নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি \n\[email protected]

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

তিনটা মৃত্যু

৩০ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:২৪


অসুস্থ স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে শরাফুদ্দিন পাগাম সাহেব খুব বিমর্ষ হয়ে যান। ধীরে ধীরে স্ত্রীর শরীরটা ছোটো ও কঙ্কালসার হয়ে যাচ্ছে। জীবনের অর্ধেকটা সময় ওর সামনে পড়ে আছে। কত বাসনা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে তার। ওগুলো সব পূরণ হওয়ার পথে, আর মাত্র কয়েকটা বছর পার হলেই হতো। কিন্তু এর মধ্যেই স্ত্রীর শরীরে দুরারোগ্য ব্যাধি বাসা বেঁধেছে। যে-কোনো সময় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করবেন, শরাফুদ্দিন পাগাম সাহেব তা জানেন, এবং মানসিক ভাবে তা নিয়ে নিজের প্রস্তুতিও আছে তার। কিন্তু তিনি চিন্তিত নাবালেগ মেয়েদুটোকে নিয়ে। এ বয়সে ওরা মা-হারা হয়ে যাবে। মায়ের আদরের মতো পৃথিবীতে আর কিছু নেই। শরাফুদ্দিন পাগাম সাহেব ছোটোবেলায় নিজের মাকে হারিয়ে যে বেদনা পেয়েছিলেন, তা থেকে মেয়েদের বেদনা অনুভব করতে করতে তার দু চোখ ভিজে যায়।
স্ত্রী-বিয়োগের পর মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই আর বিয়ে করবেন না বলে স্থির ভেবে রেখেছেন শরাফুদ্দিন পাগাম সাহেব। তাকে একই সঙ্গে বাবা ও মায়ের ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ছোট্ট সংসারটাকে স্ত্রী যেভাবে সামলে গুছিয়ে রাখতেন, মেয়েদের আদর করা ছাড়া সংসারের আর কোনো কিছুতেই কখনো তিনি মনোযোগ দেন নি। প্রয়োজনে একহাঁড়ি পানি গরম করতে হলেও তা পারবেন কিনা সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এরকম অনভ্যস্ততার মধ্য দিয়ে নিজের চাকরি বাঁচিয়ে রেখে মেয়েদের নিয়ে কীভাবে সংসার টানবেন, তা ভাবতে গেলেও শরাফুদ্দিন পাগাম সাহেবের দম আটকে আসে। নিজের শরীরটাও যে খুব নীরোগ তাও না। কিন্তু, স্ত্রীর অসুখের কাছে নিজের চিন্তা তিনি আমলেই নেন না কখনো।

একদিন সকালে প্রতিদিনকার মতোই শরাফুদ্দিন পাগাম সাহেব হাঁটতে বেরোলেন। জগিং করতে করতে হঠাৎ পাঁজরের নীচে একটু ব্যথা অনুভব করলেন, তারপর শ্বাসকষ্ট। এরপর নেতিয়ে রাস্তায় পড়ে গেলেন। শরাফুদ্দিন পাগাম সাহেব অসুস্থ স্ত্রী ও মেয়েদুটোর কথা ভাববার জন্য আর জেগে উঠলেন না।



নুরুলুদ্দিন আকন পই পই করে ছোটো ভাইদের বলে রেখেছিল, বাবার অসুখবিসুখে কোনোরূপ অবহেলা না করে যেন যথাসত্বর থানা সদরের হেল্‌থ ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কেউ কথা শোনে না। মা-বাবা বৃদ্ধ হলে যেন সবার জন্য একটা ‘আপদ’ হয়ে যান। দিনভর মোবাইল টিপাটিপি আর ল্যাপটপ নিয়েই ছোটো ভাইগুলোর ব্যস্ততা। বাবাটা যেন এখন একমাত্র নুরুলুদ্দিন আকনের একার সম্পত্তি, সবখানি খোঁজখবর, দেখভাল শুধু ওকেই করতে হবে।
শুরুতে বাবার জ্বর ছিল। পরে সর্দি-কাশি। এরপর শ্বাসকষ্ট যোগ হয়। পাঁচদিনের মাথায় নুরুলুদ্দিন আকনের বকাবকি খেয়ে ছোটো ভাইয়েরা থানা সদরের ক্লিনিকে নিয়ে যায় বাবাকে। ক্লিনিকের ডাক্তার রোগীর অবস্থা ভয়াবহ বলে ঢাকায় রেফার করেন। নুরুলুদ্দিন আকনের মাথা পাগল হয়ে যায়। সে দিশেহারা হয়ে পড়ে। ভাইয়েদেরকে তাড়াতাড়ি অ্যাম্বুলেন্সে করে বাবাকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করতে বলে। ঢাকা আসতেও কমপক্ষে তিন-চার ঘণ্টা সময় লাগবে। এর মধ্যে সে হাসপাতালও ঠিক করে ফেলে। শীঘ্র সবকিছু গুছিয়ে একটা ছোটো ব্যাগ সাথে নিয়ে দ্রুততার সাথে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় নুরুলুদ্দিন আকন।

রাস্তার ওপারে একটা সাদা ক্যাব দাঁড়ানো ছিল। রাস্তা পার হবার জন্যে সে মাত্র কয়েক কদম পা বাড়িয়েছিল, অমনি বাসটা দড়াম করে এক ধাক্কায় সামনে ফেলে দেয় তাকে, তারপর বুকের উপর একটা চাকা উঠিয়ে দিয়ে ফটাস শব্দে শরীরটা ফাটিয়ে দিয়ে ঘড়ঘড় করে চলে যায় বাসটা।

