নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি \n\[email protected]

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাবা-কিশোর

২১ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৩৮

কর্মকর্তা যদিও, মাস শেষে বেতন জোটে নেহায়েত সাদামাটা
যদিও বেতন স্বল্প, বিশাল পৈতৃক সংসার বিস্তৃত ডালপালায়
এবং বলে রাখি, আমিই কর্ণধার
এবং
ছোটো দুটি ছেলেমেয়ে, স্ত্রী আর নিজে... এই মিলে
শহরের এককোণে আপন সংসার

অফিসের ছুটি শেষে ঘরে ফিরি, অমনি
ওরা হাওয়ার বেগে ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে কোলে
ত্বরিত হাঁতড়ে পকেট কিংবা কোমর
বের করে একটি-দুটি চকোলেট অথবা চুইংগাম।
কোথাও বেড়াতে যাই... চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, শিশুপার্ক,
ওয়ান্ডারল্যান্ড, আশুলিয়া
ওদের সবুজ উৎসুক চোখ সারাক্ষণ খোঁজে রংবেরঙের চকোলেটবক্স,
মচমচে চিপস, শিশুতোষ যতসব লোভনীয় খাবার।
আইসক্রিমঅলা কিংবা ফেরিঅলা দেখলেই
অতি ব্যস্তভাবে, ‘আইসক্রিম চাই.... চুইংগাম আমার চাই।’

ওদের সঙ্গে নিয়ে কখনো মার্কেটে যাই, শখের সামগ্রী কিনি
পোশাকআশাক, কসমেটিকস; একটি দুটি দোকান ঘুরতে
না ঘুরতেই ওদের
আর্জিআবদারে কান ঝালাপালা... এটা চাই, ওটা চাই,
একবার দু’বার, বহুবার চাই, বড়োদের মতো
আরও চাই স্যুট টাই শাড়ি।

মাছতরকারির কাঁচাবাজারে, চালডাল-রসুনপেঁয়াজ, নিত্যপ্রয়োজনীয়
সওদা কিনতে ব্যাগ হাতে ঘর থেকে বেরুতে উদ্যত হতেই
তড়িঘড়ি তৈরি ওরা সামনে দাঁড়ায়... ‘আমরাও সঙ্গে যাব।’
যতই বলি না আমি... এ গরমে
মাছহাটায় যায় না হাঁটা, একদম সিদ্ধ হয়ে যাবে
দারুণ দুর্গন্ধে বমি হবে
বড্ড আপসহীন ওরা, শক্ত করে হাত চেপে
বলে, ‘যাবই বাজারে, যাবই।’

অতএব আমরা বাজারে চলি, এটাসেটা সওদা কিনি,
এক হাতে থলে
অন্যহাতে মেয়ে, সতর্ক চোখে চেয়ে দেখি অনুজার ফ্রক ধরে
পেছনে হাঁটে ছেলে।
এখানেও স্বস্তি নেই, একভাগা মাছ কিনতেই ওদের
সনাতন হাঁক... পুতুল চাই, মেয়ে বলে, লম্বা সাদা চুলঅলা পুতুল,
ছেলের জন্য স্পাইডারম্যান, রোবোকপ চাই-ই চাই।

কী যে ছাই বাজার করি! ঘরে ফিরলে অনলবর্ষী তিরস্কারে গৃহিণীর
মুখে ফোটে খই... ‘আনাজ আনো নি? রসুন কই?
গোলআলু? তেজপাতা? তেল? কিছুই আনো নি?
কেন বাজারে যাও ওদের নিয়ে?
সবগুলো টাকা নষ্ট করেছো
কীসব হাবিজাবি কিনে। এসবে কি সংসার চলে?
এই আমি দিচ্ছি বলে, খবরদার, ওদের বাজারে নেবে না কক্ষণো আর।’
নিছক ‘হাবিজাবি’ কিনে উড়িয়ে দিলাম এতগুলো টাকা!
আমারও খারাপ হয় মন। অথচ দেখি ভাইবোনে মিলে
মহোল্লাসে উঠেছে মেতে সদ্যকেনা খেলনায়, ওরা চকোলেট খায়,
চুইংগাম খায়
আমাদের হাবিজাবি কী অপরিহার্য সম্পদ ওদের!

