| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জারাহ
পড়তে ও লিখতে পছন্দ করি।
নওরীন কিছুক্ষনের মধ্যে একটি পাপ করবে। আজন্ম লালিত নীতি, আদর্শ, সংস্কারকে জলাঞ্জলী দিয়ে আদিম বন্যতায় মেতে উঠার জন্য যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করেছে সে। কলেজের সবচেয়ে বখাটে ছেলেটি একদিন চুপিসারে নওরীনকে বলেছিলো ভালোবাসি। আজ সেই ছেলেটির গোপন দূর্বলতার চুড়ান্ত সুযোগ নেবে মেয়েটি। কারণ সে প্রতিশোধ নিতে চায় ঘৃণার। প্রচন্ড ঘৃণা ছড়িয়ে আছে নিজের মায়ের প্রতি। নিজেকে ধ্বংস করে নওরীন তার মায়ের উপর প্রতিশোধ নিতে চায়।
সংসারটি বাবা-মেয়ের। নওরীনের মা তাদের সঙ্গে থাকেন না। তিনি আলাদা সংসার করছেন অন্য শহরে। বাবা আর তার আত্মীয়দের কাছে নওরীন শুনেছে, অন্য কারও হাত ধরে তিনি তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। মায়ের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণার কারণেই, সে কখনও যোগাযোগ করেনি মায়ের সঙ্গে কিংবা মায়ের সবধরণের যোগাযোগের চেষ্টায় কোন সাড়া দেয়নি।
একান্ত ব্যক্তিগত কিছু কারণে নওরীনের বাবা মায়ের ডিভোর্স হয়েছে কয়েক বছর আগে, মেয়েটি তখন ছোট। কিন্তু নওরীনের বাবা ব্যক্তিগত ব্যাপারটির প্রকৃত সত্য গোপন করে, একমাত্র সন্তানের কাছে দেবতা হতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি শিশু সন্তানটির মনে ঘৃণা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তার মায়ের প্রতি। সেই ঘৃণা ডালপালা ছড়িয়ে বিরাট মহীরূহে রূপ নিয়ে, একসময় নওরীনকেই আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলে। জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি ঘৃণা, শেষপযন্ত ওর নিজের প্রতি ঘৃণায় রূপ নেয়। নওরীন তাই মেতে উঠে নিজেকে ধ্বংসের খেলায়। যে মহিলা ছোট শিশুকে ঘরে একা ফেলে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যেতে পারে, সে মহিলার মেয়ে কী কী করতে না পারে, তারই নানা রকম খেলায় মেতে থেকে, নিজেকে ভুলে থাকে নওরীন।
ঘরের আলো-আঁধারী ভেদ করে একটি ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে নওরীনের দিকে। পেছন থেকে কাঁধে হাত রাখে মেয়েটির। নওরীনের ভেতরে গভীর গোপনে লুকিয়ে থাকা কোমল মেয়েটি হঠাৎ চমকে উঠে। নীতি আর নীতিহীনতার দোলাচলে ঝুলে পড়ে নওরীনের দেহ।
অন্ততঃ আজকে কি নওরীনের বাবা দেবতা হতে না চেয়ে, শুধু একজন সাধারণ পিতা হতে চাইবেন?

©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:২২
মেঘ নাকি রোদ্দুর বলেছেন: ঠিক বুঝতে পারলাম না।