| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামরিক শিল্প ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সহযোগিতার কথাও রয়েছে।
আনুষ্ঠানিক ভাষায় এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক জোট নয়- বরং প্রতিরোধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চুক্তির ভাষার পাশাপাশি এর কৌশলগত বার্তাটিও পড়তে হয়। আর সেই জায়গা থেকেই আমার মনে হয়- মধ্যপ্রাচ্যে একটা নতুন খেলা শুরু হয়েছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই ঘনিষ্ঠতা কেবল সামরিক সহযোগিতা নয়; এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নতুন করে সাজানোর একটি প্রচেষ্টা। চুক্তিটি ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে; তুরস্ক ইতোমধ্যে মিসরের সম্ভাব্য যোগদানের কথাও বলেছে। যদিও বিপদের সময় কেউ কারোর নয়- নিজের শক্তি সামর্থ্যই শেষ ভরসা।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় এসে সেই আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত ও বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে উন্নীত করার কথা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো- এই নতুন আঞ্চলিক সমীকরণে বাংলাদেশ কি শুধু দর্শক হয়ে থাকবে?
আমার ব্যক্তিগত মত হলো- ইরানকে এই নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর বাইরে রেখে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। তাই যদি সত্যিই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুদ্ধ নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরোধ এবং পারস্পরিক সুরক্ষা- তাহলে ইরানকেও আলোচনার টেবিলে আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
ইরানকে শত্রু বানিয়ে কোনো স্থায়ী শান্তি আসবে না।
আবার কোনো একটি শক্তির আধিপত্য মেনে নিয়েও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা আসবে না। সব পক্ষকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো- সেটিই হতে পারে আসল ট্রাম্প কার্ড-
ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!
যে বিশ্বরাজনীতিতে বড় শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে নতুন নতুন জোট বানাচ্ছে, সেখানে ছোট ও মাঝারি রাষ্ট্রগুলোর কাজ কারও পেছনে দাঁড়ানো নয়; বরং নিজের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ানো।
বাংলাদেশেরও উচিত- কারও বিরুদ্ধে নয়, নিজের স্বার্থে সবার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা। কারণ ভূরাজনীতিতে সবচেয়ে বুদ্ধিমান রাষ্ট্র সেই, যে যুদ্ধ চায় না- কিন্তু যুদ্ধের সম্ভাবনাকে উপেক্ষাও করে না।
©somewhere in net ltd.