নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শেষ পর্যন্ত আশাবাদী

মোঃ খালেকুজ্জামান ফয়সাল

চাই মূল্যবোধের উন্নতি

মোঃ খালেকুজ্জামান ফয়সাল › বিস্তারিত পোস্টঃ

কোটা বিস্ফোরণ...

১০ ই জুলাই, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:২৩

মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদেরকে বাংলাদেশের সকল মানুষই সর্বোচ্চ সম্মান করে এবং করবে। সরকারী ভাবেও তাদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া হউক এটা বাংলাদেশের সকল মানুষই চায় বলে আমি মনে করি। কিন্তু এর মাঝে যেন কোন রকম বৈষম্য না থাকে। সরকারী ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অনেক সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে। আমার তথা তরুন প্রজন্মের প্রশ্ন হল সকল মুক্তিযোদ্ধারাই কি প্রকৃত সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে? আমাদের চোখের সামনেই অনেক মুক্তিযোদ্ধা দিন মুজুরী করে, রিক্সা চালায়, ভিক্ষা করে। তাদের দিকে আমরা কেউ তাখাই না। ১৬ ডিসেম্বর বা ২৬ মার্চ এলেই কেবল তাদের নিয়ে ফিচার আসে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। সরকারী ভাবে তাদেরকে পুনঃর্বাসনও করা হয় না। আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানরা কেন এভাবে মানবেতর জীবন যাপন করবে? রাষ্ট্র ক্ষমতা সব সময় সুবিধাবাদীদের হাতে, যারা নিজেরা ভাল অবস্থানে তাদের সন্তানদেরকেও ভাল অবস্থানে তারা রেখে যাবে বা যাচ্ছে।আর যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে দেশকে মুক্ত করার জন্য, যুদ্ধ করে যারা নিস্ব হয়েছে তারা আজ অসহায়।

সুবিধা বাদীদের সন্তানরাও আজ দেশের অনেক বড় বড় সুবিধা পাচ্ছে যা অনেক সভ্য দেশেই নাই, অতচ আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের একটা দেশে তারা এই সুবিধা পাচ্ছে যা কখনই কাম্য নয়।

আর তা হল “কোটা”।

কোটা ব্যবস্থা বাংলাদেশের সাধারন শিক্ষিত যুবসমাজের সবচেয়ে বড় মরণ ব্যধি।

কোটা ব্যবস্থা কেন মরন ব্যধি সেই কথায় পরে আসি, আগে বলি মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিষয়ক কিছু কথা।



মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট বিষয়ে আমার বাস্তব একটা অভিজ্ঞতা বলি-



আমার পরিচিত একজন যিনি বর্তমান সরকারের শাসন আমলে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন।যাকে আমরা আগে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে জানতাম না। আমার মনে হয় সারা দেশে শুধু তিনি নন আরও অনেকেই এই রকম মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। এবং আমার ঐ পরিচিত ব্যক্তির ছেলে এখন সরকারি চাকুরী করছেন যে কোন মতে এস,এস,সি, বা এইচ,এস,সি, পাশ করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিষয়ে বলতে গেলে আরও কষ্ট লাগে-



আমার ইউনিভার্সিটি জীবনে আমি দেখেছি অনেক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানই শিবির করছে এবং এখনও তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কখনই স্বীকার করে না।

দুঃখের বিষয় এটাই তারা বি,সি,এস, এর মত গুরুত্বপুর্ণ নিয়োগ পরীক্ষায়ও কোটা পাচ্ছে। যেখানে সাধারন শিক্ষার্থীরা তুমুল প্রতিদন্ধিতা করেও ক্যাডার হতে পারছে না সেখানে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য আলাদা সিট বরাদ্ধ। সেই সিট খালিও পরে থাকছে।

একদিকে মুক্তিযোদ্ধারা রিক্সা চালাচ্ছে, ভিক্ষা করছে অন্য দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের অযোগ্য সন্তানরা ক্যাডার হচ্ছে।

যারা এখন ভিক্ষা করছে , রিক্সা চালাচ্ছে তাদের সন্তানরা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পায় না, পায় না ক্যাডার হওয়ার সুযোগও, তাদের কাছে এই মহা মূল্যবান “কোটা” মূল্যহীন। তাদের কাছে বেঁচে থাকাই চরম স্বার্থকতা।

একদিকে দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের মানবেতর জীবন-যাপন, সাধারন অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরকারী চাকুরী থেকে বঞ্চিত, দীর্ঘ সময় বেকারত্ব বরন, দেশের প্রশাসন হারাচ্ছে মেধাবী জনশক্তি অন্য দিকে অনেক মুক্তিযোদ্ধার বাংলাদেশ বিরোধী সন্তান, অনেক ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার অযোগ্য সন্তান হচ্ছে ক্যাডার, পাচ্ছে বড় বড় সরকারী চাকুরী।

৩২ তম বি,সি,এস,-এ একজন সাধারন শিক্ষার্থীকে ৬২ নম্বর পেয়ে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়েছে অন্য দিকে ৩৩ তম বি,সি,এস,-এ একজন মুক্তিযোদ্ধার অযোগ্য সন্তানকে মাত্র ৩২ পেয়ে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেরেছে। আর ৩৪ তম বি,সি,এস, এ ঘটলো তার চেয়ও ঘৃণ্যতম ঘটনা, একদিকে ৮০ নম্বর পেয়েও সাধারন শিক্ষার্থীরা পাস করতে পারে নি আবার অন্যদিকে ৬৪ নম্বর পেয়েও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা পাস করে যায়!!!

কেন এই বৈষম্য????????????????

পাকিস্তান শাসনামলে বাঙ্গালীরা বৈষম্যের শিকার হত যেকারনে হয়েছিল ১৯৭১-এর মুক্তিযোদ্ধ আর এখন স্বাধীন বাংলাদেশে সাধারন শিক্ষার্থীরাই সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে আমরা সকলেই প্রস্তুত কিন্তু তাদের সন্তানদেরকে সকল সুবিধা দিতে আমরা তরুন সমাজ প্রস্তুত না।

মুক্তিযোদ্ধাদের দেশের সকল সম্পদ দিয়ে দিক সরকার কিন্তু আমরা সাধারন শিক্ষার্থীদের একটা সরকারী চাকুরী পাওয়ার অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করবেন না।

এটা সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে আমার আকুল আবেদন।

প্রয়োজনে আপনারা গনজরিপ করেন যদি “কোটা” এর পক্ষে জনগন রায় দেয় আমরা সাধারন শিক্ষার্থী তা মেনে নেব। কিন্তু স্বাধীন দেশে এভাবে আমাদের সাধারন শিক্ষার্থীদের অধিকার কেড়ে নেয়ার অধিকার কারও নেই।

দেশে এখন যোদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে গনবিস্ফুরণ চলছে, সরকার যেন কোটা বিরোধী আরেকটা গনবিস্ফুরণ না চায়।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ৮:০৩

মৃত্যুঞ্জয় বলেছেন: বালের কোটা X( X( X( X( X(

২| ১০ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ১১:২২

লেজ কাটা শেয়াল বলেছেন: বাঙালির ভাগ্য নয়, মালিক পরিবর্তন হয়েছে।
আগে মালিক ছিলো পাকিস্তানী, এর এখন দেশী।
এবার এঁদিকে মেয়েরাও পারে।
কি পারে?
কটা সমৃদ্ধ হতে!

৩| ১১ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:৪৬

সোহেল সি এস ই বলেছেন: এই লোটা ভর্তি কোটা নিয়ে যারা মোটা কথা বলে তাদের বোটাসহ মূলৎপাটন করলে গোটা দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.