নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ছাইয়ের নেই আগুনের ভয়

জুলিয়ান সিদ্দিকী

জগতের সব কাজই আমি পারি না। অনেক কাজে অলস হলেও লিখতে কখনও ক্লান্তি বোধ করি না। এতে করে আমার সময়গুলো ভালো কাটে।

জুলিয়ান সিদ্দিকী › বিস্তারিত পোস্টঃ

সমরেশ মজুমদার ও সোনার শেকল

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:১১



_______________________________(ছবি- গুগুল থেকে)

সমরেশ মজুমদার আমারও পছন্দের লেখকদের একজন। তাঁর লেখা আমাকে দারুণভাবে আকর্ষণ করে। যেমন আগের কোনো একটি লেখায় লিখেছিলাম যে, সৈয়দ শামসুল হকের কোনো লেখা পেলেই পড়ে ফেলি। এমন কি তাঁর সম্পর্কিত কোনও লেখা পেলেও।

সমরেশ মজুমদারও আমার চোখে তেমনই একজন। তবে আমার কৌতূহল লেখকের লেখা নিয়েই। কোনো লেখকের ব্যক্তি জীবন নিয়ে ততটা আগ্রহ নেই। লেখক আর ব্যক্তি সম্পূর্ণ আলাদা সত্তা। লেখালেখির সঙ্গে এক আধটু সম্পর্কিত বলেই আমি জানি, ব্যক্তি চরিত্র আর ব্যক্তি জীবন দিয়ে লেখককে বিচার করতে হয় না। তারপরও কিছু কিছু ব্যাপার ঘটে যায়, দৃষ্টিকটু না হলেও যা মোটা দাগে চোখে লাগে। তেমনই একটা প্রসঙ্গে একটু লিখতে হচ্ছে। যদিও লেখকের ব্যক্তি জীবন সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা নেই। তবু আশা করি লেখক সমরেশ মজুমদার তাঁর একজন পাঠক হিসেবে আমাকে শুরুতেই ক্ষমা করে দেবেন।

আমি মনে করি সব লেখকই তাঁর পরিচিত গণ্ডীর বাইরে গিয়ে কোনো এক সময় লিখতে চেষ্টা করেন। এমন কি তাঁর অচেনা কোনো পরিবেশ, সমাজ নিয়েও লিখতে উৎসাহ বোধ করে থাকতে পারেন। যেমন আমি কোলকাতা তো বটেই সে শহরটার আশপাশ সম্পর্কে বা সেখানকার জীবনাচার সম্পর্কেও আমার তেমন কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবু আমার ইচ্ছে হলো সেখানকার পরিবেশকে জড়িয়ে একটা গল্প লিখি। যে গল্পটির নাম প্রথমে দিয়েছিলাম ‘মুরগি।‘ পরে ‘বিশ্বাসের দহন ও অন্যান্য গল্প’ গ্রন্থে গল্পটির শিরোনাম বদলে ‘মুঠি বদ্ধ অন্ধকার’ করে দিয়েছি। গল্পটিতে হিন্দু ধর্মের চরিত্র আছে। আছে সেখানকার ভাষার ব্যবহারও। কিন্তু গল্প হিসেবে কেমন হয়েছে সেটা পাঠকের মুখ থেকে তেমন বিস্তারিত জানা হয়নি। গ্রন্থটি অনুপ্রাণন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত।

‘যুদ্ধ ও মানসাঙ্কের গল্প’তেও হিন্দু চরিত্র আছে। উত্তম পুরুষে লেখা এ গল্পটি কোনো মুসলিম লেখক লিখেছে না হিন্দু লেখক লিখেছে, পাঠক সেটা ধরতে পারেন না।

যাই হোক, এ লেখাটিকে যদি কেউ ভেবে থাকেন যে, আমার লেখার প্রচারণামূলক লেখা, তাতেও আমার আপত্তি থাকবে না।