কখনও কখনও একাই বাজারে যাওয়া হয়, অথবা অন্য কোনও কাজে
পাঁচতলার সিঁড়ি বেয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে দরজায় বেল টিপতেই
দৌড়ে এসে কবাট খোলে ওরা। বাজারের থলেটি
মেঝেতে রাখার ঢের আগে
ঝুঁকে পড়ে
তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকে ওদের আরাধ্য ধন
একটি দুটি চকোলেট
চুইংগাম।
কিছুই পাই না ভেবে.....কী এমন অমৃতময়
এসব চকোলেট কিংবা চুইংগাম!

একদিন চাল নেই ঘরে, মাছমাংস তাও, বাজারের বেলা পড়ে যায়
এমনি সংকটে গৃহিণীর তাড়ায় বেরুবার কালে
ঘরে আমার বৃদ্ধ বাবা এগিয়ে এসে বলেন, 'আমিও আসি?'
অতিশয় বিরক্তি ভরে
তাকাই তাঁর দিকে ফিরে, অমনি চোখ পড়ে বাবার চোখে.....
জ্বলজ্বলে একজোড়া চোখে কী যেন নিদারুণ নেশা তাঁর
অকস্মাৎ দেখি এক পিতৃ-উন্মাদ কিশোর :

.................. সেই কবে, কতদিন আগে, বাবার কোলে চড়ে, কাঁধে চড়ে, হাত ধরে
.................. গুটিগুটি পায়ে দৌড়ে চলতো বালক মেঘুলা কিংবা দেবীনগরের হাটে
.................. পালদের রসগোল্লা, বালুশাই আর আমিত্তি কী যে প্রিয় ছিল
.................. বাজারে ঢুকেই ওসব তার চাই, তারপর অন্যসব কাজ।
.................. কখনও কখনও বাবা তার
.................. বহুদূর কোমরগঞ্জ কিংবা শিবরামপুর হাটে যেতেন। সকাল-দুপুর-
.................. বিকেল-সন্ধ্যা, পুরোটা দিন প্রতীক্ষায়
.................. তাকিয়ে থাকতো সে পথের পানে, যে-পথে প্রাণাধিক বাবা তার
.................. ফিরে আসবেন ঘরে। মাথার ঝাঁপিতে বাজারসওদা থাক বা না থাক
.................. তার জন্যে থাকবেই থাকবে মোড়কভর্তি বালুশাই, আমিত্তি অথবা রসগোল্লা।
.................. কখনও সখনও প্রতীক্ষায় থেকে থেকে
.................. কখন ঘুমিয়ে যেতো বালক, আর্দ্র আঁখিকোণে অশ্রু শুকিয়ে
.................. হঠাৎ ঘুম ভাঙলে
.................. দেখতো, কুপি হাতে অদূরে তার মা, তন্দ্রায় ঢুলুঢুলু
.................. নিজেকে করতো আবিষ্কার বাবার কোলে... হাঁটু ভেঙ্গে গুটিসুটি,
.................. বাবার হাসিমুখ, ডানহাতে মুখের সামনে মস্তবড়ো বালুশাই এক
.................. ‘ঘুমাইয়া গ্যাছাও বাজান? বালুশাই খাও।
.................. খালি খালি দেরি হয় আজকাল।’

