| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইনকগনিটো
যতোবার আমি শান্তি খুঁজেছি, ততোবার শুধুমাত্র একটা চিন্তাই আমার মাথায় এসেছে। সেটা হচ্ছে একটি ড্রিল মেশিন নিয়ে নিজের মাথার খুলিটা ফুটো করে দেওয়ার চিন্তা।
পৌরানিক ঘটনা বা কাহিনীর জন্য যে জাতি বিখ্যাত ,তা হল গ্রীক জাতি । গ্রীকদের সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের অন্যতম উপায় হল তাদের এসব পৌরাণিক কাহিনী সম্পর্কে জানা । গ্রীক পুরানে প্রাপ্ত কাহিনীগুলো প্রথমদিকে লোকমুখে শ্রুতির মাধ্যমেই বিস্তার লাভ করে , পরবর্তীতে লিপিবদ্ধ করা হয় । এসব কাহিনীতে প্রাপ্ত
অনেক চরিত্র কাল্পনিক হলেও তা থেকে প্রাক্তন গ্রীক রীতিনীতি বা জীবনধারা সম্পর্কে বেশ ভালো রকম ধারনা পাওয়া যায় । এসব পৌরাণিক কাহিনীর মধ্যে অন্যতম একটি পুরান হল হেরাক্লেস সম্বন্ধীয় পুরান ।
হেরাক্লেস
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে হেরাক্লেস ছিল এক গ্রীক মহাবীর । হেরাক্লেসের আরেক নাম হারকিউলিস , বস্তুত হেরাক্লেস থেকে হারকুলেস , আর হারকুলেস থেকে হারকিউলিস নামের উদ্ভব ঘটে।
হেরাক্লেস এর পিতা জিউস , মাতা আল্কমেনি ।আল্কমেনি ছিলেন আম্ফিত্রায়ন এর স্ত্রী । সেই হিসেবে আম্ফিত্রায়ন ছিলেন হেরাক্লাসের পালক পিতা । ইফিক্লেস ছিল আল্কমেনি এবং আম্ফত্রায়নের প্রকৃত ছেলে , এবং হেরাক্লেসের ভাই , যেহেতু তাদের মাতা অভিন্ন কিন্তু পিতা ভিন্ন ।
হেরাক্লেস ছিল গ্রীক পুরানের সবচেয়ে শৌর্যবীর্য সম্পন্ন মহাবীর ।
অচিন্তনীয় শক্তি ,সাহস আর পুরুষত্বে ভরপুর ছিল এই গ্রীক নায়ক । কথিত আছে , হেরাক্লেস শিশু অবস্থায় খালি হাতেই বিষধর সাপ মেরে ফেলেছিল গলা টিপে ধরে ।
পুরানে বর্ণিত আছে , গ্রীসের এক উপত্যকা ,নেমিয়া তে এক বিরাটাকার সিংহের উপদ্রব ছিল । সিংহ টি মানুষ ,পশু , নির্বিশেষে সকলের উপরই আক্রমন করতো । পশুটি ছিল ভয়ঙ্কর কারন তাকে মারা ছিল দুঃসাধ্য । পশুটির গায়ের চামড়া এতটাই পুরু ছিল যে ব্রোঞ্জ তীর তার গায়ের চামড়া থেকে ছিটকে যেত । হেরাক্লেস তাকে মারার জন্য ওক গাছের কাঠ থেকে বিশাল বড় একটা লগুর তৈরি করল ।লগুড়টা এতোটাই ভারী ছিল যে ২০ জন শক্তিশালী মানুষও ওটাকে তুলতে পারে নি । হেরাক্লেস লগুড়টাকে নিয়ে একাই সিংহ এর গুহায় ঢুকল । সিংহ তাকে প্রথমে আক্রমন করলেও লগুড়ের আঘাতে পরক্ষনেই পরাস্ত হল । অবশেষে হেরাক্লেস সিংহ টিকে গলা টিপে হত্যা করে ।
হেরাক্লেসের বীরত্ব এর আরেক কাহিনী হল হাইড্রা বধ । হাইড্রা ছিল এক লারনিয়া নামের এক জলাশয়ের দানব , যা অনেক অনিষ্ট করতো মানুষের । অনেক পশুপাখির পাল খেয়ে ফেলত চোখের নিমিষেই। মুলত এটি ছিল একটি সাপ ,যার মাথা ছিল ৯ টি । এর মধ্যে ৮ টি মাথা ছিল মরণশীল ,একটি অমর । তার শরীর ছিল চকচকে আইশে পরিপূর্ণ । হেরাক্লেস একদিন হাইড্রার সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হল । কিন্তু সে আবিস্কার করল একটা মাথা কেটে ফেললে ওই জায়গা থেকে নতুন ২ টি মাথা জন্মাচ্ছে । অবশেষে হেরাক্লেস লোলাউসের সহযোগিতায় সাপের মাথা কেটে সেই কাটা অংশ পুড়িয়ে দিলেন । ফলে ,আর কোন নতুন মাথা জন্মাতে পারল না ।
