| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ধর্মনিরপেক্ষতা হিসেবে ওয়েবস্টার অভিধানে যা সংজ্ঞায়িত করা হয় ঃ
“এমন তত্ত্ব এবং চর্চার একটি ব্যবস্থা যা যেকোন ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং উপাসনা কে প্রত্যাখ্যান করে ” অথবা “এমন একটি ধারণা যাতে বিশ্বাস করা হয় যে ধর্ম এবং ধর্মীয় প্রামাণ্য বিষয়াবলি রাষ্ট্রের কার্যকারিতা প্রবেশ করা উচিত নয় বিশেষত সার্বজনীন শিক্ষায় ”
কোন সন্দেহ নেই যে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা ইসলামের প্রতিটি দৃষ্টিভঙ্গিকে অস্বীকার করে। ইসলাম এবং ধর্মনিরপেক্ষতা এমন দুইটি পৃথক রাস্তা যা কোনও দিনই মিলিত হবে না ।।একটাকে গ্রহণ করলে অন্যটাকে বর্জন করতেই হবে ধরা যাক কেউ যদি ইসলামের ধারা গ্রহন করে তাঁকে আবশ্যই ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বর্জন করতে হবে।। এখন আরও বিষদ বিবরণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হবে এর কারণ ...।
১) প্রথমত,ধর্মনিরপেক্ষতা নামক ধারণাটি ওই সকল বিষয়কে বৈধ ঘোষণা করে যা আল্লাহ’তালা ও আল্লাহের দীন অবৈধ্য ঘোষণা করেছেন !!!
আল্লাহ্ তা’লার আইন (শরীয়াত)..শরীয়াতের মৌলিক আইন এবং নিয়মকানুন বাধ্যতামূলক এবং যা কোনমতেইপরিবর্তন করা যাবে না!!
পুরুষ এবং মহিলা প্রাপ্তবয়স্ক হলেই ধর্মনিরপেক্ষতা ব্যভিচার বৈধ করে।।কোন কোন ক্ষেত্রে পরকীয়ার মত জঘন্য অপরাধকেও মৌন সম্মতি দেয়!!! রিবা (সুদ) এর ক্ষেত্রে এটা ধর্মনিরপেক্ষ অর্থনীতির সব আর্থিক লেনদেনের ভিত্তি !!!.
এর বিপরীতে আল্লাহ তা’লা বলেছেন ,“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক।”
আর ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ মদ ও মদ্য জাতীয় ব্যবসাকে একটি বৈধ ব্যবসা হিসাবে স্বীকৃতি দেয় !!! যা ইসলামের আইনের চোখে সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিধ !!!
২)দ্বিতীয়ত,ধর্মনিরপেক্ষতা স্পষ্ট অবিশ্বাস বা কুফরি।
ধর্মনিরপেক্ষতা মূলত,এই জীবনের সকল বিষয় থেকে ধর্ম পৃথক এবং তার উপর ভিত্তি করে তৈরি।ইসলাম আল্লাহ্র দেওয়া স্পষ্ট বিধি-বিধান সংবলিত একটি ধর্ম।কিন্তু,ধর্মনিরপেক্ষতা আল্লাহ্র আইনকে অমান্য করে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে আল্লাহ্ তার রসূলের দেখানো পথকে বিভ্রান্ত করে।এমনকি,অনেক ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ এইটা মনে করে যে আল্লাহ্র আইন শুধু অতীতের জন্য প্রযোজ্য ছিল কিন্তু এখন তার মধ্যে পরিবর্তন আনা দরকার।এরফলে,যে সকল দেশ ধর্মনিরপেক্ষ সরকার ধারা শাসিত তাদের অনেক আইন ইসলামের পরিপন্থী।আল্লাহ (সূরা .৫,আয়াত.৫০) বলেছেন: "তোমরা কি অজ্ঞতার একটি রায় চাও ?? কিন্তু কে বা কার বিশ্বাসকে তোমরা পরিপূর্ণ নিশ্চিত করবে যে কিনা আল্লাহ্ অপেক্ষা অধিকতর ভালো রায় দিবে ??"
