নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি \n\[email protected]

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

অম্লতিক্ত অপ্রিয় সত্যাবলি

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৫৭

আপনি বই পড়ছেন, পাশের লোক নিজের বই
রেখে বার বার আপনার বইয়ে চোখ রাখছেন;
তিনি ভাবছেন আপনি রসে টইটুম্বুর ‘রসময়গুপ্ত’
পড়ছেন।
নিজের অপরূপা সুন্দরী বউ নিয়ে পার্কে ঘুরছেন।
শত শত পুরুষের চোখ আপনার স্ত্রীকে গিলে
খাচ্ছে। আপনার চোখ ফালি ফালি করছে অন্য
রমণীর বুক। এগুলো নতুন কিছু নয়, মানুষের
জন্মগত খাসালত।
একজন মানুষের ৫০০ বছরের পূর্ব-পুরুষ ‘হিন্দু’
ছিলেন; তিনি মুসলমান হয়েছেন বলে আফসোসে
তার বুক ফেটে যায়, অথচ তিনি পূর্ব-ধর্মে ফেরত
না যেয়ে বর্তমান ধর্মের কুৎসা রটনায় মশ্‌গুল -
এটাও খাসালত।

আপনার নিজের রাসূল বা কোরান সম্পর্কে জ্ঞান
নাই। কোনোদিন পড়ার তাগিদও হয় নাই। কিন্তু,
অন্য ধর্মের আদ্যোপান্ত মুখস্থ করে বসে আছেন,
তারপর নিজের রাসূল আর ধর্ম নিয়া কটু কথা
ছড়াচ্ছেন। এ হলো আহাম্মকি। নিজেরটা আগে
পড়তে হবে, তারপর ভালোমন্দ পার্থক্য ধরা যাবে।
রবিগুরু ঠিকই বলেছিলেন, নদীর এপাড়ে নিশ্বাস
ছেড়ে কহেন, অপর পাড়ে সমস্ত সুখ জড়ো হয়ে
আছে। নিজের ধর্ম ভালো না লাগলে অন্য ধর্মে
যেতে পারেন, এটা মৌলিক অধিকার। কিন্তু নিজের
রাসূল আর ধর্ম ভালো না, অন্যেরটা ভালো-
এ মন-মানসিকতা হলো নিজের সুন্দরী বউয়ের
দিকে না তাকিয়ে অন্যের অসুন্দরী বউ দেখে লালা
ফেলার মতো।

‘মিচকা শয়তান’ চেনেন? মুখে আল্লাহ-
রাসূলের নামে মধু, আর অন্তরে জঘন্য বিষ।
মা’বুদ সুবহানাল্লাহ তা’য়ালা বলে এমন ভাব
দেখাবেন, যেন তার চাইতে বড়ো আল্লাহ্ওয়ালা
আর কেউ নেই; অথচ তিনি ইসলাম আর
রাসূলের হাদিস নিয়ে অনর্গল ঠাট্টা-মশকরা
করবেন। তারে নাস্তিক হইতে কেউ বাধা দেয়
নাই, অনুরোধ করেছে ইসলাম নিয়া এমন
তামাশা না করার জন্য। ইডিয়টরা কোনোদিন
মানবতা বা মানবিকতা বোঝে না।

একজন ভালো মানুষ অন্য মানুষকে বকতে
পারেন না। অন্যকে দিনের পর দিন হেয়,
অপমান করতে পারেন না। জানেন তো,
আপনার আচরণ ও মুখের বচন শুধু আপনার
নিজের সৌজন্য ও শিক্ষাই প্রকাশ করে না,
আপনার পুরো পরিবারের শিক্ষা, এমনকি,
অন্য জাতির কাছে আপনার পুরা জাতিকেই
প্রতিনিধিত্ব করে।
সে-মানুষটি কখনো পরিবার থেকে ভালো শিক্ষা
পান নি, যার পরিবারেরই কোনো শিক্ষা নেই।
পরিবারের কেউ যদি কদু চুরি করে, মসজিদের
জুতা চুরি করে, অতএব গ্রামের মানুষের নিয়মিত
ঠেঙানি আর লাত্থিগুঁতা খেয়ে বড়ো হন, সেই
পরিবারের মানুষ অন্য মানুষকে সম্মান করার
মতো সুশিক্ষা লাভ করেন না।

একজন মানুষের আত্মসম্মান থাকলে কখনো
অন্যের সম্মান হানি করেন না, নিজের সম্মানও
বাঁচিয়ে চলেন। একজন ভালো মানুষ দিনের
পর দিন বহু মানুষের বকা খেয়ে টিকে
থাকতে পারেন না। বংশগতভাবে ছিঁচ্‌কে স্বভাবের
মানুষ, যারা বকা খেয়ে বেড়ে ওঠেন, তাদের পক্ষে
এটা খুব সহজাত হয়ে ওঠে।

একজন সাধুর শত শত শিস্য থাকেন; একজন
অসাধু ব্যক্তিরও থাকেন অগুনতি অনুসারী।
আপনাকে শুধু চিনতে হবে, কে সাধু, আর
অসাধু কোনজন – দয়া করে তারপর পীর ধরবেন।

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০


মন্তব্য ৬৪ টি রেটিং +৯/-০

মন্তব্য (৬৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:০৫

নতুন নকিব বলেছেন:



দারুন লিখেছেন। আত্মপরিচয় বিস্মৃত অপরিনামদর্শীদের নিয়ে অন্তরের ক্ষোভ, ব্যথা এবং দুঃখগুলো অল্পকথায় খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ধন্যবাদ। +

