নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি জারাহ, পড়তে ও লিখতে পছন্দ করি। পছন্দ করি খোলা আকাশ, প্রকৃতির কোল আর সমুদ্রের বিশালতা

জারাহ

পড়তে ও লিখতে পছন্দ করি।

জারাহ › বিস্তারিত পোস্টঃ

অতঃপর শুভবিবাহ

২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:১৬

আকাশের গোল রূপালী চাঁদ চা বাগানের আলো আঁধারীকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। চান্দার বাপ আকন্ঠ মদপান করে টলতে টলতে রাস্তার মোড়ে বটতলায় বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছে আর মা আরতি ওদের ছোট শনের ঘরের সামনে সাদা মাটি দিয়ে লেপা সাদা উঠানে বসে গুনগুনিয়ে গান ধরেছে। ঘরের পেছনে লিচু গাছের পাশে মাটি কেটে বানানো সিঁড়ি বেয়ে অন্ধকার পথে জোনাকীর মতো উড়তে উড়তে টিলার নীচে নেমে আসে চান্দা।

পরদিন ভক্ত পাড়ায় রটে যায় চান্দা পালিয়ে গেছে রায়ের ছেলে অজয়ের সাথে। রটনা আর ঘটনা মিলে বিষয়টা বিরাট জল্পকাহিনী হয়ে যায় কারণ রায়দের সাথে ভক্তদের বিয়ে হতে নেই। দুই বউ নিয়ে বেশ অশান্তিতে থাকা পঞ্চুর ইচ্ছে ছিলো তৃতীয়বার সে চান্দাকেই বিয়ে করবে – চান্দা সুন্দরী, ওর সাথে মিঠে কথা কইতে বেশ লাগবে। আশার গুড়ে বালি পড়ায় একটু বেশিই ক্ষেপে যায় সে। চান্দা জাতের ভীষণ বেইজ্জতী করেছে বলে পঞ্চু সবাইকে নিয়ে শালিস-টালিস করে চান্দার বাপকে একঘরে করে। তবু যেন রাগ যায় না- সবাইকে নিয়ে হম্বিতম্বি আর এপাড়া ওপাড়া পায়চারী করা চলতেই থাকে। ভাবখানা এমন যে জাতের সকল দায়ভার ওর একার।

হরিয়া পঞ্চায়েতের প্রেসিডেন্ট, অজয়ের মামা। অজয়-চান্দা এখানেই আশ্রয় নিয়েছে। সকালে ঘরে রুটি-চা খেয়ে, অজয়-চান্দাকে তাদের সঙ্গে আছে বলে সাহস দেয় এবং চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়ে বেরিয়ে যায় সে। সুযোগ বুঝে পঞ্চুর দল অজয়কে মেরেটেরে রাগ খানিকটা পুষিয়ে নেয়। তারপর দুজনকে ধরে এনে মন্ডপে বেঁধে রেখে বিচার করে।কোন ঝুঁকি না নিয়ে পঞ্চু নিজেই রায় দেয় – অজয় যেহেতু তাদের গোত্রের মেয়েকে ভাগিয়ে নিয়ে বেইজ্জত করেছে তাই তাকে বাগান থেকে বের করে দেয়া হবে আর চান্দাকে এখন আর কেউ বিয়ে করবেনা বিধায় সে নিজে বিয়ে করতে রাজি আছে।

বিচারের রায় মোটামুটি চুড়ান্ত। এবার হরিয়া আসে তার দলবল নিয়ে। সে যেহেতু প্রেসিডেন্ট, তার কথা মেনে নেয়ার একটা বাধ্যবাধকতা সবারই আছে।

হরিয়া এসে ডানে-বামে পায়চারী করে, গলার মাফলারটি দু’তিনবার খুলে-পেঁচিয়ে. বৃথাই নিরীহ দু’চারজনকে চড়-থাপ্পড় মেরে, সবাইকে হুমকী-ধমকী দিয়ে উঁচু গলায় বলে, “চান্দা অজয়ের সাথে থাকবে। কেউ কিছু বললে আমি দেখে নেব”। এককোণে চুপসে থাকে পঞ্চু। আজয় চান্দাকে নিয়ে চলে যায় তার ঘরে।

দিন যায় বছর যায়। শরৎ যায় শরৎ আসে, ফিরে ফিরে আসে দুর্গাপুজা। চান্দা আজয়ের হাত ধরে, কাঁধে মাথা রেখে, রাত জেগে পুজামন্ডপে যাত্রা দেখে ‘রাজকন্যার বিয়ে’ আর ভাবে সেও তার বিয়ের দিন এই রাজকন্যার মতো সাজবে। পেরিয়ে যায় পাঁচ বছর।

আজ চান্দার বিয়ে। লগ্ন এসে গেছে। চান্দা লাল শাড়ি পরে ঠাকুরের সামনে পিঁড়িতে বসে। অজয়ের বাবা আর চান্দার বাবা পাশাপাশি দুই চেয়ারে বসেছে, ওদের কোলে চান্দার দুই ছেলে। ঠাকুর মন্ত্র পড়ছে। খুশিতে চোখে জল আসে ওর।

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২৭

বাউল আলমগী সরকার বলেছেন: হু শুভ কামনা--------
ভাল থাকুন

২| ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৪

অতঃপর হৃদয় বলেছেন: হুম.বেশ সুন্দর হয়েছে অবশেষে বিয়ে হলো

৩| ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৪৩

রেজওয়ানা আলী তনিমা বলেছেন: গল্প সাবলীল । কিন্তু একটা জিনিস ভালো বুঝলাম না, বিয়েটা এত পরে হলো কেন? অবশ্য হিন্দুধর্মের নিয়মকানুন ভালো জানিনা।

৪| ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৩৮

ডাঃ মারজান বলেছেন: চমৎকার শুরু। ভালো লাগলো। আরেকটু লিখতে পারতেন। অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

৫| ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৪৯

হাসান মাহবুব বলেছেন: বিয়ে করতে পাঁচ বছর কেন? বিয়ের আগেই দুই ছেলে! এটা কোন সমাজের কথা বলছেন আপনি!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.