আমার বাবাকে আমার কৈশোরে দেখি, আমার বিরক্ত ও কঠিন
এবং নিষ্ঠুর অবয়বে নেমে আসে কী এক করুণ মমতা। সহসা
আমি বাবা হয়ে যাই
আর
বাবা যেন একটি কিশোর, আমার সেই কিশোরবেলার মতো :
ঠিক আমার ছেলেমেয়ে দুটোর মতো
আমার হাত ধরে ধরে বাজারময় হাঁটবেন বাবা
পছন্দের কিছু দেখলেই বলবেন, 'জিনিসটা খুব সুন্দর বানাইছে বাজান।
এইখানে ভালো পায়জামা পাওয়া যায়? একটা তসবির দরকার।
দাঁড়াও, তোমার মা'র জন্য একখানি পানদানি কিন্যা লও।'

আমি বাবা হয়ে যাই আমার বাবার। তারপর তাঁর কঙ্কালসার পিঠে
আমার নরম হাত রেখে বলি: 'বাজারে যাইবা তো আগেই কও নাই ক্যান?
তাড়াতাড়ি তৈরি হও।' মুহূর্তে চঞ্চল হয়ে
পায়জামা খোঁজেন, পাঞ্জাবি খোঁজেন
চটিজুতো খোঁজেন আমার বাবাকিশোর।

আমি একধ্যানে
আমার পঁয়ত্রিশ বছর আগেকার কৈশোরের দিকে তাকিয়ে থাকি।

২০০৩

.................. .................. .................. ..................

সকাল ৯টার দিকে ছোটোছেলে লাবিব দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকেই মিষ্টি করে ডেকে উঠলো- 'আব্বু!' আমি বেডে বসা ছিলাম। ওর দিকে তাকাতেই ও বলে উঠলো, 'হ্যাপি ফাদার্স ডে, আব্বু'!! আমি একটু অবাক হলাম। আমি ভেবেছিলাম কিছুদিন আগে ফাদার্স ডে ছিল। অবাক হয়েই ছেলেকে জিজ্ঞাসা করি, 'আজকে ফাদার্স ডে? এটা কিছুদিন আগে পার হয়ে যায় নাই?' 'নাআআআ। এটা আজকেই।' তারপর সে আমার দিকে এগিয়ে এসে গলা জড়িয়ে হাগ করলো। এরপর অফিসে গেলাম। অফিসে বসে মেয়ের এসএমএস পেলাম- 'হ্যাপি ফাদার্স ডে, আব্বু!!'

সকল বাবার উদ্দেশ্যে আমিও বলছি - হ্যাপি ফাদার্স ডে। শুভ বাবা দিবস। সকল বাবার সন্তানেরা যেন একজন ভালো বাবা পায়, সেই কামনা করছি।

মন্তব্য ৪০ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৪০) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৪৫

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: ছাপোষা ।

২১ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:২৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: নিঃসন্দেহে

২| ২১ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৪৭

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: আবেগঘন পোস্ট।

২১ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:২৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয় সাজ্জাদ ভাই

৩| ২১ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:০৩

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: সুন্দর। পিতাপুত্র পুত্রপিতা বাস্তবতা আর স্মৃতির রোমন্থন ।

২১ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:২৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয় কবি সেলিম আনোয়ার ভাই+

৪| ২১ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৪১

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টটি সঠিকভাবে উপলব্দি করার জন্য তিনবার পড়লাম।

২১ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৫২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমি একজন বাবা। আমার কাছে বাচ্চাদের আর্জি-আবদারের শেষ নাই, যা খুব স্বাভাবিক। আমি যখন আমার বাচ্চাদের মতো ছিলাম, এমনই আদুরে ও আহ্লাদি, আমার বাবার কাছেও আমার আবদারের অন্ত ছিল না। একদিন বাবা ছিলেন আমার বাসায়। বাজারে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাবা বলে বসলেন, 'আমিও তোমার সাথে আসি?' কবিতাটার সব রস এই কথাটিতেই। প্রথমে আমি বিরক্ত হলেও যখন আমার শৈশবের কথা মনে পড়লো, কীভাবে বাবা আমার জন্য আমার শখের জিনিসগুলো নিয়ে আসতেন, তখন আমি নিজেই কষ্ট পেতে থাকি। বাবাকে যখন বললাম, ঠিক আছে, জলদি রেডি হও- বাবা মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে রেডি হতে লাগলেন, আমার বাচ্চাগুলোর মতোই। আমার বাবা যেন মুহূর্তে একটা বাচ্চা হয়ে গেলেন, আমার বাচ্চাগুলোর মতোই, যেরকম আমিও ছিলাম আমার শৈশবে।

