| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মধ্যদিনের এসপ্ল্যানেড চিরে দারুণ বেগে ছুটে যাচ্ছে ট্রাফিক
চারপাশের ব্যস্ততায় যুবকটির যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, উদাসী চোখে
সে এখন আকাশ দেখছে, আশেপাশের সবকিছু যেন বড় নিমিত্ত
আর তখনই তার সামনে এসে দাঁড়ায়
দুজন মানুষ, স্বামী-স্ত্রী ওরা, স্বামীটি তার শিরা বের করা
হাতে ফলিডলের শিশি ধরা, মেয়েটি
যুবকটিকে অনুরোধ করছে তাদের মাঝে এসে যীশু হয়ে দাঁড়াতে
প্রেমের মৃত্যুর আগে মৃত্যুটাকে তারা প্রতীকী করে যেতে চায়,
যুবকটি মৃদু হেসে কাঁধের ঝোলা থেকে কয়েকটা পেরেক আর একটা হাতুড়ি বার করে
তোমরাও তাহলে মরার আগে আমার শরীরে অন্তত দু-একটা পেরেক পুতে দাও
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরী এই দৃশ্য দেখে প্রেমিককে বলে ওঠে
আহা রে মনে হচ্ছে এরা সব মেন্টালি 'সিক',
কে বলবে ওদের, এই নাটকে অভিনয় করা মানুষগুলি আসলে অন্য নাগরিক
দৃশ্যপট বদলে যায়, স্বামী-স্ত্রী-র বদলে এখন সেখানে
দুটো অর্দ্ধ উলঙ্গ ছেলেমেয়ে আর নিভতে থাকা একটা সুর্য
ছেলেমেয়ে দুজনেরই রিকেটি শরীরে ক্ষুধার
ছাপ যেন বড় স্পষ্ট, মেয়েটি অ্যালমুনিয়ামের থালা হাতে
তারস্বরে চেঁচাচ্ছে, আমাদের কোনো দ্যাশ নাই,
আমাদের কোনো ভাষা নাই, ছেলেটি গাড়ির বন্ধ কাচে
টোকা দিয়ে বলছে একটা আধুলি দাও না গো,
আমাদের সেই যুবক এখনও তার দুহাত দুদিকে
প্রসারিত করে একই ভাবে এবং একক ভাবে দাঁড়িয়ে, পশ্চিমে
ঢলে যাওয়া ঈষৎ ক্লান্ত সুর্যকে সে যেন বলছে
ধীরে, আরো ধীরে নেভো তুমি, আসলে তুমি নিভলে আবার
একটা প্রভাত আসবে, সেখানে রৌদ্র হবে নতুন একটা
ব্যাধ, আর সেই ব্যাধের তাপে নতুন করে পুড়তে থাকবে
নতুন প্রজন্ম, পুড়তে থাকবে নতুন স্বামী-স্ত্রী, তাদের ছেলেমেয়ে
অথবা তাদের না বলা ভালোবাসা,
নিভে যাওয়ার আগে তুমি দিয়ে যেয়ো আমার চিতাভষ্ম
আর মরচে না ধরা ঐ পেরেকগুলো
ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা স্বামী-স্ত্রী বন্ধ কাচের ওপারে গল্প জোড়ে
মনে হচ্ছে এরা সব 'মানসিক'
কে বলবে ওদের, এ নাটকের নাম অন্য নাগরিক
©somewhere in net ltd.