নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জীবন যদি মানুষের উপকারে না আসে, সেই জীবনের মূল্য কোথায়? জীবন মানে কী শুধু নিজের চিন্তা করা? আমি যদি সবার মাঝে বিলিন হতে পারি সেখানেই খুঁজবো জীবনের স্বার্থকতা।

ইসমাঈল আযহার

মেইল[email protected], স্বপ্ন দেখি শুদ্ধ মানুষ হওয়ার, সোনার বাংলা গড়ার। শখ, লেখালেখি, ঘুরে বেড়ানো। সঙ্গি বই। ভালবাসি মাকে, নিজেকে, আমার বাবাকে।

ইসমাঈল আযহার › বিস্তারিত পোস্টঃ

আবরার হত্যাকাণ্ড: কারণ রেখে অকারণের দিকে বইছে সব, কেন অবাক নয় বুয়েটের শিক্ষার্থীরা? শিবির হিসেবে ভারতবিরোধী পোস্ট প্রমাণ

১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৪


ভারতবিরোধী পোস্ট করায় বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। সিসিটিভির ফুটেজে এর প্রমাণ মিলেছে। খুনীরাও সত্যতা স্বীকার করেছেন। সত্যতা স্বীকার করলেও তাদের দাবি করেছেন, আবরার ফাহাদের রুমের সবাইকে মাতাল ছিল। সিসিটিভির ফুটেজে কিন্তু আবরারকে একটুও মাতাল মনে হয়নি। বরং ছাত্রলীগ মদ খেয়ে পিটিয়েছে এটা ঠিক বোঝা গেছে আবরারের গায়ের দাগ দেখে।

হাস্যকার ব্যাপার হল, অনেক পত্রিকার রিপোর্টে দেখলাম, হাসপাতাল জানিয়েছে, ‘আবরার হত্যার কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।’ হাতপাতালে নিতান্তই কিছু ছাগল পোস্টমর্টেম করেছে এটা এ থেকে নিশ্চিত। সরকারী ইস্যু আসলে ডাক্তারের কিছু বলে দিতে হয় না। তারা আপনা থেকেই সবকিছু বুঝে নেয় কী করতে হবে আর কী বলতে হবে। আবরারের পোস্টমর্টেম কোনো পাগল ছাগল করলেও সঠিক তথ্যটিই বেরিয়ে আসতো। কিন্তু...

এদিকে কুষ্টিয়ার এসপি আরাফাত তানভীর নৈদিক আমাদের সময়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছে, আরাফাতের পরিবারের সবাই জামায়াত শিবির। এটা বলে উনি কী বোঝাতে চাইছেন? আবরারকে হত্যা ঠিক আছে, এখন তার পরিবারের এক এক সদস্য করে হত্যা উচিৎ। নাকি বঙ্গবন্ধু হত্যার দায়ে তাদের জেলে পুড়ে দেয়া উচিৎ। কোনটি?

গতকাল ৯ অক্টোবর বুয়েটের ভিসি আবরারের কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন। এলাকাবাসীর তোপের মুখে পালিয়ে এসেছেন। সেখানে লোকজন ভিসিকে আটকে ফেলেন। অবশ্য এলাকাবাসী ভিসিকে বাঁধা দেওয়ার পরে সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় আবরারের ছোট ভাই ফায়াজ, তার ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রী ও আরও একজন নারীকে মারধর করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এর সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি পেতেই হবে। কাউকে একচুলও ছাড় দেয়া হবে না। শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নয়, আমি একজন মা হিসেবে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করব। প্রধানমন্ত্রী মা হিসেবে বিচার করতে চাইছেন। অনেকেই প্রশ্ন ছুঁড়ছেন, কার মা হিসেবে ছাত্রলীগের না ফাহাদের? যেভাবে হত্যাকারীদের কেউ কেউকে দূরে সরানো হচ্ছে, আড়াল করা হচ্ছে, তাতে তো মনে হচ্ছে মা-ই সন্তানকে আড়াল করে রাখছে। এ কথা আমি বলছি না। স্যোশাল মিডিয়ায় অনেকেই বলছেন একথা।

প্রধানমন্ত্রী ভিসির ওপরও ক্ষোভ প্রকাশ করের। বলেন, উনি কেমন ভিসি? একটা ছাত্র মারা গেল, আর তিনি এতটা সময় বাইরে ছিলেন? আবরারের জানাজায়ও তার অংশ নেয়া উচিত ছিল। এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রধানমন্ত্রীর এ কথা শোনার পরই হয়ত ভিসির টনক নড়ে। আর তিনি ছুঁটে যান আবরারের কবর জিয়ারত করতে। প্রধানমন্ত্রী একথা না বললে হয়ত তিনি কখনই কুষ্টিয়ায় পা রাখতেন না।

