| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গোল্ডেন রেশিও
গোল্ডেন রেশিওকে প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর অনুপাত হিসেবে মনে করা হয়। আমাদের প্রিয় এই দেশ, সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা হোক গোল্ডেন রেশিওর মতই সুন্দর।
প্রথমে বলে রাখি, এটা আমার লেখা প্রথম সায়েন্টিফিক পেপার। কিছু ভুল ভ্রান্তি থাকতে পারে। এটা আমি এফএসআইবি আয়োজিত বিজ্ঞান কংগ্রেস ২০১৪ তে উপস্থাপন করি। তবে কোন পুরস্কার ভাগ্যে জোটেনি।
--------------------------------------------------------------------
সারসংক্ষেপ
এই পেপারে আমরা বয়সভেদে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করেছি। অর্থাৎ, পর্যবেক্ষণের বিষয় ছিল বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বয়সের মানুষের দৃস্টিকোণের পার্থক্য। বর্তমানে দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষত টিন এজ বয়সেই এই হার বেশি। এর অন্যতম প্রধান কারন হিসেবে ভাবা হচ্ছে জেনারেশন গ্যাপ তথা দুই প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধের পার্থক্যকে। তাই এই জেনারেশন গ্যাপ সম্পর্কে বিভিন্ন বয়সের মানুষকে সচেতন করতে (যেন তারা বুঝতে পারে তাদের চিন্তাধারা এবং অন্য প্রজন্মের একজনের চিন্তাধারা এক নয়) এই কাজটি করেছি। এ বিষয়ে ধারণা পাওয়ার জন্য আমরা কয়েকটি প্রশ্ন তৈরি করি, যাতে বয়সভেদে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য ফুটে ওঠে। এর পর বিভিন্ন বয়সের ৭১ জন মানুষের উপর প্রশ্নগুলো দিয়ে জরিপ চালাই । এদের বয়স ছিল ১৩ বছর থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। এ প্রশ্নের উত্তরগুলো থেকে আমরা জেনারেশন গ্যাপের স্বরূপ বুঝতে সক্ষম হই। অর্থ্যাত পারিপার্শ্বিকতার কারণে বিভিন্ন বয়সের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য হয়ে থাকে। প্রতিটি মানুষকেই এ বিষয় বুঝে অন্য প্রজন্মের মানুষের সাথে ব্যবহার করতে হবে, মাথায় রাখতে হবে তার মনোজগত ভিন্ন । পরস্পরের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব এই জেনারেশন গ্যাপ কমাতে ভূমিকা পালন করতে পারে।
১. ভূমিকাঃ
১.১. প্রশ্নঃ আমরা মূলত বয়সভেদে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন তথা জেনারেশন গ্যাপ সম্পর্কে কাজ করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, জেনারেশন গ্যাপ এ কি কি বিষয়ে মত পার্থক্য হয় এবং কিভাবে এই ব্যবধান ঘোচান যায় তা বের করা।
১.২. আইডিয়া প্রাপ্তিঃ কিছুদিন আগেই আমার এক সহপাঠী গলায় ফাস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। কারণ হিসেবে জানা যায় তার বাবা-মা এর সাথে সম্পর্ক ভাল ছিল না, পিতা-মাতা তার মতামত কে গুরুত্ব দিত না। তখন থেকে আমি খুজতে চেস্টা করি আত্মহত্যা প্রবণতার কারণ কি। কারণ হিসেবে সামনে আসে ডিপ্রেশন নামক মানসিক ব্যাধি। ডিপ্রেশন অর্থ হতাশা। আর টিন এজ বয়সে হতাশার প্রধান কারণ হিসেবে সামনে আসে জেনারেশন গ্যাপ।
১.৩. এ বিষয়ে কাজ করার কারণঃ বর্তমান সময়েও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় পিতা-মাতা সন্তানের অনুভুতিগুলো সম্পর্কে সচেতন নয়। তারা তাদের সিদ্ধান্ত সন্তানের উপর চাপীয়ে দিতে চায়। তারা সন্তানের মঙ্গল হবে ভেবেই এমনটি করেন, কিন্তু এতে মঙ্গল তো হয় ই না, উপরন্তু সন্তানদের মনে ধারণা জন্মে পিতামাতা তার ভাল চায় না, তাকে বুঝতে চেস্টা করে না। এসব চিন্তা তাকে হতাশাগ্রস্ত করে তোলে এবং আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। তাই পিতামাতা এবং সন্তান উভয়কে সচেতন করা যে, দুজনের চিন্তাভাবনা একরকম নয়, এই সচেতনতা সৃস্টীর জন্যই আমরা কাজটি করেছি। কেননা আমাদের মাথায় ছিল এই বিষয়ে সচেতনতা সৃস্টি করতে ব্যার্থ হলে হয়তোবা আত্মহত্যা করার প্রবণতা কমান যাবে না।