আমাদের মৃত্যুগুলো এমন আকস্মিক ও অনিশ্চিত।



ছোটো দুটি ছেলেমেয়ে আকিশা ও রোশান আর স্ত্রী শামিলাকে নিয়ে একটা নিরিবিলি চারতলা দালানের উপরের তলায় আলালুদ্দিন মাখনের ছিমছাম সংসার। সুখে-দুঃখে-শান্তিতে বেশ ভালোই কেটে যাচ্ছিল তাদের অনাবিল জীবনটা। কিন্তু মাসখানেক হলো মেয়েটা অসুখে পড়েছে।
অসুখে পড়ার পর থেকে আকিশা সারাক্ষণই মনমরা অবস্থায় থাকে এবং বেশিরভাগ সময়েই বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।
ছোট্ট আকিশার অসুখটা কিছুতেই সারছে না। ডাক্তার-কবিরাজ বেঁটে খাওয়ানো বাকি আছে, কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি নেই। আগে কতই না চঞ্চল ছিল মেয়েটা। ওর দু বছরের বড়ো রোশানের মনটা সবচাইতে বেশি খারাপ। দু ভাইবোন দিনভর একসাথে খেলা করতো, টিভিতে কার্টুন দেখতো। শামিলা ওদের দুজনকে একসাথে গোসল করাতো, খাওয়াতোও একসাথে। কার্টুন দেখতে দেখতে আকিশা খিল খিল করে হাসতো, এ হাসি দেখে রোশানের খুব মজা লাগতো। আকিশা ভাঙা ভাঙা শব্দে রোশানকে বলতো, ‘আমি জেলি, তুমি তম’ (আমি জেরি, তুমি টম)। জেরি যখন টমকে নানা ছলচাতুরীতে ফাঁদে ফেলতো, তখন হাসতে হাসতে আকিশার পেটে খিল ধরে যেত। আনন্দের আতিশয্যে ভাইয়ের বাহু কিংবা বুকে কামড় বসিয়ে দিত। রোশান হাত দিয়ে লালা মুছতে মুছতে বলতো, ‘এই, কামড় দিও না। আমি ব্যথা পাই।’ আকিশা হা-হা করে হেসে আরো একটা কামড় দিয়ে রোশানের শরীরে গড়িয়ে পড়তো।
ছোটো দুই ভাইবোনের এরকম আলাভোলা খেলা ও খুনসুটি দেখতে আলালুদ্দিন মাখন ও শামিলার খুব ভালো লাগতো। এ নিয়ে দুজন আলাপও করতো – ‘বাচ্চারা হলো আল্লাহর তরফ থেকে সবচাইতে সেরা পুরস্কার। দেখো, ওদের খেলাধুলা দেখতে দেখতেই আমাদের আনন্দে মন ভরে থাকে।’
মাঝে মাঝে দু ভাইবোন ছোটোখাটো জিনিস নিয়ে কাড়াকাড়ি করতো। এগুলো দেখতে খুব মধুর লাগতো। কখনো সখনো আলালুদ্দিন মাখন মনে মনে খুব করে চাইত, ওরা দু ভাইবোন একটু ঝগড়া করুক। কিন্তু ওদের ঝগড় খুব কোমল হতো। আকিশার কোনো খেলনা যদি জোর করে রোশান নিয়ে নিত, আকিশা বড়োজোর গলা সামান্য বাড়িয়ে মৃদু রাগের স্বরে বলতে পারতো, ‘দাও! দাও! আমার খেলনা দাও!’ এরপর রোশান খেলনা ফেরত না দিলে আকিশা কেঁদে কেঁদে বাবা বা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলতো, ‘দেয় না! দেয় না!’

আজকাল এসবের কিছুই হয় না। এজন্য রোশানকেও খুব মন খারাপ করে থাকতে দেখা যায়। টিভিতে কার্টুন দেখতে তার তেমন মন নেই, খেলনা নিয়েও কদাচিৎ বসতে দেখা যায় তাকে। নার্সারির পড়ারও তেমন চাপ নেই। আলালুদ্দিন মাখন বা শামিলা দুজনেই ওকে পড়ায়। কিন্তু, রোশান পড়তে চায় না। হঠাৎ হঠাৎ কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে ওঠে, ‘ভালো লাগে না আমার।’ স্বামী-স্ত্রী ঠিকই বুঝতে পারে, ছোটোবোনের অচঞ্চলতার কারণেই সে এতটা মনমরা হয়ে থাকে। আলালুদ্দিন মাখন সময় পেলে রোশানকে নিয়ে একটু বাইরে ঘুরতে যায়। মাঝে মাঝে ছাদে যায়, যেখানে অন্য বাচ্চারাও আসে। সেখানে কিছুটা উৎফুল্ল সময় কাটালেও বাসায় ফিরে আসার পর আগের মতোই বিমর্ষ হয়ে পড়ে রোশান।

ছেলেমেয়েদের এরকম অসুখবিসুখে কোনো মা-বাবার মন ভালো থাকে না।

এর মধ্যে একদিন শামিলার নানা ও নানিজান ওদের বাসায় বেড়াতে এলেন। পুরো দালানের চারদিকের পরিবেশ এবং আকিশার চেহারা দেখে তিনি বললেন, ‘তোমরা বাসাটা বদলাইয়া ফালাও। অন্য খোলামেলা জায়গায় যাও। এ জায়গাটা ভালো না।’
আলালুদ্দিন মাখন আর শামিলা দুজনই খুব চিন্তিত হলো নানাজানের কথায়। নানাজান খুব কামেল মানুষ। তিনি যা বলেন খুব ভেবেচিন্তে বলেন, তাঁর কথার মূল্য অনেক।
নানাজানকে অনেক অনুনয় বিনয়ের পর তিনি জানালেন, এ দালানটা জিনের নজরে পড়েছে। এ কথা শুনে ওরা দুজনেই চমকে ওঠে। হায়, আকিশার উপর তাহলে জিনের আছর পড়ে নি তো! নানাজান কিছুক্ষণ গম্ভীরভাবে চুপচাপ থাকার পর ধীরে ধীরে মাথা উপর-নীচ দুলিয়ে বললেন, ‘খুব খারাপ জিন এটা। তোমরা জলদি বাসা বদলাইয়া ফালাও।’

