| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
যারা ছবি বা নাটক বানান, তাদের একটা সুন্দর গুণ হলো, তারা যে কোন বিষয়ের visualization (বাংলা অর্থ মনে করতে পারছিনা) করে ফেলতে পারেন। আপনি বা আমার মত যারা সাধারণ মানুষ, আমরাও এই visualization করতে পারি। তবে আমাদেরটা তাদের visualization মত এত গুছানো হয় না, যে কারণে আমরা শুধু বিয়ের ভিডিও পর্যন্তই আটকে থাকি। নাটক বা ছবি আর বানাতে পারিনা।
যে বিষয়টা বলার জন্য উপড়ের কথা গুলো লিখলাম, এবার সেগুলোর দিকে লক্ষ্য করা যাক।
গত ৫ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিউটন এর সূত্র গুলোর বাস্তব উদাহরণ এবং বাংলা বাগধারা গুলোর বাস্তব প্রয়োগ দেখতে পাচ্ছি।
যেমন ধরুন, সরকারের কোন কাজ কে challenge করে যখনি কোন রাজনৈতিক দল বা কোন গোষ্ঠী কোন ধরণের কর্মসূচী দিয়েছে, তখনি সেই কর্মসূচী out of talk (শব্দটি ঠিক হলো কিনা জানি না) হওার জন্য কিভাবে যেন অন্য একটি ইস্যু তৈরি হয়ে যাচ্ছে। Science এর ভাষায় অনেকটা Matter and Antimatter এবং Commerce এর ভাষায় Dumping and antidumping এর মত। এবং আমরা বাঙ্গালিরা সেই প্রাচীন যুগের আদি নিদর্শন চর্যাপদের “বাঙ্গাল” হয়েই থাকলাম। কেন না আমরা গত কাল কি দিয়ে খেয়েছি, তা আজ সকালেই ভুলে যাই। সেই সূত্র ধরে আমরা, গত দুই বছর কি ধরণের নির্যাতন হয়েছে তা খুব সহজেই ভুলে যেতে পারছি। আমার জানামতে ৭১ এর পর থেকে বাংলাদেশে আর কোন দিন কোন একটা যাচিত/অযাচিত (মওলানা সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ ইস্যু) ইস্যুর জন্য একসাথে এত মানুষ (একসাথে একদিনে নুন্যতম ৮৫ জন) হত্যা করা হয়েছে বলে জানা নেই।
এবার যে কথাটা বলতে চাই, প্রতিটি ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই কোন এক অজানা কারণে আরো একটি ঘটনা ঘটছে আগের ঘটনাটি চাপা দেওয়ার জন্য। যেমন ধরুন, নারায়ণগঞ্জ সাত খুন ঘটনা, তার পর পরই ঘটল হ্যাপি রুবেল ঘটনা, সর্বশেষ ঘটল জিহাদ ঘটনা। এই ঘটনা গুলো এমন যে, অন্য যে কোন ধরণের ঘটনাকে খুব সহজেই আড়াল করে দিতে পারে। এই ঘটনা গুলোর মধ্যে আজ শুধু একটি ঘটনা বিশ্লেষণ করব।
শিশু জিয়াদ/ জিহাদ এর করুন মৃত্যু। রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির ওয়াসার পরিত্যক্ত পাইপের ভেতর শিশু জিহাদকে উদ্ধারে Fire brigade এর ২৩ ঘণ্টার ব্যর্থ অভিযানের পর মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে আঞ্চলিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে আট জন ব্যক্তি শিশু জিয়াদ কে উদ্ধার করে, এবং তাৎক্ষনিক ভাবে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এ নিয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে জিয়াদ দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে ফেলেছে। কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই হলো এই ঘটনাটির সারমর্ম। এবার চলুন বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখি কি পাওয়া যায়।
প্রথম দল- শিশুটির মা বাবা সহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনঃ
এই ঘটনাটি ঘটার সময় শিশুটির মা বাবা সহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজন কি ভাবছিলেন? মিডিয়ার কল্যাণে এবং একজন সাধারণ ও স্বাভাবিক মানুষ হিসাবে আমরা বুঝতে পারি যে, তখন ইচ্ছা করবে দুনিয়ার সকল বাঁধা দূরে ঠেলে সেই পরিত্যক্ত কূপে ঝাঁপ দিয়ে আগে বাচ্চাটিকে বাচাই (বিশ্বাস করুন আর না করুন, এটাই সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি)।
২য় দল- উদ্ধার কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারী ব্যক্তিবর্গ এবং Practical জনগনঃ