সম্প্রতি ‘সোনার শেকল’ নামে সমরেশ মজুমদারের একটি উপন্যাস পড়লাম। শুরুটা হয়েছে বাংলাদেশের পটভূমিতে। প্রধান চরিত্র মতিন। যে একজন মুসলমান পরিবারের ছেলে। মুসলিম পরিবারের কারও সঙ্গে লেখকের সখ্য আছে কি না আমার জানা নেই। তবে পড়তে পড়তে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, লেখক আর কিছুটা সচেতনতার পরিচয় দিতে পারতেন। মুসলিম পরিবারের সন্তান হিসেবেই আমি জানি যে, বাংলাদেশের কোনো মুসলমান পরিবারে মাতামহ কে ঠাকু মা, পিতামহকে ঠাকুর্দা বলে না। লেখার ভেতর দিয়েই যদি লেখকের ধর্মপরিচয় ফুটে ওঠে, তাহলে বলব এটা লেখকের ব্যর্থতা। লেখার ভেতর দিয়ে কেন লেখকের ধর্ম পরিচয় ফুটে উঠবে? লেখক বিশেষ করে সাহিত্য সংশ্লিষ্ট লেখায় লেখকের ধর্ম পরিচয় অতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। সাম্প্রদায়িকতাকে ছাপিয়েই একজন লেখক সবার লেখক হয়ে ওঠেন। তারপরও কেউ কেউ সাম্প্রদায়িকতাকে অতিক্রম করতে পারেন না। অথবা সচেতন ভাবেই তা করেন না।

অনেক হিন্দু লেখককে দেখেছি মুসলিম ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানকে খানিকটা বিকৃত করে লিখতে। আমাদের পাশের গ্রামের এক হিন্দু ডাক্তার ছিল, যার নাম অবিনাশ। আজান শব্দটাকে সে উচ্চারণ করত ‘আজাম’ হিসেবে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও ‘নামাজ’ বা ‘নমাজ’ শব্দটিকে ‘নেমাজ’ লিখেছেন। বঙ্কিম বাবু যে মুসলিম বিদ্বেষী ছিলেন, লেখায় তা গোপন করতে চেষ্টা করেননি।

আরও অনেক হিন্দু লেখকের লেখাতেই প্রকট হয়ে উঠেছে যে তিনি হিন্দু। তাদের কি ধারণা যে, মুসলিম ধর্মীয় শব্দগুলো শুদ্ধ করে লিখলে বা উচ্চারণ করলে তাদের হিন্দুত্ব আক্রান্ত হবে বা কোনো অংশে খর্ব হবে? যেমন কাঠমোল্লারা বলে, হিন্দুর হাতের খাবার খেলে ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে।

অবশ্য আমার ধারণা ছিল যে, সমরেশ মজুমদার ধর্মীয় দিক থেকে একজন উদার খ্রিস্টান। কিন্তু অবাক করা বিষয় যে, ‘সোনার শেকল’ পড়তে গিয়ে দেখি যে, তিনিও একজন কট্টরপন্থী হিন্দু। যে কারণেই হয়ত তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’ বা ‘ওয়ালাইকুম সালাম’ লিখতে সংকোচ বোধ করেন। ‘সেলামালুকুম’ ‘আসলাম আলেকুম’ ‘আলেকুম আসলাম’ লিখে নিজের ‘ইমান’ ঠিক রাখলেন কি না সেটাও বুঝতে পারি না।

আনন্দ বাজার যেমন ‘এপি জে আবুদুল কালাম’ লিখে পত্রিকার হিন্দুত্বের ইমান ঠিক রাখে, বাংলাদেশে কোনো কোনো পত্রিকা বা হিন্দু লেখকের লেখায় এমন হীনতা দেখিনি বা থাকলেও আমার চোখে পড়েনি।

