নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দশদিক

হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

ফারুক ওয়াসিফ

ফারুক ওয়াসিফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ক্ষুদ্রঋণের বৃহৎ বাণিজ্য: আনু মুহাম্মদের লেখায় মহাজনের গুমর ফাঁস

২৫ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:২০

ক্ষুদ্রঋণের বৃহৎ বাণিজ্য

- আনু মুহাম্মদ



ক্ষুদ্রঋণের বাণিজ্যিক সাফল্য এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বহু দেশে এখন ক্ষুদ্রঋণের বাণিজ্যিক তৎপরতা নতুন এক অর্থনৈতিক ক্ষেত্র হিসাবে ক্রমান্বয়ে বিস্তৃত হচ্ছে। গ্রামীণ ব্যাংক ও মুহাম্মদ ইউনূসও ব্যবসা ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের অন্যতম হিসাবে এখন নন্দিত।

যদিও বিভিন্নরূপে ক্ষুদ্রঋণ অনেক আগে থেকেই পরিচিত; কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসই একে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দিয়েছেন এবং বিশ্ব পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রামীণ মডেল এখন বহু দেশে অনুসৃত হচ্ছে। বাংলাদেশে এর বিস্তার যেভাবে ঘটেছে তাতে বাংলাদেশ এখন ‘ক্ষুদ্রঋণের মডেল’ হিসাবে উন্নয়ন অর্থশাস্ত্রের এবং উন্নয়ন আলোচনায় বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছে।



বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২ কোটিরও বেশি মানুষ এখন ক্ষুদ্রঋণের সঙ্গে যুক্ত, যাদের মধ্যে দেড় কোটি গ্রহীতা এখনও সক্রিয় আছেন। একই সূত্রে অন্য আরেক হিসাবে বলা হয়েছে, একই ব্যক্তি একাধিক সংস্থার কাছ থেকে ক্ষুদ্রঋণ নেন, তাদের শতকরা হার ৩৩ ভাগ, এই বিবেচনায় মোট ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতার সংখ্যা ১ কোটি।



মোট ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের শতকরা ৭০.৩৬ ভাগ এবং সক্রিয় ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের শতকরা ৮৫.৬৬ ভাগ মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীভূত। এগুলো হলো গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা এবং প্রশিকা। গত বছর মোট ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকাই বিতরণ হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ও আশার মাধ্যমে।



২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠান কাজ করে ৮৩ হাজার ৩শ ৪৩টি গ্রামে। মোট কর্মীসংখ্যা ২৪ হাজার ৩শ ২৫ জন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে মোট ৪০ হাজার ৭শ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৫শ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। অবশ্য এর মধ্যে রিশিডিউল বা নতুন ঋণ দিয়ে পুরনো ঋণ পরিশোধের হার ধরা হয়নি।



একটি প্রকল্প আকারে গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করেছিল। এই প্রকল্প থেকেই একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্ম হয়। প্রতিষ্ঠানের তখন একমাত্র তৎপরতা ক্ষুদ্রঋণ, গ্রহীতা গরিব মানুষ এবং প্রধানত নারী। এই ক্ষুদ্রঋণ দিয়েই গ্রামীণ ব্যাংক যে বিশাল বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করেছে তার প্রমাণ এই আয় থেকেই আরও বহুসংখ্যক বাণিজিক প্রতিষ্ঠানের উদ্ভব।



গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিতভাবে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো :

গ্রামীণফোন, গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স, গ্রামীণ সাইবারনেট, গ্রামীণ সলিউশন্স, গ্রামীণ আইটি পার্ক, গ্রামীণ ইনফরমেশন হাইওয়েজ, গ্রামীণ স্টার, এডুকেশন, গ্রামীণ বাইটেক, গ্রামীণ উদ্যোগ, গ্রামীণ সামগ্রী, গ্রামীণ নিটওয়্যার, গণস্বাস্থ্য, গ্রামীণ টেক্সটাইল মিলস, গ্রামীণ শিক্ষা, গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, গ্রামীণ ব্যবসা বিকাশ, গ্রামীণ-ট্রাস্ট, গ্রামীণ হেলথকেয়ার ট্রাস্ট, গ্রামীণ হেলথকেয়ার সার্ভিস, গ্রামীণ ডেনন ফুড, গ্রামীণ ডিওলিয়া ওয়াটার, গ্রামীণ মৎস্য, গ্রামীণ কৃষি ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ শক্তি প্রভৃতি।



এই প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভব ও বিকাশের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের নাম, প্রভাব, অর্থ ও ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতার নেটওয়ার্কের সম্পর্ক প্রত্যক্ষ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা বহুজাতিক পুঁজি যুক্ত। এগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে আছে গ্রামীণফোন, যার শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশি মালিকানা নরওয়ের একটি মোবাইল কোম্পানি টেলিনরের। গ্রামীণফোনের মূল পরিচালনা টেলিনরের হাতে। সর্ববৃহৎ মোবাইল কোম্পানি হিসাবে ২০০৭ সালে এটি মোট আয় করেছিল প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। গ্রামীণফোনের সিইও গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ২০০৭ সালে যেখানে কোম্পানির নিট মুনাফা ছিল ১শ ৩০ কোটি টাকা তা ২০০৮ সালে ৩শ ২০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০৮ সালে এর গ্রহীতার সংখ্যা ছিল ২ কোটিরও বেশি।



এই গ্রামীণফোনের যাত্রা শুরু হয় গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের ওপর ভর করেই। প্রথমে সাড়ে তিন লাখ গ্রামীণ ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাকে গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ দেয় এই মোবাইল ফোন কেনার জন্য। গরিব মানুষের হাতে মোবাইল পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্পের কথা বলে রাষ্ট্রীয় রেললাইন সংযোগ সুবিধা, কর মওকুফসহ নানা সুবিধাও তারা গ্রহণ করে। এরপর গ্রামীণফোনের কার্যক্রম দ্রম্নত বিস্তৃতি লাভ করে, যার অধিকাংশ গ্রাহক এখন শহরের। বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে টেলিনরের যে মুনাফা তা অন্য সব দেশের তুলনায় অনেক বেশি। আগে গ্রামীণফোনের লোগো ছিল গ্রামীণ কিষাণ-কিষাণী। যে দিন ড. ইউনূস নোবেল পুরস্কার পেলেন তার পরদিনই এই লোগো পাল্টে টেলিনরের লোগো তাতে যুক্ত করা হলো।



স্বাধীনতা-উত্তরকালে ব্র্যাকও খুব স্বল্প পরিসরে তার কাজ শুরু করে। তাদের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণই ছিল প্রধান আয় উপার্জনকারী খাত। এই ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসায়িক সাফল্য ব্র্যাককেও বিশাল বাণিজ্যিক ‘গ্রুপ অব কোম্পানিজ’-এ পরিণত করেছে। এখানেও বহুজাতিক পুঁজি জায়গা করে নিয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব আছে খোদ বিশ্বব্যাংকের আইএফসির।



বহুজাতিক পুঁজির নতুন আবিষ্কার

ক্ষুদ্রঋণ বহুদিন পর্যন্ত একটি বিকল্প, অনানুষ্ঠানিক ব্যাংকিং হিসাবেই পরিচিতি পেয়েছে। একে দেখা হয়েছে গরিবের জন্য একটি সহায়তা কার্যক্রম হিসাবে। ৮০ দশকে এর সাফল্যের গতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিশ্বে লগ্নি পুঁজির মালিক সংগঠকদের। কেননা ততদিনে বিশ্বজুড়ে পুঁজি বিনিয়োগের ভিন্ন গতিমুখ অনেক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পুঁজিবাদী বিশ্ব ব্যবস্থায় শিল্পপুঁজির চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে অর্থকরী বিনিয়োগ, ফটকা পুঁজি। পুঁজিবাদের রক্ষাকবচ হিসাবেই যে ঋণ অর্থনীতির প্রসার ঘটেছিল তা ততদিনে এক দানবীয় আকার ধারণ করেছে কিন্তু তার বিনিয়োগ ক্ষেত্র হয়ে পড়েছে সঙ্কুচিত। শিল্পোন্নত দেশের নাগরিকদের আয়ের চেয়ে ঋণ অনেক বেশি। সেই বাজারের অধিক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সঙ্কুচিত হওয়ার মুখে পুঁজি ঝুঁকেছে নানা বিপজ্জনক ফটকাবাজারি তৎপরতায়। এই সময়েই ক্ষুদ্রঋণের সাফল্য এক বিশাল বাজারকে বৃহৎ বিনিয়োগকারীদের সামনে হাজির করে। গরিবরাও ঋণের বাজার হতে পারে এটা ততদিনে প্রমাণিত। কাজেই শুরু হয় নতুন পর্ব।



