| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু
লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।
ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে, ঈদের চাপ কমাতে এবার সদরঘাটের পাশাপাশি বসিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ থেকেও লঞ্চ ছাড়বে। খবরটি আপাতদৃষ্টিতে স্বস্তির মনে হলেও, এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় এক ভুলে যাওয়া বড় স্বপ্নের কথা—'সার্কুলার ওয়াটার ওয়ে' বা বৃত্তাকার জলপথ।
স্মৃতি হাতড়ালে মনে পড়ে, বছর কয়েক আগে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু আর শীতলক্ষ্যা নদীকে ঘিরে ঢাকার চারপাশ দিয়ে একটি জলপথ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল সহজ—রাস্তার ওপর চাপ কমিয়ে মানুষকে নৌপথে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং কম খরচে পণ্য পরিবহন করা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই গাবতলীর আমিনবাজার, টঙ্গী এবং আশুলিয়ায় চমৎকার সব ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছিল। আশুলিয়ার সেই ল্যান্ডিং স্টেশন আর রেস্টুরেন্টটির কথা হয়তো অনেকেরই মনে আছে, যা এখন কেবল পরিত্যক্ত এক কংক্রিটের কাঠামো হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত চমৎকার একটি জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ কেন আলোর মুখ দেখেও অন্ধকারে হারিয়ে গেল? টঙ্গী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত চালু হওয়া সেই ওয়াটার বাসগুলো আজ কোথায়? কেন আমাদের দেশের বড় বড় প্রজেক্টগুলো শুরু হওয়ার কয়েক বছরের মাথায় ‘রহস্যময়’ কারণে বন্ধ হয়ে যায়?
বাস্তবতা হলো, যেকোনো পরিবহন ব্যবস্থা সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজন তার নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ বা কানেক্টিভিটি। আমরা ওয়াটার বাস নামিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু সেই ঘাটে নামার পর একজন যাত্রী কীভাবে তার গন্তব্যে পৌঁছাবেন, সেই 'লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি'র কথা ভাবিনি। এছাড়া নদীর নাব্যতার সংকট এবং দখলদারদের দৌরাত্ম্য তো ছিলই। কিন্তু সবচেয়ে বড় কারণ সম্ভবত আমাদের দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ আর সদিচ্ছার অভাব। ফলে জনগণের করের টাকায় নির্মিত ল্যান্ডিং স্টেশনগুলো আজ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আমাদের পরিকল্পনাহীনতাকেই উপহাস করছে।
অথচ 'সার্কুলার বাস রুট', 'সার্কুলার ওয়াটার ওয়ে' এবং 'সার্কুলার ট্রেন ট্রানজিট'—এই তিনটি আইডিয়া যদি সমন্বিতভাবে কাজ করত, তবে ঢাকা শহরটা বসবাসের জন্য পৃথিবীর অন্যতম সেরা শহর হতে পারত। চিন্তা করে দেখুন, আপনি উত্তরার জ্যাম এড়াতে টঙ্গী থেকে ওয়াটার বাসে উঠে নামলেন বসিলায়, আর সেখান থেকে একটি সার্কুলার বাসে করে দ্রুত পৌঁছে গেলেন ধানমন্ডি। এতে সময় যেমন বাঁচত, তেমনি রাজপথের অসহনীয় জটলা থেকেও মুক্তি পাওয়া যেত।
এবারের ঈদে বসিলা বা কাঞ্চন ব্রিজ থেকে লঞ্চ ছাড়ার এই সাময়িক উদ্যোগটি যেন কেবল উৎসবকেন্দ্রিক না হয়। এটি হোক স্থায়ী সমাধানের প্রথম ধাপ। আমাদের নদীগুলো এখনো মরে যায়নি; তাদের যদি সঠিকভাবে খনন করা হয় এবং ল্যান্ডিং স্টেশনগুলোকে পুনরায় সচল করে উন্নত সড়ক পথের সাথে যুক্ত করা হয়, তবে ঢাকার যানজট জাদুঘরে পাঠাতে আমাদের বেশি দিন লাগবে না।
জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনাগুলো যেন কেবল খাতা-কলমে বা কয়েক দিনের শো-আপে সীমাবদ্ধ না থাকে। সরকারের কাছে অনুরোধ, সেই পরিত্যক্ত ল্যান্ডিং স্টেশনগুলোতে আবার প্রাণের স্পন্দন ফিরিয়ে আনুন। কারণ, একটি টেকসই শহর গড়তে হলে আমাদের মাটির রাস্তার পাশাপাশি জলপথকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। মাঝপথে স্বপ্ন থেমে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে।
১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:০২
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আমাদের ধৈর্য কম। সবাই আগে যেতে চায়। যার কারনে ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে উদাসিনতা। আপর একটি বড় সমস্যা মেইন রোডে অটোরিক্সা চলাচল করা। এইসব রিক্সার চালকেরা ট্রাফিক আইন কিছুই জানেনা, ইচ্ছা খুশিমতো রিক্সা চালায়। হুটহাট লাগিয়ে দিয়ে তাকিয়ে থাকে। আমি রাস্তায় ট্রাককে যতটা বিপদজনক মনে করি তার থেকে বেশি বিপদজনক হচ্ছে এইসকল মূর্খ অটোরিক্সা চালকেরা।
২|
১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আমাদের হতাশার অভাব নাই। কবে আবার ভারত বলে- এই দেশ তোমার আমার। অনিশ্চিতের পথে আমাদের যাত্রা। এখানে আশার বাবেল উড়ে মূহুর্তে বাতাসে মিসে যায়।
১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:০৫
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: হতাশ না হয়ে আশাবাদী হওয়া ভালো। হতাশা নিয়ে কেউ সামনে এগিয়ে যেতে পারেনা।
মানুষ বাঁচে আশায়, দেশ বাঁচে ভালোবাসায়।
৩|
১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:০৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঢাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নিতে হবে। ঢাকার বাতাস দুষণে ১/২/৩ এর মাঝে থাকে । ডায়াবেটিস সহ আরো জটিল রোগ হতে পারে বায়ু দুষণ হতে । ঢাকায় থাকলে ইনকাম বেশি , কাজ পাওয়া যায় একথা ঠিক একই ভাবে ঢাকার পরিবেশ দুষণের কারনও ওভার পপুলেশন ।
অটোরিক্সা ফিউচারে গলার কাটা হবে । শুধু আয়ের একটা মিডিয়াম দেখে সবাই চুপ মেরে আছে ।
১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: ঢাকার চারপাশে যদি কয়েকটি পরিকল্পিত উপশহর তৈরি করা সম্ভব হতো অথবা ঢাকার পার্শবর্তী শহরগুলোর সাথে যদি সরাসরি এবং সহজে কানেক্টিভিটি থাকতো তাহলে অনেক মানুষ ঢাকার বাহিরে বসবাস করতেন। কাজ শেষ করে ঢাকা ত্যাগ করতেন।েএতে ঢাকার উপরে চাপ কমতো। যেমন ধরেন, আমি থাকি সাভারে। একটা সময় ছিলো যখন সাভার বেশ ফাঁকা ছিলো। কিন্তু মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর সাভারের দিকে মানুষের বসবাস বৃদ্ধি পেয়েছে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৫০
রাজীব নুর বলেছেন: আমাদের দেশের লোকজন নিয়মকানুন কিচ্ছু মানে না। এজন্য জ্যামটা আরো বেশি হয়।