১.৪. হাইপোথিসিসঃ গবেষণার পূর্বে আমাদের অনুমিত সিদ্ধান্তগুলো ছিল নিম্নরূপঃ
১। জেনারেশন গ্যাপ অর্থাৎ, ভিন্ন প্রজন্মের মানুষের পৃথক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
২। জেনারেশন গ্যাপ বলে কিছু নেই।
৩। নতুন প্রজন্মের সব বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পুরনোদের চেয়ে আলাদা।
৪। নতুন প্রজন্মের কিছু বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পুরনোদের চেয়ে আলাদা।
১.৫. জরিপ পরিচালনাঃ এই বিষয়ে সম্যক ধারণা অর্জনের জন্য আমরা ১০ থেকে ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত ৭১ জন মানুষের উপর একটি জরিপ চালিয়েছিলাম, যাতে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে সে বিষয়গুলোর প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। এই জরিপে প্রাপ্ত তথ্য থেকেই আমরা কিছু সিদ্ধান্ত এবং ফলাফল নিই।
১.৬. প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ও ফলাফলঃ জরিপে প্রাপ্ত তথ্য থেকে আমরা দেখতে পাই নতুন প্রজন্ম এবং পুরনো প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে তবে কিছু কিছু বিষয়ে সাদৃশ্য ও রয়েছে। দুই প্রজন্মের মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলক মনোভাব ই পারে এই ব্যাবধান ঘোচাতে।
২. কার্যপদ্ধতিঃ
আমরা বয়সভেদে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে একটি জরিপ চালিয়েছিলাম। জরিপের বিস্তারিত নিচে দেয়া হল।
২.১. প্রশ্ন নির্ধারণঃ জরিপের জন্য আমরা এমন কিছু প্রশ্ন নির্ধারণ করেছিলাম যেন বয়সভেদে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সহযেই ফুটে ওঠে। এই জরিপ পরিচালনার জন্য ৭টি প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রশ্নগুলো নিচে দেয়া হলঃ
১। দেশের উন্নতিতে কোন দিকটিকে প্রাধান্য দেবেন?
২। পত্রিকার কোন বিষয়টি আগে পড়েন?
৩। কিশোরদের প্রযুক্তি ব্যবহার কে কেমন চোখে দেখেন?
৪। সহশিক্ষা কার্যক্রম(ছেলে-মেয়ে একসাথে পড়া) সমর্থন করেন কি?
৫। বিভিন্ন সৃজনশীল প্রতিযোগিতায় সবার অংশগ্রহন মেধা বিকাশে সহায়ক। - একমত?
৬। অবসর সময়ে কি করতে পছন্দ করেন?
৭। রক্ষনশীলতা সমর্থন করেন কি?
এই প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে আমরা বুঝতে চেস্টা করেছিলাম বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কি রকম।
২.২. জরিপের ধরণঃ আমরা জরিপ পরিচালনা করেছিলাম উপরের প্রশ্নগুলো ফর্ম আকারে ছাপিয়ে। এর ফলে আমাদের জরিপ পুরোপুরি প্রামাণ্য।
২.৩. জরিপের স্থানঃ প্রধানত 'রেডন' নামক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭ম থেকে ১০ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রী এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের উপর আমরা জরিপটি পরিচালনা করি। এরপর আমাদের নিজের এবং কয়েকজন বন্ধুর বাবা-মা, দাদা-দাদির উপর জরিপ পরিচালনা করি। অর্থাৎ আমাদের জরিপের স্যম্পলদের বয়স ১০ থেকে ৭০ বছর বছরের মধ্যে।
২.৪. জরিপ পরবর্তী কাজঃ নিজেদের প্রাপ্ত জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণের পর আমরা ইন্টারনেটের কিছু জরিপ পর্যবেক্ষণ করি এবং তাদের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দেখি। এসব সিদ্ধান্ত থেকে আমাদের নিজের জরিপের ফলাফল মিলিয়ে সিদ্ধান্তে আসি।
৩. ফলাফলঃ
জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। ১ম গ্রুপের বয়স ১০ থেকে ৩৫ এর ভেতর আর বাকিদের বয়স ৩৬ থেকে ৭০ এর ভেতর। প্রাপ্ত তথ্য থেকে কয়েকটি প্রশ্ন নির্বাচিত করা হল যাতে জেনারেশন গ্যাপের বিষয়টি ফুটে ওঠে।
১। অবসর সময়ে প্রিয় কাজ কোনটি?
