| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হুমায়রা হারুন
মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।
১.
‘এ কেমন ভাগ্য লিখিয়ে নিয়ে এলাম ‘ – ভাবছে ঝর্ণা মনে মনে। ইশ্বরের কাছ থেকে আসবার সময়ে তার সকল ইচ্ছা, দায়িত্ব, কর্মযোগ জেনে বুঝে একটি আত্মা এ দুনিয়াতে প্রবেশ করে। ঝর্ণা তেমন-ই শুনেছে । তাহলে তার চয়েস, তার সিলেকশান সব সে এমনই করলো কেন?
সেই ১৯৮৪ সালের কথা। বয়স আর কতই বা হবে, ১৪/১৫. শীলা আপার বিয়ের দিন। অনুষ্ঠানে ঝর্ণা তার হাতখানি দেখাল শীলা আপার ছোট বোন, তার প্রাণের বন্ধু কেয়াকে। কেয়া দেখে বললো, ‘দুটি রেখা, মানে বিয়ে ভাঙা?’ ঝর্ণা বললো, ‘দেখলে তো এবার? বলেছিলেম না হাতের রেখায় আমার বিয়ে ভাঙা।‘ হাতের প্রধান রেখাগুলো সেই ১৪ বছর বয়স থেকেই হস্তরেখাবিদদের মত লেখা পড়ে করে ঝর্ণা মোটামুটি চিনে। আর কিশোরী বয়সে প্রেম, বিয়ের রেখা তো সব্বার আগে মনযোগ কাড়ে। তাই না?
এবং সে জানে তার ভাগ্য তেমন একটা প্রসন্ন হবে না। অর্থাৎ বিবাহ নামক জিনিসটা তার জন্য সুখকর হবে না। তারপর কৈশোরের গন্ডী পেরিয়ে যখন যৌবনে পা রাখলো,সুদর্শনের সাথে তার দেখা হলো। সুদর্শনের চেহারায় সে কি বুদ্ধির ঝলক। হাঁটায় সে কি স্মার্টনেস। আর মুখে চঞ্চলতায় ভরা হাসি। প্রথম দেখায় অজান্তে বুকটা ধক্ করে উঠেছিল ঝর্ণার।
বইয়ের পাতা থেকে মুখু তুলতেই দেখে সামনা সামনি সুদর্শনের সেই মুখখানা।
প্রথম দেখা!
দেখতে কাস্পিয়ান সাগর পাড়ের টার্কমিনিস্তান, আজারবাইজান অঞ্চলের মানুষদের মতন। যারা পারস্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল পরবর্তীতে।
প্রথম দর্শনে শুধু সৌন্দর্য্য নয়, বুদ্ধি, ব্যক্তিত্ব সবকিছুর প্রেমে পড়ে গিয়েছিল ঝর্ণা। পুরো কলেজে এই ব্যক্তিটির রুচি, পোশাকের সিলেকশান একদম স্ট্যান্ডার্ড । মনে মনে কল্পনাও করে ফেলেছে ঝর্ণা তাকে নিয়ে – তার সংসার কেমন হবে। কলেজের টিচার্স কলোনীতে তাদের নতুন সংসার শুরু হবে । ঐ যে ঐ বিল্ডিংগুলো, সেখানে থাকবে, যেগুলো মাত্র নতুন তৈরী হয়েছে। আর সুদর্শনেরও নতুন যোগদান এ কলেজে। ঝর্ণা এখন বিশে পা রেখেছে। হৃদয় মন আকুলতা বাসনায় বিভোর এক মনের মানুষের খোঁজে। আর ইশ্বর তাকে নিজ হাতে এনে দিয়েছে এই মানুষটিকে। বলছেন, ‘দেখ। প্রাণ ভরে দেখো। কিন্তু পাবার আশা করো না। ও তোমার ভাগ্যে নেই।‘
কেন নেই?
ঝর্ণা হাতের তালুর দিকে তাকায়। বিয়ের রেখাটা ভেঙ্গে দ্বিখন্ডিত।
নাহ্ এ মানুষটিকে সে হারাতে চায় না। কখনো তার কাছেও যাবে না, মনের বাসনাগুলো প্রকাশও করবে না। বিয়ে নামক কিছু করতে হয় বলে করবে। অন্য কাউকে। যদি সংসার তখন টিকেও যায়, সংসারের নিয়মে নাহয় জীবনটা তখন কাটিয়ে দেবে।
আহ্! কি বুক বাঁধা আশা!