আর একটা কথা পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের কী আশ্চর্য মিল -এটা কি কেউ খেয়াল করেছেন। ছাত্রলীগ বলল, আবরার শিবির করতো। কারণ হিসেবে পাওয়া গেল সে শিবির করতো। পুলিশও কিন্তু মিল রেখে সেই কথাই বলল। অনেকের ধারণা এই পুলিশ নিশ্চয় ছাত্রলীগ থেকে উঠে এসেছে। তিনি নাকি স্বজাতিদের বাঁচাতে চাইছেন।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, এটা যে নতুন ঘটছে তা নয়। বুয়েটে এটা অনেক পুরনো। বেশ আগে থেকেই চলে আসছে। আজ যেভাবে জানতে পেরেছি এর আগে এভাবে জানতে পারিনি। সবকিছু চলতো গোপনে, তবে আমরা জানতাম। কিন্তু নামগুলো জানতে পারতাম না। আর একারণে আবরার হত্যায় আমরা মোটেও অবাক হচ্ছি না।

অরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, শুধু বুয়েট নয়, দেশেল বড় সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই সমস্যা আছে। যেখানে ছাত্রলীগরা হরহামেশাই শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করে। ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে টার্গেট করে ছাত্রলীগ। এরপর তাকে ভিবিন্নভাবে নির্যাতন চালায়। আবরারের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। তার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে তাকে টার্গেট করা হয়েছে। ছাত্রলীগ এটা স্বীকার করেছে। তারা আবরারের ল্যাপটপ চেক করেছে। শিবির হিসেবে প্রমাণ পেয়েছে তার ভারত বিরোধী স্ট্যাটাস।

আজ (১০ অক্টোবর) বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এক সংবাদে জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ খোলা একটি ওয়েবপেইজে গত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত র‌্যাগিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১৬৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের এমন ঘটনা ঘটে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘জেনেও’ উদ্যোগী হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নির্যাতন বন্ধে অহায়ত্বই ফুটে উঠেছে বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমানের কথায়। বুয়েটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখে তার দপ্তর।

সবাই বলে আবরার মরে গেছে কিন্তু আমি বলব বেঁচে আছে, এখন পর্যন্ত বেঁচে আছে। নতুন কোনো ইস্যু আসা পর্যন্ত আবরার বেঁচে আছে। ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে যখন মিডিয়াপারাসহ সকল পারা সরব। ঠিক তখনই সোনার ছেলেরা মোড় ঘুরিয়ে দিল। চুক্তির দিক থেকে সবার নজর সরে গেল। চুক্তি নিয়ে বিবৃতি আসা বন্ধ হল। সবাই চিল্লানো শুরু করল আবরারকে নিয়ে। কিন্তু আবরার কেন মরল। সেটা সবাই ভুলে গেল। নতুন ইস্যু আসতে দেরি হবে না আসা করা যায়। কখন কী ঘটবে কেইবা জানে, তবে ইস্যু তৈরি হবে এটা নিশ্চিত বলে দেওয়া যায় অতীতের অভিজ্ঞাতার ওপর ভিত্তি করে।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:০৪

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: আদালতের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ন্যায় বিচার চাওয়ার কথা, ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য প্রশাসনকে সাহায্য করার কথা বলবার কথা। কিন্তু তিনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, মা হিসেবে বিচার করবেন। আমরা এটা নিয়ে হাউকাউ করছি।

সরকারী দলের লোক সব সেক্টরে নিয়োগ দিলে এই সুবিধাগুলো পাওয়া যায়। যেমন: প্রথমে বুয়েট প্রশাসন সিসিটিভির ফুটেজ দিতে চায়নি, পরে পুলিশ টালবাহানা করেছে....

২| ১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৫৫

রাজীব নুর বলেছেন: সবুর করুন।

৩| ১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ২:৩৯

করুণাধারা বলেছেন: পোস্টের প্রথম দিকে বেশ কিছু টাইপো আছে, পোস্ট ভালো লেগেছে।

৪| ১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ২:৪৪

ঢাবিয়ান বলেছেন: যখন কোন হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে এই দেশে, ভিসি, মিসি পুলিশ সবাই জেনে যায় তাদের কি বলতে হবে বা কি করতে হবে।

যাক রাজীব নুর বলেছে সবুর করতে। সবুর করেন দেখবেন কিভাবে বিশ্বজিত, ঢাবির আবু বক্কর সিদ্দিকির খুনীদের মত এরাও হাসি মুখে হাজত থেকে বের হয়!!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.