| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সমূদ্রের তীর ঘেঁসে বিশালাকারের কিছু পাথর এলোমেলোভাবে পড়ে অাছে। হাঁটতে হাঁটতে সেই পাথরগুলোর একটাতে উঠে বসলো মেয়েটি। মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে রইলো অনেক্ষণ। তারপর একসময় মেঘের ভাজ ঠেলে ঠিকরে পড়া অাঁধার অালোয় নিজের ডান-হাতটার দিকে তাকালো। মুঠোবন্দি সে হাতে কিছু একটা ধরে রেখেছে সে। খুব শক্ত করে....যেন হাতটা একটু অালগা করলেই কেউ ছিনিয়ে নিয়ে যাবে জিনিসটি !! হাতের জিনিসটির কথা ভেবে মনের অজান্তেই প্রিয় একটি সুর গুনগুনিয়ে গাইতে লাগলো সে। তার পায়ের খুব কাছেই কয়েক সেকেন্ড পর পর ভয়ংকর গর্জন করে আছড়ে পড়ছে ঢেউগুলো। যেন গভীর কোন এক অাক্ষেপ বুকে নিয়ে এইমাত্র ভেজানো বালিগুলো নতুন করে অাবার ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে।একসময় গান থামিয়ে মাথা তুলে সামনে তাকালো মেয়েটি। তার মায়াবি চোখের সামনে বিশাল এক সমূদ্র।.......
অনির্বাণের সাথে তার বিয়ে হয়েছে ছয় মাস হতে চললো। বড় লাজুক এই ছেলেটি। কথাবার্তা একেবারেই কম বলে। ভালোবাসার কথা তো অারো কম! এ পর্যন্ত একবারও মুখ ফুটে মনের কথাটা বলতে পারলো না। কতোবার যে সে অনির্বাণকে ছলে-বলে কৌশলে ভালোবাসার দু'একটি শব্দ বলানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু নাহ! কিছুতেই মুখ খুলবে না!.......তাই বলে মনে কোনদিন তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেনি মেয়েটির। মুখে না বললেও অাচার-অাচরণে স্পষ্ট বোঝা যায়, অনির্বাণ মন উজাড় করে অসম্ভব ভালোবাসে তাকে। তবুও, মাঝে মাঝে কি ভালোবাসার দু'চারটে শব্দ শোনার বা বলার জন্য মন ছটফট করে না?.....ঠিক এই প্রশ্নটাই অনির্বাণকে করেছিলো সে অাজ দুপুরবেলা। অনির্বাণ জবাব না দিয়ে চুপচাপ খেয়ে গেছে। খাওয়া শেষ হবার পর প্যান্ট'এর পকেট থেকে একটা ছোট্ট খাম হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো, 'অনেক চেষ্টা করেও প্রজেক্টের কাজটা আগাতে পারিনি গতকাল। ঘরে ফিরতে অাজ বেশ দেরি হয়ে যাবে। যদি অামায় খুব বেশি মিস করো, তবে রাতে খোলা অাকাশের নিচে দাঁড়িয়ে খামের ভেতরের জিনিসটি শক্ত করে অাঁকড়ে ধরো। অামি যেখানেই থাকি না কেন, বাতাস হয়ে সে মুহূর্তে তোমায় অালতো করে একটুখানি ছুঁয়ে যাবো।'.........
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে পাথরের উপর থেকে নেমে দাঁড়ালো মেয়েটি। পড়নের চটি-জুতাগুলো খুলে পা দিয়ে ঠেলে একপাশে সরিয়ে রাখলো। এরপর খালি পায়ে ভেজা বালি মাড়িয়ে এগিয়ে চললো অবাধ্য ঢেউগুলো ছোঁবার নেশায়। নোনা পানি যখন পায়ের গোড়ালি অনেকটাই ভিজিয়ে দিয়েছে, এমন সময় মাথার উপর মেঘের অাড়াল থেকে চাঁদটা উঁকি দিলো। সেই চাঁদের অাবছা অালোয় একটু একটু করে হাতের মুঠো খোলা শুরু করলো সে। সাথে সাথেই অদ্ভূত এক চিলতে হাসি তার ঠোঁট ছুঁয়ে গেলো। পুরোটা হাত যখন খোলা শেষ, তখন তার নরম গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে গভীর অাবেগ মেশানো এক ফোঁটা অশ্রু। তার হাতের তালুতে মাঝারী সাইজের সাদা রং'এর একটা ঝিনুক। ঝিনুকের ওপর গাঢ় লাল রং দিয়ে লেখা....'ভালোবাসি, পারলে ঠেকাও!'....................
...................................রাতের গাঢ় অন্ধকারে কেউ দেখতে পেলো না সাগরের উত্থাল-পাতাল হাওয়া বারবার তাকে এক ভালোলাগার স্পর্শে কি ভীষণভাবে ছুঁয়ে যাচ্ছে।......................................................
©somewhere in net ltd.