জরিপ থেকে দেখা যায় ১০-৩৫ বছর বয়সী মানুষদের সবচেয়ে প্রিয় শখ গান শোনা অন্যদিকে ৩৬-৭০ বছর বয়সী মানুষদের সর্বাধিক প্রিয় শখ টিভি দেখা। নিচে এসব তথ্য গ্রাফে উপস্থাপন করা হল।

২। রক্ষনশীলতা সমর্থন করেন না এমন মানুষদের বয়স কত?
জরিপ থেকে দেখা যায় ৩৬-৭০ বছর বয়সী একজন মানুষ ও নেই যিনি রক্ষনশীলতা অপছন্দ করেন। তাই আমরা ১০ থেকে ৩৫ বছরের মানুষকে দু ভাগে ভাগ করেছি যথা ১০ থেকে ২০ বছর বয়সী মানুষ এবং ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী মানুষ। এখানে দেখা যায়, যারা রক্ষনশীলতা সমর্থন করেন না তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত নতুনদের সংখ্যা বেশি। এই তথ্য ও গ্রাফের মাধ্যমে দেখানো হল।

৩। 'বিভিন্ন সৃজনশীল প্রতিযোগিতায় সবার অংশগ্রহন মেধা বিকাশে সহায়ক।' একমত? এই বক্তব্য সমর্থন করেন না ১০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এমন একজন মানুষ ও নেই, ৩৬ থেকে ৭০ বছর বয়সী এমন মানুষ আছেন মাত্র ১ জন।
৪। টিন এজ বয়সে ছেলে-মেয়ের একসাথে পড়ালেখা করা সমর্থন করেন না এমন মানুষের বয়স কেমন? আশা করা হয়েছিল, এখানে ২১-৭০ বছর বস্করা হবেন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু জরিপের ফলাফল ভিন্ন ফলাফল প্রদান করেছে যা গ্রাফে দেখান হল।

৫। যারা মনে করেন কিশোরদের প্রযুক্তি(মোবাইল-ইন্টারনেট) ব্যবহার ভাল চোখে দেখেন তাদের বয়স কেমন?
জরিপে প্রায় ৭০% মত পেয়ে নিরঙ্কুশ ভাবে এগিয়ে ছিল প্রযুক্তি ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখা উচিৎ। যারা ভাল চোখে দেখেন তাদের ২/৩ অংশের বয়স হল ১০-৩৫ বছর এবং বাকি ১/৩ অংশ এর বয়স হল ৩৬-৭০ বছর।
৬। পত্রিকায় কোন পাতা আগে পড়েন?
