| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
(আমার এই লেখাটি ছোটদের জন্য বিশেষভাবে লেখা শীঘ্রই প্রকাশিতব্য একটি বইয়ের অংশ বিশেষ, তবে বড়রাও এটি পড়তে পারেন এবং নিজেদের আদরের সন্তানদেরকে পড়ে শোনাতে পারেন তাতে সকলেরই উপকার হবে আশা করি। ধন্যবাদ)
ছোট্ট বন্ধুরা! তোমরা হযরত দাউদ আ. এর নাম তো অবশ্যই শুনেছো, তাই না। হ্যাঁ, হযরত দাউদ আ. মহান আল্লাহ প্রেরিত নবী-রাসূলদের মধ্যে একজন উল্লেখযোগ্য নবী ছিলেন। সেই হযরত দাউদ আ. এর বাল্যকালের ঘটনা।
হযরত মূসা আ. এর ইন্তিকালের পর অনেক সময়ে অতিবাহিত হয়ে গেছে। তিনি বনী ইসরাঈলকে যেই নীতি আদর্শের উপর রেখে গিয়েছিলেন এতোদিনে ধীরে ধীরে তার অনেক কিছুই তারা বিসর্জন দিয়ে ফেলেছে। আস্তে আস্তে বিভিন্ন প্রকার অন্যায়-অনাচার আর পাপাচার দেখা দিতে তাদের মাঝে। তারা তাদের রবের দেয়া পথ-নির্দেশনা ও নবীদের
যখন তাদের সীমা লঙ্ঘন মাত্রা ছাড়িয়ে গেলো তখন মহান আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর আমালেকা নামক একটি জালিম সম্প্রদায়কে চাপিয়ে দিলেন। তারা আক্রমণ করলো বনী ইসরাঈলের উপর। নির্বিচারে হত্যা করলো নারী-শিশুসহ অসংখ্য অগণিত মানুষকে। সেই আমালেকা জাতির বাদশাহর নাম ছিল জালুত। সেই জালুত ছিল ভীষণ অত্যাচারী। সে বনী ইসরাঈলের উপর আক্রমণ করে তাদের সকল ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিলো। তাওরাতও জোর করে হস্তগত করলো। এভাবে বনী ইসরাঈলের উপর জালুতের আকৃতিতে মহান আল্লাহর গযব আপতিত হলো এবং তা ধারাবাহিকভাবে চলতে লাগলো।
এভাবে জালিম শাসক জালুতের হাতে নির্যাতিত হতে হতে এক সময় বনী ইসরাঈলের লোকেরা তাদের ভুল বুঝতে পারলো। মহান আল্লাহর অবাধ্যতার কারণেই যে তাদের উপর এই মসিবত এসেছে তাও তারা অনুধাবন করতে সক্ষম হলো। তাই তারা এবার মহান আল্লাহর কাছে নিজেদের অপরাধের জন্য মা প্রার্থনা করলো। ফলে মহান আল্লাহ তা‘আলাও তাদের উপর অনুগ্রহ করলেন। তারা মহান আল্লাহর কাছে জালুতের এই আযাব থেকে বাঁচার জন্য একজন নবীর আবেদন জানালো। যার নেতৃত্বে তারা ঐক্যবদ্ধ হবে এবং নিজেদের ভুল-ত্র“টি শুধরে নিয়ে আবারও মহান আল্লাহর দেয়া পথনির্দেশনা অনুযায়ী নিজেদেরকে খাটি মু’মিনে পরিণত করতে সম হবে।
এভাবে মহান আল্লাহর দরবারে অনেক কান্নাকাটির পর আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন। অনেক দুর্যোগের মধ্যে হযরত শাময়ীল আ. কে তাদের জন্য নবী বানিয়ে পাঠানো হলো। মহান আল্লাহ তা‘আলা হযরত শাময়ীল আ. কে নবুওয়াত দান করলেন এবং তাকে বনী ইসরাঈলের কাছে গিয়ে তার নবুওয়াতের কথা বলার নির্দেশ দিলেন।
কিন্তু যখন হযরত শাময়ীল আ. বনী ইসরাঈলের কাছে এসে তার নবুওয়াতের কথা বললেন, তখন তারা হযরত শাময়ীল আ. কে নবী বলে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালো। এরপর তারা হযরত শাময়ীল আ. কে বললো, যদি তুমি সত্যিই নবী হয়ে থাকো তবে আমাদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে এমন একজন রাজা বা বাদশাহ্ নির্বাচন করে দিতে বলো, যার নেতৃত্বে আমরা জালুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারি। তখন হযরত শাময়ীল আ. তাদের কপটতায় চিন্তিত হয়ে তাদেরকে ল্য করে বললেন, এমন কোন সম্ভাবনা নেই তো, যে তোমাদের জন্য একজন বাদশাহ্ সাব্যস্ত করে দেয়া হলো আল্লাহর পথে জালিমদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য কিন্তু তোমরা জিহাদ হতে পলায়ন করলে? আমার তো ভয় হচ্ছে তোমাদের মতি-গতি দেখে। তখন বনী ইসরাঈলের লোকেরা উচ্চস্বরে বলে উঠল, আমাদের কি হয়েছে, কেন আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো না, অথচ তারা আমাদেরকে আমাদের ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে। আমাদের সন্তান-সন্ততিদেরকে গণহারে হত্যা করেছে।
