটু সময় লাগবে কিন্তু রিকোভারি ড্রাগ এর ওপর কাজ চলছে যেটা শীঘ্রই মার্কেটে আসবে । হোপ ফর দা বেস্ট ।

আর একটা কথা । নিউজ থেকে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে কারেন্ট সিচুয়েশন ওভারল কি হচ্ছে কি করতে হবে কিন্তু সারাক্ষন শুধুই এগুলো ভাবা আর দেখা এটা না করাই ভালো , এতে মনের ওপর বেশী প্রেশার পরবে । মানসিক ভাবে উইক হয়ে যাবে । সো এটা যেন না করা হয় ।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রথমেই একটা ভুল সংশোধন করে দিই- এটা নেগেটিভ ভাবনা বিষয়ক কিছু না। ভবিষ্যতে করোনা পরিস্থিতি কী হতে পারে, তার একটা অ্যাসেসমেন্ট করার চেষ্টা করেছি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লক ডাউন কার্যকর করা খুব কষ্টসাধ্য কাজ। খবরে দেখাচ্ছে, গতকালের সারাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার কোনো প্রভাব গ্রামেগঞ্জে নেই; অর্থাৎ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, লক ডাউন মেনে চলা, ইত্যাদির প্রতি মানুষ আন্তরিক নয়। কাজেই, আগামী ৪ সপ্তাহ বা ৪ মাস লক ডাউন করোনা পরিস্থিতিকে কতখানি স্থিতিশীল করতে পারবে তা অপেক্ষা করে দেখা ছাড়া অনুমান করা কঠিন।

৯| ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৪

মিরোরডডল বলেছেন: প্রথমেই একটা ভুল সংশোধন করে দিই- এটা নেগেটিভ ভাবনা বিষয়ক কিছু না। ভবিষ্যতে করোনা পরিস্থিতি কী হতে পারে, তার একটা অ্যাসেসমেন্ট করার চেষ্টা করেছি
সেটা আমি জানি ধুলো ।

নিজেকে এখন আল্লাহর কাছে ভবিষ্যতের হাতে ছেঁড়ে দিলাম , পুরো পরিবারসহ ।
শেষের লাইনটাতে একটা দীর্ঘশ্বাস আছে । সেটার ওপর বেইজ করে আমি বলেছি ।

শুধু বাংলাদেশ না, সব দেশেই কিছু মানুষ আছে যাদের কন্ট্রোল করা খুবই কঠিন । তারপরও চেষ্টা চলবে । আমাদের এখানে আজকেও দুজন ৬০ বছরের মানুষ সাগরে রকের ওপর দাড়িয়ে ফিশিং করছিল । বড় ঢেউ এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় । একজন মারা গেছে, আরেকজন এখন মিসিং । প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া যেখানে নিষেধ সেখানে এটা কি খুব দরকার ছিল !!
আর আমাদের গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলোকে ম্যানেজ করা খুবই কঠিন । এরা না কিছু বোঝে না মানে । তারপরও যতটুকু সম্ভব সবাই চেষ্টা করছে । এটাই একটা পজিটিভ দিক ।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:১৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ব্যাপারটা হলো- ইডিয়ট এবং আউট-ল সব দেশেই আছে :) নইলে ল' এনফোর্সিং এজেন্সিকে বাইরে নামানোর প্রয়োজন পড়তো না :(

ধর্মে অন্ধ কিছু পাগল আছে। কুমিল্লায় করোনার বিরুদ্ধে মুসল্লিরা মিসিল করেছিল। এমন পাগল আর নির্বোধ কি গাছে ধরে?

ইটালি ফেরত টিমকে যখন কোয়ারেন্টাইন করার জন্য হজ ক্যাম্পে নেয়া হচ্ছিল, তখন কিছু স্টুপিড এই বলে বিক্ষোভ আর চেঁচামেচি করছিল এবং অথোরিটিকে গলা ফাডাইয়া গালিগালাজ করতেছিল - বাংলাদেশে করোনা আসবো না, বাংলাদেশ মুসলমান দেশ, এখানকার মানুষ শূকর খায় না। এখন ঐ স্টুপিডরে ধইরা পিডাইতে ইচ্ছা করবে না - এমন কে আছে? :)

