নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি [email protected]

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

চলে গেলেন বরেণ্য সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমান || ভালোবাসার মূল্য কত || মনেরও রঙে রাঙাবো || আজাদ রহমানের কয়েকটি গান

১৭ ই মে, ২০২০ রাত ১০:৩৩

গায়ক, সুরকার, গীতিকবি ও সংগীত পরিচালক আজাদ রহমান আর নেই।। গতকাল শনিবার, ১৬ মে ২০২০ তারিখে রাজধানী শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত শুক্রবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসা চলছিল। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন আজাদ রহমান। তিনি স্ত্রী এবং তিন মেয়ে রেখে গেছেন।

‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘মনেরও রঙে রাঙাব’, ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’, ‘এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি’সহ বহু গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন আজাদ রহমান। কোনোটির সুরকার তিনি, কোনোটির সংগীত পরিচালক। একজন আজাদ রহমান একাধারে সংগীত পরিচালক, শিল্পী, গীতিকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা।




আজাদ রহমানের সুরারোপিত ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’ গানটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণাদায়ী অন্যতম একটি গান ছিল। ১৯৭০ সালে গানটি রেকর্ড হয় করাচি ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসে। নয়ীম গহরের লেখা এই গানে ওই সময় কণ্ঠ দেন নজরুল সংগীতের প্রখ্যাত শিল্পী ফিরোজা বেগম ও সাবিনা ইয়াসমীন। তাঁদের সঙ্গে নেপথ্যে সমবেত কণ্ঠ দেন জিনাত রেহানা, নাসির হায়দার, আহমেদুল্লাহ সিদ্দিকী, আসাদুল হক ও লায়লা মোজাম্মেল। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর এই গান সাবিনা ইয়াসমীনের একক কণ্ঠে আবার ধারণ করা হয়।

বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি রেখে গেছেন কালজয়ী কিছু গান। তেমনি কিছু গানের কথা উল্লেখ করা যায়। যাদুর বাঁশি চলচ্চিত্রের ‘আকাশ বিনা চাঁদ থাকিতে পারে না, জাদু বিনা বাঁশি বাজিতে পারে না’। আহমেদ জামান চৌধুরীর লেখা এই গান গেয়েছিলেন রুনা লায়লা। রুনা লায়লা তাঁর ফেসবুক পোস্টে প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘আজাদ ভাইয়ের সুরারোপিত এই গানের জন্য শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আমি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করি।’

চলচ্চিত্রে তাঁর সুরারোপিত বেশ কিছু গানে তিনি নিজেই কণ্ঠ দিয়েছিলেন, এর মধ্যে দুটি গান এখনো সব ধরনের শ্রোতার প্রিয় গান। একটি ‘এপার ওপার’ চলচ্চিত্রের 'ভালোবাসার মূল্য কত আমি কিছু জানি না, এ জীবন তুল্য কি তা আমি সে তো বুঝি না’। ফজল–এ–খোদার লেখা এই গান কানে বাজলেই চোখে ভেসে ওঠে অভিনেতা সোহেল রানার মুখটি।

রাজ্জাক পরিচালিত প্রথম ছবি ‘অনন্ত প্রেম’-এ ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’ গানটি ব্যবহৃত হয়। খুরশিদ আলম ও সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে আজাদ রহমানের সুর করা এই গানের কথা লিখেছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য সংগীত পরিচালক আজাদ রহমান ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খেয়ালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। কলকাতার জনপ্রিয় বাংলা ছবি ‘মিস প্রিয়ংবদা’র সংগীত পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্রের গানে তাঁর পথচলা শুরু। এই ছবিতে তাঁর পরিচালনায় গান গেয়েছিলেন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরতি মুখোপাধ্যায়। বাংলাদেশে তিনি প্রথম সংগীত পরিচালনা করেন বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘আগন্তুক’ ছবিতে। এরপর ‘বাদী থেকে বেগম’, ‘এপার ওপার’, ‘পাগলা রাজা’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘আমার সংসার’, ‘মায়ার সংসার’, ‘দস্যু বনহুর’, ‘ডুমুরের ফুল’, ‘মাসুদ রানা’সহ বহু ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি।

বাংলা একাডেমি থেকে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে আজাদ রহমানের লেখা সংগীতবিষয়ক বই ‘বাংলা খেয়াল’। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘গোপন কথা’ নামের একটি সিনেমা।

উপরের লেখাগুলো দুটি লিংক থেকে নেয়া হয়েছে, যেগুলোর লিংক উল্লেখ করা হয়েছে।

নীচে আজাদ রহমানের গাওয়া, লেখা বা সুর করা কয়েকটা গানের লিংক দেয়া হলো।


জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো - সাবিনা ইয়াসমিন


ও চোখে চোখ পড়েছে যখনি - খুরশিদ আলম ও সাবিনা ইয়াসমিন


মনেরও রঙে রাঙাবো - সেলিনা আজাদ (আজাদ রহমানের সহধর্মিনী)