এভাবে বনী ইসরাঈলের লোকেরা জালিম শাসক জালুতের বিরুদ্ধে জিহাদের দৃঢ়তা প্রকাশ করলো এবং পূর্বের মতো আর ওয়াদাভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতা না করার অঙ্গীকার করলো। ফলে মহান আল্লাহ তাদের জন্য একজন বাদশাহ্ বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে দিলেন।
তখন হযরত শাময়ীল আ. বনী ইসরাঈলের লোকদেরকে সরাসরি কারো নাম উল্লেখ না করে মহান আল্লাহর নির্দেশে একটি কৌশল অবলম্বন করলেন। তিনি একটি লম্বা লাঠি নিয়ে এসে বললেন, তোমাদের জন্য যে বাদশাহ্ হবে এই লাঠির সমান তার দৈর্ঘ হতে হবে। তখন উপস্থিত সকলে নিজেদের দেহের সাথে ঐ লাঠির তুলনা করলো কিন্তু কারো সাথেই তা মিলল না। এমন সময় তালুত নামক জনৈক সাধারণ ব্যবসায়ী সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। তালুত লোকদেরকে হযরত শাময়ীল আ. এর কাছে জড়ো দেখে তাদের কাছে আসলে তিনি তার সাথেও ঐ লাঠিটির পরিমাপ করলেন এবং তা হুবহু মিলে গেলো। তখন তিনি বনী ইসরাঈলের সকল লোককে ল্য করে বললেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ তালুতকে তোমাদের জন্য বাদশাহ্ নির্ধারণ করেছেন এবং তার নেতৃত্বে যুদ্ধ করার জন্য তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। জালুতের বিরুদ্ধে জিহাদে অংশগ্রহণ করা তোমাদের সকলের জন্য ফরজ। সুতরাং তোমরা তোমাদের দায়িত্ব পালন করো।
কিন্তু বনী ইসরাঈলের লোকদের দুষ্ট স্বভাবের কোন পরিবর্তন হলো না। প্রথমেই তারা প্রশ্ন তুলল তালুতের রাজা হওয়ার উপর। তারা মতভেদ করতে লাগলো। বলতে লাগলো, কিভাবে তালুত আমাদের বাদশাহ্ হবে? অথচ তার কাছে তেমন কোন ধন-সম্পদও নেই। সে হলো বিন ইয়ামীন ইবনে ইয়াকুব বংশের। যে বংশে কোন রাজা-বাদশাহ বা নবী আসেনি। বাদশাহ্ হওয়ার জন্য আমরাই তো তার থেকে বেশী উপযুক্ত ছিলাম কেননা, আমরা ইহুদ ইবনে ইয়াকুব বংশের। যেখান থেকে সকল নবী-রাসূল ও রাজা-বাদশাহ হতো।
তখন হযরত শাময়ীল আ. তাদেরকে ল্য করে বললেন, দেখো! মহান আল্লাহ্ তোমাদের জন্য তালুতকেই বাদশাহ হিসেবে নির্বাচন করেছেন এবং তাকে তিনি শারিরীক ও জ্ঞানগত ক্ষেত্রে অনেক পান্ডিত্য দান করেছেন। আর আল্লাহ যাকে চান তাকে রাজত্ব দান করেন। সুতরাং তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক এটাই হবে যে, তোমরা তালুতকে বাদশাহ মেনে তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হবে।
তালুত বাদশাহ হওয়ার ব্যাপারে নিজেও প্রস্তুত ছিলো না। এমন কি সমাজের উল্লেখযোগ্য কেউ না হওয়ায় লোকেরা তাকে বাদশাহ্ বলে মেনে নিবে কিনা সে ব্যাপারেও তিনি হযরত শাময়ীল আ. এর কাছে নিজের সন্দেহ-সংশয়ের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করলেন এবং যদি আল্লাহ সত্যিই তাকে বনী ইসরাঈলের বাদশাহ হিসেবে নির্বাচন করে থাকেন তাহলে যেন তাকে কোন একটি নিদর্শন দান করেন। বনী ইসরাঈলের লোকেরাও সাথে সাথে এ বিষয়টা সমর্থন করলো। তারাও নবীর কাছে তালুতের বাদশাহ্ হওয়ার উপর কোন একটি আশ্চর্য নিদর্শন চেয়ে বসলো।
তখন হযরত শাময়ীল আ. মহান আল্লাহর কাছে তালুতের বাদশাহ হওয়ার উপর একটি নিদর্শন কামনা করলেন। মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তখন নবীকে জানিয়ে দিলেন এবং তিনি লোকদের মাঝে ঘোষণা করলেন, হযরত শাময়ীল আ. এর নবুওয়াত ও তালুতের শাসক হওয়ার নিদর্শন হিসেবে একটি ‘তাবুত’ বা বরকত পূর্ণ সিন্দুক আসবে। যা ফিরিশতারা গরুর গাড়িতে করে তালুতের কাছে নিয়ে আসবে। এবার সবাই সেই আশ্চর্য নিদর্শনের অপক্ষা করতে লাগলো।
চলবে... পরের পর্ব: কি ছিলো সেই সিন্দুকে?
২|
৩০ শে জুলাই, ২০১১ রাত ১০:৫৮
একাকী সমুদ্রে বলেছেন: আলবার্ট_আইনস্টাইন নাস্তিক ভন্ড তোর পিছনে আমরা কি অঙ্গুল দিয়া খুচাইতে যাই?? সবসময় তোর এত কুরকুরানি কেন? ভাল লাগে না তোর?ভাল না লাগলে গলাই দড়ি দিয়া মর।এইখানে আইসা জ্বালাইস না। তোর জ্বালানি সহ্যের সীমা পার হয়ে যাচ্ছে।
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে জুলাই, ২০১১ রাত ১০:৫৪
মোঃ মহসিন আলম (রনি) বলেছেন: ভাই, এই ঘটনাগুলো কোন সূরা থেকে নেওয়া জানালে উপকৃত হব।