কেউ কেউ ভাবতে পারেন জুলিয়ান সিদ্দিকী একটা সংকর নাম। তালি তাপ্পি মেরে বানানো নাম। অস্বীকার করবো না। কিন্তু এ নামে একক ধর্মের প্রকাশ নেই। কোনো মুসলিম লেখককে দেখিনি ‘নমস্কার’ শব্দটাকে ‘নমুস্কার’ বা ‘নমিস্কার’ লিখতে। ‘পূজা’ শব্দটাকে ‘পিজা বা পজা অথবা ‘পোজা’ লিখতে। মোটকথা কট্টরপন্থী মুসলিম লেখককেও দেখিনি বিকৃত করে হিন্দু ধর্মীয় কোনো শব্দ লিখতে। অথচ সেই উদারতা কলকাতার হিন্দু লেখকদের মাঝে দেখতে পাওয়া যায় না তেমন।

সুতরাং সমরেশ মজুমদার একজন হিন্দু লেখক। হয়ত বা তাঁকে উগ্রবাদী হিন্দুও বলা যেতে পারে। লেখক মলয় রায় চৌধুরী যেমন তাঁর বই না ছাপানোতে বাংলাদেশের প্রকাশকদের মৌলবাদী বলে গালি দিয়েছিলেন।

এখন আপনারাই বলুন, মৌলবাদের বীজ কে কোথায় কীভাবে বপন করে?

১০/১০/২০১৮

মন্তব্য ২৩ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (২৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:২৯

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: উত্তরাধিকার ,কালবেলা, কালপুরুষ,মৌষলকাল.....

আপনার নিকটাও তো তাঁর লেখা থেকেই নেওয়া।

অর্জুন সমগ্র......

গর্ভধারিণী........

এটাও পড়বো......

২| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩২

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: দেখুন তো ! কি কাকতালীয় ব্যাপার আপনি আমার দ্বারা অনুসরিত ব্লগারদের মধ্যে ১০০০ তম

আবার সমরেশ মজুমদার এর লেখা পড়ার দিক থেকেও কি আশ্চর্য মিল....

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৫৩

জুলিয়ান সিদ্দিকী বলেছেন: ধন্যবাদ অনেক।

মিল থাকা মন্দ কিছু না।

ভালো থাকুন সব সময়।

৩| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:২০

আমি রোবট বলেছেন: বৈতি কিনতে হবে!

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৫৬

জুলিয়ান সিদ্দিকী বলেছেন: হ্যাঁ, কিনে ফেলেন। পড়তে ভালোই লাগবে_ আমার বলা খটকাগুলো ছাড়া।

৪| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন:

আপনার জন্য আজকের একটা টাটকা ছবি।

বইটা আমার পড়া হয়নি। তবে অবশ্যই পড়বো।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৫৭

জুলিয়ান সিদ্দিকী বলেছেন: ছবির জন্য ধন্যবাদ।

আর হ্যাঁ, বইটা পড়ে ফেলেন। ভালো লাগতেও পারে।

৫| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৭

প্রামানিক বলেছেন: বইটি পড়ার আগ্রহ দেখা দিল।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৫৩

জুলিয়ান সিদ্দিকী বলেছেন: হ্যাঁ পড়েন। পড়তে আমার খারাপ লাগে নাই।

৬| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১০

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন:
আচ্ছা, তাহলে কিছু মানুষ মুহাম্মাদ না বলে মুহম্মদ বলেই ডাকে! এক্ষেত্রে আপনার কোন কথা আছে?

