নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সহজ কথা

ধমর্ ভীরু

অচেনা নীড়

ধমর্ ভীরু

অচেনা নীড় › বিস্তারিত পোস্টঃ

দাও ফিরিয়ে সে অরণ্য, লও এ নগর

০৩ রা আগস্ট, ২০১৪ সকাল ১১:২৬

আমাদের গ্রামের পূর্ব দিকে একে বেঁকে বয়ে গেছে নদী,আকারে খুব বেশি বর নয় আবার ছোটও নয়। গ্রীষ্ম কালে থাকে কোমর পানি আর বর্ষা কালে কানায় কানায় ভরে যায়। জেলেরা জাল ফেলে নদিতে মাছ ধরে।ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা বড়শী দিয়ে নদীর পাড়ে মাছ ধরে । গ্রামের দুরন্ত ছেলে মেয়েরা যখন তখন পানিতে যাপিয়ে পরে, নদীর এপার থেকে সাঁতার কেটে ওপারে যায় ,ব্রিজ থেকে জাপ দেয় ,পানিতে ছুয়া ছুয়ি খেলে নদীটি যেন তার প্রান ফিরে পায় ।ছোট ছোট কচুরিপানা গুলি নদীর শ্রুতে ভেসে যায় আর বৃষ্টির পানিতে হিজল ফুলগুলি খেলা করে ।



এটি তিতাস নদীর একটি শাখা। বর্ষা কালে যখন চার পাশ পানিতে থই থই করে তখন গ্রামটিকে একটি দ্বীপের মত মনে হয় ।নদীর পার ঘেঁষে চলে গেছে আকা বাঁকা সরু মেঠো পথ। দু পাশে তার গাছ গাছালী, পড়ন্ত বিকালে তার আলো-ছায়ারা নদীর বুকে খেলা করে ।এখানে প্রতিটি ঋতুর পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় । প্রতিটি ঋতুতে মনে হয় গ্রামটি যেন নতুন রূপে সাজে ।গাছ পালা আর পশু পাখি সব মিলিয়ে সবুজ শ্যামল এই গ্রামটিকে সবাই আদর্শ গ্রাম বলেই চিনে ।



গভীর রাতে নদীর পারের শির শির বাতাস গায়ে শীতল পরশ বুলিয়ে যায় আর পানি বয়ে চলার কল কল শব্দ সবাইকে মুকদ করে। শরতের বিকালে শান্ত নদীর বুকে বয়ে চলা পাল তোলা নৌকা আর মাঋীর কণ্ঠের সেই উদাসী গান “...............” মন জুড়িয়ে যায় ।



কুয়াশাছন্ন শীতের সকালে নদীর পাড়ে দাঁড়ালে ওপারের গ্রামটি দেখা যায় না মনে হয় পৃথিবীর স্থলভাগ এখানেই শেষ ।নদীর ওপারের কাশফুলগুলি মাথা নারিয়ে সবাইকে স্বাগত জানায় ।গাছের শুকনো পাতার মরমর শব্দ,স্তব্দ চৈত্রের দুপুরে খুদারত কাকের মায়াভরা ডাক আজও কানে বাজে ।

পশ্চিম দিকে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ যাতে ধান,গম আর সরিষা বেশি চাষ করা হয়।হলুদ সর্ষে ফুলে পুরু মাঠ ভরে যায় আর মৌমাছি ফুলে ফুলে ঘোরে মধু সংগ্রহ করে। যখন ধান ক্ষেত গুলি মৃদু বাতাসে দুলে মনে হয় বিশাল শবুজের ঢেউ খেলা করছে। রাতের আকাশে তারা জলমল করে,পূর্ণিমার চাঁদ পূর্ব আকাশ থেকে পশ্চিম আকাশে হেলে পরে ।প্রতিটি প্রহরে প্রহরে শোনা যায় রাত জাগা পাখির ডাক আর ডানা জাপটানোর শব্দ।

কিন্তু বর্ষা কালে পুরো মাঠ পানিতে ভরে যায় তাকালে মনে হয় বিশাল সমুদ্র।পশিম পাশের গ্রামের সাথে আমাদের গ্রামের সংযোগ রাস্তাটি মাঠের ওপর দিয়ে চলে গেছে ।মানুষ আর গাড়ী চলাচলে ব্যস্ত থাকে রাস্তাটি । বর্ষায় তার দু পাশে বিস্তীর্ণ আলাকা জুরে থাকে শুধু পানি আর পানি । তখন রাস্তাটিতে দারিয়ে বর্ষার পানি উপভুগ করা যায় । বর্ষার শেষের দিকে শাপলা-শালুকে ভরে যায় এই মাঠটি ।



কিন্তু এখন আমাদের গ্রামে লেগেছে শহরের ছোঁয়া । পাল তোলা নৌকা আর দেখা যায় না, দেখা যায় ইঞ্জিন চালিত ট্রলার । গরু-মহিষ দিয়ে আর হাল চাষ হয় না, হয় ট্র্যাক্টর দিয়ে ।চখ জুড়ানো আকা-বাঁকা মেঠো পথ আর নেই ,আছে পাকা পিচের রাস্তা ।রাতে ঝি ঝি পোকার শব্দ শোনা যায় না , শোনা যায় গাড়ীর ইঞ্জিনের শব্দ ।এখন আর পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গে না, ভাঙ্গে ইঞ্জিনের শব্দে ।রাত জাগা পাখির ডানা জাপটানোর শব্দও আর শোনা যায় না । এখনও গ্রামে যাই কিন্তু এখন আর আগের মত চোখ জুরায় না,মন ভরে না । শুদু আমাদের সেই আগের গ্রামটিকে খুজে ফিরি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.