নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অসুস্থ মস্তিষ্কের ব্লগ

ভালবাসি গণিত এবং এর সৌন্দর্য। আর গণিত কে ভালবাসা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের জন্য কিছুটা কঠিন।

গোল্ডেন রেশিও

গোল্ডেন রেশিওকে প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর অনুপাত হিসেবে মনে করা হয়। আমাদের প্রিয় এই দেশ, সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা হোক গোল্ডেন রেশিওর মতই সুন্দর।

গোল্ডেন রেশিও › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমি এবং কাজী মোতাহার হোসেন গণিত ক্যাম্প

২৬ শে মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪৫

[এই লেখাটি লিখেছিলাম ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে। তখন তো আর ব্লগ লিখতাম না, তাই ছাড়া হয় নি। গতবছরটা ছিল স্বপ্নের মত। যা কিছুতে হাত দিয়েছিলাম সবখানেই সোনা ফলেছিল। এবছর যেন ঠিক তার বিপরীত। তাই গতবছরের সুখস্মৃতিগুলোতেই প্রেরণা খুজে ফিরছি। গতবার জাতীয় ক্যাম্পে ছিলাম, ছিলাম কাজী মোতাহার ক্যাম্পেও। কিন্তু এবার বাদ পড়ে গেলাম ডিভিশনালেই। অনলাইন ক্যাম্প করে যদিওবা ডাক পাই, হয়তোবা বাবা মা পারমিশন দেবে না :(( । আগামীবছরের অপেক্ষা করা ছাড়া কিছুই করার নেই.......]



১৫ সেপ্টেম্বর।।



(প্রথমেই বলে রাখি,আজকে মনটা খুব খারাপ। কালকে যেখানে আশেপাশে ২০-৩০ জন পাবলিক ছিল, সেখানে আজকে শুধুদুজন। আমি আর আমার বোন। খুবই একা একা লাগছে। হয়তোবা স্কুল গেলে ভাল হত। কিন্তু আমিবাসায় এসে একটা ঘুম দিসি, আর উঠে দেখি সাড়ে ১২টা। যাহোক এই ব্যথিত মনে আমি কাজী মোতাহার হোসেন গণিত ক্যাম্পেরকিছু স্মৃতি লিখে রাখতে চাই। কাজী মোতাহার হোসেন গণিত ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয় ১২-১৪সেপ্টেম্বর।)