ইবনে খাতির তার এক তফসিরে বলেছেন,"আল্লাহ্ তাদেরকে অভিশাপ দিচ্ছে যারা কিনা আল্লাহ্র আইনকে অমান্য করে অন্য কারও আইনকে গ্রহন করেছে" ।
যারা এধরনের কাজ করে তারা প্রকৃতপক্ষে অবিশ্বাসী।আল্লাহ (সূরা .৫ আয়াত.৪৪) বলেছেন:" যদি কেও ব্যার্থ্য হয় তা বিচার করতে যে আল্লাহ্ কি প্রকাশ করেছেন,তাহলে তারা অবিশ্বাসী"
উপরে থেকে,ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ইসলাম সম্পর্কে অবস্থা স্পষ্ট।কিন্তু ইসলামী সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারনে এখনও অনেক মুসলিমের মনের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করে এই সব অবৈধ বিশ্বাস।সব ধর্মনিরপেক্ষ সিস্টেমেই একটি স্লোগান পুনরাবৃত্তি হয়,
"ধর্মে কোন রাজনীতি নেই এবং রাজনীতিতে কোন ধর্ম নেই" অথবা "ধর্ম আল্লাহর জন্য হয় আর রাষ্ট্র মানুষের জন্য" এই ধরনের বাণী তাই বুঝায় যে ইসলাম শুধুমাত্র মসজিদের মধ্যে চর্চা করা একটি ধর্ম এবং এটি মসজিদ বাইরে জীবনের বাতিল, অনুমোদিত করা উচিত নয়। তাছাড়া,তারা কিছু গণতান্ত্রিক স্লোগানে ব্যক্তিদের ভোলাতে চেষ্টা করে যে "ব্যক্তিগত স্বাধীনতা" অথবা "মানুষের শাসক মানুষ"।
এর মানে হল মানুষের দাসত্বই প্রথম সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র দাসত্বের চেয়ে।এই সমস্ত কারনে ধর্মনিরপেক্ষতা পরিস্কার ভাবে কুফরি,এবং ধর্মনিরপেক্ষতার কোন বৈধতা ইসলামে নেই।
৩)তৃতীয়ত,ধর্মনিরপেক্ষরা চরম পর্যায়ের মুনাফেক।
বেশীরভাগ ধর্মনিরপেক্ষ লোকেরা হুযুরপাকের বিদায় হজ্জের ভাষণের "তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করোনা কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীগণ এর কারনে ধ্বংস হয়েছে" এই কথা নিয়ে অথবা "লাকুম দীনুকুম ওয়া লী ইয়া দীন" - "তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমার ধর্ম আমার জন্য " এই কথাগুলোর ভুল ব্যাখা তুলে ধরেন।এই কথাগুলোতে এইতাই বুঝানো হয়েছে যে,মুসলমানরা যাতে অন্য ধর্মালম্বিদের উপর জোর জবরদস্তি না করে দাওয়াতের মাধ্যমে তাদেরকে ইসলামের আলোতে আনে,আর তাদের ধর্ম তাদের কাছে আর মুসলমানদের ধর্ম ইসলাম তাদের কাছে।
তারা মুখে মুখে সব ধর্মকে সমান ভাবার কথা বললেও সব সময়ই ইসলামের পিছনে লেগে থাকে।কখনও কোন নাস্তিককে দেখবেননা যে অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে লেখে তাদের সমস্যা শুধু ইসলামেই কারন এটির দলিল সবচেয়ে শক্তিশালী।
৪)চতুর্থত, ধর্মনিরপেক্ষরা হল নাস্তিক ও মুরতাদ।
যে ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় তাদেরকে মুরতাদ বলে।ধর্মনিরপেক্ষতা অন্য ধর্মকে ইসলামের সমকক্ষে আনে,অন্য ধর্মের উৎসবকে উৎসাহিত করে।আবার এরা একজন মুসলমানের সাথে অন্য ধর্মের বিবাহের সম্পর্ককে বৈধতা দেয়।আর এই সব কিছু করলে কেও আর মুসলমান থাকেনা,তখন তারা মুরতাদ হয়ে যায়।মুরতাদের শাস্তি হল মৃত্যুদণ্ড। হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। ওহুদ যুদ্ধে এক মহিলা মুরতাদ হয়ে যায়,তখন রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন,তাকে তওবা করানো হোক,আর যদি তওবা না করে,তাহলে তাকে হত্যা করা হবে। {সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১২১, সুনানে বায়হাকী কুবরা,হাদীস নং-১৬৬৪৫,মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক,হাদীস নং-১৮৭২৫,মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,হাদীস নং-২৯৬০৭}
হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। উম্মে মারওয়ান নামের এক মহিলা মুরতাদ হয়ে গেলে রাসূল সাঃ আদেশ দেন যে,তার কাছে ইসলাম পেশ করতে,যদি সে ফিরে আসে তাহলে ভাল, নতুবা তাকে হত্যা করা হবে। {সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী,হাদীস নং-১৬৬৪৩,সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১২২}
এছাড়া বেশ কিছু ধর্মনিরপেক্ষদের দেখা যায় তারা প্রকাশ্যে নাস্তিক বলে নিজেদেরকে ঘোষণা দিচ্ছে।তারা ইসলামকে মধ্যযুগীও ধর্ম বলে পরিচয় দেয়।তারা তাদের জীবনের আদর্শ স্বরূপ কোন বিধর্মী,কাফির কিংবা কোন মানুষের জীবনকে বেঁছে নেয়।যেখানে মুসলমানদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ হল আল্লাহ্র রসূল আর সর্বোত্তম জীবন বিধান হল আল-কুরআন।
তাই সকল মুসলিম ভাই বোনদের বলছি আপনারা যারা সেকুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা বিশ্বাস শুধুমাত্র এই কারনে করেন যে সেখানে সবাইকে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে,মানবতার কথা বলা হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি।আপনাদের ধারনা ভুল,ইসলামের চেয়ে আধুনিক,নির্ভুল ও ন্যায্য অধিকারের ধর্ম এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে আসে নাই।আপনারা একজন পরিপূর্ণ মুসলমান হিসাবেই আপনার অমুসলিম ভাইবোনদের অধিকার রক্ষা করতে পারবেন,তাদেরকে দাওয়াত দিতে পারবেন এমনকি সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে বৈষম্যও দূর করতে পারবেন।অনেকেই মুসলিম নামধারী কিছু ভণ্ড ও মূর্খলোকদের কার্যকলাপে বিরক্ত হয়ে এই সেকুলারদের সমর্থেন দেন।
আসুন না আগে নিজেরা ইসলামকে জানি,তারপর নাহয় তাদের ভুলগুলো শুধরে দিবো,শুধু মাত্র ইসলামটাকে একটু পরিপূর্ণ ভাবে জানুন,কারন ইসলাম হল একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান।
"তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও,যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ যাকে পথভ্রান্ত করেন,তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না।"
©somewhere in net ltd.