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ নতুন নকিব ভাই।

২| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:১৫

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

সাধু সাধু সাধু সাধু-------

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ সাজ্জাদ ভাই।

৩| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:২৩

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আপনি যাদের কথা লিখেছেন এরা হয় নাস্তিক অথবা মুনাফেক। মুনাফেকরা আরও খারাপ। নাস্তিকের অবস্থান পরিষ্কার আর একে চেনা যায়। আর যার অবস্থান পরিবর্তনশীল সে হোল মুনাফেক। এরা ভয়ংকর।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন। প্রধানত দুই ক্যাটাগরির মানুষই এখানে আছে। সব মিলিয়ে মানসিকভাবে তারা একটা অস্থিতিশীল বা ভারসাম্যহীন, ফলে দোদুল্যমানতায়ও ভোগেন।

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

৪| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:২৭

মিরোরডডল বলেছেন:

ধুলোর পোষ্টে যেন অগ্নিবৃষ্টি হচ্ছে !
ইউ ওকে ধুলো ?

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এর আগেও তো কয়েকটা ছিল, চোখে পড়ে নাই? :)

৫| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩০

আমি সাজিদ বলেছেন: যথার্থ বলেছেন।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ সাজিদ ভাই।

৬| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: একদম বাস্তব লিখেছেন।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব নুর ভাই।

৭| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩৮

পগলা জগাই বলেছেন: নিজের অপরূপা সুন্দরী বউ নিয়ে পার্কে ঘুরছেন। শত শত পুরুষের চোখ আপনার স্ত্রীকে গিলে খাচ্ছে। আপনার চোখ ফালি ফালি করছে অন্য রমণীর বুক। !!!

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৪১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মাঝে মাঝেই আপনার উদ্ধৃতিগুলো দেখে আমি অবাক হই, আজও হলাম। এ লাইনটা কয়েকবার কম্পোজ, এডিট, এডিট এবং এডিট করা হয়েছে। অজস্র ধন্যবাদ। এর পরের স্তবকে তেমনি আরেকটা আছে :)

৮| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৪৫

চাঁদগাজী বলেছেন:


"নিজের অপরূপা সুন্দরী বউ নিয়ে পার্কে ঘুরছেন। শত শত পুরুষের চোখ আপনার স্ত্রীকে গিলে খাচ্ছে। "

-রবী ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ বাবু, মধুসুদনদত্ত, শামসুর রহমানের বউরাও সুন্দরী ছিলেন; উনাদের ভাবনায় এসব অপকথা আসেনি; আপনি বাংগালী জাতিকে অপমান করছেন কিসব শফি মোল্লার মতো।

৯| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৪

নতুন বলেছেন: নিজের অপরূপা সুন্দরী বউ নিয়ে পার্কে ঘুরছেন।
শত শত পুরুষের চোখ আপনার স্ত্রীকে গিলে
খাচ্ছে। আপনার চোখ ফালি ফালি করছে অন্য
রমণীর বুক। এগুলো নতুন কিছু নয়, মানুষের
জন্মগত খাসালত।


আমাদের দেশের নারীরা যথেস্ট স্বালীন পোষাকই পরে। কিন্তু তারপরেও কেন জানি পুরুষেরা নারীদের দিকে একদৃস্টিতে তাকিয়ে থাকে।

বাইরের দেশে ওয়াটার পার্কে গিয়েছি ঐখানে বিকিনি পরে নারীরা চলাফেরা করে। তাদের দিকে পাকিস্তানি, বাংলাদেশী, ভারতীয়রাই বেশি তাকিয়ে থাকে।

ইউরোপিয়ানরা খুবই কম তাকিয়ে থাকে।

আবার এই তাকিয়ে থাকা নিয়ে ঐসব নারীদেরও কোন মাথা বেথা নেই। তারা সেটা কেয়ারও করেনা।

আমাদের দেশের মানুষের ভন্ডামী অনেক। তারা মুখে সবাই ভদ্র তত্ব কথা বলে কিন্তু কাজে উল্টা করে নিজেই মানেনা।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমাদের দেশের মানুষের ভন্ডামী অনেক। তারা মুখে সবাই ভদ্র তত্ব কথা বলে কিন্তু কাজে উল্টা করে নিজেই মানেনা। যথার্থ বলেছেন, এটাও আমাদের জন্মজাত খাসালত। আব্দুল মালেককে দেখা যায় মুখে চাপ দাড়ি, নূরানি চেহারা, নামাজ পড়তে পড়তে কপালে দাগ পড়ে গেছে, মাথায় টুপি। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি। কিন্তু দুর্নীতি করেছেন হাত-পা খুলে। আরেকজনের কথা শুনেছি, পীরের মতো কথা বলেন, চাপ দাড়ি, নূরানি চেহারা, টিভিতে প্রায়ই দেখা যায়, বছর দশেক আগে তার রেট ছিল প্রতি ডিলে নিম্নে ১ লাখ। এগুলোও আমাদের খাসালত। আসলে এসবের অভাব নাই, অগুনতি।

খোলামেলা পোশাকের নারীদের প্রতি আমাদের দেশের পুরুষের মোহ শ্রীলংকা এবং ইন্ডিয়ার চাইতে একটু বেশি। বাইরের দেশে খোলা শরীরের দিকে কেউ তাকিয়ে থাকে, এমনটা আমারো চোখে পড়েনি (আমি তেমন দেশ ঘুরি নি, অল্প কয়েকটা দেশে অল্প সময়ের জন্য গেছি। তার আলোকে বলছি)। তবে তারা একটা ড্রেস কোড মেনে চলেন আলাদা আলাদা কাজ বা ফাংশনের জন্য।

সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ নতুন ভাই।

১০| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৫

নতুন বলেছেন: তবে তারা একটা ড্রেস কোড মেনে চলেন আলাদা আলাদা কাজ বা ফাংশনের জন্য।

এটা ঠিক তারা বিভিন্ন কাজের জন্য ড্রেস কোড মেনে পোষাক পরেন।

আমাদের যেহেতু সেটা নেই তাই একটু উল্টাপাল্টা খিচুড়ি হয়ে যায়।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ড্রেসের ব্যাপারে একটা সেন্স ডেভেলপ করছে ধীরে ধীরে, একই সাথে ফেন্সি ড্রেসও খুব বেশি হচ্ছে। আমরা আবার একটু বেশি অনুকরণপ্রিয়। পশ্চিমারা এক ইঞ্চি খোলা রাখলে আমরা তিন ইঞ্চি পর্যন্ত বের করে ফেলি, যেন ওদের চাইতে আমরা অধিক আল্ট্রা মডার্ন :)


আবার আসায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি নতুন ভাই।

১১| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:০২

নতুন বলেছেন: জানুয়ারীতে দেশে গিয়ে বেশির ভাগ দোকানেই মেয়েদের চাইনিজ পোষাক দেখেছি।

তার অর্থ হলো কয়েক বছর পরে আমাদের দেশের মেয়েরাই সেলোয়ার কামিজ পড়বেনা।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:০৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হাহাহাহা, এটা ভালো বলেছেন। সেলোয়ার কামিজ কিন্তু এখনো অনেক কম পরে মেয়েরা। ড্রেসের বিবর্তন হচ্ছে খুব দ্রুত, বিশেষ করে মেয়েদের ড্রেসের।

১২| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:১০

নতুন বলেছেন: ভাই আমাদের পোষাকে খুব একটা পরিবর্তন হবেনা। কারন এতে ব্যবসায়ীদের লাভ কম।

২টা জিন্স আর ৪/৫ টা টি সার্টে ছেলেদের বছর চলে যায়।

তাই মেয়েদের পোষাকে পরিবর্তন করে যাতে ওরা বেশি কেনে। :)

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:১৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ঠিকই। মেয়েদের পোশাকের দামও ছেলেদের পোশাকের চাইতে কয়েকগুণ বেশি। নিজের বাসায়ই দেখি, মেয়ের কেনাকাটা নিয়ে ছেলের মনে বেশ হিংসা :)

তবে, পোশাকের শালীনতার ব্যাপারে পরিবারের কন্ট্রোল ও চয়েস খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি এক্সপোজার-প্রোন হলে আমার মেয়ের পোশাকও ওরকম চাইব, যাতে আজকের ফেইসবুক/লাইকির যুগে মেয়ে একটা সেলিব্রেটি হিসাবে খ্যাতি পেয়ে যায়, সেলিব্রেটি মেয়ের বাবা হিসাবে যাতে আমিও প্রাউড ফিল করতে পারি।

সীমিত আয়ের সৎ চাকরীজীবীদের পক্ষে এমন বেলেল্লাপনা কখনো সম্ভব না। বাই ফোর্স হোক, কিংবা ফর এথিক্স হোক, তাদেরকে শালীন পোশাক-আশাকের মধ্যেই থাকতে হয়। কিন্তু, কিছু মানুষের টাকা এত বিপুল যে, তারা টাকা রাখার জায়গাই পাচ্ছে না; প্রসংগটা যদিও পালটে যাচ্ছে, কিন্তু বলতে বাধা নেই যে, এই বিপুল অঙ্ক ঢালতে গিয়েই পোশাকের নামে যাচ্ছেতাই কেনা হয়ে থাকে। ব্যবসায়ীরাও সেই সুযোগটাই কাজে লাগান।

১৩| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৩১

নতুন বলেছেন: আরব আমিরাতে একটা ভ্যাকসিন অনুমদন দিয়েছে। তাদের স্বাস্হ মন্ত্রী নিজে প্রথম ডোজ নিয়েছেন।

এখন ২য় বার লকডাউনে বেশিরভাগ দেশই যাবেনা অর্থনিতিক অবস্থা খারাপ হবে বলে।

আমি আশাবাদি আমাদের দেশে সমস্যা হবেনা। কোন একটা কারনে আমাদের দেশের মানুষেরা কম মারা যাচ্ছে।

যারা মারা যাচ্ছেন তারা চিকিতসা না পেয়েই মারা যাচ্ছেন এবং অনেকেই অনেক দেরী করে হাসপাতালে আসছেন।

যদি ঠিক মতন চিকিতসা পেতো আমাদের দেশের মৃত্যুর হার অনেক কম থাকতো।


https://www.thenational.ae/uae/health/coronavirus-uae-health-minister-takes-country-s-first-dose-of-covid-19-vaccine-1.1079925

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৩৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমিরাতের এ ভ্যাক্সিনের খবরটা কি পুরোনো না? শাহ আজিজ ভাই তো কিছুদিন আগে একটা পোস্ট দিয়েছিলেন এ নিয়ে। যাই হোক, ভালো খবর। আমাদের দেশে ভ্যাকসিন লাগবে না

