| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জারাহ
পড়তে ও লিখতে পছন্দ করি।
(১)
১৯৮২ সাল।
একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে আশ্রিত ৮/৯ বছরের মিনু তাকিয়ে আছে এক প্যাকেট সুপার বিস্কুটের দিকে, প্যাকেটটি ওর খালা নাজমার হাতে। সে বাংলো ঘরে বসা দুজন মেহমানের চায়ের আয়োজনে ব্যস্ত। মিনু দেখে প্যাকেট ভরা গোল গোল বিস্কুট- কী সুন্দর কারুকাজ করা। মুখ ভিজে উঠে ওর।দুটো বিস্কুট পাওয়ার আশায় মিনু নাজমার সকল হুকুম পালন করছে নিষ্ঠার সাথে। নাজমা রান্নাঘরের মাটির চূলার পাশে বসা মিনুকে চুলায় লাকড়ি ঠেলে দেয়ার হুকুম দিয়ে বলে – বিস্কুটের দিকে তাকিয়ে নজর দিসনা! মেহমানের খাওয়া শেষ হলে তোকে দেব।
মিনু এবার বাংলো ঘরে মেহমানের সাথে বসা নানীর কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়। এখান থেকে চায়ের কাপ আর বিস্কুটের প্লেট পরিষ্কার দেখা যায়। মিনুর নজর চায়ের কাপে। চা শেষ হলে ওগুলো নিয়ে রান্নাঘরে দৌড় দিতে হবে, তবেই নাজমা দুটো বিস্কুট দেবে।চায়ে একচুমুক দিয়ে মেহমানরা গল্প করে। মিনিট যায়, ঘন্টা যায় – অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়না।
অনেকক্ষণ পর মিনু চায়ের ট্রে নিয়ে রান্না ঘরে আসে – মুখে হাসি। মেহমানের প্লেটে অনেক বিস্কুট রয়ে গেছে আর প্যাকেটে তো আছেই। এবার নিশ্চয় দুটো বিস্কুট দেবে নাজমা।কাপদুটো দেখেই হুংকার দেয় নাজমা – এমা! এক কাপে অর্ধেক চা রইছে।হারামজাদি তুই বিস্কুটের লোভে মেহমানের সামনে থেকে কাপ নিয়া আইছস। যাহ ।তোরে একটাও বিস্কুট দিমুনা।
(২)
২০১৫ সাল।
মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই বাড়িটি এখন তিনতলা বিশিষ্ট, আলোকসজ্জিত। এখানে একটি বিয়ের আয়োজন চলছে। কাছের দুরের বহু আত্মীয় এসেছেন বহু বছর পর। বিয়ের দিন সকাল বেলা শহরের বিখ্যাত শেফ রান্নার আয়োজন করছে। এক ফাঁকে সে সবাইকে চা আর কুকিজ পরিবেশন করে। আয়োজক প্রথমেই নিয়ে আসে একজন সম্মানীত মেহমান ইংরেজী বিষয়ের অধ্যাপিকা মিনারা বেগম মিনুর কাছে। তিনি সবিনয়ে প্রত্যাখান করে বলেন – আমি চা-বিস্কুট ছেড়েছি সেই ছোটবেলায়। কাছেই শুয়ে ছিলেন বয়স্ক মুরব্বী নাজমা খালা। তিনি চোখ তুলে তাকান। হঠাৎ তার কি কিছু মনে পড়ে গেলো?
১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৫৪
জারাহ বলেছেন: এজন্য প্রয়োজন স্থির লক্ষ্য।
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ
২|
০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৪২
প্রবাল ক্ষ্যাপা বলেছেন: কাছেই শুয়ে ছিলেন বয়স্ক মুরব্বী নাজমা খালা। তিনি চোখ তুলে তাকান। হঠাৎ তার কি কিছু মনে পড়ে গেলো? ছোট্ট গল্পে দারুন ভাল লাগা ![]()
১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৫৫
জারাহ বলেছেন: আমরা আসলেই বুঝতে পারিনা জীবন কখন কাকে কোথায় নিয়ে যায়।
অনেক ধন্যবাদ গল্পটি পড়ার জন্য
৩|
০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৪৬
রক্তিম দিগন্ত বলেছেন: গল্পটা ছোট। আরেকটু বড় করলে ভালো হত।
তবে এইটাও ভালো লেগেছে।
১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৫৭
জারাহ বলেছেন: বড়লেখা ব্লগে মানুষ যে পড়তে চায়না!!!!
