| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় দেখে এলাম জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নাটক "এনিমেল ফার্ম"। পরিবেশনায় ছিল রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ। নির্দেশনা দিয়েছেন ড. সাইদুর রহমান লিপন, নাট্যরূপ নজরুল সৈয়দ। হলে প্রায় ৩০০–৪০০ দর্শক ছিল।
তারা কী করতে চেয়েছেন:
একটা খামারের পশুরা অত্যাচারী মালিকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, সমতার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু ধীরে ধীরে ক্ষমতা চলে যায় কয়েকজনের হাতে, আর নতুন শাসকেরা হয়ে ওঠে পুরোনোদের মতোই। অরওয়েলের এই রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বাংলা মঞ্চে তুলে আনার চেষ্টা ছিল। মূল থিম, ব্যঙ্গ আর গল্পের প্রধান ধাপগুলো তারা বেশ পরিষ্কারভাবেই দেখাতে পেরেছেন
যা ভালো লেগেছে:
✅ অভিনয় সামগ্রিকভাবে ভালো। শিক্ষার্থীরা সত্যিই অনেক পরিশ্রম করেছেন
✅ নির্দেশনা, মঞ্চের ব্যাকগ্রাউন্ড আর টিমওয়ার্ক ছিল চমৎকার
✅ সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে পশুর চরিত্রে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা।
মানুষ হয়ে পশুর চরিত্র করা, তাই মুখোশ পরে, পায়ের কাজে, হাঁটাচলায়, একা দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গিতে, এমনকি পা কাঁপানোয়, একটা পশু কীভাবে চলে, কীভাবে শব্দ করে, সেটা তারা ধরার চেষ্টা করেছেন। যেখানে হয়তো কেউ খেয়ালও করছে না, সেখানেও তারা চরিত্র ধরে রেখেছেন। এই চেষ্টার জন্য হ্যাটস অফ
যেখানে উন্নতির জায়গা আছে:
❌ সাউন্ড কোয়ালিটি ভালো ছিল না। মাইক্রোফোনের প্লেসমেন্ট আরও ভালো হতে পারত
❌ সংলাপ অনেক দ্রুত বলা হচ্ছিল, ফলে কিছু শব্দের উচ্চারণ পরিষ্কার বোঝা যায়নি
আমার রেটিং: ৬ থেকে ৬.৫ / ১০
একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযোজনা হিসেবে, অরওয়েলের লেখার বাংলা রূপান্তরে এটাই আমার সৎ মূল্যায়ন। সাউন্ড, মাইক্রোফোন আর সংলাপ বলার গতি ঠিক থাকলে অনায়াসে ৭.৫ পেত।
তবে একটা কথা নিশ্চিত: এই শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম আর নিষ্ঠা দেখে ভালো লেগেছে। সামনে আরও ভালো কাজের অপেক্ষায় রইলাম।
©somewhere in net ltd.