দালানটা খুব পুরাতন না, বরঞ্চ আশপাশের দালানগুলোর তুলনায় এটাকে বেশ নতুনই বলা চলে। তবে, এ দালানটা ঘেঁষে পেছনে একটা উঁচু ঢিভি এবং তার উপর বিরাট ঝুঁপড়িওয়ালা একটা কড়ই গাছ দালানের ছাদ ছাড়িয়েও অনেক উপরে উঠে গেছে। কিছু দূরে রাস্তার উপর একটা বাঁশঝাড় অনেক জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে আছে। আম-জাম-দেবদারু গাছও জায়গা অন্ধকার করে কোথাও কোথাও জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে আছে। জায়গাটা মোটের উপর পরিচ্ছন্ন হলেও সূর্য ডোবার বেশ আগে থেকেই আলো-আঁধারীতে চারদিকটা কেমন ভুতুড়ে হয়ে ওঠে। এতদিন আলালুদ্দিন মাখন বা শামিলা এ ব্যাপারটা তেমন গুরুত্ব দেয় নি বা খেয়াল করে নি, কিন্তু নানাজানের কথার পর থেকে পুরো এলাকাটাই এখন ওদের কাছে ভৌতিক মনে হচ্ছে। সন্ধ্যা হওয়ার আগেই দরজা-জানালা বন্ধ করে পর্দা টেনে দেয়। পর্দার ফাঁক দিয়ে হঠাৎ কড়ই গাছের দিকে চোখ গেলে গা শিউরে ওঠে।

স্বামী-স্ত্রী দুজনে খুব দ্রুত বাসা বদল করে অন্যদিকে চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে।

একদিন সারাদিন আকাশ জুড়ে মেঘ ছিল, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলো। বিকেলের দিকে কিছুক্ষণ দমকা বাতাসও বয়েছিল। প্রতিদিনকার চাইতে একটু আগেই ছাদের দরজাটা আটকে দিয়ে এলো আলালুদ্দিন মাখন।
আজ আকিশার মর্জিটা একটু বেশিই মনে হচ্ছে। মেঘ-তুফানের সাথে জিনদের মেজাজ-মর্জিও ওঠানামা করে কিনা তা ওরা জানে না। একটু পর পর আকিশা কান্না করে উঠছে। পেটে ব্যথা কিনা, তা ছোট্ট আকিশা হয়ত বুঝতে পারে না। পেট ব্যথা হলেও বাচ্চারা এরকম ঘন ঘন কান্নাকাটি করে।
অনেক চেষ্টা-তদবিরের পর আকিশা ঘুমালো। আলালুদ্দিন মাখন ও শামিলা এতক্ষণ পর একটু স্বস্তি পেলো। রাতও গভীর হয়েছে। বাইরে বৃষ্টি ছিল এতক্ষণ, এখন নেই মনে হচ্ছে। তবে মাঝে মাঝে বাতাসের ঝাপটা শোনা যায়।
ওদের সবার চোখ মুদে এসেছে। এমন সময় ছাদের দরজায় কীসের শব্দে শামিলার হালকা ঘুম ভেঙে যায়। সে আকিশাকে বুকে টেনে নিয়ে কান খাড়া করে শোনে, শব্দটা আসলেই ছাদের দরজা থেকে আসছে কিনা। একটু পর আবার আওয়াজ হলো। থেমে থেমে কে যেন ছোট্ট হাতে ছাদ থেকে দরজায় থাপ্পড় দিচ্ছে। শামিলার শরীর কেঁপে উঠলো। সে ফিসফিস করে আলালুদ্দিন মাখনকে ডাকে।
-‘কী হয়েছে?’
-‘আমার খুব ভয় করছে।’
-‘কী হয়েছে? কীসের ভয়?’
-‘নানাজান ঠিকই বলেছিলেন। বাসাটা ভালো না। ঐ শোনো, ছাদ থেকে কে যেন দরজা থাপড়াচ্ছে। মনে হয় একটা বাচ্চা জিন।’
-‘ধূর! কী বলো? আমি তো কোনো শব্দ শুনতে পাচ্ছি না।’
-‘ওসব কিছু না। ঘুমাও। হয়ত ভুল শুনেছ। বা স্বপ্নে কিছু দেখেছ।’
-‘না না। আমি ঠিকই শুনেছি।’
দুজনেই সেই শব্দ আবার শোনার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো। আলালুদ্দিন মাখন শেষমেষ বললো, ‘কড়ই গাছের ডালটা এসে পড়েছে দরজা বরাবর। বাতাসে ঐ ডাল দরজায় আছড়ে পড়লে থাপ্পড়ের মতোই শোনায়। ঘুমাও। ওসব বাজে চিন্তা মাথায় ঢোকালে ভয় আরো বাড়বে।’
কিন্তু শামিলা স্বামীর কথায় আশ্বস্ত হতে পারলো না। সে বার বার আলালুদ্দিন মাখনকে বাহু দিয়ে ধাক্কাতে লাগলো আর বলতে থাকলো, ‘তুমি ঘুমিয়ো না। জিনটা আবার আসবে, আমি নিশ্চিত। নানাজানের কথা মিথ্যা হতে পারে না।’
আলালুদ্দিন মাখন শামিলাকে জড়িয়ে ধরে বললো, ‘আল্লাহর নাম লও। ইনশাল্লাহ কিচ্ছু হবে না।’ ঠিক ঐ মুহূর্তে ছাদের উপর থেকে কড়ই গাছের ডালপালা মটমটিয়ে ভেঙেচুরে ঝপঝপ করে কী যেন নীচে পড়ে গেল – সেই সাথে গাছ থেকে কয়েকটা বিরাটকায় বস্তুর পাখা ঝাপটে আকাশে উড়ে যাওয়ার শব্দ হলো- আর শামিলা বিকট চিৎকারে আকিশাকে সাপটে ধরে আলালুদ্দিন মাখনের শরীর জড়িয়ে ধরলো। এই চিৎকারের শব্দে আকিশা যেমন কেঁদে উঠলো, রোশানও ঘুমের মধ্যে উঠে হতবিহ্ববল অবস্থায় বিছানায় বসে পড়লো।
ঘরে আলো জ্বেলে দিল। শামিলা তখনো থরথর করে কাঁপছে। আলালুদ্দিন মাখন বুঝতে পারছে না হঠাৎ কী হয়ে গেলো। এতক্ষণ শামিলার কথাকে অগ্রাহ্য করলেও নানাজানের কথা স্মরণে আসায় শামিলার কথাকে সে মনে মনে সায় দিল। আল্লাহ-বিল্লাহ করতে করতে, বার বার সুরা, কালিমা পড়ে ছেলেমেয়েদের শরীরে ফুঁক দিতে দিতে তারা রাত পার করলো এবং প্রতিজ্ঞা করলো, আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যেই যেমন করেই হোক তারা এই বাসা ত্যাগ করে অন্য বাসায় উঠবে।

