| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
যশোর শহরের নাম ছোট বেলায় শুনতাম , শোনা সব বাক্য কল্পনা হয়ে জমে ছিল । বহুদিন পর দেখলাম যশোর । আকারে বেশ বড় শহর , প্রকারেও ভালো । প্রায় সব জেলা শহর থেকেই জৌলুশে চকচকে শহর যশোর ।
এক আত্মীয়ের বাসা শহরের উপরেই । ভদ্রলোক বোর্ড অফিসে চাকরি করতেন , বেশ উঁচু পোস্টেই । তিন তলা বাড়ি , সামনের কামিনি ফুল গাছ অযত্নে ঝোপ ঝাড় হয়ে গেছে এখন । বাড়ির নাম তার স্ত্রীর নামে রাখা । স্ত্রীর অভাবে চারদিকে শ্রী লোপের চিহ্ন । তারও বয়স হয়ে গেছে , হাত পায়ে পানি । ওজন বেড়েছে । স্থুলকায় শরীরে নামতে উঠতে পারেন না । সিঁড়িতেও আলো জ্বলে না ।
বয়স হলে মানুষ স্মৃতি কাতর হয় । চোখের জলে ভরে থাকে পুরন সব দৃশ্যরা । ভদ্রলোকের দেয়াল ভরা ছবি । ছেলে মেয়ে , নাতি নাতনি ।
প্রত্যেকের গল্প শুনে শুনে আমাদের সময় কাটল । প্রত্যেক ছেলে মেয়ে , নাতি নাতনির সাফল্যের গল্প । আমাদের কানে একটুও বেমানান লাগলোনা । বলুক। শেষ সময়ে এই নিয়ে বেঁচে থাকা তার। হোক হাস্যকর । হোক খেলো , সস্তা । বলুক । মেয়ের ইউনিভার্সিটি চান্স পাওয়া দেশের সব চেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ সংবাদ হোক, ছেলের বিদেশ গমন হোক দুর্দান্ত অর্জন , নাতনির একটি বিখ্যাত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্স্ট সেমিস্টার এর গল্প যোগাক বেঁচে থাকার রশদ !
আমাদের ছেলে বেলাতে অনেক বাবা মা সন্তান বাৎসল্যে অন্ধ ছিলেন । ছেলে মেয়ের প্রতিভায় ছিলেন মুগ্ধ । এ সব গল্প তখন আমাদের বাবা মা দের শুনতে হত । আমার খুব হিংসে হত তখন । আহা আমাদের বাবা মা ও যদি এমন করে গল্প করত সবার কাছে ।
সাফল্যের গল্প আরাম দায়ক । ফুরফুরে অনুভুতি দেয় । নিজেরে নিজের থেকে বড় বড় লাগে । অন্যরে ছোট করাটাও কাছাকাছি একটা অনুভুতি । এইগুলা আসলে সারভাইভাল ইন্সটিংট । এই ইন্সটিংট এ সবচেয়ে সমৃদ্ধ থাকে ইউনিভার্সিটি , মেডিক্যাল , বুয়েট এর ১ম বর্ষের পোলাপাইনের মধ্যে । আস্তে আস্তে ঠিক ও হয়ে যায় । অনেকের হয় না । অনেকের আজীবন থাকে । জীবনের সত্যকারের সংজ্ঞাটা তারা আর পায় না । বায়বীয় অহংবোধে একটা মাত্র অসাধারন জীবনকে অসহ্য রকমের সাধারন মানে নামায়া নিয়া আসে । করুনা দেখানো ছারা আর কিছু করার থাকে না তাদের জন্য ।
এমন অভিজ্ঞতা সবারি হয় এক দুইবার । বাসে বা ট্রেনে । এক দঙ্গল মানুষের ভিড় । এর মাঝে দুই এক জন এমন থাকেই , যারা কোথায় পড়ে , কি করে সব কিছু নিজের দায়িত্বে সবাইকে জানিয়ে দেয় ৫ মিনিট এর মধ্যেই । ভালো কোথাও পড়া কমবয়সী মানুষ সব যাত্রীর কানের পোকা নেড়ে দিয়ে আসে । গলায় লাল কালির সাইনবোর্ড , ভাইসব আমি মেধাবী !
নিজেকে মেধাবী দাবি করাটা বিরাট সাহসের কাজ । একটু লজ্জারও । মানুষের ব্রেইন এমন জটিল যে সব চেয়ে বোকা মানুষটাও আশ্চর্য রকমের বুদ্ধিমান একটা প্রাণী ! সুতরাং কাওকে বোকা ভাবা , কম মেধাবী ভাবা প্রাণী হিসেবে নিজের জাতির সাথেই বেঈমানি করা আসলে !
আমাদের দেশ এ বিসিএস নামের একটা আশ্চর্য পরীক্ষা হয় । ক্লাস ৮/৯ এর অঙ্ক , ৩/৪ এর ইংরেজি আর বাংলার জগাখিচুরি একটা পরীক্ষা । সেই পরীক্ষা নেয়া হয় সামনের দিনগুলোতে কারা দেশ চালাবে তা ঠিক করতে । এক দঙ্গল ছেলে মেয়ে বেছে নেয়া হয় এই পদ্ধতিতে । চান্স পাওয়ারা হঠাত খেই হারায় । দেশ চালানোর গুরু দায়িত্ব তাদের অহংকারী ব্র্যাট এ পরিনত করে ।
একটা হাস্যকর মেধাযাচাই পদ্ধতি একটা হাস্যকর আমলা সম্প্রদায় তৈরি করে । দেশও হাস্যকর ভাবে চলতে থাকে !
এই ছেলেমানুষি পরীক্ষা তেও কোটা পদ্ধতির একটা আশ্চর্য সমীকরণ করা হয় । চাকরি পার্থী ছেলে মেয়েরা র্যানডম্লি বাদ পরতে থাকে । মুক্তিযোদ্ধার কোটায় ভরে যায় সরকারী চাকরির শুন্যপদ ।
সম্মান জানানো যায় অনেক ভাবে । ভাতা বাড়ানো যায় । স্বাস্থ্য সেবা উন্নত করা যায় । কিন্তু একটা উন্নয়নশীল এবং যুব বয়সীদের দেশে অন্য আরও অনেককে ডিপ্রাইভড করে চাকরি দিয়ে বরং একটা অস্বস্তিতেই ফেলে দেয়া হয় তাদের ।
মেধাবীদের সাথে নাই আমি । দেশ ভর্তি মেধাবী সবাই । আলাদা করে আর কার সাথে থাকা যায় ! তবে কোটা পদ্ধতির সংস্কার টা জরুরি খুব । হোক হাস্যকর মেধাযাচাই পদ্ধতি , হোক ছেলেমানুষি আমলা খোঁজা । যুদ্ধক্ষেত্রের নিয়ম কানুন সমান সমান হোক ।
©somewhere in net ltd.