| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।
একদিন পেছন থেকে একটি মেয়ে নাম ধরে ডেকেছিল
একদিন পেছন থেকে একটি মেয়ে ছেলেটার নাম ধরে ডেকে উঠলো। ছেলেটা চমকে পেছনে তাকালো। কোনোদিন কোনো মেয়ে এভাবে তাকে ডেকে ওঠে নি; এমনকি তার দিকে তাকিয়ে স্মিত একটু হাসে নি। তাই সে অনেক অবাক হলো, এবং রোমাঞ্চে চঞ্চল হয়ে উঠলো।
পেছনে মেয়েদের ভিড়। ক্লাস ছুটি হলো কিছু আগে। মেয়েরা কলকলিয়ে, হাস্যোচ্ছন্দে দুলে দুলে হাঁটছে।
ঐ শ্যামলা মেয়েটি : সবার মাথা ছাড়িয়ে ওর পুষ্পিত কেশদাম বাতাসে উড়ছে। দূর থেকে চোখদুটো গভীর কুয়াশার মতো। ওরা একই ক্লাসে পড়ে। অতি সাধারণ গোবেচারা ছেলেটা লাজুক এবং নিরীহ অন্তর্মুখী।
মেয়েটি নামিয়ে নিয়েছে চোখ। দ্বিধান্বিত পায়ে একটু দাঁড়িয়েছিল ছেলেটা, তারপর হাঁটতে থাকলো। হাঁটতে হাঁটতে ভাবতে থাকলো সে : কেন তাকে আচানক নাম ধরে ডেকে উঠলো নাজনীন; তাকে কেউ কখনো ভাববে, এমনটা সে কখনো ভাবে নি। মাটিতে চোখ ফেলে সে হাঁটছিল আর ভাবছিল- হয়ত-বা অবচেতনে অলিগলি ঘুরে ঘুরে তাকেই খুঁজছিল মেয়েটি।
তখন গৃহোন্মুখ মেয়েরা তাকে পাশ কাটিয়ে সামনে চলে গেছে, এবং যেতে যেতে বার বার, বারংবার তার দিকে নাজনীন তাকালো না; কে তাকে ভিড় থেকে নাম ধরে ডেকেছিল, তার কোনো চিহ্ন ফুটলো না কোথাও।
এরপর যথানিয়মে ওরা ক্লাসে গেছে। আমোদে ঢলে পড়েছে, আড্ডায় সখীদের পিঠ চাপড়ে গল্প করেছে নাজনীন; নাজনীনের মনে কোনো ঢেউ ছিল না, ছেলেটার মনে যেমন ঝড় ছিল।
ওরা ক্লাসে যেত। ওদের চোখাচোখি হতে পারতো যখন-তখন - কখনো হয় নি; কিছু আলাপ-সালাপ হতে পারতো দৈনন্দিন ক্লাসপাঠ্য নিয়ে - তাও হয় নি; ছেলেটা আকুল হয়ে ভেবেছে একদিন নিরালায় জিজ্ঞাসা করে - 'কীজন্য সেদিন ডেকেছিলে, নাজনীন?' - সেটাও বলে নি। কারণ, বহুদিন গত হলে ছেলেটা ধরে নিল- সেদিন তার শোনাটাই ভুল ছিল।
৪ ডিসেম্বর ২০১
ঘটনা
স্কুল ছুটির পর আমরা দৌড়ে রাস্তায় উঠে হই-হুল্লোড় করে বাসায় ফিরতাম। আমাদের ডামাডোল আর পাখ-পাখালির কিচিরমিচিরে পুরোটা রাস্তা খুব সরগরম হয়ে উঠতো।