লেখাটা আপনাকে তিনবার পড়তে হয়েছে বলে আমি দুঃখিত রাজীব ভাই। আপনার কথা চিন্তা করে এখানে কিছু ক্লু দিলাম।

শুভেচ্ছা রইল।

৫| ২১ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৫৫

মিরোরডডল বলেছেন: ধুলোর লেখায় এতো মমতা মাখানো যে ইমোশনাল করে দেয় ।
বিশেষ করে বাবা যখন কিশোর আর ধুলো হয়ে যায় বাবা সেই অংশটুকু ।

চার মাস আগে বাবা চলে গেছে তাই আজ কি ধুলোর মনটা বেশী খারাপ । হয়তোবা ।
ধুলোর প্রাপ্তি লাবিবের মাঝে ধুলো বাবাকে পায় ।

বাবা দিবসের অনেক শুভেচ্ছা একজন দায়িত্ববান এবং স্নেহময় বাবা ধুলোকে ।

বাবা কতদিন কতদিন দেখিনা তোমায়

২১ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:২৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: বাবা মারা যাবার পরের দিন গ্রামের শ্রদ্ধেয় মৌলভী মামা এলেন, যিনি ছোটোবেলা থেকেই আমাকে খুব স্নেহ করেন। মৃত্যুপরবর্তী করণীয় সম্পর্কে কিছু ব্রিফ দিলেন। বললেন, প্রতিদিন বাবার জন্য কিছু পাঠাতে হবে। এ কথাটা ভেঙে বললেন, প্রতিদিন বাবার জন্য নফল নামাজ পড়বে। চেষ্টা করি, প্রতি ওয়াক্তে অন্তত দু রাকাত নামাজ বাবার জন্য দোয়া চেয়ে পড়তে। বাবার সাথে মায়ের কথাটাও মনে পড়ে। এভাবেই, বাবা আমার সাথেই আছেন প্রতিদিন, বা আমি বাবার সাথেই আছি।

এ রিপ্লাই লেখার সময় বাবার মুখটা ভেসে উঠছে। মনে হচ্ছে, আমি বাজারের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছি, আর বাবা সামনে এসে কাচুমাচু হয়ে বলছেন, 'আমারে নিবা?'

গানটা অসাধারণ।

৬| ২১ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:০৮

মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:



অসাধারণ কবিতা। এ নিয়ে একটি গানও হতে পারে।
একজন স্নেহময় পিতা হিসেবে, আপনাকে অভিনন্দন, সোনাবীজ ভাই!
আজ আমার সন্তানেরাও আমাকে সিক্ত করেছে তাদের ভালোভাসায়!

২১ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:৪৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:
আজ আমার সন্তানেরাও আমাকে সিক্ত করেছে তাদের ভালোভাসায়! আমি যেন দেখতে পেলাম, এ কথাটা বলার সময় মইনুলের মুখে একটা তৃপ্তি ও প্রশান্তির হাসি ভেসে উঠলো। হ্যাপি ফাদার্স ডে প্রিয় মইনুল ভাই। আপনিও একজন স্নেহময় পিতা, আপনাকেও অভিনন্দন

মাকে নিয়ে যত গান আছে, বা কবিতা, বাবাকে নিয়ে ততটা নেই, আমার ধারণা। উপরে মিরোরডডল জেমসের একটা গান দিয়েছে, প্রিন্স মাহমুদের লেখা ও সুর করা, যেটা বাবাকে নিয়ে। গানটা ভালো লেগেছে।