এই ঘটনাটি ঘটার পর শিশুটি উদ্ধারের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারী ব্যক্তিবর্গ এবং Practical ব্যক্তিগন আগে formality maintain করবেন, তারপর উদ্ধার অভিযানের জন্য যত সব Bullshit প্রযুক্তির (যা আগে কখনো ব্যবহার করা হয় নাই)practical experiment এ নামবেন।বিভিন্ন ভাবে experiment শেষ করে ব্যর্থ হয়ে যা ইচ্ছা তাই ঘোষণা করবেন। এই ঘটনায় যেমন বলেছেন যে কূপের ভেতরে কোন মানুষ নেই, সেখানে শুধু দু-একটি তেলাপোকা ও টিকটিকি আছে। এবং ফলাফল স্বরূপ প্রদান করবেন অকাল মৃত্যু।
৩য় দল- আইন শৃঙ্খলা বাহিনীঃ
এই ঘটনাটি ঘটার পর পরিবেশ কর্ম উপযোগী রাখার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। এবং এই ব্যক্তিরা এই ধরণের কাজে এতটাই Puzzle থাকেন যে কোনটা Political ইস্যু আর কোনটা Political ইস্যু না, এবং কোন Nonpolitical ইস্যুটি Political হতে যাচ্ছে, তা বুঝে উঠার আগেই হজবরল পাকিয়ে ফেলেন। এটা অবশ্য তাদের দোষ না। আমাদের রাজনিতির অস্থিরতায় তারাও আম জনতার চেয়ে বেশি confused মানুষ।
এই ঘটনায় যেমন পুলিশ ভাইয়েরা উদ্ধার কর্মীদের বক্তব্য শুনে confused হয়ে গিয়েছিলেন যে, আসলে ঘটনা ঘটেছে কিনা! নাকি শিশুটির বাবা মা কোন ধরণের বিশেষ সুবিধার জন্য একটি নাটক সাজিয়েছেন। কূপের ভেতর টিকটিকি ছাড়া আর কিছু নাই, এই কথা শোনার পর যে কেও এই কথাটাই সবার আগে ভাববেন। যাইহোক, পুলিশ ভাইয়েরা এই বিষয়টি চিন্তা করে এবং আরো একটি বিষয় (Political বিষয়) চিন্তা করে শিশুটির বাবা কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যান। যদিও সাধারণ মানুষ বিষয়টি সহজ ভাবে নেয়নি।
৪র্থ দলঃ বিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গঃ
এই ঘটনাটি ঘটার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ঘটনাটিকে তাদের favor এ নেওয়ার চেষ্টা করবে। এবং এই বিষয়টি নিয়ে যা ইচ্ছা তাই বক্তব্য ঝারবে। মোটেও আশ্চর্য হব না যদি তারা এখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে এবং বিপক্ষের দুটো দল বের করে ফেলেন। মজার বিষয় হলো সরকার পক্ষের এমন একজন কর্তা ব্যক্তি এমন অদ্ভুত কিছু বক্তব্য দিবেন,যার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নাই। যেমন টি করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। রানা প্লাজা ধ্বংসের সময় যেমন টা করেছিলেণ তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলমগির সাহেব। আবার অন্য দিকে বিরোধী পক্ষ জাবেন দুটো অবস্থানে। প্রথমত, এটা সরকারের দোষ, আর দ্বিতীয়ত সরকারের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। আরো মজার বিষয় হলো, Success / Credit নেওয়ার জন্য সরকার পক্ষ সর্ব শক্তি প্রয়োগ করবে। যেমন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জাম খান কামাল বলেছেন উদ্ধার কর্মের সকল Success দমকল বাহিনীর। তাদের চেষ্টাতেই শিশু জিয়াদ কে (মৃত) উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, এতেই বুঝা যায় সরকার কতটা কর্ম তৎপর। !! তিনি সেই আট যুবকের কষ্ট এবং Success কে পাত্তাই দিলেন না, যারা কিনা সরকারী ব্যর্থতার ঘোষণার পর কাজে নেমেছিলেন। তাদের কে যদি আগে সুযোগ দেয়া হত তাহলে হয়ত জিয়াদ জীবিতই উদ্ধার হত।
৫ম দল- উদীয়মান চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গঃ
Believe it or Not, বাংলাদেশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা মনে মনে অনেক কিছুই চিন্তা করে ফেলেন (যা উনার চিন্তার সাথে মানানসই) এবং মনে করেন এটাই সত্য, বাস্তব ঘটনা যাই হোক। যেমন ধরুন, আমার পরিচিত একজন ভাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশু জিয়াদের ঘটনার একটা পর্যালোচনা দিয়েছেন। সবার সুবিধার্থে উনার সম্পূর্ণ লিখাটি তুলে দিলাম-
“কোটি মানুষ বিশ্বাস করুক, কিন্তু আমি বিশ্বাস করলাম না!