সকালে সূর্য ওঠার পর শামিলার ভয় চলে গেলো। আলালুদ্দিন মাখন স্ত্রীর এই নির্ভীক ভাব দেখে অফিসে যেতে সাহস করলো।

দুপুরের দিকে শামিলার ফোন। ওর কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। আলালুদ্দিন মাখন বার বার বলছে, ‘শামিলা, আমি বুঝতে পারছি না তুমি কী বলছো। প্লিজ একটু দম নিয়ে আবার বলো।’
কিছুই বোঝাতে না পেরে শেষে বললো, ‘খুব খারাপ খবর। তুমি জলদি বাসায় চলে আসো।’
‘খুব খারাপ খবর’-এর কথা শুনে আলালুদ্দিন মাখনের বুক দুরু দুরু করে ওঠে। আকিশার কিছু হয় নি তো! সে দ্রুত বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

ঘটনা বুঝবার জন্য আলালুদ্দিন মাখনকে সিঁড়ি বেয়ে নিজের ফ্ল্যাটে যেতে হলো না। বিল্ডিঙের পেছনের দিকে একটা নয়-দশ বছরের মেয়ের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। মেয়েটার শরীর ফেটে গেছে, চারদিকে হাত-পা ছড়ানো, মুখ থেতলে গেছে। সবাই বলাবলি করছে, ছাদের উপর থেকে পড়ে মারা গেছে মেয়েটা।

পুলিশী তদন্তে ঘটনা বেরিয়ে এলো।

মেয়েটা অন্য বিল্ডিঙের একটা ফ্ল্যাটে কাজ করতো। ঘটনার দিন একটা প্লেট ভেঙে ফেলায় বাসার মহিলা ওকে বকাবকি করেন এবং একটা চড়ও দেন। এতে সে ভয় পেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। সে এ বিল্ডিঙের ছাদে এসে লুকিয়েছিল। তৃতীয় তলার বুয়া বিকেলে ওকে এ ছাদে দেখেছিল। এখানে এসেছে কেন জানতে চাইলে বলেছিল, খেলতে এসেছে। মেয়েটা বাসা থেকে চলে আসার পর থেকেই ওকে খোঁজা হচ্ছিল। বাসার মানুষরা ভেবেছিলেন ও পালিয়ে বাড়ির দিকে রওনা করেছে, যদিও সে একা বাড়িতে যেতে পারবে না, এবং পথে হারিয়ে যাবে বলে তারা জানতেন। তাই সম্ভাব্য সবগুলো রাস্তায় খোঁজা হয়েছিল, পরিচিত কয়েকটা বাসা, যেখানে আগে ও গিয়েছিল, সেখানেও খোঁজা হয়েছিল।
দালানের ছাদে একটা পানির ট্যাংকি আছে। পানির ট্যাংকিটা দালানের কিনার ঘেঁষে দাঁড়ানো। মেয়েটা কিছু না বুঝে, বা কোনো কারণ ছাড়া, কিংবা নিছক খেয়ালের বশে ছাদের কিনার থেকে ট্যাংকির উপরে ওঠার চেষ্টা করার সময় পা ফস্‌কে নীচে পড়ে যেয়ে থাকতে পারে, কিংবা ট্যাংকির উপরে ওঠার পর হয়ত পা ঝুলিয়ে বসেছিল এবং ঘুমের ভাব আসায় ভারসাম্য হারিয়ে নীচে পড়ে যায়।

ঘটনা শোনার পর আলালুদ্দিন মাখন আর শামিলা দুজনেই কষ্টে মুহ্যমান হয়ে পড়লো। আহারে, অবুঝ অসহায় মেয়েটা সেদিন কতই না কাতর ভাবে দরজা থাপড়াচ্ছিল খুলে দেয়ার জন্য। হায়! কীভাবে এত আহাম্মকী কাজটা তারা করতে পারলো? না জানি কত কষ্ট করেছিল মেয়েটা বৃষ্টি আর বাতাসের ঝাপটায়। কীভাবে ওর গরীব মা-বাবা ওর এই থেতলে যাওয়া মুখের কথা ভুলবে? তাদের অন্তর কি কোনোদিন শান্তি পাবে?
আলালুদ্দিন মাখন আর শামিলা মৃত মেয়েটার কথা ভাবে, বুক চাপড়ায়, কষ্টে ছেলেমেয়েদেরকে সাপটে ধরে, আর বুকের মানিক হারিয়ে গেলে কী যে কষ্ট, তা পলে পলে অনুভব করতে থাকে।

৩০ আগস্ট ২০২০

মন্তব্য ৫২ টি রেটিং +১৪/-০

মন্তব্য (৫২) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:৪৮

শোভন শামস বলেছেন: সুন্দর কথামালা, ঘটনা আর দুর্ঘটনায় ভরা, ভাল লেগেছে

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:০৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: শোভন ভাই, প্রশংসাসূচক কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

২| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:০০

মিরোরডডল বলেছেন:



তিনটা গল্পই ভালো লেগেছে কিন্তু শেষেরটা সত্যিই ট্র্যাজেডি ।
আসলেই তাই, মানুষ ভাবে একরকম হয়ে যায় অন্যরকম ।
যেকোনো মৃত্যুই কষ্টদায়ক ।

ধুলোও নিশ্চয়ই প্রথম গল্পটার মতোই এরকম টেনশন করে অস্থির ।
ধুলো স্ট্রেস থেকে আবার সিক হয়ে যাবে কিন্তু । ওয়াচ ইউরসেলফ !