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:০২

জুলিয়ান সিদ্দিকী বলেছেন: আমরা মোঃ বলতে মোহাম্মদ বুঝি। যা বেশির ভাগ বাঙালি মুসলমান জানে। কিন্তু হিন্দু লেখকের লেখায় থাকবে মহম্মদ। আর সেই মহম্মদ থেকেই এসেছে মামদো ভুত (মহম্মদি বা মুসলমান ভূত) বড় ভূত অর্থে।

৭| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮

শায়মা বলেছেন: আমার মনে হয় সে নিজেই জানেনা সঠিক উচ্চারণ বা জানবার প্রয়োজন বোধ করেনি। ধরেই নিয়েছে সেলামালেকুম হবে। আর মুসলিম না হওয়ায় সে বুঝেওনি এটার ভুলটা কোথায়।

আমি চরম সন্দেহপ্রবন মানুষ কিন্তু তাকে আমার এমন মনে হচ্ছে না ভাইয়া।

আমি তার জীবনী পড়েছি। তার জীবনের অনেকটা সময় জেইলে কেটেছে। খুব নিম্ন আয়ের কাজ করেছেন তিনি। খোলার ঘরেও থেকেছেন পালিয়ে বিয়ে করে। নিজের স্ত্রীর ছোটবোনকেও বিয়ে করেছিলেন। এমনই সব কাহিনী পড়েছিলাম তার জীবনী নিয়ে কিন্তু সবকিছুর পরেও না আমার কিছুতেই বিশ্বাস হয়নি।

তার প্রেমিকা এবং স্ত্রী একই সাথে রাজনীতি করেছেন। তার জেইলে থাকার সময়গুলোতে মানবেতর জীবন যাপন করেছেন। জেইল থেকে বেরিয়ে উনি শ্বশুরবাড়ীতেই আশ্রয় নিয়ে সেখানেই বউটার ছোটবোনের সাথে বিয়ে করেছেন একই বাড়িতে থেকেছেন এসব জানার পরেও আমার মনে হয়েছে এসবই মিথ্যা এমন হতে পারেনা। এসব মিথ্যা গল্প!

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:১১

জুলিয়ান সিদ্দিকী বলেছেন: না জানলে সেটার ব্যবহার কেন হবে? সেই অজ্ঞতার ব্যাপারে তো তাদের বক্তব্য কোথাও দেখি না। তা ছাড়া ভারতের লেখকরা কেউ কম পড়ুয়া আমি বিশ্বাস করতে পারি না। কলকাতার কোনো কোনো রিকশা চালকও ভালো পড়ুয়া।

তার জীবনী কোথায় পেলেন? প্রকাশকের নাম কোনটা? দয়া করে জানাতে পারেন? আমার খুব আগ্রহ হচ্ছে।

৮| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪২

চাঁদগাজী বলেছেন:


উনি কিসের উপর লিখেন?

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:১৫

জুলিয়ান সিদ্দিকী বলেছেন: উপন্যাস লেখেন। কিছুটা কম্যুনিজম মাইন্ডেড।

৯| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৩১

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: কিন্তু অবাক করা বিষয় যে, ‘সোনার শেকল’ পড়তে গিয়ে দেখি যে, তিনিও একজন কট্টরপন্থী হিন্দু। যে কারণেই হয়ত তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’ বা ‘ওয়ালাইকুম সালাম’ লিখতে সংকোচ বোধ করেন।
.................................................... আমি ও তার একজন ভালো ভক্ত ছিলাম,
কিন্ত তিনি জাতি ভেদের উপর উঠতে পারেন নাই বিধায়, সর্বজন প্রিয় লেখক হতে পারেন নাই ।

১০| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৫৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



সমরেশ মজুমদার একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের পাঠকরা একটু জাত-পাত হিসেবে নিয়ে লেখকদের লেখা পড়েন। এজন্য মুসলিম কোন চরিত্র চিত্রায়নের বেলায়ও অনেক লেখক হিন্দুয়ানী পরিবেশ আনার চেষ্টা করেন। না হলে বইয়ের বাজারে লেখকদের পিছিয়ে পড়ার একটা শঙ্কা থাকে। তাঁর মতে পশ্চিমবঙ্গের পাঠকরা বাংলাদেশের পাঠকদের মতো এতো উদার নয়, তাদের মানসিকতায় এখনো ধর্মীয় গোেড়ামির বেশ প্রভাব আছে। মূলত, এই শঙ্কা থেকেই সমরেশ মজুমদার এটা করতে পারেন। তবে বিষয়টি কাকতালীয়ও হতে পারে।