কোন একটা কারনে আমাদের দেশের মানুষেরা কম মারা যাচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি ভাবতাম, আমাদের দেশের মানুষ কষ্টসহিষ্ণু, রাতদিন পরিশ্রম করে, কাঁদাপানিতে গড়াগড়ি যায়, ফলে এন্টিবডি খুব স্ট্রং। কাজেই আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুহার কম হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু, ইনডিয়ার সাথে তুলনা করতে যেয়ে দেখি, ওরা আর আমরাতে তো পার্থক্য নেই। তাদের মৃত্যুহার তাহলে এত বেশি কেন? হয়ত সব মৃত্যুর খবর রেকর্ড/সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না, কিন্তু সেটা সব দেশের জন্যই প্রয়োজন। আরেকটা ব্যাপার আমার মনে হয়, প্রকাশিত তথ্যের চাইতে মৃত্যুর সংখ্যা অত্যধিক হলে তা কিন্তু এই ফেইসবুকের যুগে চাপা থাকতো না। আমি জানি না আমার এ মতের সাথে আপনার মত মিলবে কিনা, তবে আমি এটাই বিশ্বাস করি।

যারা মারা যাচ্ছেন, তারা কিন্তু বেশিরভাগই একটা নির্দিষ্ট ক্লাসের মানুষ।

মানুষ এখন করোনাকে অন্য সাধারণ অসুখ, জ্বর, কাঁশির মতোই ট্রিট করছে। সকালবেলা কাজে বের হবে। শরীরে হয়ত সামান্য জ্বর আছে। লোকটা ভাবে, এই জ্বর নিয়ে দিনের কাজটা শেষ করতে সমস্যা হবে না। কাজে চলে যায়। ভাগ্য ভালো থাকলে সুস্থ হয়, নইলে কলাপ্‌স করে।

অসুস্থ হলেই সাথে সাথে হাসপাতালে যাওয়ার মতো অভ্যাস ও সামর্থ আমাদের সব মানুষের নাই। তাছাড়া, হাসপাতালের স্বল্পতা ও অব্যবস্থাপনা তো আছেই। এ অবস্থায় একজন সাধারণ মানুষ অসুস্থ হলে যদ্দিন কাজ করার সামর্থ্য থাকে, কাজ করে, শরীর ভেঙে গেলে ঘরেই বিছানায় পড়ে থাকে। হাসপাতালে যেয়ে মরার চাইতে বাসায় থেকে 'আরামে' মরাকেই প্রেফার করে মানুষ।

১৪| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৪৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই,




খুব অপ্রিয় ভাবেই অম্লতিক্ত সত্য বলে গেছেন।

৪র্থ স্তবকের শেষ ৭ লাইনে যা বলেছেন সেটাই আমাদের সবার যাবতীয় খাসলতের জন্যে আসল দায়ী। এমন সব পরিবারে শিক্ষা বলতে কিছুই থাকেনা। আর এই অশিক্ষাই আমাদের মনমানসিকতার জন্যে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কথায় বলেনা - জাতের মেয়ে কালাও ভালো...!!!!

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৫৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:
খুব অপ্রিয় ভাবেই অম্লতিক্ত সত্য বলে গেছেন।
হাহাহাহা, ভালো বলেছেন প্রিয় আহমেদ জিএস ভাই। তবে, সত্যগুলো যেভাবেই প্রকাশ করুন না কেন, ওগুলো অপ্রিয়'র মতোই শোনাবে, বুকে ছুরির মতো বিঁধবে :) এ কালে তো সত্য বলার চল উঠে গেছে, এককালে সত্যের অবস্থান হয়ত জাদুঘরে হবে :)

জাতের মেয়ে কালাও ভালো, গাঙের পানি ঘোলাও ভালো - বহুদিনের ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার আলোকে গড়ে উঠেছিল এসব প্রবাদ। আগে এগুলো মানাও হতো। আজকাল মানামানির বালাই নেই বললেই চলে :(

সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ প্রিয় আহমেদ জী এস ভাই। শুভেচ্ছা।

১৫| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:০৬

শাহ আজিজ বলেছেন: ভাল বাঁশ দেওয়া লেখা হয়েছে ।


বস্তুত ডিসিপ্লিন ইন এভ্রি রেস্পেকট হারিয়ে গেছে । আমাদের কিছু সামাজিক অনুশাসন পুনস্থাপন করতে হবে ।

কিন্তু কিভাবে ?

রাজনিতিকদের অনুশাসন আগে ঠিক করতে হবে তাহলে দেশ ও জনতা ঠিক হবে । গেল এক বছরে যা কিছু হয়ে গেল তা একজন তরুণকে আরও অপরাধ করার জন্য উতসাহিত করছে কারন 'ভাই' সব ঠেকাবে । শিষ্টাচার পুনরুদ্ধারে বেত হাতে নিতে হবে । এইসব তরুন বিদেশে যায় কিন্তু আরও খোলামেলা মেয়েদের দেখতে উৎসাহী হয়না , কেন? ঐ যে বেত !!