৩১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:১১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মূল গল্পটা আসলে সিকোয়েল-২। এটা মাথায় ঢুকেছিল বছর খানেক আগে। এবং এটাই একটা পূর্ণাঙ্গ গল্প হবে ভেবেছিলাম। কিন্তু হুট করে গতকাল মাথায় ঢুকলো ভিন্ন প্লট। আজ দুপুরে সেই প্লটও বদলে গেলো, যা হলো বর্তমান রূপ। ৩ নাম্বার সিকোয়েলের দুর্ঘটনাটা সত্যি ঘটনা।

তো, তিনটা মৃত্যুকে একই প্লটে ব্লেন্ড করে যা বোঝাতে চেয়েছি, তা আপনি ঠিকই ধরতে পেরেছেন - 'মানুষ ভাবে একরকম হয়ে যায় অন্যরকম।' গল্পের ভেতরেও একটা কথা বলা হয়ে গেছে - আমাদের মৃত্যুগুলো এমন আকস্মিক ও অনিশ্চিত।

এ পোস্টটা এভাবে শেষ না করে একটা ধাঁধার মাধ্যমে শেষ করতে চেয়েছিলাম। পরে মনে হলো, ধাঁধার উত্তর দেয়া কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না, যদি না কেউ ঘটনাটা আগেই জেনে থাকেন।

ধাঁধাটা আপনার জন্য দিই। গল্পের শিরোনাম - তিনটা মৃত্যু। ১ ও ২ নাম্বার সিকোয়েলে দুইটা মৃত্যু দেখানো হয়েছে, ৩ নাম্বার সিকোয়েলেও একটা মৃত্যু থাকবে। এ পোস্টটা শেষ করা হতো এখানে :

সকালে সূর্য ওঠার পর শামিলার ভয় চলে গেলো। আলালুদ্দিন মাখন স্ত্রীর এই নির্ভীক ভাব দেখে অফিসে যেতে সাহস করলো।

ধাঁধা : ৩ নাম্বার সিকোয়েলে কে মারা যাবে?

৩| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:১১

কবিতা পড়ার প্রহর বলেছেন: কি কঠিন সুন্দর সব গল্প।
অবাক হতে হয়।

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:১৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় প্রহর কঠিন প্রশংসা করার জন্য। আমি প্রীত। শুভেচ্ছা।

৪| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:১২

জাহিদ হাসান বলেছেন: সময়ের অভাবে পুরোটা পড়তে পারলাম না। বহুদিন পরে আপনাকে ব্লগে দেখলাম।

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:১৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: যতটুকু পড়েছেন তাতেই আমি খুশি। উপস্থিতি জানান দিলেও খুশি হব।

আমি কিন্তু ব্লগেই আছি জাহিদ ভাই! যাই হোক, দোয়া করবেন যেন সুস্থ থাকি। ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।

৫| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:১৩

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: তিনটি মৃত্যুই আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত। মৃত্যু অবধারিত জেনেও মানুষ বাঁচতে চায়। একসময় না একসময় তাকে মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পন করতেই হয়।তাতে সে প্রস্তুত থাকুক আর না থাকুক। তিনটি গল্পই ভালো লেগেছে।

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ৮:৫২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মৃত্যু সম্পর্কে কিছু ভালো কথা বলেছেন। বেঁচে থাকার চাইতে বড়ো কোনো বাসনা মানুষ কিংবা অন্যকোনো প্রাণীর নেই, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

তিনটি গল্পই ভালো লেগেছে জেনে আমি আনন্দিত। ধন্যবাদ আপনাকে গল্পটা তিনটা পড়ার জন্য। শুভেচ্ছা।

৬| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:১৫

ঢুকিচেপা বলেছেন: প্রথম দুই গল্প অনাকাঙ্খিত হলেও মেনে নিতে অসুবিধা হয়নি।
শেষের গল্পটা সত্যিই করুণ। রাতের অন্ধকারে ঝড় বৃষ্টির পরিবেশে বাচ্চা মেয়েটার কাছে নিজেকে দাঁড় করালে নিজের আত্মাই উড়ে যায়।

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:১০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আসলে যে-কোনো অপমৃত্যু বা অকালমৃত্যুই মেনে নেয়া কঠিন। তবে, আপনার কথা ঠিক, প্রথম মৃত্যু দুটো কোনোমতে হয়ত মেনে নেয়া যাবে, কিন্তু শেষের মৃত্যুটা যেরকম অসহায় ও করুণভাবে ঘটলো, তা মন থেকে মুছে ফেলা কঠিন।

গল্প পড়ার জন্য ধন্যবাদ ঢুকিচেপা।

৭| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১:০১

ওমেরা বলেছেন: মূত্যু বড়ই কষ্টকর তবু মানতেই হয়। গল্পে কষ্টকর ভালোলাগা ।

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:১২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: গল্পটা পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ওমেরা। ভালো থাকুন। শুভেচ্ছা।

৮| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১:০২

নেওয়াজ আলি বলেছেন: মানুষ হঠাৎ করে মরে গেছে শুনলে বুকটা হাহাকার করে উঠে। গল্পের মোড়কে বাস্তবতা তুলে ধরলেন

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:৪০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হঠাৎ করে মরে যাওয়াকে আমার কাছে 'তরতাজা মৃত্যু' মনে হয়, যা মেনে নেয়া সত্যিই খুব কঠিন।

গল্প পাঠ ও কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ নেওয়াজ আলি ভাই। শুভেচ্ছা।

৯| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ৭:১০

ইসিয়াক বলেছেন: প্রথম দুইটা গল্প পড়লাম।বাস্তব চিত্র। ভালো লেগেছে।
তৃতীয় গল্পটা অবশ্যই পড়বো....। পরে আবার আসছি।
শুভসকাল

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:৪১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রথম গল্প দুটো পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ইসিয়াক ভাই। ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা।

১০| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ৭:২৮

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই।

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:৪৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মানুষের, বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের সবচাইতে বড়ো আকুতি কিংবা আর্জি হলো এটাই - স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতা হলো, স্বাভাবিক মৃত্যুর কোনো গ্যারান্টিই নাই। স্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য চাই একটা নিরাপদ জীবনা ব্যবস্থা। আমাদের কি সেটা আছে?