১২ সেপ্টেম্বর।।



আমি বাবার সাথে ১২তারিখ ১০টার দিকে ভ্যেনুতে পৌছাই। এক মিনিটও রেস্ট না নিয়ে ক্লাসে দৌড় দেই। ওখানে সংক্ষিপ্ত পরিচয় পর্ব শেষেক্লাস শুরু হয়। জাতীয় ক্যাম্পের বন্ধুদের সাথে অনেকদিন পর দেখা। স্বাভাবিকভাবেইআমি গল্প করতে শুরু করলাম। এই সময় ইশফাক ভাই কম্বিনেটোরিয়াল প্রুফ বোঝাচ্ছিল। সেআমাকে কথা বলা অবস্থায় দেখে ফেলে এবং শাস্তি স্বরূপ আমাকে মেয়েদের লাইনে বসিয়েদেয়। মেয়েদের লাইনের বামদিকে দুটো চেয়ার ফাকা ছিল। আমি সবচেয়ে বামেরটায় বসলাম।ইশফাক ভাইয়া তো এসে পুরাই চটে গেসে। আমারে জিগায়, অই ছেলে তুমি দানের চেয়ারটায় বসনাই ক্যান? তুমি কি মেয়েদের লজ্জা পাও। আমি সত্য কথাটাই বললাম, আমি আসলেই মেয়েদের থেকে একটু দূরে দূরে থাকতে পছন্দ করি। তবুও ইশফাকভাইএর ধমক খেয়ে ৬ এর একটা বাচ্চার পাশে বসলাম( পিয়া/রিয়া )। যাইহোক এরপর আর গল্পকরার অবকাশ পাই নাই। ক্লাস নিল মাহি ভাইয়া। নিজেকে লিলাবতি ক্যাম্পের বিস্মরণযোগ্য ট্রেইনার বলে দাবি করল। ১২টার সময় হাল্কা নাস্তা খাইতে যাই। এরপর অল্প কিছুক্ষন ক্লাসকরে আবার দুপুরের খাবার। দুপুরের খাবারের পর সৌমিত্র ভাইয়ার লেকচার শুরু হয়।লেকচার ভাল ছিল। কিন্তু একদিনে এতকিছু শেখান হয়েছিল যে দিনশেষে কিছুই মনে ছিল না।লেকচারের মধ্যে স্বল্প বিরতিতে আমরা বিকেলের নাস্তা খাইতে যাই। নাস্তা খাওয়া কেবলশুরু করসি, এমন সময় দেখি বৃষ্টি আপু আমাকে ডাকতেসে। গেলাম শুনতে। বৃষ্টি আপু বললচেয়ার নিয়ে ওখানেই বসতে। আমি প্রবল অনিচ্ছাসত্ত্বেও বসলাম মেয়েদের টেবিলে। এইবারশুরু হইল পচানি। তুমি মেয়েদের ভয় পাও ক্যান? ভয় পাওয়ার রহস্য কি? অনেক্ষন ধরেক্যাম্পের সব মেয়েরা মিলে আমারে পচাইল।( তবে পচানিতে ভালই হইসে। তাও তো আমাকেকয়েকজন বেশি চিনসে। পচানি যদি না মারত, এটা একটা গ্যারান্টি মারা সত্যি কথা যে,আমাকে কোন মেয়েই চিনত না।) লেকচার শেষহওয়ার পর খেয়েদেয়ে রুমে গেলাম। এরমধ্যে সবাই মিলে কিছুক্ষন ট্রুথ এন্ড ডেয়ার খেলাহইসে। অনেক মজা পাইসি খেলাটাতে। খেলা শেষে রুমে গেলাম। কিন্তু ক্যাম্প কি আর ঘুমেরজায়গা? এই জিনিস্টা মাথায় রেখে দিনাজপুর থেকে এক ডেক তাস কিনে নিয়ে গেসিলাম। শুরুহইল ২৯ খেলা। আমি আর আসিফ বনাম সাকিব আর শহিদুল। খেলার মধ্যে তূর্য ভাই আসলো।জিগাইলাম, খেলবা নাকি?। ভাইয়া বলল, সে ২৯ খেলতে পারে না। তবে আমরা যদি চাই তাইলে এ৬৯ Practically করে দেখাইতে পারে। কিন্তু আমাদের কারো ৬৯ দেখার ইচ্ছা ছিল না। শহীদুলের বোকামিতে ম্যাচজিতে ৪টায় ঘুমাইতে গেলাম।



এই অংশটুকু মেয়েদের পড়া নিষেধ।। (কেউ পড়তে চাইলে নিজ দায়িত্বে এই গালিময় অংশ পড়তে পারে।)



এইবার ক্যাম্পে প্রায় সবসময়ই মুখ খারাপ করে গালিগালাজ হইসে। আমি-তাহমিদ-আসিফ-সাকিব-কিরিটি সহ প্রায় সকলেই বাল - বোকচোদ প্রভৃতি কমন গালি ইউস করসে। এসব নিয়ে জারুয়ামি হইসে প্রচুর। ওখানে গিয়ে জানতে পারলাম জাউড়া আর জারুয়া আসলে একই জিনিস। এটা শেখানোর জন্য আসিফ ও তাহমিদকে ধন্যবাদ।



