নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি জারাহ, পড়তে ও লিখতে পছন্দ করি। পছন্দ করি খোলা আকাশ, প্রকৃতির কোল আর সমুদ্রের বিশালতা

জারাহ

পড়তে ও লিখতে পছন্দ করি।

জারাহ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমাদের পাখি সংস্কৃতি

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৫১

মানুষ প্রকৃতিগত ভাবে ভালো না খারাপ তা নিয়ে মনোবিজ্ঞানী বা সমাজবিজ্ঞানীরা বিতর্ক করেন। এটা তাদের কাছে জ্ঞান, মেধা, বুদ্ধি ও যুক্তির খেলা। আমরা সাধারণেরা বিশ্বাস করি মানুষ প্রকৃতিগতভাবে ভালো।কেউ অপরাধী হয়ে জন্মায় না বা জন্মগতভাবে কেউ কোন দোষের ধারক হয়ে পৃথিবীতে আসেনা। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে ভালো তো বটেই, মাঝে মাঝে বিশেষ ভালো গুণ নিয়ে জন্মায়। আামাদের দেশে প্রচলিত না হলেও উন্নত দেশে গিফটেড চাইল্ড খুঁজে বের করে আলাদা যত্ন নেয়া হয়।

যে পরিবেশ বা সংস্কৃতিতে মানুষ বড় হয়, ধীরে ধীরে সেই পরিবেশ বা সংস্কৃতির মূল জিনিসগুলো নিজের মধ্যে আত্মস্ত করে নেয়। এভাবে মানুষের সাংস্কৃতিক সীমা যতো বড় হতে থাকে, তার চারপাশের সামাজিক উপাদান নিজের মধ্যে ধারণ করার প্রবণতা ততো বেশী ও বিস্তৃত হয়। যেহেতু মানুষ নিজের সংস্কৃতিটাকে আগে ধারণ করে তাই অন্য সংস্কৃতির উপাদান বা ট্রেন্ডিগুলো খুব সহজেই নিজের বলে গ্রহন করেনা।কয়েক বছর আগেও পৃথিবীতে সামাজিক গতিশীলতা ছিলো খুব ধীর। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক মানুষের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিচয় তো বটেই, মানসিক পার্থক্যটাও সহজে বোঝা যেতো।

বতমান সময়টা সেরকম নয়। এটা আকাশ সংস্কৃতির যুগ। এক ক্লিকেই একজন বাংলাদেশী আমেরিকার আজকের ট্রেন্ড সম্পর্কে জানতে পারে। তাই ফ্যাশন সচেতনতা বা রুচিবোধ হয়ে গেছে বৈশ্বিক। রুচি বা অভ্যাসের ক্ষেত্রে আজকে অন্যদের হটিয়ে নিজের প্রাধান্যটা মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে পারলেই নতুন এক ট্রেন্ড তৈরি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে দেশ, জাতি বা গোষ্ঠীর পরিচয়টা গৌণ। এটা আমরা দেখি গত ২/৩ বছর ধরে আমাদের পোশাক নির্বাচনে।

খবর বা গুজব হচ্ছে পাখি ড্রেস বা কিরণমালা ড্রেসের জন্য বাংলাদেশের মেয়েরা দলে দলে আত্মহত্যা করছে। এটা অতিকথন হলেও একেবারে মিথ্যে নয়।
কেন মানুষ বাংলাদেশী পোশাক ছেড়ে বিদেশী পোশাকের প্রতি ঝুঁকছে?

আগেই বলেছি মানুষ প্রকৃতিগত ভাবে ভালো। তাই ভালো জিনিস গ্রহন করার একটা প্রবণতা মানুষের মাঝে থাকেই। প্রবল প্রতিযোগিতার এসময় একজন মানুষ এক ক্লিকেই পুরো বিশ্ব পাচ্ছে হাতের মুঠোয় এবং প্রাধান্য বিস্তারকারী কোন গ্রুপ (Dominate group) যতোটা জোরালোভাবে নিজের ভালত্ব জাহির করে, অন্যরা তা পারেনা। ভালো হলেও তলানীতে পড়ে কারণ কালচারাল পুশিং-এর মাধ্যমে আমাদের বাধ্য করা হয় তার(Dominate group)জিনিস পছন্দ করতে।

নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ফেলে দিয়ে, বিশ্বের সাথে তাল মেলানোর জন্য সবচেয়ে ভালোটাকে (আপাতদৃষ্টে) গ্রহন করছি আমরা। যুক্তিটা এমন - সে আমার চেয়ে উন্নত, তাই তার রুচিবোধ বা পছন্দ আমার চেয়ে ভালো। কাজেই আমি ঐটা গ্রহন করি।

এটা মানুষের অভ্যন্তরীণ ভালো মানুষীর ফল- হাসি ঠাট্টার বিষয় নয়। পাখি বা কিরণমালার চেয়ে আমাদের রাজশাহী সিল্ক, মনিপুরী কাপড়, গ্রামীণ চেক, জামদানী ভালো এটা প্রমাণ করতে হলে আঁটঘাট বেঁধে আমাদেরও প্রতিযোগীতায় নামতে হবে। আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং প্রাধান্যকে বিস্তার করতে হবে।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:২৬

কি করি আজ ভেবে না পাই বলেছেন: খাসা হলো পোষ্টখানি
প্রথম লিখায় সিক্সার;
পাখির যতো অসঙ্গতি
বেশ লেগেছে লেকচার।

পোষ্ট পড়ে বেশ বুঝি
যাবে তুমি বহু দূর;
সামু ব্লগ বন্ধনে
দৃঢ় হোক সুরাসুর।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.