১৯৯৫ সালে বিশ্বব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে তার তৎপরতা শুরু করে। ১৯৯৬ সালে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ অফিস এ দেশের সব এনজিওকে বাণিজ্যিক অর্থবাজারে যুক্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায়, যাতে বৃহৎ এনজিওগুলো নিজেরাই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং ক্ষুদ্র এনজিওগুলোর মাধ্যমে গরিব মানুষের সঞ্চয় এই বৃহৎ বাণিজ্যিক তৎপরতায় যুক্ত করে।



১৯৯৭ সালে ওয়াশিংটনে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্রঋণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর উদ্যোক্তা এবং সহযোগীদের অন্যতম ছিল বিশ্বব্যাংক, ইউএসএইড, ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইউএনডিপি এবং সিটি ব্যাংক। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্মেলনে আংকটাড যে রিপোর্ট প্রকাশ করে সেখানে বলা হয়, ‘ক্ষুদ্রঋণের বিষয়টি এতদিনের অব্যবহৃত এক বিশাল সম্ভাব্য বাজারের সন্ধান দিয়েছে। ১০ হাজার কোটি ডলার বা প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার সম্ভাব্য ঋণবাজার এটি। এগুলোর মধ্য দিয়ে বলিভিয়ার বানকোসল এবং কেনিয়ার কে-রেপ পৃথিবীর বৃহত্তম ও শ্রেষ্ঠ ব্যাংকগুলোর চেয়েও অধিক মুনাফাযোগ্যতা দেখিয়েছে। ২০ বছর আগে যেটি আন্দোলন আকারে শুরু হয়েছিল সেই ক্ষুদ্রঋণ এখন বিশাল শিল্প, এটি এখন মূলধারার অর্থবাণিজ্য তৎপরতার অংশ হয়ে গেছে।’



অতএব খুবই স্বাভাবিকভাবে জাতিসংঘ ২০০৫ সালকে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্রঋণ বর্ষ হিসাবে ঘোষণা করে। একই বছর সিটি ব্যাংক প্রাথমিকভাবে লন্ডন, নিউইয়র্ক, ইন্ডিয়া এবং কলম্বিয়া ‘সিটি মাইক্রোফিন্যান্স’ খুলেছে। ২০০৬ সালে যে ক্ষুদ্রঋণ সম্মেলন হয় যেখানে বৃহৎ বহুজাতিক ব্যাংক ও সংস্থার সমাবেশ ঘটে। এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিল মনসান্টো ও সিটি গ্রম্নপ। এ বছরই ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষুদ্রঋণের সাফল্যের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।



২০০৭ সালে বিশ্বব্যাংকের অঙ্গসংগঠন বাণিজ্যিকভাবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আইএফসি এশিয়া আফ্রিকায় মার্কিন বৃহৎ ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রসারের জন্য ৩শ ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। একই বছর জেপি মরগান তার বিনিয়োগ ক্ষেত্রের একটি বিশেষ অঙ্গ হিসাবে ক্ষুদ্রঋণ তৎপরতা শুরম্ন করেছে।



এফাসংস্থা থেকে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে বৃহৎ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার অনেক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বিশ্বে। বিভিন্ন পুঁজি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান যেগুলো বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টির পেছনে অন্যতম দুর্বৃত্ত ভূমিকা পালনকারী হিসাবে চিহ্নিত তারাও ক্ষুদ্রঋণে বিনিয়োগ শুরু করেছে। মেক্সিকোর কমপার্টোমাস ৬০ লাখ ডলার দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ বাণিজ্য শুরু করার পর এখন বিলিয়ন ডলার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ইউএসএইডও এর সঙ্গে যুক্ত বলে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে। এর মুনাফার হার এখন শতকরা প্রায় একশ ভাগ।



উপরের বিশ্লেষণ থেকে এটা স্পষ্ট হওয়ার কথা যে, ক্ষুদ্রঋণ এখন বৃহৎ বাণিজ্যের অন্যতম মাধ্যম হিসাবে স্বীকৃত। গ্রামীণ ব্যাংক ও মুহাম্মদ ইউনূস নিশ্চয়ই পুঁজি বিনিয়োগের উচ্চ মুনাফার এই খরারকালে সেখানে গরিব জনগোষ্ঠীকে বৃহৎ বাজার হিসাবে ব্যবহারের উপায় হিসাবে প্রতিষ্ঠার জন্য কৃতিত্বের দাবিদার।



ক্ষুদ্রঋণের দারিদ্র্য ও ক্ষমতায়ন

কিন্তু যে মূল দাবি নিয়ে ক্ষুদ্রঋণের যাত্রা শুরু, যে মূল দাবির মোড়কে ক্ষুদ্রঋণের বৃহৎ বাণিজ্য ক্রমপ্রসারমাণ, সেই দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণের সাফল্য কতটুকু? বৃহৎ বাণিজ্যের সাফল্যের আলোকোজ্জ্বল দুনিয়ায় এ ক্ষেত্রে এসে বড় আকারে হোঁচট খেতে হয়।



২০০৬ সালে মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করেছেন গ্রামীণ ব্যাংকের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে শতকরা ৭৫ ভাগ দরিদ্র মানুষ ক্ষুদ্রঋণের আওতায় আছে এবং এর ঋণগ্রহীতাদের শতকরা ৫৬ ভাগ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছে। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের ওয়েবসাইট (২০০৯) থেকে প্রাপ্ত হিসাব বিশ্লেষণ করে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। একদিকে এখানে বলা হচ্ছে ঋণগ্রহীতাদের শতকরা ৬৫ ভাগ দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন শাখার কার্যক্রমের তথ্য বিশ্লেষণে গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যের তালিকায় দেখা যায় মুনাফা অর্জনে সাফল্যের হার সবার ওপরে এবং দারিদ্র্যসীমার ওপরে ঋণগ্রহীতাদের নিয়ে আসার হার সবার নিচে। গ্রামীণ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী এর শতকরা ৮১.৪০ ভাগ শাখা মুনাফা অর্জন করেছে, শতকরা ৭৪.৩৭ ভাগ শাখা শতকরা একশ ভাগ ঋণ আদায় করেছে। এবং ঋণগ্রহীতারা দারিদ্র্যসীমার ওপর উঠে এসেছে এ রকম শাখার শতকরা হার ২ ভাগের সামান্য ওপরে।



২০০৭ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত এক সমীক্ষার মাধ্যমে কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ও অন্যরা ক্ষুদ্রঋণের বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করে দেখেছেন, তাদের সমীক্ষাধীন অঞ্চলগুলোতে শতকরা ৪০ ভাগেরও বেশি উত্তরদাতা কিস্তি শোধ করতে অক্ষম। এদের মধ্যে শতকরা ৭২.৩ ভাগ উচ্চ সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে কিস্তি শোধ করেছে এবং শতকরা ১০ ভাগ নিজের ছাগল বা অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি করে কিস্তি শোধ করতে বাধ্য হয়েছে। যদিও নারীর ক্ষমতায়ন ক্ষুদ্রঋণ মডেলের অন্যতম দাবি কিন্তু এই সমীক্ষা থেকে দেখা গেছে গৃহীত ঋণের ওপর শতকরা মাত্র ১০ ভাগ নারী ঋণগ্রহীতার নিয়ন্ত্রণ থাকে, শতকরা ৯০ ভাগ নারীকেই ঋণের টাকা তুলে দিতে হয় স্বামী, ভাই বা অন্যকোনও সদস্যের হাতে। ক্ষুদ্রঋণ এখন অনেক ক্ষেত্রে যৌতুকের বিকল্প। তার ফলে শতকরা ৮২ ভাগ উত্তরদাতা (নারী) জানিয়েছেন, ঋণগ্রহণ শুরম্নর পর থেকে যৌতুকের চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ১৯৯৬, ২০০৪ ও ২০০৭ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের একটি গ্রামের ওপর সমীক্ষা চালিয়েছে। এসব সমীক্ষায় দেখা গেছে, শতকরা মাত্র ৫ থেকে ৯ ভাগ ঋণগ্রহীতা এই ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে নিজেদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পেরেছে। শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ ঋণগ্রহীতার অবস্থা একইরকম আছে কিন্তু তাদের অন্যান্য উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হয়েছে। শতকরা ৪০ থেকে ৪২ ভাগের অবস্থার অবনতি ঘটেছে। যাদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে তাদের অধিকাংশের অন্যান্য আয়ের উৎস ছিল। এর আগে বিআইডিএস পরিচালিত এক সমীক্ষাতেও দেখা গেছে, ক্ষুদ্রঋণের কার্যক্রমের মাধ্যমে শতকরা মাত্র ৫ ভাগ ঋণগ্রহীতা নিজেদের অবস্থার উন্নতি করতে পেরেছেন।