ভালোবাসার মূল্য কত আমি কিছু জানি না - আজাদ রহমান


ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ দেখা যায় - আজাদ রহমান


মাগো তোর কান্না আমি সইতে পারি না - রুনা লায়লা






মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই মে, ২০২০ রাত ১২:৩৬

রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর সুন্দর গান দিয়েছেন আজ। শুনছি।

১৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৯:৫৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব নুর ভাই।

২| ১৮ ই মে, ২০২০ রাত ১:১১

আল-ইকরাম বলেছেন: গানের কথা, সূর সুন্দর ও নন্দিত হলে তা শ্রোতার মন জয় করতে বাধ্য। ভাল, রুচিশীল গান সুস্থ বিনোদনের একটি অপরিহার্য অংশ। মরহুম আজাদ রহমান ছিলেন এরকম সুস্থ বিনোদনের একজন ধারক, বাহক ও সঞ্চালক। আমি তাঁর বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনা করি। বাংলাদেশের সংগীত জগত থেকে একটি নক্ষত্র হারিয়ে গেল। অনেক অজানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত হলাম। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা অগনিত।

১৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৯:৫৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কমেন্টে অনেক ভালো কিছু কথা বলেছেন। ধন্যবাদ জানবেন।

৩| ১৮ ই মে, ২০২০ ভোর ৪:২৩

নেওয়াজ আলি বলেছেন: অনেক নামকরা গায়ক উনার গড়া

১৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৯:৫৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ নেওয়াজ আলি সাহেব।

৪| ১৮ ই মে, ২০২০ ভোর ৫:৩৩

রাফা বলেছেন: ইন্নালিল্লহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন।আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন ও বেহেস্ত নসিব করুন।তার পরিবারের প্রতি রইলো সমবেদনা।

আজাদ রহমান তার সময়ের সেরা গীতিকার সুরকারদের একজন।তিনি চলচ্চিত্রের গানে নতুন ডাইমেনশন নিয়ে এসেছিলেন ।মেলোডি গানে যোগ করেছিলেন ভিন্ন রকমের কারুকার্য।


ধন্যবাদ,সো. অ.ধু.বা.ছাই ।উনি কি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন ?যে কোন মৃত্যুর জন্যই এখন প্রথমেই মনে হয় করোনাই কেড়ে নিলো নাতো !

১৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৯:৫৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: না, তার করোনায় আক্রান্ত হোন নি তিনি, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।

এটা ঠিকই বলেছে, এখন স্বাভাবিক মৃত্যুতেও প্রথমে সন্দেহ হয় করোনায় আক্রান্ত কিনা।

ধন্যবাদ রাফা কমেন্টের জন্য।

৫| ১৮ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৯

সোহানী বলেছেন: যে প্রতিভারা ৭০/৮০ এর দশকে সময়ে দাপিয়ে বেড়াতেন আস্তে আস্তে উনারা অস্তমিত হচ্ছেন। মৃত্যুর মিছিলে একে একে যোগ দিচ্ছেন। তাদের সে শূণ্যস্থান কতদিনে আবার পূরণ হবে জানি না। তবে এটা সত্য উনাদের সময়টা ছিল আমাদের জন্য স্বর্ণযুগ। রাজনৈতিক সামাজিক এরকম একটা অস্থিরতার যুগে উনারা যে অবদান রেখেছেন তা অবিশ্বাস্য। তখন উনাদের দরকার ছিল, এবং ঠিকই উনারা উনাদের উপস্থিতি জানান দিয়ে গেছিলেন।

চমৎকার সব গানগুলেঅ শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ।

২৩ শে মে, ২০২০ রাত ২:১০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমাদের উঠতি তারুণ্য বা যৌবনের নায়ক-মহানায়কেরা এখন তিরোধানের পথে। রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, আব্দুল হাদি, আব্দুল জব্বার, সুবীর নন্দী- এদের গান দিয়ে জীবনের শুরু। এরাও তাদের স্বর্ণ সময় পেছনে ফেলে এসেছেন বেশ আগেই। আব্দুল জব্বার, সুবীর নন্দী চলে গেছেন। আজাদ রহমান গেলেন।

কিন্তু, সোনার খনি ভরে রেখে গেছেন স্বর্ণসঙ্গীতে, যা কোনোদিন পুরোনো হবে মা, মরিচা ধরবে না।

৬| ১৮ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৩

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: সুরের জগতের এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো

কি অসাধারন সব কালজয়ী গান.। আহা মগ্ধতা ছূঁয়ে ছূঁয়ে যায়.
উনার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মুক্তি কামনা করছি।


+++

২৩ শে মে, ২০২০ রাত ২:১২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এসব গান কোনোদিন পুরোনো হবে না। গানগুলো যখন শুনি, চলে যাই কৈশোরে, সিনেমা দেখার জন্য তখন কতই না উন্মাদনা ছিল। হায় নস্টালজিয়া। শুধুই পেছনে টেনে নিয়ে যায়।

৭| ২৩ শে মে, ২০২০ রাত ২:৩২

শায়মা বলেছেন: এত এত প্রিয় গানের স্রষ্টা এই সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমান!

উনার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

৮| ২৪ শে মে, ২০২০ রাত ৯:৪১

ইসিয়াক বলেছেন: ঈদের শুভেচ্ছা রইলো

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.