![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রঙের দুনিয়ায় আমি এখনও ছাত্র,তবে শখের বশে লেখক, সাংবাদিক, অনুবাদক আবার কখনো আরও অনেক কিছু।
তার নাম হাতিব বিন আবি বালাতাআ। কিবতীদের সম্রাট মুক্বাওকিসের কাছে রাসূল সা. এর চিঠি নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অনেকদূর পথ পাড়ি দিয়ে তিনি পৌঁছলেন সম্রাটের কাছে।
মুকাওকিস ছিল খ্রিষ্টান। রাসূল মুহাম্মাদ সা. এর পাঠানো চিঠিটি তিনি পড়লেন। তারপর মদীনা এবং সেখানকার পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নিলেন। এক পর্যায়ে তিনি হাতিবকে প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মুহাম্মাদ যদি সত্যিই নবী হয়ে থাকে- তবে তিনি কেন মদীনায় যারা তার বিরোধিতা করছে- তাদেরকে বদদুআ করে ধ্বংস করে দিচ্ছেন না? কেন তিনি তাদেরকে মদীনা থেকে বের করে দিচ্ছেন না?
সাহাবী হাতিব এর কি জবাব দিবেন? তিনি খুব সাধারণভাবে বললেন, আমারও তো জানতে ইচ্ছে করে, ইহুদীরা যখন ঈসা নবী আ.কে ঘেরাও করে ফেলল তাকে শূলীবিদ্ধ করার জন্য- কেন তিনি তখন বদদুআ করে উপস্থিত শত্র“দেরকে বিনাশ করে দিলেন না?
জবাবের এমন পাল্টা প্রশ্ন শুনে মাথা নিচু করে ফেললেন মুকাওকিস সম্রাট। তিনি বুঝলেন, রহস্য অনেক গভীর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে।
................................
রাসূলের চাচার নাম আব্বাস। স্বাভাবিক ভাবেই তিনি ছিলেন বয়সে মুহাম্মাদ সা. এর চেয়ে অনেক বড়। তাদের মধ্যে তো চাচা-ভাতিজা সম্পর্ক।
কেউ একদিন আব্বাস রা.কে জিজ্ঞেস করেছিল, আচ্ছা! আপনি বড় নাকি মুহাম্মাদ সা. বড়?
চাচা হলেও তো তিনি রাসূলের সাহাবী। খুব বিনম্র ভঙ্গিতে তিনি উত্তর দিলেন, মুহাম্মাদ আমার চেয়ে অবশ্যই বড়। অনেক বড়। তবে হ্যাঁ, আমি তার আগে জন্মগ্রহণ করেছি। এটুকুই।
.....................................................................
বাদশাহ মাহদীর সামনে উপস্থিত হয়েছেন একজন অসহায় বৃদ্ধা। মাহদী তার পরিচয় জানতে চাচ্ছেন, কি হে! আপনি কোথাকার? বৃদ্ধার উত্তর- তাঈ গোত্র থেকে।’ ইতিহাসের অনন্য দানবীর হাতেম তাঈ ছিলেন এ বংশের সন্তান। তাই বাদশাহ মাহদী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনাদের বংশে কেন আরেক জন হাতেম তাঈ তৈরী হচ্ছে না? কারণটা কী?
বৃদ্ধা এসেছেন সাহায্য চাইতে। বংশীয় গর্ব সম্মান দেখিয়ে এখানে বাদশাহর মন মেজাজ অখুশী করলে খালি হাতে ফেরত যেতে হবে। যা বলার, হুঁশ করে প্রশংসার বাক্যে বলতে হবে।
একরাশ অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বৃদ্ধা উত্তর দিলেন, ঠিক যে কারণে আজকের আরব জাতিতে আপনার মতো আর একজন এমন মানুষ কোথাও নেই, একই কারণে আমাদের বংশে হাতেম তাঈও আর নেই।’
বাদশাহ মাহদীর চোখে মুখে খুশির দীপ্তি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশংসার আহ্লাদে আনন্দিত তিনি। বৃদ্ধার সাহায্য মঞ্জুর করা হলো।
.............................................................
প্রখ্যাত ইমাম। তার নাম শাবী। তিনি দেখা করতে এসেছেন বিচারপতির সাথে। বিচারপতির নাম কাযী শুরাইহ। প্রজ্ঞা এবং তীক্ষ বুদ্ধিতে ইসলামের ইতিহাসে এমন বিচারপতি মাত্র কয়েকজন। তাদের মধ্যে শুরাইহ অন্যতম।
আদালতে প্রবেশ করলেন একজন মহিলা। স্বামী তাকে ছেড়ে অনেকদিন ধরে দূরে কোথাও পড়ে আছেন, এ নিয়ে তার অভিযোগ। বেচারী মহিলা কাঁদতে কাঁদতে আকুল হয়ে নালিশ জানাচ্ছেন কাযীর দরবারে। সে কি অঝোর ধারায় তার কান্না।
ইমাম শাবী বিচারপতির কানে কানে বললেন, আমার মনে হচ্ছে মহিলাটি সত্যিই অসহায়। বেচারী একদম নিরূপায়। দোষ হয়তো স্বামীর। আপনি কিছু একটা করুন।
নিত্যদিন এমন বিচার কাজে অভ্যস্ত কাযী শুরাইহ ইমামের বিগলিত হৃদয় দেখে পুলকিত হলেন। তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার এমন মনে হচ্ছে কেন?
ইমাম শাবীর উত্তর- দেখুন না, কীভাবে কাঁদছেন মহিলা। এমন কান্না কি কোন দোষী কাঁদতে পারে!
এক ফালি মুচকী হাসি হেসে কাযী শুরাইহ তাকে বললেন, কান্না সবসময় দোষী-নির্দোষের প্রতীক নয়। নবী ইউসুফের ঘটনা পড়েন নি পবিত্র কুরআনে? ছোট ভাই ইউসুফকে কুয়ায় ফেলে রাতে যখন তার বড় ভাইরা ফিরে এল, তারা সবাই কিন্তু কাঁদছিল। কেঁদে কেঁদে বাবা ইয়াকুবকে বাঘের থাবায় ইউসুফের মৃত্যুসংবাদ জানাচ্ছিল। অথচ তারা ছিল দোষী এবং অপরাধী।
কাযীর এমন নির্মোহ প্রজ্ঞা এবং তাৎক্ষণিক উত্তরের ঝলকে চুপ হয়ে গেলেন ইমাম শাবী।
২| ১৫ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:২০
কুষ্টিয়ারশুভ বলেছেন:
এই সব কাহিনীগুলো আজ শিশু-কিশোরদের পাঠ্যবইয়ে থাকলে কতই না ভাল হত!
পোস্ট প্রিয়তে। (আপনার অন্যান্য লেখাগুলো পড়তেই হবে।)
৩| ১৫ ই মার্চ, ২০১৩ ভোর ৫:৫৫
কামরুল হাসান শািহ বলেছেন: +++++
৪| ১৫ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১২:০৯
এবি নেওয়াজ বলেছেন: thanks.
৫| ১৫ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ২:০৮
শের শায়রী বলেছেন: ভাল লাগা জানিয়ে গেলাম
৬| ১৭ ই মার্চ, ২০১৩ সকাল ১০:১৫
এম এম ইসলাম বলেছেন: ভাল লাগল।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১০:২০
মৌন ভাষা বলেছেন: সুন্দর উপস্থাপনা।