বছর দশেক আগে একটি গ্রামে দীর্ঘসময় অবস্থান করে নৃবিজ্ঞানী আমিনুর রহমান ক্ষুদ্রঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিচালনা কাঠামো, ঋণগ্রহীতাদের সামাজিক অবস্থান, টানাপড়েন, নারী ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে ব্যাংকের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা কাজ পরিচালনা করেছেন। গবেষক দেখেছেন, যদিও ঋণগ্রহীতা অধিকাংশ নারী কিন্তু ব্যাংক পরিচালনা বা ঋণ আদায় কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অধিকাংশ পুরুষ। এর কারণ হিসাবে ব্যাংক কর্মকর্তারাই বলেছেন, কিসিত্ম আদায় করার ক্ষেত্রে মেয়েরা যথেষ্ট শক্ত হতে পারে না বলে পুরম্নষদেরই এ কাজে রাখা হয়।



এই গ্রামে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ঋণ বরাদ্দ করা হয় ধানভানার কাজে (৩৯ শতাংশ) কিন' এই কাজে কোনও ঋণই ব্যবহার করা হয় না। সুদী ব্যবসার জন্য কোনও ঋণ দেওয়া না হলেও এ কাজেই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ঋণ ব্যবহার করা হয়। গেরস্থালি কাজ এমনকি যৌতুক মেটানোর জন্য কোনও ঋণ দেওয়া না হলেও সে কাজেও ক্ষুদ্রঋণ ব্যবহার করা হয় উল্লেখযোগ্য মাত্রায়।



নিপীড়ন ও নিরাপত্তাহীনতার জাল

ক্ষুদ্রঋণের সুদ বিভিন্ন হিসাবে এবং সংস্থা ও ক্ষেত্র ভেদে গড়ে শতকরা ২০ থেকে ৪০ ভাগ। ধরে নেওয়া হয় যে, যারা এই ক্ষুদ্রঋণ নেবেন তারা এই টাকা ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে এই মাত্রায় আয় করবেন যে, প্রতিসপ্তাহে কিস্তি দিতে সক্ষম হবেন এবং আরও বাড়তি থাকবে। এই ধরে নেওয়া চিত্র ঠিক হলে এতদিনে আমরা আসলেই সুফল পেতাম। প্রকৃতপক্ষে- সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস গরিব মানুষের জীবন ও চারপাশ অনুকূল থাকবে এ রকম পরিস্থিতি কল্পনা করাও কঠিন। তাই যেকোনও রকম অসুস্থতা, ক্ষুদ্রঋণের টাকায় কেনা রিকশা বা ভ্যান অচল হওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থনীতির মন্দা, বাজারের বৈরিতা, জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি যেকোনও একটি ঘটনা ঘটলেই পুরো মডেলটি ভেঙে পড়ে। একবার কিসিত্ম দিতে ব্যর্থ হলে সেটা সামাল দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। তারপর একে একে নতুন ঋণ ঘাড়ে চাপে। এখন নতুন ঋণ দিয়ে পুরনো কিস্তি শোধ করার হিসাব বাদ দিলে ক্ষুদ্রঋণ পরিশোধের হার দেখা যাবে শতকরা ৬০ ভাগেরও কম। একের পর এক ঋণের বোঝা ঘাড়ে চাপায় অসহ্য হয়ে অনেকেই তখন গ্রাম ছাড়ছেন। গ্রামে ক্ষুদ্রঋণসহ দারিদ্র্য বিমোচনের এতসব কর্মসূচি চলবার পরও গ্রাম থেকে শহরে কাজের খোঁজে, বাঁচার চেষ্টায় অবিরাম মানুষের প্রবাহ এমনি এমনি ঘটেনি।



যেকোনও একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ক্ষুদ্রঋণগ্রহণকারীদের জীবন কীভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে তার সাম্প্রতিক উদাহরণ সিডর। উপকূলীয় অঞ্চলে যে রকম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে মানুষ বাস করে সেখানে তাদের পেশাগত নিরাপত্তা, জীবনের নিরাপত্তা, ঘরের নিরাপত্তা এসব বিষয়ে কোনও কার্যকর উদ্যোগ না থাকলেও ক্ষুদ্রঋণের বিস্তার ঘটেছে ব্যাপক।



সিডরের ভয়ঙ্কর আঘাতে যে লাখ লাখ মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছে তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতা। সম্প্রতি দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে একশনএইড পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৪২টি ক্ষুদ্রঋণদানকারী সংস্থা সেসব অঞ্চলে কাজ করছে এবং ১৫ লাখ মানুষের কাছে প্রায় ১ হাজার ২শ কোটি টাকা ঋণ আছে। এসব সংস্থার মধ্যে ব্র্যাক, আশা ও গ্রামীণ ব্যাংকও আছে। একই গবেষণায় দেখা গেছে, ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ এতই প্রবল ছিল যে, অনেকেই প্রাপ্ত রিলিফ সামগ্রী, সরকার প্রদত্ত গৃহনির্মাণ সুবিধা বিক্রি করে কিস্তি শোধ করেছেন। অনেকে নতুন ঋণ নিয়ে পুরনো কিস্তি শোধ করেছেন। এই চিত্র অস্বাভাবিক বা বিচ্ছিন্ন নয়। গত বছরে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাপত্রে লামিয়া করিম নাকছাবি গরম্ন, মুরগি, ঘরের টিন, আসবাবপত্র বিক্রি করে ঋণের কিস্তি পরিশোধের একাধিক উদাহরণ দিয়েছেন। এ ধরনের বহু ঘটনার সাক্ষী বহু গবেষক ও সাংবাদিক যার অল্পই প্রকাশিত।



ক্ষুদ্রঋণের সাফল্য ও সীমা এতদিনে অনেক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্রঋণের গবেষণাগার হিসাবে এখন স্বীকৃত। প্রায় তিন দশকে ক্ষুদ্রঋণের চাষ ও বিকাশের অভিজ্ঞতায় এর ফলাফলও এখন অনুধাবন করা সম্ভব।



যা এখন স্পষ্ট

প্রথমত, ক্ষুদ্রঋণ প্রক্রিয়া ব্যাংকিং খাতে এক নতুন সংযোজন। অর্থকরী খাতে এক বিপুল সম্ভাবনা হাজির করেছে এই মডেল। ইতিমধ্যে যা বৃহৎ পুঁজি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করেছে এবং বৃহৎ বাণিজ্যের মধ্য দিয়ে বিপুল মূলধন সংবর্ধন করতে সম্ভব হয়েছে।



দ্বিতীয়ত, ক্ষুদ্রঋণ প্রক্রিয়া বৃহৎ বাণিজ্যিক সংস্থা এমনকি বহুজাতিক পুঁজির বিনিয়োগ ও বাজার সঙ্কট মোকাবেলায় একটি কার্যকর মাধ্যম হয়েছে।



তৃতীয়ত, গ্রামীণ অর্থনীতি অনেক বেশি বাজারমুখী হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রক্রিয়া গ্রামীণ নারীদের আরও বেশি বেশি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করেছে।



চতুর্থত, এই ঋণ প্রক্রিয়া অসংখ্য মানুষকে নতুন করে ঋণগ্রস্ত করেছে, অনেককে সুদের মহাজন বানিয়েছে।



পঞ্চমত, খুব ক্ষুদ্র অংশ তারাই ক্ষুদ্রঋণ ব্যবহার করে কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পেরেছে, যাদের আয়ের অন্যান্য উৎস আছে।



অতএব বৃহৎ বাণিজ্যের একটি সফল মাধ্যম হিসেবে ক্ষুদ্রঋণ মডেল অবশ্যই স্বীকৃতি পেতে পারে। কিন্তু দারিদ্র্য বিমোচন কিংবা নারীর ক্ষমতায়নে এর সাফল্যের দাবি ভ্রান্ত ও প্রতারণামূলক।

মন্তব্য ৪৪ টি রেটিং +২২/-১

মন্তব্য (৪৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৩

নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: +
জরুরি এই লেখাটি এখানে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ফারুক ।

২| ২৫ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৬

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ধন্যবাদ মানিক।

৩| ২৫ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৪:১৩

মারুফ হায়দার নিপু বলেছেন: দারিদ্র্য বিমোচন কিংবা নারীর ক্ষমতায়নে এর সাফল্যের দাবি ভ্রান্ত ও প্রতারণামূলক।
----------
আপনার দাবি সঠিক নয়। মাইনাস

২৬ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১:২১

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আমার দাবি যে সঠিক তারই প্রমাণ আপনার মাইনাস। কারণ মাইনাস ছাড়া আপনি আর কিছুই দিতে পারেন নি, না যুক্তি না তথ্য। তবুও অংশ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

