| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ক্লোন রাফা
আমি নিরপেক্ষ নই । আমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।
জাফর ইকবাল স্যার:
এই দেশের মাটিতে পা দিয়ে বুঝলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে।বিবর্ণ ঘাসের প্রতিটি ক্যাম্পাসে উট প্রজনন সেন্টার খোলা হয়েছে।দলে দলে মেধাবীরা সেক্সোলজি ও পর্ণোগ্রাফি চর্চা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নতুন নতুন উট শাবকের জন্ম দিচ্ছে।হলের প্রতিটি রুমে একজন প্যারাডক্সিকাল আইনস্টাইনের বসবাস।দেশ এগিয়েছে না পিছিয়েছে এই ভাবতে ভাবতে যখন একটা রুমে ঢুকতে যাবো তখন দেখলাম, প্রতিটি রুমে এরা উটের মাতৃভাষা চালু করেছে।উট কিওয়ার্ড, উট অ্যাপস, উট ফেসবুক, উট গুগল, এসব দেখে মাথা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।প্যারাডক্সিকাল সাজিদ পড়ে দেশের আনাচে কানাচে যে এত প্যারাসিটামল বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, ইতিহাসবীদ , গণিতবীদ পয়দা হচ্ছে তা দেখেই আঁতকে উঠলাম।আমার ১৩ শতকের রেঁনেসা বিপ্লবের কথা মনে পড়লো।আজ এই দেশে বোকাচ্ছিও , পেত্রার্ক, মাইকেলেঞ্জেলো, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, থাকলে তার যে কি হাল হতো!! উটের দল প্রথমে মাইকেলেঞ্জেলোর মাজা ভেঙে ফেলতো যাদুকর আখ্যা দিয়ে, লিওনার্দোর মোনালিসা ছিড়ে তা হালাল করে নিতো আর বোকাচ্ছিও ও পেত্রার্ককে করতো নির্বাসিত।
আমার হাতে থাকা আইনস্টাইনের 'থিওরি অব রিলেটিভিটি' বইটি দেখে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে উঠলো, ' এসব বা*ল * ছাল এখন মানুষ পড়ে? বুঝতে পারলাম এরা সবাই সর্বজ্ঞানী ।পৃথিবীর আর কোন জ্ঞানের এদের দরকার নেই।এই উট শাবকদের পেটে যে এত নিউটনীয় বিদ্যা এটা আমার জানা ছিলোনা।জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক এর ডিএনএ আবিস্কারের ফর্মুলা কিভাবে উটের দল রপ্ত করলো এই ভাবতে ভাবতে লক্ষ্য করলাম উটের মগজ পরীক্ষা করার জন্য আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে উটের সায়েন্টিস্ট এসেছে।তারা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এআই উটদের মগজে ফিক্সড করে দিচ্ছে।এলন মাস্কের মাইক্রো চিফ উটদের মগজে প্রতিস্থাপন হচ্ছে। উট শাবকদের খোলা মাঠে লাইনে দাঁড় করিয়ে চাঁদের মাটিতে কাটা দাগের রহস্যর গল্প শেখানো হচ্ছে।উট আর্টেমিস মিশনের পরিকল্পনা করছে উট গবেষণা সংস্থা লাসা । মঙ্গল গ্রহে উট রোভার পাঠানোর পরিকল্পনা দেখে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আর দেরি না করে সামনের দিকে হাঁটতে লাগলাম। হঠাৎ একদল শিক্ষিত উট তরুণ তরুণী আমার পথ আটকে দাঁড়ালো। সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাওয়া একদল মেধাবীদের ব্যাবহারে বুঝতে পারলাম উট ভাষার উপর তাদের যেসব পিএইচডি ডিগ্রি আছে তা আর এই পৃথিবীতে কারো নাই। আমি যদি সঠিক বয়সে বিয়ে করতাম তাহলে আমার সন্তান আজ ওদের মত উট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো। ওদের মগজেও ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের সুত্র কিলবিল করতো। উপস্থিত তরুণ তরুণীরা আমার হাত থেকে জাফর ইকবাল স্যারের "ক্রোমিয়াম অরণ্য" বইটি টেনে হিচড়ে ছিঁড়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দিলো।ওরা জাফর ইকবাল স্যারকে চিনলেও নিকোলাস ভাকুলিন সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেনা।হয়তো ওরা ক্রোমিয়াম ধাতু, ক্রোমাইট এসব নামও শুনেনি।অথচ এই বইটি পড়লে ওরা অনেক কিছুই জানতে পারতো। হঠাৎ তরুণ তরুণীদের মুখে একটি শব্দ শুনতে পেলাম ' বা*লে*র ষাঁড় "। দেশের উট ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার এত উন্নতি দেখে আমার চোখে জল এলো। আমাদের সময়ে শিক্ষক শত্রু হলেও তাকে নাম ধরে ডাকতে , অসম্মান করতে, আমাদের বিবেক বাঁধা দিতো। কিন্তু এই প্রজন্মের এলিয়েনদের সেই বাঁধা নেই। ইতিমধ্যেই ওরা পৃথিবীর নামিদামি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বজ্ঞানী, সবজান্তা , মেধাবী আরো অসংখ্য ডিগ্রি অর্জন করেছে। ওদের এতসব ডিগ্রির কাছে আমি / আপনি , জাফর ইকবাল স্যার, জামাল নজরুল ইসলাম স্যার , জগদীশ চন্দ্র বসু এসব কিছুইনা। ওদের উট বিজ্ঞানের কাছে পৃথিবীর আর সকল বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানী উভয়েই তুচ্ছ।