হ্যাঁ, বাবার এ বিষয়টা নিয়ে একটা গান হতে পারে। বাবাকে নিয়ে আমার কবিতাও আছে বেশ কয়েকটা। ধারণাটা মাথায় গেঁথে গেল প্রিয় মইনুল ভাই।

কবিতার ব্যাপারে আপনার প্রশংসায় আপ্লুত হলাম। অনেক ধন্যবাদ সেজন্য।

ভালো থাকবেন।

৭| ২১ শে জুন, ২০২০ রাত ৯:১৩

নেওয়াজ আলি বলেছেন: অসাধারণ ,খুবই ভালো লাগলো।

২১ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:৪৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ নেওয়াজ আলি ভাই।

৮| ২১ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:০৪

কল্পদ্রুম বলেছেন: ওরা বড় হয়ে এই কবিতা পড়লে খুব আনন্দ পাবে।সংসার জীবন সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান এখনো অর্জন করিনি।শীগগিরই করবো কি না তাও জানি না।কিন্তু একটা পরিবর্তন লক্ষ করেছি।সামান্য কিছু পাওয়াতে বাচ্চাদের আনন্দ দেখে এক ধরণের মায়া লাগে।

২১ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:৫৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ওদেরকে নিয়ে আরো কিছু লেখালেখি আছে। ফেইসবুকে শেয়ার করলে ওরা, বিশেষ করে মেয়েকে দেখি শেয়ার করতে।

আমাদেরকে আলটিমেটলি সংসারী হতে হবে। বয়স হয়ে গেলে সময়টা অবহেলা করা ঠিক না। যথাসময়ে বিয়েশাদি করে ফেললে তার একটা ভালো ফল পাওয়া যায়, যা আমি পাচ্ছি। সংসার জীবনে তিক্ততা আছে, কিন্তু এর মাধুর্যের তুলনায় তিক্ততা খুব নগণ্য। কেউ যদি নিপুণ শিল্পীর মতো নিজের সংসারটাকে সাজিয়ে নিতে পারেন, তিক্ততা বলতে কিছু থাকবে না। সন্তানরাই একটা সংসারকে প্রাণবন্ত করে রাখে। এই সুখের সাথে কোনো তুলনা হয় না। বাবা হিসাবে এটা আমি খুব উপভোগ করি।

আপনার ভেতরের পরিবর্তন একটা পজিটিভ টার্ন নিতে যাচ্ছে। হ্যাঁ, বাচ্চারা অল্পতেই খুশি হয়। আমার সবচাইতে আনন্দ হয় তখনই, যখন ওদের কিছু দেই, আর ওরা আনন্দের আত্মহারা হয়ে যায়। বাবা-জীবনটাকে তখন ধন্য মনে হয়

আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা থাকলো।

৯| ২১ শে জুন, ২০২০ রাত ১১:৪৩

শের শায়রী বলেছেন: প্রায় পচিশ বছর আগে বাবা মারা গেছেন, বাবার কথা মনে করতে চাই না, চোখে পানি আসে এই বুড়ো বয়সেও। আপনার লেখাটা পড়ে বাবার কথা মনে পড়ে গেল। অনেক অনেক কথা, আমিও আজকে দুটো কিশোর ছেলের বাবা, ওদেরও কি আমার কথা ভেবে এভাবে কোবন লেখা পড়ে চোখে পানি আসবে? যদি না আসে তবে সে বাবা হিসাবে একান্ত আমার ব্যার্থতা।

ভালো থাকুন সোনাবীজ ভাই।

২২ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:৩৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: শুরুতেই আপনার বাবার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুন।

আমিও আজকে দুটো কিশোর ছেলের বাবা, ওদেরও কি আমার কথা ভেবে এভাবে কোন লেখা পড়ে চোখে পানি আসবে? এটা খুবই ন্যাচারাল, বাবা বা মাকে ভোলা যায় না। ভুলতে চাইলেও ভোলা যায় না। ওরাও ঠিক আপনার মতোই ওদের বাবাকে ভাববে, নিজের অজান্তে ওদের চোখ ভিজে যাবে। রক্তের বন্ধন এবং মায়ার টান এটাই।