যখন সব মাথাগুলিই নষ্ট হল ,শুধুমাত্র অমর মাথাটি বাকি থাকল , তখন হেরাক্লেস হাইড্রাকে পাতালে গেঁথে ফেলল , এবং হাইড্রার শরীরের ভয়ঙ্কর বিষ নিজের তীরে মাখিয়ে হাইড্রা কে বধ করল ।
সম্রাট আভগিয়াসের পাঁচ হাজার ষাঁড় ছিল । কিন্তু তার আস্তাবল ৩০ বছর ধরেই নোংরা ছিল । আভগিয়াস হেরাক্লেস কে একদিনেই আস্তাবল পরিস্কারের দায়িত্ব দেন । সেদিন আভগিয়াসের সাথে তার অতিথিদের ভোজ চলছিলো । হেরাক্লেস তখন পার্শ্ববর্তী ২ টি নদী আলফিয়াস ও পেনিয়াসে বাধ দিয়ে পানির গতিবেগ রুদ্ধ করে । এবং ওই পানিকে আস্তাবলের উপর থেকে চালনা করে একদিনেই আস্তাবল পরিষ্কার করে ।
এবার সোনার আপেলের গল্প । সোনার আপেলের খোঁজে হেরাক্লেস অনেক বিশাল পথ পাড়ি দিয়েছিলো । গ্রীস থেকে অনেক দূরে , হেস্পিরিডিস নামক এক জায়গায় ছিল সোনার আপেল ।
হেরাক্লেস লিবিয়া ,ইজিপ্ট , ইথিওপিয়া , এশিয়া অতিক্রম করে অ্যাটলাস পর্বতে পৌছায় । যাত্রা পথে হেরাক্লেসের দেখা হয় প্রমিথিউস এর সাথে । প্রমিথিউস তাকে আরেক মহাবীর আতলান্ত্যস এর সাথে দেখা করতে বলে ।তার জন্যই অ্যাটলাস পর্বতে পৌঁছল হেরাক্লেস । সেখানে গ্রীকরা মনে করতো ,আকাশ মাটিতে গিয়ে মিশেছে এবং আতলান্ত্যস নিজেই পৃথিবীর উপর অর্ধবৃত্তাকার মহাকাশ ধরে রেখেছে । এই বীরের নামানুসারেই পরবর্তীতে আটলান্টিক মহাসাগরের নামকরন হয় । হেরাক্লেস প্রমিথিউসের কথানুসারে আতলান্ত্যস কে সোনার আপেল পেড়ে আনার জন্য পাঠাল । হেরাক্লেস কে দেবার জন্য আতলান্ত্যস যখন আপেল পাড়তে গিয়েছিল তখন হেরাক্লেস কেই নিজের কাধে আকাশ ধরে রাখতে হয়েছিল ।প্রচণ্ড ভারের ফলে যদিও তার পা ,হাঁটু পর্যন্ত ডেবে যায় , তবুও আতলান্ত্যস ফেরত না আসা পর্যন্ত হেরাক্লেস আকাশ কাধে নিয়েই অপেক্ষা করছিল ।

হেরাক্লেস কে নিয়ে আরও অনেক পুরান কাহিনী আছে । এই মহাবীরকে গ্রীকগণ অনেক সম্মান করতো । দেবদেবীরাও হেরাক্লেস কে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করত ।
ছবি ও তথ্য : ইন্টারনেট ।
Click This Link
Click This Link
Click This Link
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:২৪
ইনকগনিটো বলেছেন: পুত্তুম ধইন্ন্যা ।
২|
১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০৩
মুরাদ-ইচছামানুষ বলেছেন: অসাধারন ভাল লেগেছে।ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টের জন্য।
১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:২৩
ইনকগনিটো বলেছেন: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ ।
৩|
১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:৩৭
নিশাচর ভবঘুরে বলেছেন: পুরো গ্রীক পুরাণের বাংলা অনুবাদসহ লিঙ্ক দিবেন কি?