১১| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ৮:২৬

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: হায়রে মানুষ রঙিন ফানুষ
দম ফুরাইলে ঠুস...

এইতো জীবন নামের রেলগাড়ীর কাহানি!
অনিশ্চিতি নিশ্চিতে পানে চলি নির্ভয়ে - যেমন শিশু মুঠোয় পোরে সাপ!

গল্পে++++

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:৪৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমাদের এই জীবনে 'এক পলকের ভরসা নাই।' প্রাণটাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আমরা প্রতিদিন ঘর থেকে বেরোই, জানি না সেই ঘরে ফিরবো কিনা।

গল্প পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ প্রিয় বিদ্রোহী ভৃগু ভাই। শুভেচ্ছা।

১২| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:০৬

মুক্তা নীল বলেছেন:
ভাই ,
মৃত্যু যখন আসবে তখন তো কেউ আটকে রাখতে পারবে না , এটাই সত্যি এটাই নিয়তি। তারপরও আমরা লড়াই করি শেষ অব্দি বেঁচে থাকা পর্যন্ত। কষ্টের লেখা তারপরও মনে হচ্ছে যেন আশেপাশে কোন ঘটনাই। সবার শেষ লেখাটি পড়ে আমি শকড ‌। প্রতিমন্তব্য পড়ে বুঝতে পারলাম একটি সত্যি ঘটনা। আমি যখন লেখাটি পড়ছিলাম তখনই কি আমার যেন আমার একটু ভয় ভয় লাগছিলো এবং মনে হচ্ছিল দরজায় আসলে কে শব্দ করছিলো? তৃতীয় গল্পটি পড়ে আমি আর কি বলবো ভাষা হারিয়ে ফেলেছি এটা হচ্ছে ।
৯ লং মন্তব্য মুছে দিয়েন।

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:৫৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপু, মৃত্যু যখন আসবে তখন তো কেউ আটকে রাখতে পারবে না । এটা ঠিকই বলেছেন। কিন্তু, অপঘাতে, দুর্ঘটনায়, খুন, ধর্ষণে ঘটে যাওয়া মৃত্যুগুলো এই ক্যাটাগরির মধ্যে পড়বে কিনা আমি জানি না। অনাকাঙ্ক্ষিত, নিষ্ঠুর হত্যা ও অপ্রত্যাশিত মৃত্যুগুলো মেনে নেয়ার জন্য আমাদের মন কখনো প্রস্তুত থাকে না। দেখুন, গল্প তিনটা হলেও মূলত এ তিনটাকে ব্লেন্ড করে একটা গল্পই বানানো হয়েছে, যাতে মৃত্যুর তিনটা পরিস্থিতি দেখানো হয়েছে। তৃতীয় গল্পের শুরুতে আকিশাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখা যায়। পাঠক হয়ত ভাবতে থাকেন, আকিশাই মারা যাবে। কিন্তু মারা যায় অন্য একটা মেয়ে, যার বেঁচে থাকার জন্য সবকিছুই অনুকূল ছিল, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে তাকে অকালে প্রাণ হারাতে হলো। এই মৃত্যুর কোনো জবাব নেই আপু।

অনেক ধন্যবাদ আপু বিস্তৃত ও সুন্দর কমেন্টের জন্য। আপনার নিয়মিত উপস্থিতি খুব প্রেরণাদায়ক। ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা।

১৩| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ১০:০১

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
হঠাৎ মৃত্যু জীবনকে যে এলোমেলো করে দেয়, তছনছ করে দেয় তারই বয়ান উঠে এসেছে গল্পগুলোতে।

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ১১:১৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আকস্মিক মৃত্যু পরিবারের জন্য একটা বিরাট আঘাত।

গল্প পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ মাইদুল সরকার ভাই। শুভেচ্ছা।

১৪| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ১০:২১

শেরজা তপন বলেছেন: তিনটে কাহানী-ই ভয়াবহ কষ্টের!

তিন নম্বরটা বেশী মর্মান্তিক!!!

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ১১:১৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: শুভেচ্ছা শেরজা তপন ভাই। গল্প পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

১৫| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ১১:৩২

রাজীব নুর বলেছেন: কিছু কিছু মৃত্যু শান্তির।
পৃথিবীতে শান্তির মৃত্যুও আছে।

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:১৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: স্বাভাবিক মৃত্যুটাই শান্তির। সবাই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চায়। আমিও চাই, ১২৫ বছর সুখে শান্তিতে বেঁচে থাকার পর একদিন বিছানায় শুয়ে সবাইকে কাছে ডাকবো, সবার কাছে দোয়া চাইব, সবাইকে দোয়া করবো, তারপর কালিমা পড়ে চোখ বন্ধ করবো। এটাই হবে শান্তির মৃত্যু।

১৬| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:৫৫

দয়িতা সরকার বলেছেন: এক বারেই পরে ফেললাম। এ রকম মৃত্যুর গল্প মন খারাপ করে দেয়। গল্প তিনটাই বাস্তবতা কে ছুয়ে যায়।

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১:১৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রতিটা মৃত্যুই আমাদেরকে খুব ব্যথিত করে। আপন জনের মৃত্যুতে আমরা মুষড়ে পড়ি। মৃত্যুগুলো যদি এমন আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত হয়, তাহলে আমরা শোকে পাথর হয়ে যাই।

গল্প পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ দয়িতা সরকার। শুভেচ্ছা রইল।

১৭| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:২৫

পদ্ম পুকুর বলেছেন: প্রথম কথা হলো- আপনার কাহিনীর পাত্রপাত্রীর নামগুলো আনকমন। দ্বিতীয়ত- প্রথম দুটো মৃত্যু পাঠক হিসেবে মেনে নেয়া যায় কিন্তু তৃতীয় মৃত্যুটা পাঠক হিসেবেও মানতে কষ্ট হয়। শেষত: আজকাল সবাই গল্পের শেষে ধাঁধাঁ দিচ্ছে, আমার মনে হয় পরের সিকুয়েলে মাখন সাহেব মারা যাবেন।