সন্তানদের ভালোবাসতে পারার মধ্যেই সকল সুখ। হঠাৎ হঠাৎ ওদেরকে অবাক করে দিতে আমার খুব ভালো লাগে। সবচাইতে ভালো লাগে, ওরা কোনো কিছু পেয়ে যখন আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে যায়, সেই মুগ্ধতা দেখে। এই মুগ্ধতা আবার একেক বয়সে একেক রকম। ছোটো বয়সে মুগ্ধতাটা বেশি এবং ধরন ভিন্ন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটা চেঞ্জ হতে থাকে, একটু ভারী হতে থাকে ওদের মন।

যাই হোক, বাবা হিসাবে আমাদের কাজ আমাদের করে যেতে হবে। ভবিষ্যতের দিনগুলো টেকনোলজির কারণে অনেক পরিবর্তিত হবে, যার প্রভাব মানুষের মনের উপরও পড়বে। আমাদেরকে ওরা হয়ত আমাদের মতো না ভেবে অন্যভাবে ভাববে। ওদের সন্তানেরাও হয়ত এভাবে একটু বদলে যাবে।

ভালো থাকুন শের শায়রী ভাই। শুভেচ্ছা।

১০| ২২ শে জুন, ২০২০ রাত ১২:১৮

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে কিন্তু একজনও খারাপ বাবা নাই। - লেখক হুমায়ূন আহমেদ। পৃথিবীর সকল বাবাকে বাবা দিবসের শুভেচ্ছা।

২২ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:৪০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হুমায়ূন আহমেদ একটা দারুণ কথা বলেছেন। যদিও মাঝে মাঝে কিছু ব্যতিক্রম চোখে পড়ে, সেটার ব্যাকগ্রাউন্ড খুঁজতে গেলে হয়ত এটাই দেখা যাবে, পরিস্থিতির নির্মম শিকার হয়ে একজন বাবাকে অতি নিষ্ঠুর হতে হয়েছে। কিন্তু, বাবা আসলে বাবাই।

আপনাকে ধন্যবাদ কবিতা পাঠ ও মন্তব্যের জন্য। শুভেচ্ছা।

১১| ২২ শে জুন, ২০২০ রাত ৩:০১

কাছের-মানুষ বলেছেন: বাবা নিয়ে অসাধারন কবিতা। পৃথিবীর সকল বাবারা ভাল থাকুক।

আপনি একজন সৌভাগ্যবান মানুষ। আপনার সন্তানেরা আপনাকে খুব ভালবাসে এবং সেটা প্রকাশ করেছে।

২২ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:৪৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ কাছের-মানুষ।

আমার খাবার-দাবাড়ের একটা নির্দিষ্ট টাইমটেবিল আছে, যার সাথে আমার ওষুধ খাওরা টাইমিং মেলানো। লাঞ্চ টাইম বাদে বাকি খাবার আমাকে একা খেতে হয়। গতকাল রাতে দেখি ছোটো ছেলে বার বার ডাইনিং টেবিলে ডাকছে। স্ত্রীও ডাকাডাকি করছে। যেয়ে দেখি বিরাট কারবার। বড়ো ছেলে আর মেয়ে মিলে বার্গার বানিয়েছে :) লকডাউন কালে ঘরে বসে ওরা টেক-আউট স্টাইলে বার্গার বানিয়েছে। উদ্দেশ্য বাবা-দিবস উদ্‌যাপন :) ওরা বার বার জিজ্ঞাসা করতে থাকলো, কেমন হয়েছে? প্রকৃতপক্ষে এর স্বাদ ছিল খুবই ভালো, টেক-আউটে যা খাই, তার চাইতে কম না। কিন্তু ওদের আন্তরিকতায় মনে হয়েছে, এই বার্গারের সাথে পৃথিবীর আর কোনো খাবারের তুলনা হয় না।