১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:২২
ইনকগনিটো বলেছেন: বাংলা অনুবাদ করা কোন লিংক তো নেই ভাই আমার কাছে , খুজতে হবে ।
৪|
১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৫১
ইলুসন বলেছেন: তথ্যবহুল পোস্ট।
নিশাচর ভবঘুরে বলেছেন: পুরো গ্রীক পুরাণের বাংলা অনুবাদসহ লিঙ্ক দিবেন কি?
লেখক বলেছেন: বাংলা অনুবাদ করা কোন লিংক তো নেই ভাই আমার কাছে , খুজতে হবে ।
খুজার কি দরকার? এমন একটার পরে একটা পোস্ট দিতে থাক। কেউ এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আমরা এই ব্লগের লিঙ্ক দিব।
১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:৪১
ইনকগনিটো বলেছেন: হা হা হা ,ভালা কইছস ।
৫|
১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:৫৭
আমি ২৪৪১১৩৯ থেকে বলছি বলেছেন: দারুন পোস্ট।
শুভ নববর্ষ।
১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:৩৬
ইনকগনিটো বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
৬|
১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৬
শব্দহীন জোছনা বলেছেন: এখন একটু ব্যস্ত আছি টপিক দেখেই তাই ভাল লাগা জানিয়ে গেলাম ।পরে এসে দিয়ে পড়ে কমেন্ট করব । ভাল থাকবেন।
১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৯
ইনকগনিটো বলেছেন: ঘুরে যে গেছেন তার জন্যই ধন্যবাদ নেন ।
৭|
১৫ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০৩
শব্দহীন জোছনা বলেছেন: হেরাক্লেসের হাইড্রা বধ,আপেল কাহিনী কিংবা সিংহ অভিযান প্রতিটা গল্প অসাধারণ লাগল। ছোটবেলার বিশধর সাপ মারার কাহিনী তো রীতিমত দুর্দান্ত
। প্রতিটা গল্প খুব সুন্দর এবং গুছানভাবে এসেছে আপনার লেখাটিতে তাই ধন্যবাদ আপনাকে।গ্রীক পুরাণের অন্যান্য বীর সম্পকে আপনার লেখা চাই । আরেকটা কথা ছবিগুলাও কিন্তু অসাধারণ হইসে।
যদিও গল্পগুলান আজকের আধুনিক প্রেক্ষাপট কল্পনা করলে হাস্যকর কাহিনী বলেই মনে হয় তবুও এই গল্পগুলো কি শুধুই গল্প আর সেইসময়কার ধর্মীয় বিশ্বাস নাকি, কিছুটা বাস্তবতাও আছে।যদি বাস্তবতা না থাকে তাহলে এই ভাস্কর্য গুলান কি শুধুই শিল্পী মনের কল্পনা।যাই হোক ভাল থাকবেন আর এই রকম আরও সুন্দর সুন্দর পোস্ট দিবেন
১৫ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৩৩
ইনকগনিটো বলেছেন: আসলে পৌরাণিক কাহিনীগুলো তাদের প্রাক্তন ধর্ম কিনবা রীতিনীতি এর প্রতিচ্ছবি । ভাস্কর্যগুলো পৌরাণিক কাহিনীর আদলেই তৈরি ।
আপনার সুন্দর মন্তব্যর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।
৮|
১৫ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:৫৮
এ্যরন বলেছেন: প্রিয়তে,
১৭ ই এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৪
ইনকগনিটো বলেছেন: ধন্যবাদ ।
৯|
১৫ ই এপ্রিল, ২০১১ ভোর ৬:০৯
পয়গম্বর বলেছেন: ভাল লাগলো।
১৭ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:৫৫
ইনকগনিটো বলেছেন: ধন্যবাদ ।
১০|
২৩ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১০:০০
qazi1414 বলেছেন: গল্প লেখনী টা অসাধারণ !!!!!!!!!
ভাল লাগল !!
ধন্যবাদ ।
২৩ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১০:২২
ইনকগনিটো বলেছেন: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।
১১|
২৭ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৯:২৯
মহামহোপাধ্যায় বলেছেন: হারকিউলিস কে দিয়েই গ্রিক মিথের হাতে খড়ি। আবার পুরনো স্মৃতি গুলো ঝালিয়ে নিতে ভালো লাগছে।
অনেক ধন্যবাদ।
১২|
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:০৫
মাহের ইসলাম বলেছেন: আমার একটা লেখার জন্যে আপনার এই গল্পগুলো পড়লাম।
ভালো থাকবেন।
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:২১
ত্রিনিত্রি বলেছেন: পুত্তুম প্লাস!