নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিয়মিত না,মন ভালো না থাকলে ঘুরে জাই।ভাল লাগে

ঘুনে খাওয়া রোদ

ঘুনে খাওয়া রোদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

অতপর বাংলা ভাষা

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ১১:০১

আগুনটা আজ যেন জ্বলতেই চাচ্ছে না।বসন্তের বাতাসটা ভালোই ঝামেলা করছে আজকে।একেই তো কাঠ ভেজা তার উপর হঠাৎ কোথা থেকে বারবার বাতাস এসে আগুনটা নিভিয়ে দিচ্ছে কিছুতেই সালেহার মাথায় ঢুকছে না বিষয়টা। একটা চায়ের দোকানের ভিত্তিতেই দাড়িয়ে আছে তার সংসার।সালেহার ছেলেপুলে বলতে আজাদ আর মনির।স্বামীর ঘর করা হয়নি সালেহার,তাকে ছেড়ে দ্বিতীয় বউয়ের হাত ধরে স্বামী আজ দেশান্তর।ছেলে দুটোর মায়াতেও কখনও তার খোজ করার ইওত্তা নেই সালেহার স্বামীর।নিজের মত অন্যত্র ঘর গোছায় ব্যস্ত সে। ঘর বাড়ি যা ছিল সব আজ নদীর পেটে বিলীন। তাই আজ এই ঢাকা শহরের কমলাপুর বস্তিতে বাস সালেহার পরিবারের।তবুও সালেহা হাল ছাড়েনি। ছেলে দুইটার মুখের দিকে চেয়ে আজ স্টেশনের সামনে চায়ের দোকান তার জীবিকার উৎস । আল্লাহর রহমতে দিন ভালোই যাচ্ছে সালেহার। বড় ছেলে আজাদ এইবার PSC পাস করে ক্লাস সিক্সে উঠেছে আর ছোটটাকেও এই বার স্কুলে দেয়ার ইচ্ছা সালেহার। স্কুলের স্যার বলেছেন ছাত্র হিসেবে আজাদ প্রথম থেকেই ভালো। ভাগ্য ভালো থাকলে বৃত্তিও পেয়ে যেতে পারে সে। কিন্ত ছাত্র ভালো হলেও কি করার সালেহার স্কুল থেকে ফিরেই চায়ের দোকানে বসতে হয় আজাদকে। গত ঈদের পর থেকে এক কাপড়ে স্কুলে যায় ছেলেটা,স্কুল থেকে ফিরে আবার বসতে হয় দোকানে।



কই আজাদের মা চা দিলা না,তাগদা দায় দোকানের কাস্টোমার। এইসব ভাবতে ভাবতে কখন যে চায়ের পানি গরম হয়ে গেছে মনেই নেই সালেহার।খারান ভাইজান মুই এলায় চা দাওছো।

ভাইজানোক কি চা দিম? দুধ চা না লাল চা।

দুধ চা দিও। করা কইরা পাত্তি মাইরা দিও লগে একটা গোল্ডলিফও দিও।

আচ্ছা ভাইজান।

বলে চা বানাতে ব্যস্ত হয়ে পরে সালেহা।

ভাইজান এই ধরেন চা আর গোল্ডলিফ।



মা, ও মা... আইজ স্যার কইছে নয়া বই কিনির লাইগবে।

আজাদের মুখে মা ডাক শুনে ফিরে তাকায় সালেহা।

কোনদিন লাইগবে?

কাইল তো শুক্কুরবার,শনিবার লাইগবে।

ঠিক আছে বাজান।কি বই?

বাংলা বই কিনির লাইগবে।

ঠিক আছে কাইল টেকা নিয়া যাইস।

এলা দোকানের তানে চার পাতি ধরি আয়,পাতি ফুরি গেইছে।



ঠিক আছে, মা।

আজাদ চলে যায় চাপাতা কিনতে হঠাৎ সালেহার চোখে পরে দোকানের পাশে ফেরিওয়ালা কাধে করে জাতীয় পতাকা বিক্রি করছে,পাশে বসা দোকানের লোকেরা চায়ে চুমুক দিতে দিতে গল্প করে কালকে ২১শে ফেব্রুয়ারী ,আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এইসব মাথায় ঢোকে না সালেহার দোকান সংসার এইসবের পর এত্ত কিছু জানার সময় কোথায় সালেহার। তবুও আজাদের মুখে সালেহা শুনেছিলো ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলার অনেক অকুতোভয় সৈনিকেরা নিজের মায়ের মুখের ভাষার জন্য প্রান দিয়েছিল,শহীদ হয়েছিল। তাইতো আজও আজাদ,মনিরের মত সব বয়সের ছেলেরা রাত ১২টা ১ মিনিটে দলে দলে হাতে ফুলনিয়ে ছুটে যায় শহীদ মিনিরে সেই সব মায়ের বীর সন্তানদের সম্মানে,মায়ের সম্মানে,মায়ের ভাষার সম্মানে।

তাইতো আজও শত প্রতিকুলতার মাঝেও আজাদের মুখে মা ডাক শুনে ভরে উঠে সালেহার মত মায়ের বুক।



মনের অজান্তেই বলে উঠে জয় হোক সেই সব আত্মত্যাগের,সমৃদ্ধ হোক বাংলা ভাষা।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ১২:২২

প্রবাসী পাঠক বলেছেন: জয় হোক সেই সব আত্মত্যাগের,সমৃদ্ধ হোক বাংলা ভাষা।

২| ০৮ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ২:১২

ঘুনে খাওয়া রোদ বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.