ওরা রোজ সকালে মিচিও কাকুর 'দ্য গড ইকুয়েশন ' দিয়ে দাঁত ব্রাশ করে।বাথরুমে ভেতর ' বেয়ন্ড আইনস্টাইন ' শেষ করে ' দ্য ফিউচার অব হিউম্যানিটি ' পড়তে পড়তে নাস্তা করে। ওদের জ্ঞানের কাছে ফিজিকস অব দ্য ইম্পোসিবল বলতে কিছুই নেই। ওদের জ্ঞানের ভান্ডার দেখে অসহায়ের মত যখন উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করছি তখন অনুভব করলাম আমার কাঁধে জাফর ইকবাল স্যার তাঁর হাতটি রেখেছেন।তার চোখের কোণে দু' ফোঁটা জল আমার দৃষ্টি এড়ায়নি।আমি অবাক বিস্ময়ে মুগ্ধ হয়ে এই মানুষটির দিকে কতক্ষণ তাকিয়েছিলাম জানিনা। কিন্তু এই বিখ্যাত মানুষটি কেন এসেছিলেন এই অকৃতজ্ঞের দেশে একদল উটকে মানুষ করতে?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তায় দাঁড়িয়ে জাফর ইকবাল স্যারকে অপমান করলেন, কটু কথা বললেন, তিনি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্সের ছাত্র ছিলেন। মাত্র সাত বছর বয়সেই তিনি জুল ভার্ন ও এইচ জি ওয়েলস এর মতো বিজ্ঞান বিষয়ক কল্পকাহিনী লেখা শুরু করেন।একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও আপনাদের মতো বিসিএস, কোটা অথবা একটি সরকারি চাকরির জন্য তিনি কখনো রাস্তায় না দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ' প্যারেটি ভায়োলেশন ইন হাইড্রোজেন এটম ' বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। আপনাদের মত সর্বজ্ঞানী, সর্বজান্তা এসব ডিগ্রি না থাকা জাফর ইকবাল স্যার বিশ্ববিখ্যাত ক্যালটেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই পর্যন্ত ১৯ জন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।২০১৮ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রী ফ্রান্সিস আর্নল্ড বিবর্তনের উপর রাসায়নিক কাজের জন্য নোবেল পুরস্কার পান।মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সেই দাবী নিয়ে দেশে এসে তিনি কোন সরকারী চাকরিতে যোগ দেননি। তিনি বিশ্ব বিখ্যাত বেল কমিউনিকেশনস রিসার্চ ( বেলকোর) গবেষক হিসেবে কাজ করেন।১৯৯৪ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।তার ছেলে নাবিল ইকবাল যুক্তরাষ্ট্রের কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞান ও গণিতে স্নাতক শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন।তার মেয়ে ইয়েশিম ইকবাল বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।মুক্তিযোদ্ধার নাতি পরিচয়ে তারা কোনদিন কোন সরকারের কাছে কোন সুযোগ সুবিধা চাইতে আসবেন না।জাফর ইকবাল স্যার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীবের ভাই।একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে কতগুলো রত্ন বের হয়েছে তার হিসেব করতে থাকুন।।ডঃ জাফর ইকবাল স্যারের আছে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ৩ টি ইউএস প্যাটেন্ট।।এতোকিছুর পরও তিনি তার বাবার দেওয়া স্বাধীন বাংলাদেশে বড় বড় কথা না বললে কি আপনারা বলবেন?
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে আপনাদের ৯৯ শতাংশ উটের যেখানে লক্ষ্য একটি সরকারি চাকরি সেখানে একজন জাফর ইকবাল স্যার সম্পর্কে মন্তব্য করা আপনাদের জন্য কতটুকু শোভনীয়?
দয়া করে জামায়াত শিবিরের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে ডঃ জাফর ইকবাল স্যার কে আপনাদের তথাকথিত রোল মডেল আরিফ আজাদ, পিনাকী ভট্টাচার্য ও আসিফ নজরুলের সাথে এক করে সর্বরোগের ওষুধ প্যারাসিটামল ভেবে খেয়ে ফেলবেন না।জ্ঞানীর বই ছিঁড়ে রাজনীতি করা উটদের সাজে, মানুষের নয়। মানুষ হতে হলে মনুষ্যত্ববোধ, কৃতজ্ঞতাবোধ , সম্মানবোধ ও সুশিক্ষা থাকা খুব জরুরী।
জাফর ইকবাল স্যার তার হত্যাচেষ্টাকারিকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন। এরকম মানুষ খুঁজে পেতে হলে অবশ্যই মাদ্রাসা নয় , বিশ্ববিদ্যালয় জরুরি আমাদের দেশের জন্য।
২|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:১২
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
প্রিয় ষাঁড় এখন কোথায়? ৫ তারিখের পর নিরুদ্দেশ, বেঁচে আছেন তো?
@কুতুব: নাহিদ একজন নরম-সরম, নিরীহ ভদ্রলোক। সিন্ডিকেট সাথে বেচারা পেড়ে উঠে নাই।
বেচারা নাহিদ কোথায় যেন আগুন লাগছিল আর দাড়ায়ে দাড়ায়ে কাঁদছে।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জাফর ইকবালের হাত ধরে দেশের এডুকেশন সিসটেমের বারোটা বেজে গেছে । আরেকজন আছে বাম নুরুল ইসলাম নাহিদ ।