লক ডাউন ইফেক্টিভ হবে শহরের দিকে, সচ্ছল ও সচেতন পরিবার ও নাগরিকদের মধ্যে। যারা ত্রাণ গ্রহণ করছে, তারা করোনাকে ভয় পায় না, ভয় পায় ক্ষুধাকে। আর সরকারও যথাসাধ্য চেষ্টা করছে ঐ গ্রুপটাকে সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে লক ডাউনের মধ্যে রাখার জন্য।

১০| ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৩৬

মিরোরডডল বলেছেন: উইশ থাকবে চেষ্টা যেন সফল হয় ।

আসলে আমাদের গ্রামের যে সাধারণ মানুষগুলো তাঁদের ম্যাক্সিমাম শিক্ষার আলো পায়নি । তাঁরা বোঝেইনা কোনটা ঠিক আর বেঠিক । আমার তাঁদের জন্য খুবই মায়া লাগে । আই ক্যান্ট ব্লেম দেম ।

আবার একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই যে সবার প্রকৃত শিক্ষা হয়না সেই দলের মানুষগুলোর কথাই ধুলোর মেসেজ এ উল্লেখ হয়েছে । এদের কথা কি আর বলবো ! এরা ছিল, আছে, থাকবে , সব দেশেই সব জায়গাতেই ।
এদেরকে নিয়েই আমাদের এইসব দিনরাত্রি :)

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৪৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এদেরকে নিয়েই আমাদের এইসব দিনরাত্রি মূল কথা এটাই

১১| ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:৫৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: খলিল ভাই।
আমেরিকার মার্কেটে আসতে হয়তো এক দেড় বছর লেগে যাবে করোনা ভ্যাকসিন ।কারণ এদের এপ্রুভাল প্রসেস খুব থরো আর খুবই কম্প্রিহেন্সিভ । কিন্তু অন্য দেশগুলো তাড়াতাড়ি আনতে পারে কি না ভ্যাকসিন সেটাই ভাবছি আমি । আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে নার্সিং হোমগুলোতে।যেখানে সাধাৰণতো বয়স্ক মানুষরা থাকে।আর বয়সের সাথে সাথেই যেহেতু অন্য আরো হেলথ ইস্যু ক্রিয়েট হয়ে যায় সেটাই এই করোনাতে মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দিচ্ছে নার্সিং আর ওল্ডহোমগুলোতে । আরেকটা সার্ভেতে দেখা যাচ্ছে হিস্পানিক আর আফ্রিকান আমেরিকানদের মধ্যে মৃত্যু হার বেশি। এই দুই গ্রূপের মধ্যে একটা কমন জিনিস হলো এরা অনেকটা আমাদের পুরোনো যৌথ পরিবারের মতো থাকে । আমাদের কালচারাল প্রাকটিসের সাথে এদের মিলে মিশে থাকার কালচারের মিল অনেক ।যার জন্য প্রতিটা ফ্যামিলিতে বয়স্ক মানুষ আছে আর এই সব ফ্যামিলির বয়স্করাই সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশের ব্যাপার আমি এই দুটোরই ভয় পাই । আপনি ঠিকই বলেছেন এটা সহসাই যাচ্ছে না । ভ্যাকসিন আসার আগে পর্যন্ত এটা ডেডলিই হয়ে থাকবে বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের জন্য ।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৩৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: নাইমুল ভাই, আপনার কাছে অ্যামেরিকানদের একটা ভালো চিত্র পেলাম। আপনার অ্যাসেসমেন্ট আর আমার অ্যাসেসমেন্ট এক লাইনেই দেখা যাচ্ছে। হিস্পানিক আর আফ্রিকান অ্যামেরিকানদের মধ্যে একটা কনফিডেন্স ছিল যে ওরা আক্রান্ত হবে না, ওদের এন্টি বডি খুব স্ট্রং। এই কনফিডেন্স কেয়ারলেস ছিল বেশি। এখন ওরাই সবচাইতে বড়ো এবং বেশি সাফারার।