ভাগ্যের কন্ট্রাক্টে যখন সে লিখিয়ে এনেছে, এ পথ একা চলার পথ, তার কোন জোড়া নেই, সেখানে আবারও ঝর্ণা আশা করে তার সংসারটা টিকে যাবে?
কিন্তু সুখের স্পর্শ তো দূরের কথা , জ্বলন্ত উনুনে পুড়েছে ঝর্ণা।
১৯৯৫ সাল। ২৪ বছর বয়সে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে। সে সময়ে হাতের রেখাটা আবারো দেখলো ঝর্না। রেখাটা বেশ রুগ্ন, বেশ ক্ষীণ। সম্পর্ক টেকাবার লক্ষণ – এ রেখা বুঝায় না। কিন্তু অপ্রকৃতস্থ, মানসিক প্রতিবন্ধী সেজন্য ভাগ্যে এসে পড়বে?
এ কেমন কন্ট্রাক্ট? কেউ সখ করেও করবে না এ কন্ট্রাক্ট ইশ্বরের সাথে। নাকি আজ ইশ্বর তাকে task দিয়েছে এ জন্মে। এটা তার choice নয়। তার দায়িত্ব – এক পাগল ছেলের দায়িত্ব নেয়া তার স্ত্রী হিসাবে।
এ কেমন হিসাব জীবনের?
জীবনের এ কেমনতর খেলা?
এর মাঝে প্রাণের শংকা দেখা দিতেই ঝর্ণা তার স্বামীর ঘর ত্যাগে বাধ্য হলো। শাস্ত্র মতে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ব্যক্তির সাথে বিবাহ, বিবাহ নয়। তার কি বিয়ে নামের প্রহসন হয়েছিল তবে? বিয়ে তো নয়। এখানে জীবন যেন রসিকতা করতে করতে প্রহসনের চরম পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছিল ঝর্ণাকে।
কিন্তু কেন?
ঝর্ণার মনে আবারোও প্রস্ন জাগে, ‘ এ কেমন ভাগ্য লিখিয়ে নিয়ে এলাম?’
২.
আজ তিন দশক অতিবাহিত হয়েছে। আবার আজ হাতের তালুতে চোখ রাখলো ঝর্ণা। জ্যোতিষী বলেছেন তার ভাগ্য লেখার ভিডিওতে –খুব স্পষ্ট দুটি সমান্তরাল রেখা যদি হৃদয় রেখা আর শিরো রেখার মাঝে অবস্থান করে এবং যথারীতি বিয়ের রেখাটি ভেঙ্গে, চুড়ে নুয়ে পড়ে নীচের দিকে প্রবাহিত হয়, তাহলে জাতিকার সংসার জীবনে ভাঙ্গন নিশ্চিত। কিন্তু এতদিন মনে হতো ঐ ছোট দুটি সমান্তরাল রেখা দুটি সন্তান রেখা নির্দেশ করছে।
হায় রে ভাগ্য!
কোথায় সন্তান আর কোথায় সংসার! বিয়েই তো স্থির রাখতে পারছে না।
এরপর ২০০১ সালের কথা। পরিচয় হল অসামান্য প্রতিভাবান একজন সুন্দর মনের মানুষের সাথে। স্বভাবে তিনি চারণ কবি। ঝর্ণার মনে হলো রেখা টেখা কোন বিষয়ই নয়! ভাগ্যের চাকা এবার বোধহয় ফিরবে। আর ভাগ্যই বা কি। ভাগ্য বলে কিছু আছে না কি? সব না পাওয়াগুলোকে পিছনে ফেলে এবার সম্মুখে পদচারণা শুরু করলো সে। কিন্তু কবি যে তার ,কবিতার উপাদান খুঁজে বেড়ায় তার প্রাক্তন প্রেমিকাদের মাঝে। কবির সময় কোথায় ঝর্ণাকে সময় দেবার?
৩.
ট্রেনে যেতে যেতে চোখ ভরে ওঠে জলে। আশপাশের যাত্রীরা কি ভাববে? কিন্তু কষ্ট দমিয়ে রাখতে পারে না ঝর্ণা। আবারো প্রস্তুতি নিতে হবে তার – সকল আশা, আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নগুলোকে জলাঞ্জলি দেবার জন্য। ভীষণ কষ্টকর এক decision , ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক এক আয়োজন ,বারবার করতে হয়েছে ঝর্ণাকে।
কিন্তু কেন?
