নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি ঘুরতে ভালোবাসি। আমি খুব নেট পাগল। আমি নবম শ্রেণী থেকে অনার্স পযর্ন্ত নানী বাড়িতে ছিলাম।

নাহল তরকারি

আমি ধার্মিক। আমি সব কিছু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী বিচার বিশ্রেশণ করি। আমি সামাজিক রীতিনীতি, সমাজিক কু সংস্কার, আবেগ দিয়ে কোন কিছু বিচার করি না।

নাহল তরকারি › বিস্তারিত পোস্টঃ

আজ দুঃখে.. কান্না পাচ্ছে।

২৫ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ৯:৫৭




২০১৯ সালের সেই স্মৃতিময় দিনগুলো আজ ফেসবুকের মেমোরিজে ফিরে এলো। দুটি পুরনো ছবি—একটি বিল্লালের, আরেকটি মহিউদ্দিন ভাইয়ের। মহিউদ্দিন ভাই আমাদের এসএসসি-তে এক-দুই বছর সিনিয়র ছিলেন, তবে পারিবারিক কারণে কিছু গ্যাপ নেওয়ায় আমাদের সাথেই অনার্সে ভর্তি হন। একই গ্রামের হওয়ায় একসাথে কলেজে গেছি, একসাথে পরীক্ষা দিয়েছি, একই পথের পথিক ছিলাম আমরা। আর বিল্লাল? ও তো আমার খুব কাছের বন্ধু। কিন্তু সময়ের স্রোতে আজ আর কারও সাথেই তেমন যোগাযোগ নেই।

২০১৯ সাল—আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম বছর। তখন আমি তরুণ, ক্লান্তি শব্দটা যেন শরীরেই ছিল না। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঘোরাঘুরি, হাসি-ঠাট্টা—সবই ছিল রঙিন। এই বছরই প্রথম বাসায় ওয়াই-ফাই এনেছিলাম, প্রথম ল্যাপটপ কিনেছিলাম। পরীক্ষার পর মামা আর নানা বাসায় এসি লাগালেন। একদিন নানী বাসায় ছিলেন না, আমি এসি চালিয়ে ল্যাপটপ অন করলাম, ইউটিউবে গান শুনলাম, ফেসবুক চালালাম। রাত এগারোটায় ল্যাপটপ বন্ধ করে শুতে গিয়েছিলাম, কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি, খেয়ালই হয়নি। রাত দুইটায় প্রচণ্ড শীত লাগায় ঘুম ভেঙে গেল, উঠে এসিটা বন্ধ করলাম। আজও মনে হয়, সেটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে উপভোগ্য রাত।

সেই বছর অনার্স পরীক্ষার দিনগুলোও মনে আছে। এপ্রিলের ৭ তারিখ শুরু হয়ে ২৫ মে শেষ হয়েছিল। রমজানের দিন ছিল, সম্ভবত শেষ পরীক্ষার দিন ১৯ রমজান। সেবার চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল, আবহাওয়া খারাপ ছিল বলে চাঁদ দেখা কমিটি নিশ্চিত হতে পারছিল না। রাত দশটায় বিটিভির ঘোষণায় জানা গেল, পরদিন ঈদ। নানী বাসায় কখনো ডিশ সংযোগ লাগাননি, তবে ওয়াই-ফাই থাকার কারণে আমারও কখনো টিভির দরকার পড়েনি। মাঝে মাঝে একটি অ্যান্টেনা দিয়ে বিটিভি দেখতাম।

ঈদের আগের সেই রাতে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। দূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। হঠাৎ এক এম্বুলেন্স দ্রুতগতিতে চলে গেল। মনে হলো, হয়তো কোনো ড্রাইভার রোগীকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে ঈদে পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছে। সেই মুহূর্তটা আজও মনের গভীরে আঁকা হয়ে আছে।

তারপর এল ২০২০। সেই বছরই যেন আমার জীবনের সমস্ত সুখ, রঙ, উচ্ছ্বাস একে একে মুছে গেল। লকডাউন শুরু হলো, জীবন থমকে গেল। তখন ছিলাম সিরাজগঞ্জে, আম্মু আর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে। ভাই মেডিকেলে পড়ে, কিন্তু হোস্টেলে থাকতে পারে না, তাই আম্মু বাসা ভাড়া নিয়েছিল।

সেই ২০১৯ সালটা এক টুকরো রোদের মতো ছিল, যা আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে। আজও মনে হয়, আমি সেদিনের সেই রাতেই রয়ে গেছি—একটা নির্জন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে, দূরে ছুটে চলা এম্বুলেন্সের লাইটের দিকে তাকিয়ে...

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১০:১৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমার জীবনের সেরা সময় ছিলো ২০১৮ ও ২০১৯ সাল। কিন্তু করোনা থেকে এমন ডাউনে চলে গিয়েছে জীবন এখন শুধু টিকে থাকার স্বপ্ন দেখি।

২| ২৫ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১১:০৪

চেংগিস খান বলেছেন:



আজকাল আপনার দিন কেমন যাচ্ছে?

নতুন দলের অফিস খোলেন ভবের চরে, এটা হবে, "সেলফ-এমপ্লয়মেন্ট"; সামান্য টাকায় দোকান ভাড়া নিয়ে, টেবিল চেয়ার নিয়ে বসেন; নিজকে ভরের চরের এনসিপি'র সভাপরতি হিসেবে পরিচয় দিবেন।

৩| ২৬ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:২৫

রাজীব নুর বলেছেন: সামান্য কারনে দুঃখ পান কেন?
নাকি দুঃখ নিয়হে বিলাসিতা করছেন?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.