আমাদের যৌথ ফ্যামিলিগত আরেকটা সমস্যা হলো এদের দারিদ্র্য। এক ঘরে চাপাচাপি করে অনেককে থাকতে হয়। একজন আক্রান্ত হলে শনাক্ত হওয়ার আগেই, কিংবা সিম্পটম্প দেখা দেয়ার সাথে সাথেই পুরো ফ্যামিলির সবাই আক্রান্ত হয়ে গিয়ে থাকবে। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে, একবার শুরু হলে এই যৌথ ফ্যামিলি সিস্টেম, নিয়ম না মানার বদ্‌অভ্যাস ও কেয়ারলেসনেস, অপর্যাপ্ত মেডিকেল ফ্যাসিলিটিস, সব মিলিয়ে একটা জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। এজন্য, সরকারকে এখনই রূঢ়ভাবে কঠোর হয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এনশিউর করতে হবে। এতে ব্যাপকতার আশঙ্কা কমবে।

আপনার কমেন্ট ভালো লেগেছে নাইমুল ভাই।

১২| ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৪৪

রাজীব নুর বলেছেন: আগামী এক সপ্তাহে যদি করোনা পরিস্থিতি দেশে স্বাভাবিক হয়ে যায়- তাহলে অফিস আদালত সব খুলে যাবে।

১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:০১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: যদিও আগামী এক সপ্তাহে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া খুবই অলীক কল্পনা, তবু আমি বলবো, আগামী ওক সপ্তাহে স্বাভাবিক হয়ে গেলেও সেইফ মার্জিন হিসাবে আগামী দুই সপ্তাহ লক ডাউন রাখা প্রয়োজন হবে, অফিস খুলতে হবে তারপর। বাংলাদেশ এখনো পিকে উঠে নাই, কাজেই আগামী এক সপ্তাহে ডিসেন্ডিং অসম্ভব। আর তা ঘটেই যায়, আপনার জন্য বিরাট একটা অ্যাওয়ার্ড থাকবে আমার পক্ষ থেকে :)

১৩| ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৫৪

আশাবাদী মানব বলেছেন: নিরাশার মাঝে আশাই একমাত্র পথ প্রদর্শক। আসলেই আমরা কেউ জানি না সামনে কি হবে তাই আশা নিয়েই থাকি.।.।

১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:০২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: জি, এখন ঘরে বন্দি থেকে আশা করা আর স্বপ্ন দেখাই হলো এখন কাজের কাজ :)

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। আপনি আশাবাদী মানুষ। অনুপ্রাণিত হলুম আপনাকে দেখে।

১৪| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১:০৫

মা.হাসান বলেছেন: চিন্তা করতে ভালো লাগে না, কিন্তু মাঝে মাঝে যখন করি তখন আপনার ভাবনার মতো অনেক ভাবনাই মাথায় আসে।

এই ভাইরাসের ওষুধ গিনিপিগের উপর পরীক্ষা করায় সমস্যা আছে। করোনা ভাইরাস ইদুরের দেহে আক্রমন করে না, এখন পর্যন্ত মানুষ ছাড়া, কিছু বিড়াল এবং বাঘের শরীরে আক্রমনের ঘটনা শুনেছি। যদি সত্যও হয়, তবে ল্যাবে ব্যবহারের জন্য লার্জ স্কেলে বাঘ বা বিড়াল পাওয়া যাবে না। মানুষের শরীরেই ওষুধের পরীক্ষা কর‌তে হবে। (ইদুরের শরীরে সাইড এফেক্ট দেখা যাবে, কার্যকারিতা না)। ভলান্টিয়ার লাগবে। স্মল স্কেলে পরীক্ষা, এর পর লার্জ স্কেলে, ক্লিনিকাল ট্রায়াল, ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন, এর পর মাস প্রোডাকশন, তার পর মানুষের কাছে পৌছানো। সব মিলিয়ে সময় লাগবে। ১৮ মাস একটু বেশি আশাবাদি কথা হয়ে যায় বলে মনে হয় আমার কাছে।

একটা ড্রাগ ডেভেলাপ করতে ২০০-৫০০ মিলিয়ন ডলার লাগে। একটা ওষুধ কম্পানি ১০ ড্রাগ ডেভেলাপ করলে দেখা যায় ৩টার অনুমোদন পাওয়া যায়। ওষুধ কোম্পানিগুলো চ্যারিটি খুলে বসেনি। এরা লাভ চাইবে। দশ-বারোটা কোম্পানি দশটা ড্রাগ ডেভেলাপ করলেই যে দাম কম হবে এমন না।