জিয়াদ চলে গেল, কিন্তু রাজনীতি জয়যুক্ত হলো!!!
বাচ্চাটির নামের বিবর্তন- জিয়া, জিয়াদ সবশেষে জানা গেল জিহাদ! এতেও বিভ্রান্তির শেষ নেই! এক এক টিভি চ্যানেলে এক এক নামে ডাকা হচ্ছে!
গভীরতা বিভ্রান্তি- ৪০০ ফুট থেকে শুরু হয়ে ৬০০ ফুট গভীরতার কথা জানতে পেরেছি। বুঝা গেল, সময়ের সাথে সাথে গভীরতাও বেড়ে গেছে !!!
আমি যদি গভীরতা ৪০০ ফুটও ধরি তাহলে এটি অন্তত ৩০ তলা বিল্ডিং-এর সমান গভীর একটি কুপ। যেখানে ৫ তলা বিল্ডিংয়ের উপর থেকে কেউ পড়লে বাঁচে না সেখানে ৩০ তলা বিল্ডিংয়ের সমান উচু জায়গা থেকে পড়ে গিয়েও বাচ্চাটি বেঁচে থাকবে! ছোট পাইপ দিয়ে পড়ার সময় পাইপের কোথাও আঘাত না পেয়ে সোজা এবং নিরাপদে কুপের নিচে গিয়ে বিমানের মত সেইফলি ল্যান্ড করবে! এতো উপর থেকে পড়ে গিয়েও সেন্সলেস হবে না! দরজা-জানলাহীন সরু পাইপের ৪০০ ফুট নিচে পর্যাপ্ত অক্সিজেনেরও সরবরাহ থাকবে! বাচ্চাটি বলতে থাকবে "আম্মু আমাকে বাঁচাও" "আম্মু আমাকে বাঁচাও"! সে খাওয়ার জন্য পানি ও জুস চাইবে! একটি সাড়ে তিন বছরের বাচ্চা রশি ধরে উপরে উঠে আসতে চাইবে!!! ভাই?! আমি মখা না! এতো মিরাকলিয় নাটক আমি বিশ্বাস করি না!
কথা খুবই সোজা। জিয়াদ পলিটিকাল কিলিং-এর শিকার! হয়তো তাকে মেরে পাইপের ভিতরে ফেলে দেয়া হয়েছে বা জীবিত জিয়াদকে পাইপের ভিতরে ফেলে মেরে ফেলা হয়েছে! যেখানে বিরোধি দলের গাজীপুরের সমাবেশ না হওয়ার কারনে সারাদেশের মানুষ এক টপিক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করার কথা ছিল তা না করে বরং "জিয়াদ" ইস্যাু নিয়েই গতপরশু সন্ধ্যা থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত দেশের ম্যাগু পিপল (আমজনতা) ব্যাস্ত ছিল! সমাবেশ না হতে পেরে দিনও শেষ, এদিকে জিয়াদকে উদ্ধারের মাধ্যমে একটি সফল নাটকেরও পরিসমাপ্তি হলো ২৩ ঘন্টার অভিযানের মাধ্যমে! আর এই রাজনীতির বলি হল ছোট্ট শিশু "জিয়াদ"! সুতরাং, রাজনীতি জয়যুক্ত হলো! রাজনীতি জয়যুক্ত হলো! ধিক্! এমন রাজনীতি!”
এই ভাইটি কে একটি কথা বলতে চাই, please, যে বিষয়টি যেভাবে আছে, সেটিকে সেভাবেই দেখুন, শান্তি লাগবে। সব জায়গায় ভাবার্থ খোঁজা ঠিক না।
শেষ দল- আমরা যারা নিজেদের আম জনতা মনে করিঃ
আমরা যারা নিজেদের আম জনতা মনে করি, আমদের দৃষ্টিতে ঘটনাটি হল খুবই কষ্টকর এবং অপ্রত্যাশিত। আমার মতে আমাদের দেশের ক্ষেত্রে বাবা মা কে তাদের সন্তানদের প্রতি সাধারনের চেয়েও আরো বেশি যত্নশীল হতে হবে। সরকারের উচিৎ যে কোন ধরণের দুর্যোগ মোকাবেলায় সম্ভাব্য সকল প্রকার বিকল্পের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করন এবং এই সকল স্পর্শকাতর বিষয় গুলো নিয়ে রাজনীতি না করা।
©somewhere in net ltd.