| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গোল্ডেন রেশিও
গোল্ডেন রেশিওকে প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর অনুপাত হিসেবে মনে করা হয়। আমাদের প্রিয় এই দেশ, সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা হোক গোল্ডেন রেশিওর মতই সুন্দর।
২৪/৩/২০১৪
রাতপৌনে ১০টা।
কিছুকথা লিখতে বসেছি, যা লিখে না রাখা হবে মস্ত বড় ভুল। নাহলে কিছুকাল পরেই হয়তো হয়েযাবে বিস্মৃত। হ্যা, আমি লিখতে বসেছি গতকালের কথা, ২৩ মার্চ ২০১৪ এর কথা, যেদিনটির প্রসঙ্গে এক বাক্যে বলতে হয় ‘ আমি বিজয় দেখেছি’
প্রথমেইকিছু কথা বলেনেয়া ভাল। ২০১৪ সালটি আমার জন্য বয়ে এনেছে একরাশ হতাশা, কেড়ে নিয়েছে সিংহভাগআত্মবিশ্বাস। গতবছর প্রচুর পরিশ্রম করেও এবার গণিত উতসবে বিভাগীয় পর্যায় থেকেই বাদপড়ে গেলাম। ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে নযাশনালে বেশ ভাল পরিক্ষা দিয়েও কোন লাভ হল না।সায়েন্স অলিম্পিয়াডে আমার দেখে মানুষ ২য়, ৩য় হল আর আমি কিছুই হলাম না। Failure is the pillar of success. এই বছর এত্তবেশি পিলার হয়েছিল যে পিলার বেচার জন্য ক্রেতা খুজছিলাম।
যাহোক, এর মধ্যে বলে রাখা ভাল অলিম্পিয়াড সমূহে বিশালাকৃতির বাঁশ খাইলেও বিতর্কে এবছর ছিল অনেক ভাল। যদিও দুদকের বিতর্কে বিভাগীয় পর্যায়ে বিচারকদের অতি সুষ্ঠু (?) বিচারেবাদ পড়তে হয়েছিল, তবুও একথা বলাই যায় স্বর্গ-শিহাবের যুগলবন্দী হয়ে গিয়েছিল প্রায়অপ্রতিরোধ্য।
৮মার্চ দিনাজপুরের এডীসি শিক্ষা জনাব তৌফিক ইমাম স্যরের সাথে বৈঠকে আন্তঃস্কুলবিতর্ক এবং বিজ্ঞানমেলা আয়োজন নিয়ে কথা হয়। তো এরপর আমরা ম্যাথ ক্লাবের জন্য ভাল একটিপ্রজেক্ট বানানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি। একাজে নিরন্তর এক অনুপ্রেনার নাম মোকিদহায়দার শিপন। তিনি না থাকলে হয়তো আমরা প্রজেক্টটা দাড়া করাতেই পারতাম না। আরো ব্যস্তহয়ে পড়ি আমাদের স্কুলের ডিবেট টিম গঠনের জন্য। প্রথমে আমি না থাকার সিদ্ধান্তনিলেও পরে শিহাবের চাপাচাপিতে দলে থাকার সিদ্ধান্ত নেই।
যাহোক,ভুমিকা আর বাড়াবো না। এর মধ্যে শুরু হয়ে গেছে বিজ্ঞানমেলা, পরপর ৪টি দলকে হারিয়েফাইনালে দিনাজপুর জিলা স্কুল। প্রতিপক্ষ কলেজিয়েট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এবার আসাযাক২৩ মার্চের ঘটনায়।
সকালেঘুম থেকে উঠার পর মনে প্রচন্ড টেনশন। এ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই দলের লড়াইয়ে আমরাএগিয়ে থাকলেও( আমি আর শিহাব আগে একবার কলেজিয়েটকে হারিয়েছি )। আমি খুব ভাল করেইজানতাম, দিনাজপুর জিলা স্কুলকে যদি কেউ আটকে দিতে পারে তাহলে সেটা কলেজিয়েট।
যাহোক, সকাল১০টায় স্কুল গেলাম রিহারসেল মারতে। রিহারসেল দেখে আমাদের ১ম বক্তা নিয়ে সামান্যতমযে টেনশন ছিল, তা ও দূর হয়ে গেল। বাসায় এসে স্ক্রিপ্ট আরো ভাল করে মুখস্ত করলাম।