আমাদের ছিল কো-এডুকেশন। তবে, মেয়েরা থাকতো কমন রুমে, শিক্ষকদের সাথে ওরা ক্লাসে আসতো, আবার ক্লাস শেষে ফিরে যেত। ক্লাসের ফাঁকে ছেলেরা যেমন শোরগোল করে আড্ডা দিত, মারামারি, চেঁচামেচি করতো, মেয়েদের সাথে ছেলেদের ওরকম আড্ডা বা খোশগল্প করা তো দূরে থাক, ওদের সাথে সাধারণ দু-একটা কথা বলারও খুব একটা সুযোগ ছিল না; আর আমি মনে করতাম ওদের দিকে তাকানোটাও একটা বড়ো অপরাধ।
রাস্তায় মেয়েরা খুব সুশৃঙ্খলভাবেই হেঁটে যেত। আমাদের কিছু দুষ্টু আর ডানপিটে ছেলে ফুড়ৎ ফুড়ৎ দৌড়াতো, ছুটে সামনে যেত, আবার দৌড়ে পেছনে চলে আসতো। ওদের কাণ্ডকীর্তি দেখে মেয়েরা হাসতে হাসতে কেঁদে দিত। এসব দেখে আমি এবং আরো অনেকেই যে খুব মজা পেতাম, তা বলাই বাহুল্য।
সেদিন রাস্তায় এত হইচই ছিল না। ছেলেমেয়েদের সংখ্যাও ছিল কম। আমাদের সামনে আর পেছনে কয়েকটা ছেলেমেয়ে ছোটো ছোটো দলে হাঁটছিল। এমন সময়ে হঠাৎ 'খলি…ল' বলে একটু উচ্চস্বরে পেছন থেকে কে যেন ডেকে উঠলো। ঘুরে তাকিয়ে দেখি সুমি, ওর দিকে তাকাতেই ও চোখ নামিয়ে নিল। ও একা হাঁটছিল। ওর কয়েক কদম সামনে নীমা আর রুলি। সুমি বা অন্য কোনো মেয়ের সাথে ক্লাসে বা ক্লাসের বাইরে আমার তেমন কথাবার্তা হয় না। পথের মাঝখানে সুমি বা অন্য কোনো মেয়ে আমাকে ডাকবে, তাও কোনোদিন ভাবি নি। কিন্তু সুমি কেন আমাকে ডেকে বসলো? ওর দিকে তাকানোর পর কিছু না বলে চোখই বা নামিয়ে নিল কেন?
সুমি কাছে এলে ওরে জিজ্ঞসা করলাম- ডাক দিলি ক্যা?
সুমি অবাক হয়ে বলে- ডাক দিছি? কে কইল?
আমি একটু মুচকি হেসে বলে ফেললাম- বুজছি, মনে মনে আমার নাম বলতেছিলি, হঠাৎ মুখ ফসকাইয়া বাইর হইয়া গেছে।
সুমি বোধ হয় লজ্জা পেলো। বললো, যাহ্ ফাজিল। আমার কি ঠ্যাকা পড়ছে মনে মনে তোর নাম নিমু?
এরপর আরেক দিন রাস্তায় সুমিকে জিজ্ঞাসা করলাম, কইলি না, আমারে ডাক দিছিলি ক্যা?
সুমি ক্ষেপে গিয়ে বললো, ঐ বান্দর, গেলি সামনে থেকে? থাপ্পড় দিয়া কিন্তু কানশা ফাডাই দিমু।
ওর কথা শেষ হবার আগেই ওর বেণি থেকে ফিতার মাথা টান দিয়ে ভোঁ ভোঁ করে দৌড় দিলাম, আর সুমি 'ঐ খইল্যার বাচ্চা খইল্যা' বলে গগনভেদী চিৎকার দিয়ে উঠলো। আমি ততক্ষণে আইয়ুব পাগলাদের ভিড়ে মিশে গেছি।
এই ঘটনাটাকেই কীভাবে একটা গল্প বা কবিতার ছাঁচে ফেলা যায়, তার উদাহরণ শুরুর লেখাটা।
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩
রাজীব নুর বলেছেন: হ্যা এরকম হয়।
ঘটনা থেকে গল্প।