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:০১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:
ভাল বাঁশ দেওয়া লেখা হয়েছে। আবার উপরে গিয়ে দেখে এলাম, আইক্কাওয়ালা, নাকি আইক্কা ছাড়া। আশা করি আইক্কা কী জিনিস তা চেনেন। আমাদের দোহারে (ঢাকা জেলার থানা) এটা আঞ্চলিক শব্দ। বাঁশের গায়ে কঞ্চির গোড়া রেখে কাটলে ঐ গোড়াটাকে আইক্কা বলা হয়। গোড়া ছুঁলে ফেলে দিলে আইক্কাছোলা বাঁশ বলে, যেটা প্লেইন :)

যার ইজ্জত আছে, তার ইজ্জত হারানোর ভয় থাকে। যার ইজ্জত নাই, তার কিছু হারাবারও নাই। সম্মান কেনা যায় না, অর্জন করতে হয়। একজন সম্মানী মানুষই অন্যকে সম্মান দিতে জানেন।

--

বাকি অংশে যা বললেন, তা অতি মূল্যবান। শতভাগ সহমত।

১৬| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:০৮

শাহ আজিজ বলেছেন: ধর্মীয় বিষয় সঙ্গত কারনে এড়িয়ে গেলাম ।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:০১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ১৫ নম্বরে চমৎকার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ প্রিয় শাহ আজিজ ভাই। শুভেচ্ছা আপনার জন্য।

১৭| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৫৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: অম্লতিক্ত অপ্রিয় সত্যাবলি - ভাল লিখেছেন। জাতিগতভাবে আমাদের মাঝে মোনাফেকি প্রবণতা বিদ্যমান। পরিবার প্রধানদের মাঝে অনৈতিকতা চলে আসছে বলে তা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরদের মাঝেও দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আর সামাজিক নৈতিকতা চার পাঁচ দশক আগেও যথেষ্ট পোক্ত ছিল, দিনে দিনে তার অবক্ষয় ঘটতে ঘটতে এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:০৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: স্যার, অল্প কথায় আমাদের পুরো জাতীয় চিত্রটা (আসলে চরিত্র) ফুটে উঠেছে। দেশের একটা বৃহদংশ দরিদ্রসীমার নীচে বাস করছেন সত্য, কিন্তু অন্যদিকে এ অংশটার সংখ্যাও ছোটো না, যাদের সম্পদের পরিমাণ এতই বিপুল যে তারা নিজেরাই হয়ত সেই সম্পদের হিসাব রাখতে পারছেন না। কীভাবে, কোথা থেকে এ সম্পদ গড়ছেন তারা? এটা আজ আর কোনো রহস্য না, ওপেন সিক্রেট। এ সবই হলো আমাদের নৈতিক অবক্ষয়ের চিহ্ন। আপনার কথা দিয়েই শেষ করছি - দিনে দিনে অবক্ষয় ঘটতে ঘটতে এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে।

মূল্যবান বিশ্লেষণী মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ স্যার। শুভেচ্ছা আপনার জন্য।

১৮| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:১৬

শেরজা তপন বলেছেন: দারুন- যা বলার পুরোটাই বলেছেন, আমি আর কিছু বলার মত ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:১২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শেরজা তপন ভাই। শুভেচ্ছা রইল।

১৯| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৩৫

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: সত্য কথাটা লিখতেই ভুলে গেছেন।মানুষ নিজের মতোই অপরকে ভাবে।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:১৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:
মানুষ নিজের মতোই অপরকে ভাবে। ঠিক বলেছেন। একজন মহৎ মানুষ ভুল করার পর অনুতপ্ত হোন, অপকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আমাদের মধ্যে এ শিক্ষাটা জাগ্রত করতে হবে।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ নুরুলইসলাম ভাই। শুভেচ্ছা।

২০| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ২:৩৩

নেওয়াজ আলি বলেছেন: তবে পীর টির ভালো লাগে না । লেখায় মানুষের সত্যকার স্বভাব বর্ণনা করেছেন।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:১৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এখানে 'পীর' শব্দটা অবশ্য ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করেছি - আপনি কার আদর্শ অনুসরণ করবেন, তাকে নির্দেশ করে। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ নেওয়াজ আলি ভাই। শুভেচ্ছা।

২১| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ভোর ৬:০১

জাহিদ হাসান বলেছেন: :|

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:১৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: :)

২২| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:২২

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: চরম বাস্তব সত্য তুলে ধরেছেন।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:১৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ দেশপ্রেমিক বাঙালী ভাই। শুভেচ্ছা।

২৩| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:০৪

পদ্ম পুকুর বলেছেন: এটা কি কবিতা?
ধর্মীয় জ্ঞান থাকনেওয়ালাদের মধ্যেই এত এত ভিন্নতা যে ধর্মের জ্ঞান অন্বেষণে মানুষের আগ্রহ অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:১৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:


এটা কি কবিতা?
প্রশ্নটা কত সহজ, অথচ এর উত্তর এত কঠিন যে আমার পক্ষে ট্রাই করাও অসাধ্য :) এগুলোকে 'স্বরচিত বাণী চিরন্তনী' বলতে চাইছিলাম, পরে দেখলাম তাতে পোস্টের গুরুত্বই থাকবে না :( :)

ধর্মীয় জ্ঞান থাকনেওয়ালাদের মধ্যেই এত এত ভিন্নতা যে ধর্মের জ্ঞান অন্বেষণে মানুষের আগ্রহ অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। অতি সত্য কথা। এ ব্যাপারে হয়ত গণমাধ্যমকর্মী নূর মোহাম্মদ নূরু ভাই কিছু আলোকপাত করতে পারতেন।

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ পদ্ম পুকুর ভাই।



২৪| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৫৭

পদ্ম পুকুর বলেছেন: পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ পদ্ম পুকুর ভাই।

ব্লগে কয়েকজনের পোস্ট পড়াটা নিত্যকর্তব্যর মধ্যে পড়ে গেছে... । সে তালিকায় আপনার নাম ঢুকে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় :-B

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:০৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:

সে তালিকায় আপনার নাম ঢুকে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। হাহাহাহাহা। আপনার গল্পগুলোতে রম্যরস আর হাস্যরসের উপাদানগুলো খুব উপভোগ করি, কমেন্টও সেরকম :)