১০-৩৫ বছর বয়সী মানুষদের সবচেয়ে পছন্দের পাতা হল খেলাধুলা ও বিনোদন। প্রায় ৩৭.২৫% মানুষ এ পাতা আগে পড়েন। বাকিরা বিভিন্ন পাতায় বিভক্ত। আর ৩৬-৭০ বছর বয়সী মানুষদের অধিকাংশের পছন্দের পাতা হল ১ম পাতা।। তাদের ৪০.৫৬% মানুষ খবরের কাগজ হাতে পেলে প্রথমে প্রথম পাতা পড়েন।
৪. আলোচনাঃ
৪.১. ফলাফল বিশ্লেষণঃ ১ম প্রশ্ন অর্থাৎ, প্রিয় শখ হিসেবে ৩১-৭০ বছর বয়সীদের প্রথম পছন্দ টিভি দেখা। যেখানে, ১০-৩৫ বছর বয়সীরা গান শোনাকে এগিয়ে রাখেন। মানব মস্তিষ্কের সেরেব্রাম(গুরু মস্তিষ্ক) অংশটি দেখা, শোনা, বলা, চিন্তা, বুদ্ধি এসব নিয়ন্ত্রণ করে। বয়সের সাথে সাথে এর কার্যকারিতাও কমে যায়। ফলে বৃদ্ধ বয়স্ক ব্যক্তিরা, এমন কোন কাজ করতে চান না যাতে চিন্তা করার দরকার হয়। টিভি এমনই একটি যন্ত্র। তাই বৃদ্ধদের মধ্যে টিভি দেখার হার বেশি। একইভাবে বয়স কম থাকায় ১০-৩৫ বছর বয়সীদের অধিকাংশ গান শুনতে পছন্দ করে।
২য় প্রশ্নের ক্ষেত্রে মোট রক্ষনশীলতা সমর্থন করেনা না ৩৬-৭০ বছর বয়সী এমন কাউকে আমরা দেখতে পাই না। এর কারণ হিসেবে বলা যায়, বৃদ্ধ বয়স্ক মানুষেরা তাদের সময়ে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি থেকে অনেক দূরে ছিল। তাদের মনে ধর্মীয় ভাবধারা ছিল প্রবল, যা তার মস্তিষ্কে এখনো স্থায়ী হয়ে আছে। যার ফলে ৩৬-৭০ বছর বয়সী ১ জন ও রক্ষনশীলতা অসমর্থন করেন নি যেখানে অসমর্থনকারীদের ৬২.৬% ১০-২০ এজ গ্রুপের মধ্যে। বর্তমান সময়ে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি অবলোকন এবং মুক্তবুদ্ধি চর্চার নানা মাধ্যম থাকায় নতুনদের অনেকেই রক্ষনশীলতাকে মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
জেনারেশন গ্যাপ বলতে সব বিষয়েই মত পার্থক্য বোঝায় না যা ফুটে উঠেছে ৩য় প্রশ্নে। এখানে দেখা যায়, ৭১ জনের মধ্যে ৭০ জন ই বিভিন্ন সৃজনশীল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ মেধাবিকাশে সহায়ক বলে মনে করেন। ১ জন যিনি একমত নন তিনিও ৩৬-৭০ এজ গ্রুপের মধ্যে। অর্থাৎ, এমন কিছু কিছু সর্বজন্স্বীকৃত ভাল দিক আছে যেখানে জেনারেশন গ্যাপ খুজে পাওয়া যায় না।
একই কথা বলা যায় ৫ম প্রশ্নের ক্ষেত্রেও। এক্ষেত্রে উভয় বয়সীদের যুক্তিতে প্রাধান্য পায় প্রযুক্তি ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখা উচিৎ। কিন্তু যারা প্রযুক্তি ব্যবহারকে ভাল চোখে দেখে তাদের মধ্যে ১০-৩৫ এজ গ্রুপের হল ২/৩ অংশ। এর কারণ হিসেবে বলা যায় অন্য এজ গ্রুপটি তাদের সেই বয়সে প্রযুক্তির স্পর্শ পায় নি। তাছাড়া, তারা এ বিষয়েও সন্দিহান যে, তাদের সন্তান টুলগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে কি না। তাই তাদের মধ্যে পুরোপুরি ভাল চোখে দেখার প্রবণতা কম।
৪র্থ প্রশ্নের ক্ষেত্রে যদিও ছেলে-মেয়ে একসাথে পড়া সমর্থন করে না এমন মানুষের মধ্যে ১০-২০ বছরের মানুষ ছিল ৬ জন এবং ২১-৭০ বছর ছিল ৭ জন। যদিও ১ম গ্রুপের ফলাফল প্রায় ২য় গ্রুপের কাছাকাছি, কিন্তু ১ম গ্রুপে অংশগ্রহণ ২য় গ্রুপের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। আর তাছাড়াও অনেক পরিবার সন্তানদের মাথায় এ বিষয়টি ঢুকিয়ে দেয় যে, ছেলে-মেয়ে একসাথে পড়া ভাল নয়। এটা তাদের মস্তিষ্কে থেকে যায়। এছাড়া জরিপের আওতায় থাকা ছাত্রছাত্রীড়া অধিকাংশই হয় বয়েস নয়ত গার্লস স্কুলে পড়ে। তাই তাদের মাথায় গেথে আছে যেমন চলছে, চলুক না। এজন্য কম বয়সী মানুষ ও এর বিপক্ষে তাদের মত দিয়েছে।