৪| ২৫ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৪:১৪

প্রণব চক্র বলেছেন: ক্ষুদ্রঋণের গুমর ফাঁস করার জন্য ফারুক ওয়াসিফকে ধন্যবাদ

৫| ২৫ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৪:১৬

ভিন্ন চিন্তা বলেছেন: ডঃ ইউনুস যখন শান্তির জন্য নোবেল প্রাইজ পেলেন তখন সমগ্র জাতিয় জীবন চরম অশান্তিময় পরিবেশ নিমজ্জিত।

একজন শান্তির জন্য নোবেল প্রাইজ বিজয়ী যে কতটা নিম্ন রুচি বোধের হতে পারে তার উৎকৃষ্ট উদাহারণ 'শক্তি' নামক দই এর বিজ্হাপনে অংশ গ্রহন করা। ডঃ ইউনুস কি অস্বীকার করতে পারবেন যে 'আম দই' নামক খাদ্য বস্তুটিতে আদেত কোন আম নেই।সারা বিশ্বে প্রাস্টিক মোড়ক যুক্ত খাদ্রের বিরুদ্ধে যখন জনমত প্রবল থেকে প্রবল হচ্ছে তখন তিনি কোমলমতি শিশুদের জন্য তথাকথিত পুষ্টিকর দই হাজির করেছে শুধু মাত্র হীন ব্যবসায়িক স্বাথ হাসিলের অভিপ্রায়।

গ্রামীণ ফোনের প্রারিম্ভক ব্যবসা কথা সর্বজন বিদিত।কিংবা ভি ও আই পির মত অবৈধ ব্যবসা।

কিন্তু ক্ষুদ্রঋণের নামের প্রতারনার পরে ডঃইউনুস সবচেযে বড় দাপাবাজি টা করেছেন 'গ্রামীন এডুকেশন' নাম কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে।সাংবাদিক হিসাবে ফারুক কে অনুরোধ কররাম কম্পিউটার শিক্ষা নিয়ে যে ডিজিটাল দাপাবাজই এদেশ ডঃইউনুস গং নব্বই দশক জুড়ে এদেশে করেছে তা নিয়ে একটু অনুসন্দান করতে।
Click This Link

বিশ্ব ব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা কালে তাঁর কথাবর্তা খুব বেশি শোনা যাচ্চিল না।ধরে নিলাম তিনি একজন ব্যবসায়িক বুদ্দি সম্পন্ন সৎ মানুষ (?),। কিন্তু, এদেশের সব কথিত ব্যবসাযীদের চোখে মুখে যখন চরম আতংকের চাপ দেখি , তখন তাদের পাশে তাদের স্বার্র্থ রক্ষায়ও তিনি অনুপস্থিত।
তিনি আজ পর্যন্ত মন্দাক্রন্ত হয়ে গার্মেন্টস শিল্পে যদি সত্যই ধ্বস নামে তবে অসহায় চাকুরী চুত্য শ্রমিকদের জন্য কোন শান্তির বা আশার বানী শোনালেন না।তবে তিনি ' সামাজিক ব্যবসার গন্ধ পাচ্ছেন মন্দাক্রান্ত বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের নিয়ে। কারণ তাদের অনেকেই গার্র্মেন্টস শ্রমিকদের মত কর্পদ শুণ্য নয়। বিদেশ ফেরত শ্রমিকরা যদি ডঃ ইউনুসের ভুবন ভুলানো হাসির মায়াজালে জরায় তবে শেষ সঞ্চয় টুকু হারাবে।

৬| ২৫ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৮

বিপ্লব রহমান বলেছেন: খুব দরকারি লেখা। অনেক ধন্যবাদ। @ পোস্ট।

আরেকটু যোগ করে বলতে চাই:


১. প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক তার ব্যবসার লভ্যাংশের ওপর কর এখনো সরকারকে দেয়নি। আর রহস্যজনক কারণে সব সরকারই তাদের এই কর মওকুফ করে আসছে।

২. "এই ঋণ প্রক্রিয়া অসংখ্য মানুষকে নতুন করে ঋণগ্রস্ত করেছে, অনেককে সুদের মহাজন বানিয়েছে।"

--এ কারণে দাদন ব্যবসায়ী প্রফেসর ইউনুস যখন শান্তির জন্য নোবেল পেলেন, তখন বিস্মিত না হয়ে অন্য কোনো উপায় থাকে না।




৭| ২৫ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৪:৪২

জানজাবিদ বলেছেন: "অতএব বৃহৎ বাণিজ্যের একটি সফল মাধ্যম হিসেবে ক্ষুদ্রঋণ মডেল অবশ্যই স্বীকৃতি পেতে পারে। কিন্তু দারিদ্র্য বিমোচন কিংবা নারীর ক্ষমতায়নে এর সাফল্যের দাবি ভ্রান্ত ও প্রতারণামূলক"-------------সত্যিই তাই।

এদের সবকিছুই কেমন যেন 'শো' মনে হয়। খালি দেখাতে চায় কিন্তু আসলে গরীব মানুষের কি উপকার হচ্ছে তা বলা শক্ত।

৮| ২৫ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৪

নাজমুল হক রাসেল বলেছেন: সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।

আমার কাছে ক্ষুদ্র ঋন টা তার সর্বগ্রাসী খাদক রুপ লাভ করেছে গ্রামীন ব্যাংক এর হাত ধরে নয় বরং বাংলাদেশের ৩৬০০০ এনজিও এর মাধ্যমে যাদের টিকে থাকার একমাত্র সম্বল হল তথাকথিত ক্ষুদ্র ঋন।

আনূ স্যার প্রথম বিষয় টি নিয়ে কথা এবং গবেষনা শুরু করেছিলেন সত্য কিন্তু এরপরে মনে হয়না তিনি আর ব্যপক অর্থে তেমন কোন কাজ করেছেন। তার নতুন কাজগুলোর বেশিরভাগ ই একাদেমিক। বদরুদ্দিন ওমরের লেখাগুলো বরং প্রাসাঙ্গিক মনে হয়েছে অন্তত এই ব্যাপারে।

ক্ষুদ্র ঋন কে বলা হয়েছে অর্থনিতীর ক্ষমতায়নের চাবি। সে হিসাবে এটাকে অর্থনিতীর একটা মডেল ও বলা যায় যেটা আবার খুব যে টেকসই তা হলফ করে বলার কোন যো নেই। প্রাসাঙ্গিকতা হারানোর পরে নোবেল পাওয়া তাও আবার শান্তিতে জিনিস টা কেমন মরোনত্তর ধরনের মনে হয়।

তবে পুরুস্কারটি IFI কে একধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। চারদিক থেকে প্রত্যাখাত হয়ে IFI এর কাহিল দশায় সঞ্জিবিনী রস সঞ্ছার করেছে উনুস সাহেবের নোবেল। তার একটা বর প্রমান ব্রাক যেটির কথা উল্লেখ করেছেন আপনি। শুধুমাত্র কিস্তির টাকায় বড়লোক হয়ে তারা আজ শিক্ষা নামক পন্য তৈরি করছে, বাংলাদেশে হাইব্রিড এর সোল এজেন্ট হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান পরীক্ষা করার শপথ নিয়েছে।।

আবার ও ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।




৯| ২৫ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৭

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ধন্যবাদ রাসেল। এখানে কেবল ক্ষুদ্রঋণের মহাদাবির মহাভাওতাই দেখানো হয়েছে মনে করি। এর রাজনৈতিক ইম্প্যাক্ট স্বতন্ত্র আলোচনা হতে পারে। এবং সেখানে এটা আসতে পারে যে, মিডিয়া-মধ্যবিত্ত ও পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলো কেন এ নিয়ে হৈ হৈ করে, যেখানে তাদের দাবির পক্ষে একটি সিরিয়াস কাজও তারা দেখাতে পারে না?

১০| ২৫ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৭

অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন: জরুরি এই লেখাটি এখানে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ফারুক ভাই।

১১| ২৬ শে মে, ২০০৯ রাত ১২:০৩

দিনমজুর বলেছেন: লেখাটি এখানে সবার সাথে শেয়ার করার জন্য ফারুক ওয়াসিফকে ধন্যবাদ।

ক্ষুদ্র ঋণের মত এত ব্যপক না হলেও আরেকটা ব্যাবসা বেশ ভালো মতোই জাকিয়ে বসেছে- এম এল এম বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং- বিশেষ করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ এবং মধ্যব্ত্তিদের মাঝে এই পিরামিড স্কিম এর একটা ব্যাপক বিস্তার ঘটানোর কাজ করে চলেছে ডেসটিনি গ্রুপ। এরা নাকি মাঝে মাঝে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে কবির চৌধুরী কিংবা মামুনুর রশীদ দের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান ইত্যাদিও করে!

ফারুক ওয়াসিফ আপনি কি জানেন এ বিষয়ে কি আনু স্যার (বা অন্য কেউ) কি কোন কাজ করছেন বা করবেন ?