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:০৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এই দেখেন, আবেগের ঠেলায় ধন্যবাদ দিতেও ভুলে গেলাম

২৫| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:১০

রাজীব নুর বলেছেন: কবিতায় সমস্ত রাগ ক্ষোভ ঢেলে দিয়েছেন।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:১৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: গবেষকরা বের করেছেন যে, কবিতার রস ৮টা বা ৯টা, সেখানে রাগ বা ক্ষোভরস বলে কিছু নাই। তাহলে 'রাগরস' বা 'ক্ষোভরস' বলে একটা রস যুক্ত হলো বলা যায় :)

২৬| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:৫৫

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: সত্যবচন তো তেঁতো হবেই। কবিতাকারে সত্যকথনে ভালো লাগা।
শুভেচ্ছা প্রিয় সোনাবীজ ভাইকে।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:১০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:
সত্যবচন তো তেঁতো হবেই।
সুন্দর বলেছেন চৌধুরী ভাই। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তাহে সমভাবে দহে। অন্যায়কে সহ্য করা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। তেমনি, কেউ যদি আপনাকে কটু কথা বলে, বকাবকি করে বা অপমানজনক, অসম্মমানজনক কথা বলে, বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, হেয় প্রতিপন্ন করে, তখন আমার খুব খুশি লাগে। কাউকে কাউকে উল্লাস করতে দেখা যায় এই বলে, উনি আমাকে কোনোদিন কিছু বলেন নি। এই বলে সেই অন্যায়কারীকে মহান দেবতা বানিয়ে খুব সাহসী, দুঃসাহসিক অভিধায় অভিনন্দিত করেন। অন্যের দুঃখে সমব্যথী হতে হয়, খুশি হওয়া অন্যায়। অন্যকে অ্যাবিউজ করতে দেখলে অ্যাবিউজকারীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে - আমরা এর উলটো করি - 'শুধু আপনার পোস্ট পড়তেই ব্লগে আসি।' অন্যায়কারীর প্রশ্রয়দাতা এরাই।

করুণাধারা আপুর পোস্টে অ্যাবিউজকারীর বিরুদ্ধে আজ যেরকম ঘৃণার বন্যা বইছে, সব অন্যায়কারীর বিরুদ্ধেই এরকম প্রতিবাদের ঝড় তোলা উচিত ছিল। ব্লগের প্রথম দিকে এরকম ব্যক্তি আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, ক্যাচাল ছিল নিয়মিত চিত্র। ২০১০ বা ২০১১-এর পর দীর্ঘ একটা সময়ে ব্লগ বেশ পরিচ্ছন্ন, শান্ত ছিল। কিন্তু ২০১৮'র পর জনৈক ব্লগার হঠাৎ এমন অপমানকর, অবমাননাকর, অপরকে হেয় প্রতিপন্নকারী, অসম্মানজনক, আক্রমণাত্মক কথা/কমেন্ট করা শুরু করলেন, শুধু আমি না, অধিকাংশ ব্লগার অবাক হলেন, বিরক্ত হলেন, এবং কেউ কেউ প্রতি-আক্রমণ ও প্রতিবাদও শুরু করলেন। আমি তাকে খুবই সম্মান করতাম, তাকে 'ভার্চুয়াল সেলুট'ও আমিই জানিয়েছিলাম, কিন্তু যখন দেখলাম আমাকেও ছাড়লেন না, উলটা-পালটা অপ্রাসংগিক কথা বলা শুরু করলেন, আমি চুপ হয়ে গেলাম এবং তার পোস্ট ভিজিট করা ছেড়ে দিলাম। আমি বিতর্কে জড়াতে চাই না। কেউ একটা কটু কথা বলবে আমাকে, সে পরিস্থিতি তৈরি না হোক, আমি সবসময় এভাবে চলি। কিন্তু তিনি 'লাই' পেয়ে গেলেন অনেকের কাছ থেকে। কাজেই তিনি নিজেকে 'আমি কী হনু রে' ভাবতে শুরু করলেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আর সিফাতুল্লাহর মতো অযথা বকাবকি করা এক জিনিস না। তার আক্রমণাত্মক বকাবকিকে কেউ কেউ 'দুঃসাহস' মনে করলেন। কোনো কোনো ব্লগার তার দু-একটা প্রশংসাবাণী পেয়ে তাকে তেলানো শুরু করলেন। আর তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করতেই ভুলে গেলেন।

অনুতাপের বিষয় এই যে, এ ব্যক্তি এই যে বিভিন্ন ব্লগারের পোস্টে গিয়ে উলটা-পালটা আক্রমণাত্মক ও অপমানজনক কথা বলে আসেন, তার এই ঘৃণ্য কাজটাকে অনেকেই প্রশ্রয় দিলেন, এবং তারা তাকে মাথায় তুলে নাচানাচি শুরু করলেন। তাকে প্রোমোট করে পোস্ট দেয়া শুরু করলেন। কিন্তু, অল্পকিছু ব্লগার ছাড়া কেউ প্রতিবাদ করলেন না। পচন শুধু সমাজেই ধরে নি, ব্লগেও আমাদের নৈতিক অবক্ষয় ও মানসিক বিপর্যয় ঘটেছে। নইলে, দিনের পর দিন মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা কোনো ব্যক্তি বিচারের কাঠগড়ায় না দাঁড়িয়ে 'জনপ্রিয়' অভিধায় নন্দিত হতে পারেন না। আমরা মানুষ চিনতে ভুল করি, যদ্দিন না ঐ মানুষটা আমার নিজের উপর অন্যায় করা শুরু করেন। ব্লগার আখেনাটেনের সাথে যে-আচরণ করা হয়েছে, তার জন্য ঐ ব্লগারের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত। আর যেই আপাত 'মানসিক ভারসাম্যহীন' (আদতে সুস্থ মস্তিস্কেই সবাইকে অপমান করেন) ব্লগারের কথা বললাম, এই সুপ্রসিদ্ধ ব্লগটাতে এখনো তার ব্যান না হওয়াই আশ্চর্য ঘটনা। তার শাস্তি হওয়া উচিত যাবজ্জীবন ব্যান। আমি কারো সাথে যেমন বিতর্কে জড়াতে চাই না, তেমন কাউকে তেলানোর স্বভাবও আমার নাই।