তাই যতটা সম্ভব ছোট রাখার প্রয়াস ছিলো।
চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ
৪|
০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:২৪
কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: খুব সাবলীল লেখা। ভালো লেগেছে।
১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৫৯
জারাহ বলেছেন: গল্পের ভালোবাসার ধরণটি কিন্তু কাল্পনিক নয় বাস্তব
ধন্যবাদ।
৫|
০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৩
শামছুল ইসলাম বলেছেন: ৩৩ বছরের ব্যবধানে জীবনের গল্পটা কেমন পাল্টে যায়!!!
ছোট গল্পে ছোট্ট একটা কথাঃ
//আমি চা-বিস্কুট ছেড়েছি সেই ছোটবেলায়। কাছেই শুয়ে ছিলেন বয়স্ক মুরব্বী নাজমা খালা। তিনি চোখ তুলে তাকান। হঠাৎ তার কি কিছু মনে পড়ে গেলো?//
--- অনেক ভাবনার জাল বুনে।
ভাল থাকুন। সবসময়।
১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:০৬
জারাহ বলেছেন: আপনার মন্তব্যে আমি অনেক উৎসাহিত।
ধন্যবাদ রইলো
৬|
০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:০১
শতদ্রু একটি নদী... বলেছেন: দারুন একটা ছোটগল্প। মানুষ স্বভাবগত ভাবে খুব জেদীও। খুব সামান্য কিংবা আপাত দৃষ্টিতে তুচ্ছ ঘটনা সারাজীবন মনে রাখে। আবার অনেক বড় পাপও ক্ষমা করে দেয়/ আর এমন নানা কারনেই জগতের আর কোনকিছুর সাথেই মানুষের তুলনা চলেনা।
গল্পে ভালোলাগা রইলো। ![]()
১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:০৬
জারাহ বলেছেন: আপনার সঙ্গে একমত।
৭|
০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৪
খোরশেদ আলম সৈকত বলেছেন: ভালো লেগেছে।
১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:০৭
জারাহ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ
৮|
০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৯
সুমন কর বলেছেন: ছোট হলেও গল্প ভালো লেগেছে।
১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:০৮
জারাহ বলেছেন: আমি সত্যিই অনেক অনুপ্রাণীত
৯|
০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৫২
ইশমাম হাসান বলেছেন: ভালো লাগলো
১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:০৮
জারাহ বলেছেন: ধন্যবাদ সহ শুভকামনা
১০|
০২ রা নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৯
হাসান মাহবুব বলেছেন: সার্থক অণুগল্প। ভালো লাগলো।
১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:১০
জারাহ বলেছেন: আপনার সার্থক মন্তব্যে মনে হচ্ছে স্বর্ণপদক পেয়েছি।
অনেক অনেক ধন্যবাদ
১১|
০২ রা নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৩৯
অগ্নি সারথি বলেছেন: ভাল।
১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:১০
জারাহ বলেছেন: শুভেচ্ছা
১২|
০২ রা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:০৫
তারছেড়া লিমন বলেছেন: গল্পটা খুব ভাল লাগলো..................................
১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:১১
জারাহ বলেছেন: সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ
১৩|
০৬ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:৩৫
কি করি আজ ভেবে না পাই বলেছেন: আহারে সুপার বিস্কুট............
১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:১১
জারাহ বলেছেন: আহ্ !!! আহারে!!!!!
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৩৪
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: সব মিনুরা যদি এভাবেই জবাব দিতে পারত!!!

ছোট্ট গল্পে দারুন ভাল লাগা