১২| ২৬ শে মে, ২০০৯ রাত ১২:১৬

মনজুরুল হক বলেছেন:

"ক্ষুদ্র ঋণের মত এত ব্যপক না হলেও আরেকটা ব্যাবসা বেশ ভালো মতোই জাকিয়ে বসেছে- এম এল এম বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং- বিশেষ করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ এবং মধ্যব্ত্তিদের মাঝে এই পিরামিড স্কিম এর একটা ব্যাপক বিস্তার ঘটানোর কাজ করে চলেছে ডেসটিনি গ্রুপ। এরা নাকি মাঝে মাঝে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে কবির চৌধুরী কিংবা মামুনুর রশীদ দের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান ইত্যাদিও করে!

ফারুক ওয়াসিফ আপনি কি জানেন এ বিষয়ে কি আনু স্যার (বা অন্য কেউ) কি কোন কাজ করছেন বা করবেন ? "
_________________________________________
দিনমজুরের উপরের মন্তব্য বিষয়ে:

না, আনু ভাই এটা নিয়ে কাজ করছেন না। আর এই লেখাটার অনেক আগেই অখ্যাত এক লেখকের এ নিয়ে একটা বই-ও আছে। সে হিসেবে আনু ভাইয়ের লেখাটা পথপ্রদর্শক নয়।

এম এল এম এর উদ্ভাবকরা এখন তো পত্রিকা খুলে বসেছে। সেখানে আবার বেশ কিছু "অব:" আছেন। আছেন ডার্কসাইটে লিখিয়েরা/ সাংবাদিকরা। সুতরাং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পাবার ব্যাপারে এখন তারা আরো এগিয়ে গেলেন।

২৬ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১:১৯

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: এম এল এম বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং আর ক্ষুদ্রঋণ এক মাত্রার কাজ নয়। একটা বিশ্ব পুঁজির আত্মবিস্তারের নতুন পন্থা অন্যটা এখানকার দুবৃত্ত পুঁজির জালিয়াতি কৌশল। ক্ষুদ্রঋণ এখন একটা প্যারাডাইম একটা ব্যবস্থা, এর সঙ্গে সম্পর্কিত রাজনীতি, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, চক্র ইত্যাদি গড়ে উঠেছে।

১৩| ২৬ শে মে, ২০০৯ রাত ১২:৫৪

দিনমজুর বলেছেন: ধন্যবাদ মনজুরুল হক।

আনু স্যারেটা পথ প্রদর্শক কি না জানি না, তবে ক্ষুদ্র ঋণ সহ এনজিওদের কাজ কারবার নিয়ে অনেক আগের( সন তারিখ ঠিক ম নে নেই) একটা কাজ - "এনজিও মডেল" এখনও বেশ প্রাসঙ্গিক তবে ঐটাকে আরও আপগ্রেড করলে বেশ হয়!

১৪| ২৬ শে মে, ২০০৯ রাত ১২:৫৬

দিনমজুর বলেছেন: ও আর সেই অখ্যাত লেখক ও তার বইয়ের নামটা দয়াকরে বলবেন কি?

১৫| ২৬ শে মে, ২০০৯ রাত ১:০৬

মনজুরুল হক বলেছেন: "অধ্যাপক ইউনূসের স্বপ্নবিলাস" । লেখক : ওবায়দুর রহমান।

যদ্দুর মনে পড়ে, বদরুদ্দীন উমরের "সংস্কৃতি" কাগজে এই বিষয়ে ধারাবাহিক লেখা ছাপা হয়েছিল। কোন সংখ্যা থেকে কোন সংখ্যা সেটা এমুহূর্তে মনে পড়ছেনা।

ইউনূসের নোবেল নিয়েও উমর ভাইয়ের দুই তিনটি লেখা ছিল "সমকাল" এ। লিংক নেই। আর সমকালের সাইটের অবস্থা খুব খারাপ। একদিন পেছনের কাগজে যাওয়া যায়না! @ দিনমজুর।

১৬| ২৬ শে মে, ২০০৯ সকাল ১১:৪৬

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ক্ষুদ্রঋণকে পলিটিক্যালি দেখার প্রথম কাজ সম্ভবত বদরুদ্দীন উমরেরই। এছাড়া দিনমজুর যেটা বললেন, আনু মুহাম্মদের: বাংলাদেশের উন্নয়ন সংকট/সম্ভাবনা: এনজিও মডেল বুনিয়াদি বই। এটা এনজিও প্যারাডাইমকেই প্রশ্ন করেছে এবং প্রায় ইনভ্যালিড করে দিয়েছে।

এর পর বলা যায়, আমিনুর রহমানের বইটার কথা। (আনু ভাই এখানে উল্লেখ করেছেন) আমরা (প্রতিরোধপর্ব থেকে) সারাহ জার্দিং নামের এক মহিলার দারুণ একটি গবেষণা কাজ ‌মাইক্রোক্রেডিট অনুবাদ করিয়েছিলাম, এছাড়া অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে কাজী খলিকুজ্জামান আহমদও একটি সমীক্ষা চালান। এই চারটি কাজই কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণের শোষণ ও বাণিজ্যকে উন্মোচন করে।

১৭| ২৬ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১:২৭

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: এখানে সারাহ জার্দিং এর কাজ থেকে কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখ করলাম:

ক্ষুদ্রঋণ অর্থনৈতিক ও বাকি সব উন্নয়নের বেলায় রাষ্ট্রের ভূমিকা বিলোপ প্রবণতার অংশ। এর মাধ্যমে দুনিয়া জুড়ে যে বিশেষ বৈশ্বিক রাজনৈতিক অর্থনীতি _যার নাম নিও লিবারেলিজম_ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটা কার্যত আর্থিক খাতের উদারীকরণের পথ খুলে দিচ্ছে।

‘উন্নয়নের এনজিওকরণ’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে উন্নয়ন বলতে যে জাতীয়ভাবে সংগঠিত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যে প্রথাগত ধারণাকে বোঝানো হতো, তা পাল্টে গিয়ে বৈশ্বিকভাবে সংগঠিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বোঝানো হতে থাকে। বিশেষত ৮০-র দশক থেকে আজ পর্যন্ত উন্নয়ন বলতে একেই বোঝানো হয়ে থাকে। এর সঙ্গে তাল রেখে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে উন্নয়নের প্রচলন ঘটানোর কর্মপন্থাতেও পরিবর্তন আসে। রাষ্ট্র কতৃক পরিচালিত ওপর থেকে নিম্নমূখী (টপ-ডাউন) পদ্ধতির জায়গায় আসে এনজিও ও বেসরকারি সংস্থানির্ভর নীচ থেকে ওপরমূখী (বটম-আপ) পদ্ধতি। এর লক্ষ্য বর্তমানের দুর্বল ও অসমর্থ রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা চূড়ান্তভাবে হ্রাস করে তার জায়গায় বৈশ্বিক বাজারের জন্য জাতীয় বাজারকে খুলে দেয়া, এবং অর্থনীতির মুক্তবাজারি উদারনীতিকরণ।

‘উন্নয়নের এনজিওকরণ’ পুঁজির নতুন অর্থনৈতিক ‘চাহিদা’কে পূরণ করছে। এই চাহিদা মোতাবেক এনজিওগুলোকে দেখাতে হয় যে, তারা দীর্ঘকালব্যাপী অর্থনৈতিকভাবে টেকসই। তার মানে আর সাহায্য নয়, তোমাদের উন্নয়ন ব্যবসার পুঁজি নিজেরাই বানাও নিজেরাই খাটাও।

এভাবেই দারিদ্র্যবিমোচন এজেন্ডাকে একত্রীকরণ উদ্যোগের নানান উপায়গুলোর _বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন_ সঙ্গে আঞ্চলিক সামাজিক নীতির মধ্যে সংযোগসাধনের পন্থা হিসাবে ভাবা হয়েছে। এবং একে স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ পর্যন্ত সম্প্রসারিতও করা হয়েছে। এভাবে এটা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক অর্থনীতির মধ্যে যোগসাধন এবং বিশ্ব বাজারের চাহিদাকে স্থানীয় পর্যায়ে চাপিয়ে দেয়ার কাজ করছে।

বৈশ্বিক রাজনৈতিক অর্থনীতির আঞ্চলিক প্রয়োগ (দুনিয়ার বোঝা ঘাড়ে নেয়া)

দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি হিসেবে ক্ষুদ্রঋণের আরও একটি সুবিধা হলো বাণিজ্যিক কাঠামোর মধ্যে এর সম্পৃক্ততা। ব্যবসায়িক সুদের হার এবং মুনাফা অর্জন ও আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের চূড়ান্ত লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে কাজ করার কারণে এর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। যেমন, কৌশলগতভাবে এটি বৈশ্বিক রাজনৈতিক অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং এর রয়েছে দ্বিমুখী কার্যক্রম। প্রথমত ‘বাজারের অনুকূল দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচি হিসেবে এটি আর্থিক খাতের উদারনীতিকরণকে (বেসরকারীকরণ) এগিয়ে দেয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে আর্থিক খাতে বানিজ্যের প্রসার ঘটায়। পাশাপাশি এটি দরিদ্রদের ঋণ পওয়ার বন্দোবস্ত করে পুঁজির চলাচল বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের এবং কঠোর অর্থেনৈতিক পদপেগুলো যেমন: কাঠামোগত সংষ্কারের প্রতি সামাজিক স্তর থেকে যে প্রতিরোধ আসে তা মিইয়ে যায় এবং সবকিছু শৃক্সলাবদ্ধ হওয়ার দিকে যায়। এভাবে সাংবিধানিকভাবেই ক্ষুদ্রঋণ ওয়াশিংটন সমঝোতাকে বাস্তবায়িত করতে থাকে এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অর্থনীতিকে স্থানীয় সমাজের ওপর চাপিয়ে দেয়।

অর্থাৎ ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে বিশ্ব পুঁজির মুনাফার ভার স্থানীয় জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়।

১৮| ২৬ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৫১

মারুফ হায়দার নিপু বলেছেন:
ফারুক ওয়াসিফ সাহেব,
আমার কোনো যুক্তিই দেখানো লাগবে না, কারণ আমি এই লাইনে এক্সপার্ট নই।

মাইক্রোক্রেডিটের সফলতা দিবালোকের মতোন সত্য।

বাতাসের সাগরে ডুবে থেকে মাঝে মধ্যে বাতাস কেনো দেখা যায় না এই বলে রাগ-বিরাগ-অনুরাগ করা যায়। তাতে বাতাসের কোনো কিছু আসেযায় বলে মনে হয় না।

আর, সমালোচনাই আত্মশুদ্ধির পথ আলোকিত করে।
আপনার সমালোচনাটা অনেকটা ব্যর্থ কমিউনিস্টদের মতোন হয়েছে।

১৯| ২৬ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৪

মারুফ হায়দার নিপু বলেছেন: একটা লোকের লোন দরকার ব্যবসা করার জন্য।
সামান্য ৫০ হাজার বা এক লাখ টাকার দরকার।
এই পুশটা তাকে কে দেবে???
প্রচলিত ব্যাংক জামানত ছাড়া দেবে না। ঘুষ ছাড়া দেবে না।

মাইক্রোক্রেডিট দেখিয়েছে এটা সম্ভব।
সমাজের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে দিয়েছে মাইক্রোক্রেডিট। তাই নয় কী?

২০| ২৬ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৮

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: মাইক্রোক্রেডিটের সফলতা দিবালোকের মতোন সত্য? সেই আলোক তো সবাই দেখেনি। আপনি কি অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন? তাহলে সেটাই জানান, কোথায় কবে কাকে দেখেছেন। আমিও এক্সপার্ট নই। তাই এক্সাপার্টদের কাজকে মেনে নিয়েছি। নীচে একদম ডাটা দিয়ে আবারো আপনাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করা গেল অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. খলিকুজ্জামান এর গবেষণার সারসংক্ষেপ থেকে:

সারাদেশের পল্লী অঞ্চলে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের মধ্য থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে ২,৫০১জনের (যার ৯৯%-এর বেশ নারী) একটি প্রতিনিধিত্বমূলক নমুনা তৈরি করে তাদের সরাসরি সাক্ষাতকার নিয়ে এই গবেষণা কর্মটি পরিচালিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের কাজ ২০০৬ সালের জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী মাসে সম্পন্ন করা হয়।

গবেষণা থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারা সাধারণভাবে এমনসব অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত যেগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রে আসলে সম্প্রসারণের তেমন কোনো সুযোগ নেই। এর কারণ, হয় ঐসব পণ্য ও সেবার বাজার সীমিত (স্থানীয় বাজার নির্ভর বলে) অথবা উতপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ সীমিত অথবা দু'টোই। গবেষণার ফল এটাও দেখায় যে বছর পর বছরের ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণই গ্রহীতাদের ঐসব কাজে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে যা থেকে তারা সহজে বেরিয়ে আসতে পারে না।

এই গবেষণার ফল থেকে আরো দেখা যায় যে, ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের একটি ক্ষুদ্র অংশ আয় বৃদ্ধির দিক দিয়ে যুক্তিসঙ্গতভাবে উপকৃত হয়েছে। কিন্ত বড় অংশেরই আয়-উপার্জন একেবারেই বাড়েনি বা তেমন বাড়েনি। এক-চতুর্থাংশ ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতার ঋণসম্পৃক্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য উৎস থেকে অর্জিত মিলিত আয় দেশের গরীব মানুষের গড় আয়েরও নিচে।

এটাও দেখা যায় যে, এক-পঞ্চমাংশ উত্তরদাতা পরিমাণগতভাবে খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। আর এক-তৃতীয়াংশ ভোগে গুণগত নিরাপত্তাহীনতায়। প্রায় ৩৯% ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণের পর তাদের খাদ্য প্রাপ্তিতে কোনো পরিবর্তন ঘটেছে কি না তা নিশ্চিত নয়। মাত্র ৭% গুণগত ও পরিমাণগত উভয় দিক থেকে পর্যাপ্ত খাদ্য পেয়ে থাকে। জমির মালিকানার বিষয়েও ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণের পর তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ফলাফল আরো দেখায় যে ৭১% ঋণগ্রহীতা-পরিবার এখনো সঠিক চিকিৎসা পায় না। তারা সাধারণত হাতুড়ে চিকিতসকের কাছে যান এটি বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার চরম পশ্চাদপদতার প্রতিফলন এবং ক্ষুদ্রঋণ এক্ষেত্রে তেমন সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারেনি। যারা স্বাস্থ্যসেবা মোটামুটি গ্রহণ করতে পারছে তাদের একটা বড় অংশ আবার এটাও জানিয়েছেন যে ুদ্রঋণ গ্রহণের পর তাদের স্বাস্থ্যসেবায় যে উন্নতি ঘটেছে তার প্রধান কারণ হলো সরকারি-বেসরকারি জনচেতনতামূলক কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুবিধা, ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণের কারণ নয়।

ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণের পর মাত্র ২৮% পাকা শৌচাগার ব্যবহার করছেন। এখানেও বৃহত্তর অংশ জানিয়েছেন যে সরকারি-বেসরকারি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সেই সূত্রে সস্তায় পাকা শৌচাগার নির্মাণ কৌশল সম্পর্কে জানতে পারা এর প্রধান কারণ। বাকীদের মধ্যে আগে যারা পাকা শৌচাগার ব্যবহার করেছেন তারা যেমন রয়েছেন তেমনি যারা আগেও সেরকম শৌচাগার করতে না এখনো করছেন না এমনও রয়েছেন।

উত্তরদাতারা জানিয়েছেন যে, শিশু সন্তানদের বিশেষত মেয়ে সন্তানদের শিক্ষার ক্ষেত্রে যতটুকুই উন্নতি হয়েছে, তা হয়েছে প্রধানত সরকারি-বেসরকারি প্রচারণা এবং তাদের দেয়া আর্থিক সহযোগিতা ও সুবিধার কারণে।

জীবনযাত্রার সার্বিক মানের দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায় মোট উত্তরদাতার মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ কিছু উন্নতির কথা বলেছেন। বাকীদের হয় কোনো পরিবর্তন হয়নি, অথবা অবস্থার অবনতি ঘটেছে। স্পষ্টতই বড় আকারের জনগোষ্ঠীই তাদের জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণের পরও আগের মতো প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছেন।

সার্বিকভাবে সন্তোষের মাত্রা বিচারে মাত্র এক-চতুর্থাংশ উত্তরদাতা সস্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। ৫০% অসন্তুষ্ট ও বাকী এক-চতুর্থাংশ সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট কোনোটাই না বলে জানিয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা গড়ার ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশ বিশ্বাস করেন যে ভবিষ্যৎ ভাল হবে। আবার এক-তৃতীয়াংশ সামনের দিনগুলো খারাপ হবে এমন আশংকাই করছেন। সামাজিক অবস্থার ক্ষেত্রে অর্ধেকের বেশি উত্তরদাতা ঋণ গ্রহণের পর অবস্থার উন্নতি হয়নি জানিয়েছেন, আরো ১৩% অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। মাত্র ২৮% অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন।

সামগ্রিকভাবে এই গবেষণা থেকে দেখা যায় যে, ক্ষুদ্রঋণর আর্থ-সামাজিক ইতিবাচক প্রভাব খুব সীমিত। স্বল্পসংখ্যক ঋণগ্রহীতা অবশ্য লাভবান হয়েছেন। তবে বেশিরভাগই কোনো সুফল পাননি। বরং অনেক ঋণগ্রহীতা আছেন বিভিন্নভাবে যাদের অবস্থার অবনতি হয়েছে।