৬ষ্ঠ প্রশ্নের ফলাফলের ব্যাখা স্বরূপ বলা যায় যে, বেশি বয়সীদের মস্তিষ্ক অনেক পরিণত। তারা দেশ নিয়ে, মানুষ নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন। তাই তাদের ১ম পাতা-শেষ পাতা পড়ার হার বেশি। কিন্তু কম বয়সীরা পছন্দ করে গ্ল্যামার-খেলাধুলা ইত্যাদি। বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণের কারণে কৈশরের চপলতা থাকায় এমনটি হয়। তাই তারা পেপার হাতে নিয়ে প্রথমেই চলে যায় বিনোদন বা খেলার পাতায়।
৪.২. সিদ্ধান্তঃ এখানে দেখা যাচ্ছে, জেনারেশন গ্যাপ আসলেই বিদ্যমান। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুই বয়সের মতের মিল ও দেখা যায়। অর্থাৎ আমার ১ এবং ৪ নং হাইপোথিসিস সত্য। জেনারেশন গ্যাপ দূর করার প্রধান হাতিয়ার হল পরমত সহিষ্ণুতা। আগের প্রজন্মের মানুষেরা যদি নতুনদেরকে তাদের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ দেন, এবং সে মতগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন তবেই ২ প্রজন্মের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃস্টি হবে আর কমে যাবে জেনারেশন গ্যাপ। এক্ষেত্রে দ'পক্ষকেই বিবেচনায় রাখতে হবে আমার এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়, তবুও তাদের মতামতগুলো শুনে ভাল-মন্দ বিবেচনা করে অগ্রসর হতে হবে। এভাবেই জেনারেশন গ্যাপ অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।
৫. তথ্যসূত্রঃ
কাজটি করতে গিয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের শরণাপন্ন হতে হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হলঃ
১।http://www.indiastudychannel.com/resources/136541-Generation-gap-reasons-effects-solution.aspx
২। Click This Link
৩।http://www.nytimes.com/2012/06/24/opinion/sunday/the-generation-gap-is-back.html?pagewanted=all&_r=0
৪। Click This Link
৫। Click This Link
৬। Click This Link
৭। Click This Link
৮।http://www.huffingtonpost.com/elwood-d-watson/poll-finds-generation-gap-conservatives_b_5088549.html
৯। http://en.wikipedia.org/wiki/Generation_gap
৬. কৃতজ্ঞতা-স্বীকারঃ
বেশ ক'জন মানুষের সাহায্য ছাড়া এই কাজটি করা সম্ভব হত না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জরিপ পরিচালনায় সহায়তা করেছে, কেউবা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন। তাদের কাছে আমরা ঋণী। বিশেষ করেঃ
-মোহাম্মদ আলী খন্দকার; পরিচালক, রেডন।
-মোঃ আবু সোহেল রানা; স্নাতক ৩য় বর্ষ, দিনাজপুর সরকারী কলেজ।
-জোনায়েদ ইসলাম জজ; ইইই ডিপার্টমেন্ট, ২য় বর্ষ, আমেরিকান ইন্ট্যারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ।
-হাসিবুল আমিন হিমেল; কোর টিম-মেম্বার, সিএস কংগ্রেস।
-শিবলী বিন সারোয়ার; ইইই ডিপার্টমেন্ট, ৪র্থ বর্ষ, আমেরিকান ইন্ট্যারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ।
০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:০৫
গোল্ডেন রেশিও বলেছেন: ধন্যবাদ
২|
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:০৯
যাযাবর বেদুঈন বলেছেন: পুরো একটা থিসিস করে ফেলেছেন। বিষয়টা ইন্টারেস্টিং।
অভিনন্দন এমন একটি কাজের জন্য।
ভাল থাকুন শুভেচ্ছা।
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৩৬
গোল্ডেন রেশিও বলেছেন: এটা তো থিসিস পেপার ই। একটা কম্পিটিশনের জন্য করা থিসিস। আপনাকেও ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৩৯
হরিণা-১৯৭১ বলেছেন: ভালো কাজ