আপনি ঠিকই বলেছেন, আমি সৌভাগ্যবান।

আপনাকে আবারও ধন্যবাদ প্রিয় কাছের-মানুষ।

১২| ২২ শে জুন, ২০২০ ভোর ৬:১৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:





‘পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহী পরমং তপঃ, পিতরী প্রিতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্বদেবতা’
আমার মনে হয় আর বিশেষ কিছু বলতে হবে না। যা বলার এক লাইনে বলা হয়ে গেছে।

২২ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:৪৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: পিতা ধর্ম, পিতা স্বর্গ, পিতাই তপস্য। এক বাক্যে পিতা সম্পর্কে সবই বলে দেয়া হয়েছে, আসলে আর কোনো কিছু বাকি নাই।

ধন্যবাদ প্রিয় ঠাকুর মাহমুদ ভাই, কবিতা পাঠ ও কমেন্টের জন্য। শুভেচ্ছা।

১৩| ২২ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: লেখাটা তিনবার পড়েছি কারন আমি আনন্দ পেয়েছি। ছোটবেলার অনেক কিছু জীবন্ত হয়ে চোখে ধরা দিয়েছে।
আমি নিজেও আমার বাপের সাথে বহুবার বাজারে গিয়েছি। কিন্তু আব্বা আমার সাথে কখনও বাজারে যায় নি।

আমার বাপের সাথে একদিন আপনার পরিচয় করিয়ে দিব। চমতকার মানুষ। আপনার ভালো লাগবে।

২২ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:৫৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এটা আমার জন্য একটা মেন্টাল রিলিফ হলো রাজীব ভাই। শুধু তাই না, খুব আপ্লুতও হলাম যে, আপনি আনন্দ পেয়েছেন বলে এটা তিনবার পড়েছেন।

আমার বাবা আমার মতো সচ্ছল ছিলেন না। কিন্তু, আমাদের প্রতি তার যে আন্তরিকতা ও মমতা ছিল, আমি নিজে আমার সন্তানদের প্রতি ততখানি হতে পারি নি; এ কথাটা আমার বাচ্চাদেরকেও অহরহ বলে থাকি। বাবা এখন নেই, কিন্তু খুব ইচ্ছে করে, আজ যদি বাবা থাকতো, তাকে নিয়ে রোজ বাজারে যেতাম, আর বলতাম, বাবা, তুমি কী কী কিনবা, কিনে ফেলো। সমস্ত বাজার তোমার, তুমি সব কিনে ফেলো। কিন্তু সেটা আর হবার নয় :(

এই করোনা মহামারি চলে গেলে, একদিন আপনার বাবার সাথে পরিচিত হবো। তার সাথে একদিন বাজারে যাওয়ার শখ হচ্ছে

১৪| ২২ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:৫১

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: মাথার উপর পিতা যেন এক বটবৃক্ষের ছায়া।

২২ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:৫৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মাথার উপর পিতা যেন এক বটবৃক্ষের ছায়া। খুব ঠিক কথা বলেছেন মাইদুল ভাই।

১৫| ২২ শে জুন, ২০২০ দুপুর ২:৫২

করুণাধারা বলেছেন: কবিতা ভালো লাগার সাথে সাথে মনখারাপ হলো। সব সন্তান যেন দীর্ঘ দিন তার বাবাকে পায়...

২২ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৩:৫২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: সব সন্তান যেন দীর্ঘ দিন তার বাবাকে পায়... একটা সুন্দর প্রার্থনা। ধন্যবাদ আপু কবিতা পাঠ ও মন্তব্যের জন্য।

১৬| ২২ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:৩০

শোভন শামস বলেছেন: সুন্দর। বাস্তবতা আর স্মৃতির রোমন্থন ।

২৪ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:০২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ শোভন শামস ভাই। অনেক দিন পর দেখলাম। শুভেচ্ছা নিন।

১৭| ২৩ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:৪৭

নান্দনিক নন্দিনী বলেছেন: সাজেক এর কংলাক পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘের নদী দেখে যে অনুভূতি আমাকে আচ্ছন্ন করেছিল;
লেখাটি পড়ে অনুরূপ অনুভব অনুভূত হলো...