১১| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৪৬

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: পশ্চিমবঙ্গের নামকরা সকল হিন্দু লেখকরাই মুসলমানদের খাটো করে /কটুক্তি করে লিখেছেন তাদের লেখায়।

১২| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৫৬

ধ্রুবক আলো বলেছেন: বইটা পড়ে দেখতে হবে।

১৩| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৯

ফারিহা হোসেন প্রভা বলেছেন: অনেক সুন্দর লিখেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ এতো সুন্দর করে উপস্থাপনা করার জন্য। শুভ কামনা নিরন্তর।

১৪| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:০৭

আমিন রবিন বলেছেন: লেখক হিসেবে বুদ্ধদেব, সুনীল, শীর্ষেন্দু যে মাপের; সমরেশ কিন্তু ততটা নন। যদিও আমি তার অধিকাংশ লেখাই পড়েছি। কিন্তু আমার প্রথম খটকাটা লাগে মৌষলকাল পড়তে গিয়ে। কেমন একটা টালিউডের সিনেমার ক্যারেক্টারদের মত চিন্তা ভাবনা, সাধারণ জ্ঞান এ যুগের অনিমেষ কিংবা মাধবীদের তথা স্বয়ং লেখকের। আশেপাশের পরিবেশ, সাম্প্রতিক ফ্যাশন, সমাজের হালচাল কিংবা বদলে যাওয়া পৃথিবী সম্পর্কে এবং চারপাশের খুঁটিনাটি সম্পর্কে একজন লেখকের পর্যবেক্ষণ এতটা দুর্বল হয় কি করে? আমার এখন সন্দেহ হয়, আসলেই ৬০-এর দশকে কোলকাতা তেমনি ছিল কিনা যেমনটি আমরা উত্তরাধিকার ট্রিলজিতে দেখেছি!
তাই বলতে চাচ্ছি, আপনি যে পয়েন্টগুলো তুলে ধরেছেন সেগুলো লেখকের নিছক অজ্ঞানতাও হতে পারে।

১৫| ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৫৬

করুণাধারা বলেছেন: অজ্ঞতাবশত হোক অথবা অহমিকাবশত হোক, ভারতীয় লেখক- নির্মাতারা মুসলিম নাম বিকৃত করে উচ্চারণ করবেই। যেমন, আফজালুর রহমান তাদের ভাষায় হয় আফাজুর রেমান। একবার অপর্ণা সেন কে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, কেন তারা বাংলাদেশিদের নাম বিকৃত করে উচ্চারণ করেন! অপর্ণা সেন উত্তরে রেগে গিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষের নাম উর্দুতে রাখা হয়, তাই তাদের এসব নাম উচ্চারণ করতে অসুবিধা হয়!

আপনার সাথে আমিও জানার অপেক্ষায় থাকলাম সমরেশ মজুমদারের জীবনী কোথায় পাওয়া যায় তা জানতে। তবে আমার মনে হচ্ছে, শায়মা সমরেশ বসুর জীবনীর সাথে সমরেশ মজুমদারের জীবনী মিলিয়ে ফেলেছে; সমরেশ বসুর জীবনী লিখেছেন তার ছেলে ডক্টর নবকুমার বসু, যিনি নিজেও একজন সাহিত্যিক। এই জীবনী ধারাবাহিক ভাবে দেশে প্রকাশিত হয়েছিল, তবে ধারাবাহিকের নামটা মনে করতে পারছিনা।

১৬| ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:০৩

অগ্নি সারথি বলেছেন: লেখকগন সত্যিই যদি এসব আচরন জেনে বুঝে, সজ্ঞানে করে থাকেন তবে তা নিঃসন্দেহে দুঃখ জনক এবং কোনভাবেই কাম্য নয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.