১৩ সেপ্টেম্বর।।



ঘুম থেকে উঠলাম পৌনে৭টায় কিরিটির অ্যালার্ম শুনে। শালা এত্ত জোরে বাজতেসে তাও জাগে না। বন্ধও হয় না।শেষ পর্যন্ত আমাকেই উঠে বন্ধ করতে হইল। নাস্তা শেষে ক্লাসে গেলাম। ছোটখাট কিছু জিনিস শিখিয়ে সৌরভ ভাই ঘোষণা দিল যে ৫টায়পরীক্ষা, আমরা সবাই যেন নিজ রুমে গিয়ে প্রস্তুতি নেই। কিন্তু আমরা অত ভাল ছিলামনা। রুমে এসে সবাই মিলে তাস(ব্লাফস) খেলা শুরু করলাম। পরীক্ষা দিতে গেলাম। পরীক্ষার প্রশ্ন সোজাই ছিল।কিন্তু প্রশ্ন ঠিকভাবে না বোঝাএবং সহজ ক্যাল্কুলেশন ভুলের জন্য ৮টার মধ্যে ৪টাই নিশ্চিতভাবে কাটা গেল। এরপররাতের খাবার খেয়ে শুরু হল মুভি দেখা। প্রথমে লুপার নামক একটা মুভি দেখতে চাইলেওসামান্য(?) অঘটনের( মাসুম, তমাল ভাইদের নিয়ে গঠিত সেন্সর বোর্ডের অজান্তে একটা সিরাম সিন চলে আসছিল।) শিকার হয়ে সেটা দেখা হয় নি। দেখানো হয় প্রেস্টিজ নামক একটামুভি। মুভি দেখে আবার যথারীতি ৪.৩০ পর্যন্ত তাস খেলে ক্যাম্পের শেষ রাত উদ্যাপনকরলাম।





১৪ সেপ্টেম্বর।।




ঘুম থেকে উঠলামদেরিতে। নাস্তা খেয়ে ক্লাসে গেলাম। সবাই সবার ক্যাম্প অভিজ্ঞতা শেয়ার করল। ছেলেরা মেয়েদের আর মেয়েরা ছেলেদের নাম মুখস্ত বলল। আমি কারো নাম না জানলেও আমার লেকচারের আগেই সবাইকে জিজ্ঞেস করে নাম জেনে নিলাম। এর মধ্যে প্রায় সব ছেলেদের আমি পচাইলাম। কিন্তু আমি যখন লেকচার দিতে আসি তখন কেউ আমাকে পচানোয় আগ্রহ দেখাল না। এজন্য আমি সবার কাছেকৃতজ্ঞ। এরপর সারটিফিকেট দেয়া হল। ছবি তুলা হল। পূর্বাশার ক্যামেরার মনে হয় মানসিকসমস্যা আছে। আল্লাহর ওয়াস্তে সব ছবিই ঘোলা। এরপর খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই একে একে চলে যেতে শুরু করল। এই সময়টা মন খুবখারাপ থাকে। সবাই চলে যাওয়ার পরও আমিআর সিয়াম অনেকক্ষন ছিলাম। শহিদুল আবার এসেছিল ফেলে যাওয়া জুতা নিতে। এরপর ফুফাআমাকে নিতে আসলে সিয়াম আর আইউব ভাইকে বিদায় জানিয়ে আমি চলে আসলাম।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২৩

সুমন কর বলেছেন: স্মৃতিচারণ ভাল লাগল। শুভেচ্ছা রইল।

২৭ শে মে, ২০১৪ রাত ৯:২৭

গোল্ডেন রেশিও বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া। আশীর্বাদ রাখবেন।

২| ১১ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১২:৩১

আশরাফুল কে বি বলেছেন: আপনার ক্যাম্প অভিজ্ঞতার সাথে আমার ক্যাম্প অভিজ্ঞতার দেখছি বেশ মিল।এছাড়াও আমিও যেবার ক্যাম্পে গিয়েছিলাম এর পরেরবার ডিভিসনাল থেকেই বাদ পরে যাই।খুব মন খারাপ হয়েছিল সেবার।আপনার সুন্দর সৃতিচারণের জন্য ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.