| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
চৈতালী শিশির
ভালবাসী দেশকে ,মাটির মানুষকে।
জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৬ মার্চ দেশপ্রেম দেশপ্রেম খেলার আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনীর ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলো। আর এর আয়োজনে গোদের উপর বিষ পোড়ার মতো প্রচুর খরচা পাতি করা হলো। যখন জাতিয় প্যারেড গ্রাউন্ডে শতকোটি টাকা ব্যায়ে এই মহোৎসবের আয়োজন চলছিলো তখন আমি একটি প্রাইমারী স্কুলের ভাঙ্গা টিনের চালা আর ভাঙ্গা বেড়ার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অসহনীয় দূর্ভোগের মধ্যে পড়াশোনা করতে দেখেছি। আমি দেখেছি চরাঞ্চলে একটি সেতুর অভাবে সন্তান সম্ভবা প্রসব বেদনায় কাতর একজন মায়ের যথাসময়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে না পারার দুঃসহ যন্ত্রনা। আমি দেখেছি তখন দেশের লক্ষ লক্ষ মসজিদের রাষ্ট্রিয় সুবিধা বঞ্চিত ইমাম মোয়াজ্জিনদের দূর্বিসহ যন্ত্রনার জীবন যাপনের চিত্র। কথা আছে, গরীবের ঘোড়া রোগ, যেখানে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসাবে আমাদের প্রয়োজন সমৃদ্ধির সাথে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। সেখানে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখা, তাও আবার আমরা দেশকে ভালোবাসি বিশ্ববাসিকে তার প্রদর্শন দেখিয়ে বিশ্বের দৃষ্টিতে আকর্ষন করা কতটা যৌক্তিক ছিলো আমি জানি না। তবে বিশ্বের মস্তিষ্ক বিকৃত মানুষ আর শিশু শ্রেনী ছাড়া সবাই বোঝে যে প্রত্যেক মানুষই তার দেশকে ভালোবাসে। একদিন ঘোষনা দিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাইলেই দেশের প্রতি তার নাগরিক দায়বদ্ধতা শেষ হয় না। আমার কাছে আশ্চার্য লাগে যখণ একবিংশ শতাব্দির এই গ্লোবালাইজেশনে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো সভা, সেমিনার, মিটিং, মিছিল আর গলাবাজির রাষ্ট্রনীতি পরিহার করে কাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমরা দেশের নাগরিক দায়বদ্ধতা থেকে শতভাগ দূরে থেকে রাষ্ট্র কাঠামোর যথাযথ প্রয়োজন থেকে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে মাঠে দাঁড়িয়ে বিশাল অংকের টাকা খরচ করে দেশ প্রেমের মহড়া করেছি। মুক্তিযুদ্ধের পরিপূর্ণ স্বার্থকতা তখনিই হতো যখন দরিদ্রমুক্ত একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হতো। তখনিই মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের রক্ত স্বার্থক হতো যখন আমরা ২৩ বছরের পরাধীনতা আর বাক স্বাধীনতা বঞ্চিত সে জীবন থেকে শতভাগ বেরিয়ে আসতে পারতাম।
আমরা মুক্তিযুদ্বের চেতনাকে খুব ঢিলেঢালা ভাবে মনগড়া ব্যাখা দিয়ে নিজের স্ট্যান্টবাজিকে চরিতার্থ করছি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্বাধীনতা ব্যবসায়ীদের এই অপরাজনীতি বন্ধ হওয়া দরকার। তরুন প্রজন্ম এসব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবসায়ী গলাবাজদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে। দেশের কোটি কোটি তরুনের ভীড়ে মাত্র দুই লক্ষাধিক তরুনের উচ্ছ্বাস আর আবেগকে টাকা দিয়ে ক্রয় করলে এটাকে তরুন প্রজন্মের সমর্থন বলা যায় না। নোয়াখালীর চরাঞ্চলে অথবা রংপুর,দিনাপুর, ময়মনসংহের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দিনমজুর শ্রেণীর মানুষগুলো বিশেষ মৌসুমে দেশের অপেক্ষাকৃত সমৃদ্ধ অঞ্চল গুলোকে কাজ করতে আসে। যাদের দৈনিক হাজিরা অঞ্চল ভেদে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। গড়ে ২০০ টাকা ধরা যাক। আমাদের জাতীয় সংগীতের নামে যে লোক দেখানো উৎসব হলো সেখানে লোকমুখে শুনেছি ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। যদি তাই হয় তাহলে ২০০ টাকা করে লেবার কিনে যদি এ অনুষ্ঠান করা হতো তবে ৫০ লক্ষের মতো লোক হতো। আমি এই উদাহরন দিয়ে আমাদের জাতীয় সংগীত বা প্যারেড গ্রাউন্ডে যারা এসেছে তাদের মূল্যবোধের প্রতি অশ্রদ্ধা করছি না এবং এটাই বোঝাতে চাচ্ছি যদি এতটা উচ্চ বিলাসি বাজেট দিয়ে একটা অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নেওয়া হয় তাহলে তা টাকা দিয়ে মানুষ কিনে রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশের মতো করা যেতে পারে এটা অন্তত বিশ্ববাসী বোঝে। তাহলে এই বিশ্বরেকর্ডের যথার্থতা কি?
বিশ্ব রেকর্ড করার মতো যথেষ্ট ক্ষেত্র আমাদের দেশে ছিলো কিন্তু সে জন্য আমাদের কোন বিশেষ কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। দারিদ্রমুক্ত দেশ, উন্নয়ন সৃমদ্ধ দেশ এই সব কমন কথা বাদই দিলাম প্রাকৃতিক ভাবে রেকর্ড করার মতো যে সব উপকরণ আমরা পেয়েছি যেমন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন সহ বিভিন্ন সম্পদময় অথবা সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প অথবা সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদ যা একটু সদিচ্ছা আর সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে খুব সহজে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি একটি উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে শেখাবে। আমরা সেদিকে নজর না দিয়ে গোদের উপর বিষ পোড়ার মতো কখনো সস্তা দেশপ্রেম দেখাতে আমরা তরুন প্রজন্মকে একটা অংশকে ব্যবহার করার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করি।
এবার আসি ২য় প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বিকৃতি পাওয়ার সস্তা ও নির্লজ্জ এই প্রতিযোগিতার অবাক মহড়ার কথা। এ বিষয়ে গত ৩০ মার্চ সামাজিক গণমাধ্যমে তরুন বিশ্লেষক আনোয়ার বারী পিন্টু ‘লেইস ফিতা লেইস’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি বিষদ বর্ণনা দিয়েছেন। আমি তার সাথে সুর মিলিয়ে বলবো, প্যারেড গ্রাউন্ডে দাড়িয়ে জাতীয় সংগীত গেয়ে সাথে খাবারের প্যাকেট পেয়ে অথবা মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট পাওয়া আর আমাদের মুুক্তিযুদ্ধ এক নয়। বরং কিছু মস্তিষ্ক বিকৃত সংস্কৃতি কর্মীর গাঁজাখুরী চিন্তার ফসল হয়তোবা।
২|
০৬ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১২:৩৫
লুৎফুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইজান।আপনার সঙ্গে সহমত ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ১০:৫৬
এরশাদুর রহমানা বলেছেন: একমত দেখুন
http://deshinewsbd.com/news/2018/