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৪:১২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রথম কথা হলো- আপনার কাহিনীর পাত্রপাত্রীর নামগুলো আনকমন। ব্রিলিয়ান্ট ফাইন্ডিং। আমি অনেকদিন ধরেই মনে মনে চাইছিলাম, আমার পাত্রপাত্রীদের নামগুলোর ব্যাপারে কেউ কিছু বলুন, খারাপ বা ভালো যাই হোক না কেন। আপনিই প্রথম। গল্পের গাম্ভীর্য ভেদে আমি পাত্রপাত্রী, বিশেষ করে মূল চরিত্রের নামকরণ এভাবে করছি বছর খানেক হলো। শুরুটা এখান থেকে - শুধু প্রথম লাইনটা পড়লেই নামটা পেয়ে যাবেন - মশার জীবন, আঙ্গুরি

আজকাল সবাই গল্পের শেষে ধাঁধাঁ দিচ্ছে, আমার মনে হয় পরের সিকুয়েলে মাখন সাহেব মারা যাবেন।
। এ গল্পটা অবশ্য এখানেই শেষ, আর কোনো সিকোয়েল বা পর্ব নেই। তবে, উপরে ২ নম্বর মন্তব্যের উত্তরে বলেছিলাম, এটা ধাঁধা দিয়ে শেষ করতে চাইছিলাম, পরের পর্বে বাকি অংশ। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, ধাঁধাটা খুব কঠিন হয়ে যাবে, কেউ উত্তর দিতে পারবে না, ফলে পর্বটা পানসে বা রসকষহীন হয়ে যাবে। ফাইনালি এটিই পূর্ণাঙ্গ পোস্ট।

তবে, ধাঁধা দিয়ে শেষ করলে প্রথম দুটো মৃত্যুর মতো এ পর্বেও সবাই ধরে নিত আলালুদ্দিন মাখনই মারা যাবে, কেউ হয়ত গতানুগতিক ধারার বাইরে যেয়ে বলতো আকিশা বা রোশান মারা যাবে। মূল ঘটনাটা আঁচ করা খুবই কঠিন হতো।

ধন্যবাদ পদ্ম পুকুর চমৎকার মন্তব্যের জন্য।

১৮| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৪:৩৪

ৎঁৎঁৎঁ বলেছেন: প্রথম গল্পটা আমার বন্ধুর ক্ষেত্রে খুব কাছে থেকে দেখেছি, আমরা তখন হলে থাকি। তার আম্মা অসুস্থ ছিলেন, আমরা প্রস্তুত ছিলাম একটা খারাপ সংবাদের। হলে খারাপ সংবাদটা এলো ঠিকই, কিন্তু সেটা আম্মা নয়, বন্ধুর বাবার আকস্মিক মৃত্যুসংবাদ! তার কিছুদিনের মধ্যেই তার আম্মাও চলে গেলেন। প্রথম গল্প আমাকে সেই সময়ে নিয়ে গেল, ২ নম্বর গল্পটা বোঝা যাচ্ছিল আগে থেকেই। আর ৩ নাম্বার সবথেকে ট্র্যাজিক- কিন্তু একটু বেশি কাল্পনিক মনে হয়েছে। কিন্তু আপনার লেখনীর গুণে উৎরে গেছে।

ভালোবাসা জানবেন।

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রিয় ইফতি ভাই, শুরুতেই শুভেচ্ছা নিন। আশা করি ভালো আছেন।

ছোটোবেলায় আমার টাইফয়েড হয়েছিল। আমার মুমূর্ষু অবস্থা। সবাই ধরেই নিয়েছিলেন আমি বাঁচবো না। দ্বিতীয় দিনেই আমি ফুরফুরে হয়ে হাঁটতে শুরু করলাম, কিন্তু বলা নেই কওয়া নেই, আমার পিঠাপিঠি ছোটো বোনটি মারা গেল :( আমাদের মৃতুগুলো এমনই আকস্মিক ও অনিশ্চিত।

আপনার বন্ধুর বাবার মৃত্যুটাও এমনই। আল্লাহ বন্ধুর বাবা ও মাকে বেহেশত নসিব করিন, এই দোয়া করি।

৩ নাম্বার গল্পের মেয়েটি ছাদ থেকে পড়ে মরে যাওয়া একটা সত্য ঘটনা। পড়ে যাওয়ার শব্দটা আমরা শুনতে পেয়েছিলাম। তবে, আমরা ধরে নিয়েছিলাম কিচেনের পাটা বা ভারী কোনো বস্তু মাটিতে পড়ে অমন শব্দ করেছে। ঘূণাক্ষরেও আমরা ধরতে পারি নি, এ শব্দ বাইরে থেকে আসতে পারে, এতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

গল্প পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ইফতি ভাই।

১৯| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০৯

ৎঁৎঁৎঁ বলেছেন: কী কান্ড বলেন তাহলে! Truth is far more stranger than fictoin !!! এবং কী করুণ ট্র্যাজিক!

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: Truth is far more stranger than fiction!!! মেয়েটার মৃত্যু বাস্তব ক্ষেত্রে যতখানি হৃদয়বিদারক আবহ সৃষ্টি করেছিল, গল্পে অতখানি ফুটিয়ে তুলতে পারি নি।

আবার আসায় আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি ইফতি ভাই।

২০| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:২৫

পদ্ম পুকুর বলেছেন: নাটোরে আমরা যে কলোনীতে থাকতাম, এক ভোরে হঠাৎ ধ্রিম শব্দে আমরা জেগে উঠলাম। শব্দের উৎসে সবাই গিয়ে দেখলাম একটা যুবক ছেলে একটা চারতলা বিল্ডিংয়ের পেছনে হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে আছে। ওই ছেলেটির দায়িত্ব ছিলো পানির পাম্প চালু করা এবং উপরের টাংকিতে পানি তোলা। ধারণা করা হয়, তিনি টাংকিতে পানি আছে কি না দেখতে গিয়েছিলেন এবং ওই মুহূর্তে টাংকি ভরে পানি উপচে আসলে সেটার ধাক্কায় পড়ে যান....