সবার জ্ঞান সমান না। একজনের জ্ঞানের অভাবে তাকে অপমান করবেন, এটা কী ধরনের সৌজন্য?

আমাদের মনে রাখতে হবে, যে-অন্যায়কারীকে আজ আমি প্রতিবাদ না করে প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছি, একদিন তিনি আমার উপরও অতর্কিতে হামলা করবেন, তখন আমিও নির্যাতিতের দলেই স্থান পাব, কিন্তু সেদিনও এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য কেউ মাঠে নেমে আসবে না।

যিনি অন্যায় করবেন, আমার উপর সে অন্যায় না হলেও, মানবিক দৃষ্টি দিয়ে সেটি বিচার করতে হবে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। একজন মানুষ দিনের পর দিন অন্যদেরকে এটাক করে যাবেন, এটা কীভাবে সহ্য করা যায়? আপনি কবে ঘুরে দাঁড়াবেন, যেদিন আপনি আক্রমণের শিকার হবেন, সেদিন?

অনেক কথা বলে ফেললাম চৌধুরী ভাই। ভালো থাবেন। শুভেচ্ছা।

২৭| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:৩৪

তারেক ফাহিম বলেছেন: খাসলত আর বদ-অভ্যাসের মাঝে কোন পার্থক্য আছে?

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আভিধানিক অর্থে খাসলত আর বদ্‌অভ্যাস একই - মানুষের স্বভাব বা আচরণ। তবে, অধিক ঘৃণ্য স্বভাবটাকে বোঝানোর জন্য অনেক সময় আমরা বদ্‌অভ্যাস না বলে খাসলত বলে থাকি। ঘুম থেকে টাইমলি না ওঠা, টাইমলি না খাওয়া, টাইমলি না ঘুমানো আমাদের বদ্‌অভ্যাস। এগুলো আমাদের 'চরিত্র'কে নির্দেশ করে না। তার একটা নারীঘেঁষা খাসলত আছে, মিথ্যা বলা তার একটা খাসলত, অযথা মানুষকে বকাবকির খাসলতটা বদলাও, চুরির খাসলতটা আর গেল না তোমার। এখানে খাসলতের জায়গায় বদ্‌অভ্যাস বসালে হয়ত তার স্বভাব বা চরিত্রটা ঠিকমতো ফুটে ওঠে না। এ হলো আমার অভিমত।

ধন্যবাদ আপনাকে।

২৮| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৩২

আখেনাটেন বলেছেন: সে-মানুষটি কখনো পরিবার থেকে ভালো শিক্ষাপান নি, যার পরিবারেরই কোনো শিক্ষা নেই।পরিবারের কেউ যদি কদু চুরি করে, মসজিদেরজুতা চুরি করে, অতএব গ্রামের মানুষের নিয়মিত ঠেঙানি আর লাত্থিগুঁতা খেয়ে বড়ো হন, সেইপরিবারের মানুষ অন্য মানুষকে সম্মান করারমতো সুশিক্ষা লাভ করেন না। --- সহমত।

এখন ইনাদের দাপট চারিদিক.................

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ পোস্টের একটা মূল্যবান অংশকে (আমার মতে মূল্যবান) উদ্ধৃত করে সহমত প্রকাশের জন্য। করুণাধারা আপুর পোস্টে আপনার দীর্ঘ মন্তব্যটা আমার খুব ভালো লেগেছে। ইন ফ্যাক্ট সমমনা সবারই ভালো লাগবে, কারণ, কথাগুলো সঙ্গত। আমি সহমত ঐ বক্তব্যের সাথে।

হ্যাঁ, এখন ইনাদের দাপট চারিদিকে। এরা সমাজকে কলুষিত করে। একমাত্র প্রতিবাদই এদেরকে থামাতে পারে।

আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি প্রিয় ব্লগার। শুভেচ্ছা রইল।

২৯| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৭

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: কে সাধু আর কে অসাধু এইটুকু যে চিনতে পারে সে কখনো ঠকে না। বা পথ হারায় না।
সত্য মিথ্যা মিশে আছে সবকিছুতেই ।পৃথক করার সাধারণ জ্ঞানটুকু শুধু চাই

++++

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:১৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:
কে সাধু আর কে অসাধু এইটুকু যে চিনতে পারে সে কখনো ঠকে না। বা পথ হারায় না। সুন্দর বলেছেন। কিন্তু আমাদের বিপত্তি ঘটে ঠিক এ জায়গাটিতেই, আমরা সঠিক লোক চিনতে পারি না। ফলে জনাব সিফাতুল্লাহ সাহেবকে মনে করি মহান পথপ্রদর্শক, আর পতঙ্গের মতো তার পেছনে ছুটতে থাকি, মাথায় তুলে নাচতে থাকি।

সুচিন্তিত কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ প্রিয় বিদ্রোহী ভৃগু ভাই। শুভেচ্ছা।