ঋণের বোঝার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ প্রক্রিয়াটি বেশিরভাগ ঋণগ্রহীতার জন্য একটি অবিরত প্রক্রিয়া বলে প্রতীয়মান হয়। এই গবেষণায় দেখা গেছে, ঋণগ্রহীতারা ১০% থেকে ১৮% পর্যন্ত ভিত্তিহারে সুদ দেয়। তবে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষেত্রে কার্যকর সুদের হার ও ঋণগ্রহণের ব্যয় যথাক্রমে ২৭% ও ৩১% পর্যন্ত চড়া। ব্র্যাক, আশা ও প্রশিকার ক্ষেত্রে এই হারগুলো আরো বেশী, যথাক্রমে ৩৯-৪১% ও ৪২-৪৫%।

কিস্তি পরিশোধের বিষয়ে প্রায় ৪৮% উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তারা নানা ধরনের কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন এবং এটা থেকে উত্তরণের জন্য চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণগ্রহণ, অন্য সংস্থা থেকে ঋণগ্রহণ এবং গৃহস্থালী সামগ্রী বিক্রির মতো কঠিন কাজ করতে হয়। কেউ কেউ কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতায় শাস্তি ভোগ করেছেন অর্থাত তাদের মালপত্র ঋণদাতাদের দ্বারা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বস্তুত ৯৬% উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে প্রতি কিস্তি পরিশোধের পরই আবার এক সপ্তাহের মাথায় আরেকটি কিস্তি শোধের চাপে থাকেন তারা এবং অর্থ যোগাড় না হলে অবর্ণনীয় ভোগান্তির আশংকায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকেন। অনেকেই নিজেদের বিভিন্ন ধরনের সম্পদ-সম্পত্তির বিনিময়ে কিস্তির অর্থ নিশ্চিত করেন যা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো নাজুক করে তোলে। ঋণ পরিশোধের এই কঠোর চাপ এবং কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে যে খড়গ তাদের উপর নেমে আসতে পারে তা ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের ক্ষেত্রে এক শক্ত কোল্যাটারেল বটে।

আর যে ৫২% কোনো রকম বড় ধরনের সমস্যা ছাড়া কিস্তি পরিশোধ করতে পারেন, তারাও তা পারেন কখনও ক্ষুদ্রঋণ ব্যবহার করে আরম্ভ করা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের আয় থেকে, কখনও বা অন্য উতসের আয় থেকে, আবার কখনও খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে। সাধারণভাবে বললে, ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারা কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে একটি নাজুক অবস্থানে থাকেন এবং তারা অনেকেই এমন সব পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন যা তাদের ঋণগ্রস্ততা বাড়িয়ে তোলে এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলো ঋণ সরবরাহ ও কিস্তি আদায় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বড় ধরনের ঋণ তহবিল গড়ে তুলতে পারে। যেমন, মাত্র ৫ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে যাত্রা শুরু করে ১০% হারে ভিত্তি সুদ এবং ৫% বাধ্যতামূলক প্রাথমিক জামানত ব্যবস্থা থেকে সাপ্তাহিক ঋণ-আদায় ও ঋণদান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক বছরে বাড়তি ১২,৬৪৯ টাকার ঋণ-তহবিল সৃষ্টি হতে পারে। উচ্চতর ভিত্তি সুদের হার ও ঋণগ্রহীতাদের জমাকৃত সাপ্তাহিক সঞ্চয় হিসাবে নিলে তা আরো অনেক বেশি হবে। মূলত এ কারণেই এই ক্ষুদ্রঋণ একটি লাভজনক ও আকর্ষণীয় ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে যা দেশজুড়ে ছোট-বড় শত শত ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ যুগিয়েছে। এতে ঋণ-তহবিল দ্রুত বাড়তে থাকায় সংস্থাগুলোও দিনকে দিন স্ফীতি হয়। কিন্তু ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারা আয়-দারিদ্র্য থেকেই মুক্তি পাননি বরং তাদের ঋণগ্রস্ততা ও দারিদ্র্য আরো বেড়েছে। সেখানে জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া ও আয়ের স্তর বাড়ার আশা বাতুলতা মাত্র।

এই গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ক্ষুদ্রঋণ মাধ্যমে নারীর মতায়নের যে কথা বলা হয় তা আসলে ঘটেনি। মোট নারী উত্তরদাতার মাত্র ১০% জানিয়েছেন যে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে তাদের পূর্ণ কর্তূত্ব আছে। বাকী ৯০%-এর ক্ষেত্রে হয় তাদের কোনো কর্তৃত্ব নেই অথবা তারা স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে এসব কাজ করে থাকেন। অবশ্য দুই-তৃতীয়াংশ নারী উত্তরদাতা জানিয়েছে যে তারা নিয়মিত অথবা মাঝে-মধ্যে পারিবারিক কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরত্ব পান। নারী ঋণগ্রহীতাদের এক-চতুর্থাংশ এখনো পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন। এক্ষেত্রে স্বামীই প্রধান নির্যাতক। নির্যাতনের শিকার যারা হন বলে জানিয়েছেন তাদের ৬০% বলেছেন যে, ঋণগ্রহণের পর নির্যাতনের মাত্রা বেড়েছে। আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো যে, ৮২% ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকরী পরিবারের ক্ষেত্রে যৌতুকের প্রবণতা বেড়েছে। বোঝা যাচ্ছে, যেহেতু এসকল পরিবার ক্ষুদ্রঋণ সংগ্রহ করতে পারছেন সেহেতু এই পরিবারগুলোর মেয়েদের বিয়ের সময় পাত্রপ যৌতুকের জন্য বেশি চাপ দিচ্ছে।

উপসংহার
এই গবেষণায় যা পাওয়া গেছে তা হতাশাব্যঞ্জক। দেখা গেল, দারিদ্র্যহ্রাসের একটি হাতিয়ার হিসেবে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাপকভাবে সীমাবদ্ধ। তার মানে অবশ্য এই নয় যে গরীবের জন্য ঋণের প্রয়োজন নেই। বস্তুত ক্ষুদ্রঋণ ধারণায় দারিদ্র্যের সংজ্ঞায়নে শুধু আর্থিক আয়ের দিকটিই বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। যেহেতু কেবলমাত্র আয়-উপার্জনকেই বিবেচনায় আনা হয়েছে, সেহেতু ধরেই নেয়া হয়েছে যে সামান্য এই ঋণ গরীব মানুষের আয় বৃদ্ধি করবে যা তাদের গরীবি অবস্থা ঘোচাবে ও জীবনযাত্রার মান বাড়াবে। এই গবেষণায় দেখা গেল, ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতাদের অধিকাংশের আয় বাড়েনি বা তাদের অবস্থার অবনতি হয়েছে। তদুপরি, দারিদ্র্য একটি ব্যাপকতর ধারণা যা জীবন ও জীবিকার সবগুলো দিক ছুঁয়ে আছে। এখানে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো মৌলিক বস্তুগত চাহিদাগুলোর পাশাপাশি মানব মর্যাদা ও মানবাধিকারের মতো মানবিক চাহিদাগুলো রয়েছে। আরো রয়েছে মানবসমতা (শিক্ষা-প্রশিক্ষণ-স্বাস্থ্যসেবা), মানবিক মূল্যবোধ, আর্থ-সামাজিক সাম্য ও সমাজ রূপান্তরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগের বিষয় সমূহ।

দারিদ্র্য ও দারিদ্র্য-বিমোচনকে এই বৃহত্তর মানব উন্নয়নের প্রেক্ষিতেই বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে দারিদ্র্য-বিমোচনে বহুমুখী প্রক্রিয়া গ্রহণ জরুরি। তখন অন্যান্য পদেক্ষেপের পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য হ্রাস প্রক্রিয়ায় একটি উপাদান হতে পারবে। সেক্ষেত্রে ঋণের শর্তগুলো আরো সহজ হতে হবে, কিস্তি পরিশোধ ও সুদের কার্যকরহার সহজ হতে হবে। মনে রাখা দরকার ধনীরা তুলনামূলকভাবে অনেক অনুকূল শর্তে ঋণ পেয়ে থাকে।

এই ব্যাপকতর প্রেক্ষিতে দারিদ্র-বিমোচনে প্রধান বাধা সমাজের বর্তমান ক্ষমতা কাঠামো যেখানে জনগোষ্ঠীর একটি ক্ষুদ্র অংশ ক্ষমতা ও সমৃদ্ধি ভোগ করছেন ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিপরীতে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বিচ্ছিন্ন থেকে যাচ্ছেন এবং নিচুস্তরের কষ্টসাধ্য জীবন-যাপন করছেন। প্রচলিত নয়া-উদারবাদী মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারা ক্রমেই গেড়ে বসছে আর বর্তমান মতা কাঠামোকে অধিকতর শক্তিশালী করছে।