চারিদিকে তাকায় । সুখী মানুষ দেখতে পায় না কোথাও। তবুও সংসার চালিয়ে নিচ্ছে সকলে। আর প্রৌঢ়ত্বের দ্বারপ্রান্তে এসে ঝর্ণা শুধু প্রশ্ন করছে নিজেকে, ‘কোথায় সুখ? কেন এমন হলো? এ কেমন ভাগ্য নিয়ে এলাম?’
নাহ্।
আর কিছু চাইবে না ঝর্ণা এ জীবনের কাছে। কেউ যেন সেই বার কানে কানে বলেছিল, ‘তোমার কোন জোড়া নেই। তোমার পথচলা একার। ‘ সেই প্রথম বিয়ের রাতে, আপ্রকৃতস্থ স্বামীর আচরণ দেখার দুই তিনদিন পরই ঝর্ণা এমন কথাটি শুনতে পেয়েছিল কানে কানে –কে যেন বলে দিয়েছিল তাকে, তার পথ নির্ধারিত। এই নিয়তিই সে নিয়ে এসেছে তার জীবনে।
আর চারণ কবির সান্নিধ্যে এসে কি হলো? অনেক কিছু শিখেছে তার কাছ থেকে। কিন্তু সংসার মেলেনি। বিয়ের রাতে কবির মদিরার নেশায় বুঁদ হয়ে অর্ধচেতন হয়ে পড়ে থাকা অবস্থা ঝর্ণাকে তার সেই রাতের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে ; যখন অপ্রকৃতস্থ, মানসিক প্রতিবন্ধী স্বামীটি ঝর্ণার সাথে কোন কথা বলতো না। ঝিম মেরে পড়ে থাকতো। বিয়ের রাতে প্রথম যখন দেখেছিল তার অপ্রকৃতস্থ, স্বামীকে, ঝর্ণা ভেবেছিল তার স্বামী বোধহয় দার্শনিক। তাই ভাবুক মনে অন্য জগতে ঘুরে বেড়ায়।
আসলেই কি তাই?
দার্শনিকদের মতন মানসিক ভাবে অপ্রকৃতস্থ, পাগলরাও কি অন্য ভুবনে ঘুরে বেড়ায়? দ্বিতীয়বারের বাসরেও একই ঘটনা। স্বামীটি যেন এই পৃথিবীতে নেই। নেশায় চুর হয়ে অচেতন ।
বারবার একই ঘটনা, একই যন্ত্রণা, ভাগ্যের চাকা ঘুরে ঘুরে এই একই রূপ প্রদর্শন – ঝর্ণাকে ভাবিয়েছে অনেকবার।
নাহ্। আর যন্ত্রণা, কষ্ট সে নেবে না। আর যন্ত্রণা, কষ্ট সে পাবেও না। এবার চরম পরমের পানে ছুটে যাবে সে। total blissful state বলে একটা শব্দ আছে ধ্যান জগতের সর্বোচ্চ মননের স্তরে। ঝর্ণার হাতের তালুর দিকে আবার সে তাকায়। তার আয়ু রেখাটি ও দেখে। ২০৪৯ সাল –যখন তার exit এর সময় হবে এই রিয়্যালিটি থেকে। কিন্তু এর আগেই, এখন ঝর্ণা ধ্যানস্থ হবে। ইশ্বরের কাছে নিবেদিত হবে। আর বলবে, ‘আমাকে আমার টাস্ক যা দিয়েছ তুমি, তা আমি পালন করতে চেষ্টা করেছি যতটুকু পেরেছি। অপ্রকৃতস্থ, ছেলেকে সুস্থ করবার, মানসিক ভাবে প্রশান্তি দেবার চেষ্টা আমি করেছি। past trauma থেকে ক্ষত নিয়ে আসা কবি বরকে চেষ্টা করেছি ট্রমা মুক্ত করার। কিন্তু আমি কি শুধু অন্যকেই heal করে যাব? আমাকে কে heal করবে? আমার তো পথ চলা একার। আমি তোমার মাঝে আমাকে নিবেদন করলাম। আমার আত্মার শান্তি আমি প্রার্থনা করি তোমার কাছে। প্রভু, তুমি সকলের। তুমি আমারও। আমরা আসি source থেকে। তোমার কাছ থেকে। ভাগ্য লিখে নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ছকে। তারপর তা পালন করার চেষ্টা করি। সফলতা মাপার মালিক তুমি। তুমি আমাকে সর্বোচ্চ blissful state -এ পৌঁছানোর জন্য সাহায্য কর এটাই আমার প্রার্থনা তোমার কাছে।
২৩.১২.২০২৫
২৭ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:১৭
হুমায়রা হারুন বলেছেন: নিশ্চয়ই।
আগ্রহ ভরে অপেক্ষায় রইলাম।
২|
২৮ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৩৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
লেখাটি আজ হাতে সময় নিয়ে পড়লাম । ঝর্ণার করুন গাথাময় জীবন অভিজ্ঞতায়
সঞ্চারিত তার প্রার্থনার কথাগুলো হদয়কে ছুয়ে যায় । জীবনের এই লগনে এসে
ঝর্ণার মত এমন আবেগময়ী প্রার্থনা হয়ত করতে পারবনা তবু লেখাটির কল্যানে
হৃদয়মুলে বিধাতার প্রতি যে প্রার্থনা গীতি উঠেছে বেজে তা এখানে ছোটকরে
লিখে গেলাম ।
প্রার্থনা
হে পরম করুনাময় ! তোমার বন্দনা করি।
তুমিই ইষ্ট, হৃদয়-আনন্দ, দিব্য সৃজনকারী
বৈশিষ্ট্যের তুমি পুরুষকারী, সমষ্টির জীবন বুদ্ধিকারী
একাচারী সর্বদাই তুমি!