৩০| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১০

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: সুন্দর প্রতিমন্তব্যে প্রীত হলাম। ক্ষোভ হওয়া অত্যন্ত সঙ্গত। আপনার অনুভূতিশীল হৃদয়কে শ্রদ্ধা।‌
ভালো থাকবেন সবসময়।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:১৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আবার এসে কমেন্টের উপর মতামত জানানোয় আমিও প্রীত হলাম প্রিয় চৌধুরী ভাই। শুভেচ্ছা সব সময়ের জন্য

৩১| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৫৩

আখেনাটেন বলেছেন: করুণাধারা আপুর পোস্টে আপনার দীর্ঘ মন্তব্যটা আমার খুব ভালো লেগেছে। ইন ফ্যাক্ট সমমনা সবারই ভালো লাগবে, কারণ, কথাগুলো সঙ্গত। আমি সহমত ঐ বক্তব্যের সাথে। --- শুনে ভালো লাগল। ব্লগে কিছুদিন থেকে ব্লগারদের লেখা পড়লে এট লিস্ট কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে। তবে বেশি পাওয়া যায় মন্তব্য প্রতিমন্তব্য থেকে। এখানে ভনিতা কম থাকে, ফলে জাজ করাও সহজ হয়। আবার কেউ ভনিতা করলেও কোনো না কোনো সময় আসল রূপ প্রকাশ পড়বেই।
এখানে লিখিয়েরা সবাই কোনো না কোনো পার্থিব কাজে রত রয়েছেন। ব্লগটা জীবনের খেরো খাতার মতো। অন্তত: আমার কাছে তাই। এটা নিজের পাণ্ডিত্য ফলানোর জায়গা নয় বলেই বিশ্বাস করি। তবে জানা কিংবা জানানোর জন্য লেখা যেতেই পারে। আমার পেশার সাথে এখানকার ব্লগিং এর লেখার কোনোই সম্পর্ক নেই। যদি কখনও লিখিও সেটা একাডেমিক/সায়েন্টিফিক লেখার মতোই হবে। অনেকে লিখছেনও যেমন, কলাবাগান ভাই। জীবনে চলমান ঘটনাবলীর সাক্ষী থেকে কিছু কথা মনের খেদে-হরিষে-বিষাদে এখানে প্রকাশ করার সুযোগ জানা আপা আমাদের করে দিয়েছেন। শুকরিয়া।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:২৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আবার আসার জন্য আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি প্রিয় ব্লগার। এটা নিজের পাণ্ডিত্য ফলানোর জায়গা নয় বলেই বিশ্বাস করি। মনের কথাই বলেছেন। আরো একটু যোগ করি- এ ব্লগে আমার জানামতে অন্তত একজন ঢাকা শহরের একটা নামকরা কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল আছেন, যিনি অ্যাক্টিভলি ব্লগিং করে যাচ্ছেন। সাবেক কলেজ শিক্ষক আছেন। বিদেশি ভার্সিটিতে কর্মরত শিক্ষক আছেন। অনেক পণ্ডিত ব্লগার আছেন। তারা কেউ অযথা আস্ফালন করেছেন, আমার চোখে এমনটা কখনোই পড়ে নি। কথায় কথায় আমি অমুক, আমি তমুক, আমাকে অমুকে এমন সম্মান করে, অমন সম্মান করে, ইত্যাদি প্রকাশ করা একজন শিক্ষকের পক্ষে শোভনীয় নয়। এটা তার অসদাচরণের মধ্যে পড়ে। দুর্জন বিদ্ধান হলেও পরিত্যাজ্য। শিক্ষক নিয়োগের সময় প্রার্থীর অ্যাকাডেমিক রেজাল্টের সাথে আচরণগত দিকসহ চারিত্রিক দিকগুলোও দেখা উচিত, তাহলে এরকম অমার্জিত ব্যবহার ও উদ্ধত আচরণের কেউ শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পাবেন না। আমি কোনদিন তার পোস্ট পড়ি নি, কিন্তু বিভিন্ন পোস্টে অপ্রাসঙ্গিকভাবে অযথা জ্ঞান বিতরণ দেখে খুবই বিরক্ত হয়েছি। কখনো এটাকে ইঁচড়েপাকামোও মনে হয়েছে। যাই হোক, একজন শিক্ষক নামেই শ্রদ্ধা পাবার যোগ্য, এটা মনে রেখেই তার কথা বলা উচিত, যেন কেউ কোনোদিন তার দিকে আঙুল তুলে একটা কটু কথা বলতে না পারেন। ব্লগে তার নামে এত কথা, এত বদনাম হচ্ছে, এ থেকে তার শোধরানো উচিত।

আপনার এ কথাগুলোও খুবই চিন্তাশীল। অনেক ভালো লেগেছে।

৩২| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:১৬

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
চমৎকার বলেছেন সোসাবীজ ভাই
এক কথায় অসাধারন!! মানুষের স্বভাব
এমনই যে তারা পরের ছিদ্র অন্বেষণ করলেও
নিজের বেলায় থাকে উদাসীন!! অধচ মুখে বড়
বড় নীতি কথা। নিজের ওপর বিশ্বাস থাকে না বলে এরা
কোনো কাজকর্ম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারে না।
সচেতন মানুষ কখনোই নিজ কর্তব্যের ব্যাপারে উদাসীন থাকে না।

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:৪৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ নূরু ভাই, সুন্দর একটা মতামত দেয়ার জন্য। আপনার কমেন্টের অপেক্ষায় ছিল। শুভেচ্ছা রইল।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.