নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি আমার বিশ্বাসের প্রতিনিধি

ইশতিয়াক অাহমেদ

ইশতিয়াক অাহমেদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার নদীর নাম শীতলক্ষ্যা অথবা আমার নদীর কিছু দুঃখ শেয়ার ...

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৪

নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে শীতলক্ষ্যার চেয়ে বড় বন্ধু আর নেই। আমার কথাই বলি আমি এবং আমার বন্ধুরা আমাদের এক উচ্ছল সময় কাটিয়েছি এই শীতলক্ষ্যা এবং তার আশেপাশের এলাকায়।

আমাদের কারো মন খারাপ? আমাদের সামনে বড় কোন সমস্যা? অথবা আমাদের কোন বিশেষ আনন্দের সময় উদযাপন করতে হবে?

কোথায় যাওয়া যায়? যে কারো কাছে ডিসিশন চাইলে একটাই উত্তর আসতো, চল নদীতে যাই। আমাদের এ ব্যাপারে কোন দ্বি-মত ছিলনা। কারন, আমাদের আশ্রয়স্থল ওই একটাই শীতলক্ষ্যা।

২.

নারায়ণগঞ্জে কোন পার্ক নেই। নেই তেমন কোন ঘুরে বেড়াবার জায়গা। ঢাকার এতো কাছাকাছি সত্ত্বেও এরকম না থাকা নারায়ণঞ্জের মানুষেকে সবসময়ই রেখেছে নিরানন্দ সময়ের বেড়াজালে আটকে।

বাধ্য হয়ে শেষ আশ্রয় হয়ে দাঁড়ায় প্রাণের নদী শীতলক্ষ্যা। শহরের উৎসবে শহুরে আবহের বাইরে কেউ যদি বেরুতে চায় তবে নিশ্চিত তার সামনে শীতলক্ষ্যায় ঘোরাঘুরি ছাড়া কোন পথ অবশিষ্ট থাকেনা।

৩.

এই শীতলক্ষ্যা মোটামুটি মৃত্যুর মুখোমুখী। নানাশ্রেণীর মানুষ এবং এই নদীর প্রতি কর্তৃপক্ষের অবহেলা নদীকে নিয়ে গেছে ধ্বংসের প্রান্তে। অনেক আবেদন, অভিযোগেও আটকানো যাচ্ছেনা দেশের একমাত্র কুমারী নদী শীতলক্ষ্যাতে যাবতীয় ধ্বংসলীলা।

৪.

নদীমাতৃক বাংলাদেশের একটা মজার বিষয় আছে। সব লেখক কবির একটা করে নদী আছে। আমাদের নারায়ণগঞ্জও অনেক ভালো ভালো লেখক, কবির জন্ম দিয়েছে। যাদের এই শীতলক্ষ্যার প্রতি হয়তো আছে অসম্ভব ভালোবাসা। প্রেম।

একদিন হয়তো এ শহর থেকে বড় কেউ বড় কবি হয়ে উঠবে। যাকে ধানসিড়ির জীবনানন্দ বা অন্যান্য কবিদের মতো শীতলক্ষ্যা পাড়ের কবি হিসেবে উল্লেখ করা হবে। যে দিন ওই কবির শীতলক্ষ্যা দেখতে মানুষ ছুটে আসবে।

ভাবতে ভয় লাগে সেদিন এই শীতলক্ষ্যা দেখে যেন কারো কোনো দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে না আসে, আহারে নদীটা কবির বর্ণণার মতো এখন আর নেই। আমার একান্ত চাওয়া, আমাদের নদী, আমাদের আশ্রয়স্থল শীতলক্ষ্যা বিলীণ না হোক এই নাগরীক সভ্যতার কাছে।

এখনো এ কথা বিশ্বাস করার যথেষ্ঠ কারন আছে নারায়ণগঞ্জের মানুষের প্রাণময় জীবনের জন্য প্রাণময় শীতলক্ষ্যার কোন বিকল্প নেই।

তাই খুব প্রচন্ড প্রত্যাশা করি, আমাদের শীতলক্ষ্যা বেঁচে থাকুক। আমাদের শীতলক্ষ্যা বয়ে চলুক। যতটা তার ভূ-প্রাকৃতিক সীমানার ভেতরে, ততটাই বয়ে চলুক আমাদের বুকের ভেতরেও।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৭

সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: ধন্যবাদ পোষ্টের জন্য।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৯

ইশতিয়াক অাহমেদ বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ পড়বার জন্য...

২| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৩

শূন্য আরণ্যক বলেছেন: ভাইরে এই যন্ত্রনাটা যদি কেউ বুঝতো ...........
ছোট বেলায় প্রতিদিন এই নদীতে দল-বল নিয়া সাতার না কাটালে দিন পার হইতো না --

এইচ এস সি র সময় বরফকলে আড্ডা ---------- ছুটির দিনে জার্ডিন থিকা লাফানো ......
কি দিন গেসে ........ আর এখন এই নদীর পানি দেকলে আতংক লাগে ----------

ছোট বেলা নিজে এই খানে শুশুক দেখছি -----------আর এখন মনে মাছের এসিড প্রুফ হতে হবে এখানে বাচতে হলে

ভালো লাগার পোষ্ট .. ১০০ +

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৮

ইশতিয়াক অাহমেদ বলেছেন: দুই জনের দিনযাপনের ষ্টাইল তো ভাই একই...এই শহরের সবারই মনে হয় একই রকম...
নদীর পাড়ে পাড়ে ঘুরেই মনে হয় এ শহরের মানুষ বড় হয়...
ধন্যবাদ...

৩| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৫৯

প্রজন্ম বলেছেন: শুধু তাই নয় শীতলক্ষ্যার পাড়ে সি এস ডি মাঠে ক্রিকেট খেলা। অত:পর পানিতে গড়িয়ে পড়া এ সবই এখন কেমন যেন দূর স্মৃতি মনে হয়। একবার সারারাত কাটিয়েছিলাম শীতলক্ষ্যার পারে ক্যাম্পিং করে আমার জীবনের সেরা রাতগুলোর একটা। আবার দেশে আসলে ক্যাম্পিং এর ইচ্ছা আছে।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:০৬

ইশতিয়াক অাহমেদ বলেছেন: বুঝলাম না বিষয়টা ওই ঘুরে ফিরে আমাদের একই দেখা যাচ্ছে...
শীতলক্ষ্যার পাড়ের মানুষদের জন্য ভালোবাসা...

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.