করোনার এফেক্টে শুধু আমেরিকাতেই দুই কোটির উপর লোক চাকরি হারিয়েছে। আরো হারাবে বলেই মনে হয়। পৃথিবীর মোট অর্থনৈতিক লেনদেনের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ হয় ডলারের বিপরীতে। বাংলাদেশ, ভারত, চীন- সবাই কিন্তু ডলারের বিপরীতে লেনদেন করে। ডলার অস্থিতিশিল হলে পৃথিবীর অর্থনীতিতে অস্থিতিশিলতা দেখা দেবে।

লক ডাউন সামনে মাসে উঠে যাবে? মনে হয় না। চীনের মতো দেশে সাড়ে তিন মাস পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে । ওখানে সরকারের নামে অনেক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে। বাবা-সন্তানকে ফোর্সফুলি আলাদা করার ঘটনা আছে। বাংলাদেশে এটা সম্ভব না। যদি রোজার ঈদের পরে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটে তবে বলবো অস্বাভাবিক ভালো। আর এটা হলো প্রথম ওয়েভ। প্রায় সব মডেল প্রেডিক্ট করছে অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ওয়েভ আঘাত করবে।

সরকারের কাজে সমন্বয়হিনতা আছে বলেই দেখা যাচ্ছে। সরকার চাইলে এখোনো করার মতো অনেক কিছু আছে।

১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:৩২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: একটা সুচিন্তিত ও গঠনমূলক ও গ্রহণযোগ্য অ্যানালাইসিস। পুরোটাই একমত।

২৮ জানুয়ারিতে চীন দাবি করেছিল তারা করোনার ভ্যাক্সিন আবষ্কার করে ফেলেছে।

১৩ মার্চের এক খবরে দেখা যায় অ্যামেরিকাও ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করে ফেলেছে যা মাস খানেকের মধ্যেই ব্যাপক পরিমাণে বাজারে আসবে। ঐ খবরে জানা যায়, ইসরায়েলও ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের দাবি করেছে।

জাপান, ইন্ডিয়া, টার্কি, এমনকি বাংলাদেশও অ্যাভিগানসহ একজিস্টিং অনেক ওষুধের উপর এক্সপেরিমেন্ট চালাচ্ছে বলে প্রায় প্রতিদিনই খবর বের হচ্ছে।

এত এত খবরের পজিটিভ দিক হলো- আমরা প্রতিদিনই আনন্দে লাফিয়ে উঠি এবং আমাদের ভেতরে আশার সঞ্চার হয়।

আপনি ঠিকই বলেছেন, একটা নতুন ওষুধ বাজারে ছাড়া মুখের কথা নয়। একটা ওষুধ অনুমোদন দেয়ার আগে অথোরিটিকেও সে ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হতে হয়- রোগ নিরাময়ের বদলে ওষুধটা যাতে প্রাণসংহারী না হয়, সেটা নিশ্চিত হতে হয়।

তবে, আমার কাছে যেটা মনে হচ্ছে, এই প্রাদুর্ভাবের প্রাক্কালে, প্রচলিত পদ্ধতিতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবিষ্কৃত ওষুধের অনুমোদন মিলবে না। কিছু অনিয়ম হবে, অথোরিটিও সেটা দেখেও না দেখার ভান করবে; যদি তাতে কাজ হয় তখন এটার সরকারি অনুমোদন দেয়া হবে। জলাতঙ্কের টীকা আবিষ্কারের সময় লুই পাস্তুর যেমন করেছিলেন, অনেকটা সেরকম।

সুন্দর অ্যাসেসমেন্টটা ভালো লেগেছে মা.হাসান ভাই। শুভেচ্ছা।

১৫| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৯:৩২

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই,




এক ধূসরবেলায় কুয়াশার চাদরের ফাঁক দিয়ে সূর্য্য ওঠার কাল গননা!

১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:৩৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:


এক ধূসরবেলায় কুয়াশার চাদরের ফাঁক দিয়ে সূর্য্য ওঠার কাল গননা!
এক কথায় এত কাব্যিক একটা কথা বললেন, যাতে পুরো পোস্টের মর্মার্থ ও আশাজাগানিয়া ভাবটা উঠে এসেছে।

১৬| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১০:১৮

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা করুন।

১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:৪০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: সর্ব অবস্থায় আল্লাহই আমাদের সকল ভরসার স্থান।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.