২৪ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:০৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: চমৎকার উপমায় মুগ্ধ হলাম। সাজেক যাই নি। যখন যাওয়ার সুযোগ ছিল, তখন সাজেক লাইম-লাইটে আসে নি। গুগুল থেকে ছবি পেলাম সাজেকের।

কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ আপু।




১৮| ২৪ শে জুন, ২০২০ ভোর ৪:০০

সোহানী বলেছেন: মনটাই খারাপ হয়ে গেল।

২৪ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:০৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:
:( :( :(

কবিতাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপু। আশা করি সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।

১৯| ২৫ শে জুন, ২০২০ ভোর ৫:২৯

সোহানী বলেছেন: সুস্থ ও নিরাপদ আছি বটে কিন্তু আবার দৈাড় শুরু হয়ে গেছে, জীবনের দৈাড়।

২৬ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: দৌড়াইতে থাকুন, কিন্তু সুস্থ ও নিরাপদ যেন থাকেন, এই কামনা করি।

২০| ০১ লা জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:০০

কবীর হুমায়ূন বলেছেন: আজকের দিনের প্রথম পাঠটি আপনার 'বাবা-কিশোর'। পড়ার পড়, কিছু্ক্ষণ চুপ করে ছিলাম। আমার বাবাকে নিয়ে স্মৃতি হাতড়ালাম। আমার বাবাকে নিয়ে আমার তেমন স্মৃতি মনে নেই। আমার ৪/৫ বছর সময়ে বাবা এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন তারাদের দেশে। শুধু এটুকুই মনে পড়ে, আমি বাবার হাতের আঙুল ধরে, আমার ছোট বোন বাবার কাঁধের উপরে; বাবা হাঁটছেন গ্রামের জলার পাড় ধরে। আপনার কবিতার শেষে দিকে পড়তে পড়তে মনের ভেতরে এক ধরণের দুঃখবোধের বহিঃপ্রকাশ করে, চোখগুলো আদ্র হয়ে ঊঠে।
মানুষের মনোজগতের চাহিদার বিষয়গুলো খুবই নিপুণভাবে কবিতায় তুলে এনেছেন। খুবই ভালো লাগলো। শুভ কামনা প্রিয় সোনাবীজ।

০১ লা জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৩৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনার কমেন্ট পড়ে আমার মনটাও খুব আর্দ্র হয়ে উঠলো, বিশেষ করে এ কথাগুলো পড়ে : আমার বাবাকে নিয়ে আমার তেমন স্মৃতি মনে নেই। আমার ৪/৫ বছর সময়ে বাবা এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন তারাদের দেশে। শুধু এটুকুই মনে পড়ে, আমি বাবার হাতের আঙুল ধরে, আমার ছোট বোন বাবার কাঁধের উপরে; বাবা হাঁটছেন গ্রামের জলার পাড় ধরে। আমি বাবার কাঁধে চড়ে ঘুমোতে ঘুমোতে নানাবাড়ি থেকে আমাদের বাড়ি গেছি, এটা আমার এখনো জ্বলন্ত স্মৃতি। সন্ধ্যায় নানা বাড়ির দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার সময় লাফ দিয়ে বাবার কাঁধে চড়তাম, কখন ঘুমিয়ে পড়তাম জানি না। ঘুম ভাঙলে দেখতাম, সকাল হয়ে গেছে, আমি বিছানায় শোয়া।

আমার বাবা মারা গেছেন ১ বছর ১৩ ফেব্রুয়ারিতে। বাবার সবগুলো স্মৃতি এখনো খুব জীবন্ত। আপনার বাবার জন্য দোয়া রইল; আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন। আমার বাবার জন্যও দোয়া করবেন।

কবিতাটি পড়ে সুন্দর একটা কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ হুমায়ূন ভাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.