তখন অনেক ছোট ছিলাম, বুঝতাম না যে কি হয় আর কি হতে পারে। তাঁকে রাজশাহী মেডিকেলে নেয়া হয়েছিলো, কিন্তু মারা যান....। আপনার গল্প পড়ে এই ঘটনাটা মনে পড়লো।

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনার ঘটনাটাও খুব মর্মান্তিক। যারা এসবের সাক্ষী হোন, তাদের মনে এর একটা ইফেক্ট থেকে যায়, যা মুছে যেতে সময় লাগে, কারো বা সারাজীবনই থেকে যায়।

আবার আসায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি প্রিয় পদ্ম পুকুর।

২১| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৯

সোনালী ঈগল২৭৪ বলেছেন: লেখাটি পড়ে মন কেমন যেন হয়ে গেলো , আল্লাহ সকলের মঙ্গল করুন

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:১২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: শুভেচ্ছা সোনালী ঈগল২৭৪। আল্লাহ সকলের মঙ্গল করুন।

ধন্যবাদ গল্প পাঠের জন্য।

২২| ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১০:৪৭

আখেনাটেন বলেছেন: কষ্টের গল্প যেন বাস্তব জীবনেরই প্রতিচ্ছবি।

করোনা মানুষকে নানাভাবে বিপদগ্রস্ত করে তুলেছে, নি:স্ব করে দিয়েছে।

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৩৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: করোনা মানুষকে নানাভাবে বিপদগ্রস্ত করে তুলেছে, নি:স্ব করে দিয়েছে। করোনা কালের অনেক মৃত্যু অমানবিকতা ও নিষ্ঠুরতার চরম মাত্রার ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। সেই মাত্রা এতই নিষ্ঠুর বা ভয়াবহ যে, গল্পকেও তা হার মানাবে।

এ পোস্ট পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ প্রিয় আখেনাটেন ভাই। শুভেচ্ছা।

২৩| ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:১৪

শায়মা বলেছেন: শেষের গল্পটা বেশি কষ্টের!:(

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৩২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হ্যাঁ, শেষের গল্পটা বেশি কষ্টেরই আপু, এবং এজন্য ওটার অবস্থান লাস্ট সিকোয়েলে রাখা হয়েছে। ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

২৪| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৪৮

মিরোরডডল বলেছেন:



৩ নাম্বার সিকোয়েলের দুর্ঘটনাটা সত্যি ঘটনা।

আহা সত্যি ঘটনা জেনে আরও বেশী খারাপ লাগছে ।

আমাদের মৃত্যুগুলো এমন আকস্মিক ও অনিশ্চিত।

মৃত্যু মোস্ট অভ দ্যা টাইম অনিশ্চিত ও আকস্মিকই হয় ।

ধাঁধা : ৩ নাম্বার সিকোয়েলে কে মারা যাবে?

শামিলা অথবা রোশান এদের একজন ।
I'm tossing up between these two ।

শামিলা ?

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:২৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আহা সত্যি ঘটনা জেনে আরও বেশী খারাপ লাগছে।

সেরাতে সারা ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোথাও কোনো শব্দের উৎস পেলাম না। পরে মনে হলো তাহলে ভুল শুনেছি, কোথাও কোনো শব্দই হয় নি। আমাদের বাসাটা ৪তলা বিল্ডিঙের গ্রাউন্ড ফ্লোরে ছিল।

পরদিন দুপুরের দিকে আমার স্ত্রী মোবাইলে ফোন করে। সে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিল না। সে শুধু জানালো, আমার বাসার পেছনে একটা মেয়ের ডেডবডি পাওয়া গেছে। মেয়েটা নাকি গতরাতে ছাদের উপর থেকে পড়ে গিয়েছিল। এটা শোনার সাথে সাথেই আমার শরীর কাঁপতে শুরু করে এবং গত সন্ধ্যায় কিচেনে 'পাটা' পড়ার শব্দের কথা মনে পড়ে যায়।

এরপর এ ঘটনার তদন্ত হয়। তদন্তের ফাইন্ডিংসের সাথে গল্পের অনেক মিল আছে।


মৃত্যু মোস্ট অভ দ্যা টাইম অনিশ্চিত ও আকস্মিকই হয়। হ্যাঁ, আমি উদাহরণগুলোতে সেই জিনিসটাই বলতে চেয়েছি। ৮০ বছরের বৃদ্ধ স্বাভাবিক মৃত্যুর আশায় বাসায় বসে দিন গোনেন। তার দিন গোনার শেষ হয় না, তিনি ১২০-এ গিয়ে পৌঁছেন। হয়ত একদিন গোসল করতে যেয়ে পা ফস্‌কে তিনি পড়ে গিয়ে মারা গেলেন :(

ধাঁধা : ৩ নাম্বার সিকোয়েলে কে মারা যাবে? এ পোস্টে তো সবটা বলেই দিলাম। বলেছিলাম 'যদি'র কথা। অর্থাৎ, ধাঁধা দিয়ে এই পোস্টটা দুই পর্বে শেষ করলে এই পর্বটা কীভাবে কোন ধাঁধা দিয়ে শেষ করতাম, তার উত্তর কী হতো?

২৫| ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১:০১

আমি তুমি আমরা বলেছেন: তিনটি মৃত্যুই আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত।প্রথম দুটো মৃত্যু পাঠক হিসেবে মেনে নেয়া যায় কিন্তু তৃতীয় মৃত্যুটা পাঠক হিসেবেও মানতে কষ্ট হয়।

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:০৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমার মনের কথাই বলেছেন প্রিয় ব্লগার। কোনো মৃত্যুই মেনে নেয়া যায় না, বিশেষ করে মৃত্যুগুলো যদি 'আনটাইম' বা অস্বাভাবিক হয়। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যুর আঘাত সহ্য করা খুবই কঠিন।

গল্প পাঠ ও সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২৬| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৮:০১

সোহানী বলেছেন: মন খারাপ হলো গল্পটা পড়ে।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: শুভেচ্ছা রইল আপু।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.