সৃষ্টির উৎস তুমি, তুমিই ঈশ্বর, ব্যক্ত পরম আশ্রয়,
নিখিল জগত ও জীবনে, জীবন তরঙ্গ তোমাতে স্পন্দিত
ব্যক্ত-অব্যক্তের স্বরূপ তুমি, পরম আরাধ্য,
সৃস্টির সর্বত্রই তোমার অস্তিত্ব !
শাশ্বত তুমি, তুমিই বর্ণমান!
ব্যক্তি দশপ্রাণ গৃহ সমাজ রাষ্ট্রের হবে উন্নয়ন
যখন যাজন ইষ্টভূতি স্বধর্মানীর তাই কর প্রবর্ধন,
প্রাচ্য পাশ্চাত্য নিয়ন্ত্রণে অনুশাসন দাও বর্ণাশ্রমের
আধ্যপথই তুমি সর্বকালের!
সকল শিল্প বিজ্ঞান যুক্ত পূর্ততায় তুমিই সর্ব প্রাচীন
শ্রেষ্ঠ হতেও চির শ্রেষ্ঠতর!
ধর্মের বাণীতে প্রকাশ, প্রজ্ঞাবলে আবর্তিত জগতের বুকে
সকল বাদ্যের মোহহারী, সর্বধর্মের স্থাপনকারী
সর্বতোভাবে সকলের ইচ্ছা পুরণে রত ইষ্ট এক ও অধিতীয়,
চিরঞ্জিব তুমিই সর্বোত্তম!
আরাধনাকারীর প্রেমে উচ্ছল, আশেকের মন মুগ্ধকারী,
নবীন প্রবিন আধ্যত্ম্যাকার, বিচিত্র লীলার প্রকাশ তোমার,
বিশ্বমিলন যজ্ঞের তুমি একক বেদ দাতা
বিভিন্ন পথের তুমিই চালক নুরের তেজতায়!
রণতাণ্ডবের হিংসায় কাতর পীড়িত বিচ্ছিন্ন ভূবনে
পরিব্যাপ্ত শ্রেষ্ঠ আচার পরিপূর্ণ করে চরিধার,
জীবনবৃদ্ধিই লক্ষ্য তোমার, মিত্র-অমিত্রেরও হও আপনার
উপসনার তরে তুমি হে মহান!
নমি আমি হে বিশ্বময়ী হে প্রিয়! হে পরম!
করুনাময় তুমি , তবে পাপীর তরে ভয়ালও চরম!
বাধ্য অবাধ্য ক্ষমা করে সকলেরে চালাও সত্যপথে
এই মোর কামনা এই মোর প্রার্থনা তব সমীপে।
শুভেচ্ছা রইল
২৮ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:০৩
হুমায়রা হারুন বলেছেন: অসাধারণ কবিতাখানি।
লেখাটির সার্থকথা এখানেই , আপনার সুন্দর কবিতাটি।
আপনার লেখা সবগুলো বই-ই আমি সংগ্রহ করব দেশে এসে । আশাকরি কবিতার বইও লিখেছেন।
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১০:২৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
এক নজর দেখে গেলাম ।
নীজ প্রার্থনা সেরে আবার
আসব ফিরে ।
শুভেচ্ছা রইল