দেশের সকলের নাগরিকের জন্য কল্যাণকর টেকসই একটি সমাজ রূপান্তর প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হলে, বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি ও কার্যক্রম এমনভাবে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে যা গরীব মানুষের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারে, বিদ্যমান ক্ষমতার কাঠামো ও সম্পর্কের সাম্যভিত্তিক পুনর্বিন্যাস করতে পারে এবং সকল নাগরিকের মধ্যে সাম্য ও সংহতি নিশ্চিত করতে পারে।

২১| ৩০ শে মে, ২০০৯ সকাল ১১:২১

রাসেল ( ........) বলেছেন: গ্রামীণের ১০ পয়েন্ট চমৎকার রসিকতা ছিলো।

দারিদ্রসীমা উত্তোরণের ১০ পয়েন্ট।

২২| ৩০ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৪

ফারহান দাউদ বলেছেন: "মারুফ হায়দার নিপু বলেছেন:
ফারুক ওয়াসিফ সাহেব,
আমার কোনো যুক্তিই দেখানো লাগবে না, কারণ আমি এই লাইনে এক্সপার্ট নই।

মাইক্রোক্রেডিটের সফলতা দিবালোকের মতোন সত্য।"

ফারুক ভাই,আপনার পোস্টে এত চমৎকার কমেডি আশা করিনি:) এক্সপার্ট নন,তবে তিনি দিবালোকের মত সফলতা দেখছেন,হাহাহা।:)

লেখার বিষয়বস্তুর সাথে দ্বিমত করার মত কিছু আসলে পাচ্ছি না,গ্রামীনের,এবং ব্র্যাকের মত এনজিওগুলোর এবং এদের প্রায় প্রতিটি অঙ্গসংস্থার কীর্তিকলাপ নিয়ে অনেক কথা,অনেক লেখালেখি হয়েছে,তারপরেও কাদের জন্য এদের বিরুদ্ধে কেউ কখনো কোন পদক্ষেপ নেয়না,সেটা নিয়ে কিছু বললে ভাল হয়।

২৩| ০৭ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:০৫

গৌতম রায় বলেছেন: ফারুক ভাই, আমি এনজিওদের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে রাখছি। বুঝতেই পারছেন, এই মুহূর্তে হাত-পা বাঁধা। ঠিক মাইক্রোফিন্যান্সের ক্ষেত্রগুলো নিয়ে হয়তো আমি লিখতে পারবো না, কিন্তু শিক্ষা, জেন্ডার ও মানব সম্পদ উন্নয়ন নিয়ে তারা কী করছে, সেগুলো একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর আমি দিতে পারবো। তখন অনেকেই হয়তো বুঝতে পারবেন- বাইরে থেকে যা দেখায়, এনজিওগুলো কাজকর্ম তার ধারেকাছেও নেই।

২৪| ০৭ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:০৩

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: কাজগুলো জমা রাখেন, কাজে লাগবে।

২৫| ০৮ ই জুন, ২০০৯ সকাল ৯:৩৩

পারভেজ রবিন বলেছেন: গ্রামীণ ব্যাংকের 'সহজ রিন' নামক কুটিল রিন সম্পর্কে জানেন কি?

২৬| ০৮ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১০:১৮

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: কিছুটা জানি, আরো জানান তাহলে।

২৭| ০৮ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:০৮

সিদ্ধার্থ আনন্দ বলেছেন:
লামিয়া করিমের লেখার একটা লিংক শেয়ার করলাম। আপনাদের ভালো লাগতে পারে।

Click This Link

০৯ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৯

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ধন্যবাদ সিদ্ধার্থ, অবশ্যই কাজে লাগবে, এই লেখাটার কথা শুনেছিলাম কিন্তু দেখিনি।

ভাল থাকবেন।

২৮| ০৮ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:২২

নতুনের পথে অনন্ত যাত্রা বলেছেন: 'ক্ষুদ্র ঋণের মত এত ব্যপক না হলেও আরেকটা ব্যাবসা বেশ ভালো মতোই জাকিয়ে বসেছে- এম এল এম বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং- বিশেষ করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ এবং মধ্যব্ত্তিদের মাঝে এই পিরামিড স্কিম এর একটা ব্যাপক বিস্তার ঘটানোর কাজ করে চলেছে ডেসটিনি গ্রুপ। এরা নাকি মাঝে মাঝে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে কবির চৌধুরী কিংবা মামুনুর রশীদ দের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান ইত্যাদিও করে!'

এম এল এম বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং-এ টি বর্ততমানে এটি খুবই প্রসার লাভ করছে। যদি এ উপর কোন লেখা থাকে তাহলে জানাবেন প্লিজ!!!

২৯| ০৯ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৪

হারুন আল নাসিফ বলেছেন: ঋণরে ভাও

নামেতে ক্ষুদ্র বটে তবু সুদী ঋণ
অবলার বয়ে চলা বেজায় কঠিন।
টানিতেছি একা প্রভু কিস্তির ঘানি
গতরের খুন করে নিশিদিন পানি।

হাটে-ঘাটে খেটে শোধি দারোগার দেনা
বেগানা মরদ কতো সারে চোখ-জেনা।
ভেড়ুয়া ভাতার ভরে ভার্যার ভাত
সালুন আলুনি হলে গায়ে তোলে হাত।

টাকা-কড়ি নাড়ি-চাড়ি সেটুকুই সার
সংসারে লেগে থাকে টানা হাহাকার।
দায়-দেনা বেড়ে পিঠ ঠেকেছে বেড়ায়
সে খবর রাখে বলো শহুরে বেডায় ?

'গরিবী হটাও' নাকি ‍'গরিব হটাও'
আনপড়া নারী তার কী বুঝিবো ভাও?

০৯ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১২

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: দারুণ, ছড়াটা তো বিলি করা লাগে। ধন্যবাদ নাসিফ ভাই।

৩০| ০৯ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৫০

দূর্ভাষী বলেছেন: ক্ষুদ্রঋণ নয় ভাই বৃহৎ ঋণের বোঝা:)

৩১| ০৯ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৭

অপরাজিতা ০০৭ বলেছেন: সাপ্তাহিক ২০০০ এ এমনই পড়েছিলাম। সুত্র উল্লেখ করলে ভালো হত!:)

৩২| ০৯ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৪

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আমি আসলেই গাধা কিছিমের আছি। সূত্র দিতে ভুলে গেছিলাম। ধন্যবাদ অপরাজিতা ০০৭।

৩৩| ১০ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:০৮

হারুন আল নাসিফ বলেছেন: সংশোধনী
হবে: সে খবর রাখে কোন শহুরে বেডায়?
লেখা হয়েছে; সে খবর রাখে বলো শহুরে বেডায় ?

৩৪| ১০ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৬

হারুন আল নাসিফ বলেছেন: এটা কি ছড়া?

৩৫| ১১ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: সরি, কবিতা বা প্যারডি?

৩৬| ১২ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১০:২৭

হারুন আল নাসিফ বলেছেন: প্যারডি নয়।

৩৭| ১২ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:০৫

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ঠিক আছে।

৩৮| ১৩ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:০২

অন্যরকম বলেছেন: হলুদ বাটনে টিপি দেয়া হল! :) +

তবে কিছু বললাম না, থাক; যা বলার সবাই বলে ফেলসে! :|

৩৯| ১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৫৬

অরণ্য আশরাফ বলেছেন: আমার জানা মতে ক্ষুদ্র ঋনকার্যক্রমে যারা কাজ করে বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে তাদের কারোই নাকি বেতনের টাকায় হাত দিতে হয় না ? এব্যাপারে কোন তথ্য হাজির করতে পারছি না। তবে গ্রামীন ব্যাংকে কাজ করে এমন দু এক জনের কাছ থেকেই এ তথ্যটা পাওয়া।

৪০| ১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:০৭

ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ধন্যবাদ অন্যরকম এবং অরণ্য আশরাফ।

গ্রামীণের ঋণ আদায় কর্মীদের বাড়াবাড়ি থাকতেই পারে। এটাকে মনে হয় রাজার বাড়ির পেয়াদার হম্বিতম্বি হিসেবে দেখা যেতে পারে, ক্ষমতার খুঁটিটা রাজা, সেই ক্ষমতার তাপে পেয়াদাও কিছুটা পোড়ে বলে সেটা তখন গফুর-সলিমদের মতো কৃষকদের ওপর তেজষ্ক্রিয়া ঘটায়।

তবে এখানে আমাদের আলোচনা গ্রামীণের দাবি কতটা সঠিক সেটা নিয়ে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.