স্কুলেগিয়ে মাথায় যেন বজ্রাঘাত হল। যেদিকে তাকাই খালি কলেজিয়েট আর কলেজিয়েট। আমাদের স্কুলে আমরাইহাততালি পাব না?? ভাবতেই খারাপ লাগছিল। যাহোক, স্টেজে গিয়ে বসলাম। আমাদের ১মবক্তা ফাটায় বক্তৃতা দিল। এবার ওদের ১ম বক্তার পালা। ওদের ১ম বক্তার ২-১টা যুক্তিআমার ভাঙ্গার কথা। তো আমি ১টা যুক্তি লিখে খালি ভাবতে শুরু করসি কি বলে সেটা ভাঙব,এমন সময় মাত্র সোয়া ৩ মিনিটে( ফুল টাইম ৪ মিনিট ) বক্তৃতা শেষ করে দিল ওদেরদলের ১ম বক্তা। আমার নাম আযানাউন্স হয়ে গেল। আমি ভাবার সময় ই পেলাম না, আসলে কিবলে যুক্তিটা ভাঙব। তো গেলাম মঞ্চে। ভূমিকাটা ভালই বললাম। এইবার বললাম, ‘বিজ্ঞ প্রতিপক্ষ বলে গেলেন …… এর কথা,( বিতর্কের বিষয় টানতে ইচ্ছাকরছে না ) এইটা আবার কেমন কথা??’ আমার এরূপআজব যুক্তিখন্ডন দেখে আমি নিজেও ভয় পেয়ে গেলাম। এজন্য পরের পয়েন্টটা ভাল হল না।অবশ্য তারপরের ৫টা পয়েন্ট ভালই হয়েছিল। যাহোক, ওদের দলের ২য় বক্তা ভাল বল্লেও খুববেশি প্রশ্ন ছুড়ে দিতে পারে নি। আমাদের দলনেতাও তাঁর স্বাভাবিক পারফরমেন্সদিয়ে আসল। বেশ ভালই হল।এবার আসা যাক, ওদের দলনেতার প্রসঙ্গে। অতীব কুটবুদ্ধিসম্পন্ন তাদের দলনেতার বুদ্ধি হল গঠনমুলক পর্বে যুক্তিখন্ডন আর যুক্তিখন্ডন পর্বেগঠনমুলক বক্তব্য দেয়া, যেহেতু তাদের বক্তব্য শেষে। কিন্তু তারা জানত না, এই কুটবুদ্ধিরজন্য তারা কত বড় বাঁশ খেতে চলেছে। যাহোক, বিতর্ক শেষ হল। পারভেজ স্যরতাঁর স্বভাব অনুযায়ী প্রত্যেকের প্রশংসা করলেন। এখন মডারেটর রিপন স্যর বললেন,ফলফলে হয়তো অনেক নাটকিয়তা আছে। যে শ্রেষ্ঠ বক্তা হইসে, তাঁর দল না ও জিততে পারে। শ্রেষ্ঠবক্তা হয়ে গেল শিহাব। আমার মাথায় তখন হাত। আমরা মনে হয় হেরেই গেছি। কিন্তু বিজয়ীদলের নাম শোনার সাথে সাথেই শোনা গেল এক গগনবিদারী চিৎকার। চারপাশ থেকে জিলাস্কুলের সমর্থকেরা আনন্দে অভিনন্দন জানাচ্ছে তাদের প্রিয় দলকে।
আমারোআনন্দ প্রকাশ করার কোন ভাষা ছিল না। বাঁশের বছরে এতবড় সাফল্য, এতোকল্পনাতীত।
এবারচলে আসলাম ম্যাথ ক্লাবের স্টলে। এই ২ দিন ডিবেটে ব্যস্ততার জন্য প্রজেক্টে সময়দিতে পারি নি ( ২য় দিন বিশাল ১টা মিস হয়ে গেছে
) । এবার শুরু করলাম প্রজেক্ট বোঝান। ৫এর গুনিতক দিয়ে গুন করার শর্টকাট, আর বৃত্ত এবং বর্গ দিয়ে পাই এর মান বুঝিয়েছি বেশঅনেকবার। টপোলজির প্রজেক্টটাও বুঝিয়েছি ১ বার। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ আমরা গোপনসুত্রে খবর পেয়ে যাই, বিশেষ বিভাগে আমাদের দিনাজপুর ম্যাথ ক্লাব ১ম হয়েছে। এবার আমরাআরো ভাল করে বোঝাতে শুরু করি।
এবারশুরু হল পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান। জুনিওর বিভাগে ১ম হল আমাদেরপ্রানের স্কুল দিনাজপুর জিলা স্কুল, মঞ্চে উঠলাম ম্যাথ ক্লাবের ১ম হওয়ার পুরস্কারনেয়ার জন্য। নেমেই আবার মঞ্চে ওঠার জন্য দৌড় দিলাম বিতর্কের পুরস্কার নেয়ার জন্য।আমাদের পুরো টিমকে ২০০০ টাকা, সবাইকে সনদপত্র এবং ১টা করে বৈ দেয়া হল। এবার মঞ্চথেকে নেমে বেশ ক’বার ফটোসেশনকরলাম। মন যেন উড়ছিল আকাশে। সকল সেকশনেইপেয়েছি প্রাইয, আরো পেয়েছি অনেক সম্মান। হয়তো বিধাতা এটি দেবেন বলেই আমাকে গণিতউৎসব থেকে ছিটকে দিয়েছিলেন।
রাত১০:৪৫
লেখাশেষ। ভাবছি, গণিত উতসবে জিতলে ভাল হত, নাকি এতেই ভাল হয়েছে। এর কোনই সদুত্তর মনে হয় নাকোনদিন পাওয়া যাবে। এটা না হয় রহস্যই থাক। এবার তাকাই সামনের দিকে।
©somewhere in net ltd.