| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কাব্য চৌধুরী
কোন পরিচয় নেই। অপরিচিত এক ভবঘুরে যুবক বলতে পারেন আমাকে!
১.
সাদেকা বানু! একসময় সম্পদ , টাকা-পয়সা বেশি না থাকলেও যা ছিল তা দিয়ে স্বামী-সন্তান নিয়ে ভালই ছিলেন। সংসার পরিচালনার পাশাপাশি ছোট ভাই, প্রতিবেশী সহ পরিচিত আত্নীয়দের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করার চেষ্টা করে যেতেন প্রতিনিয়ত। হঠাৎ ঝড়ে মাঝ সমুদ্রের পাল তোলা ছোট্ট ডিঙি নৌকার মত সাদেকার ভাগ্যটাও ডুবে গেছে। আজকের এই দু: সময়ে পাশে নেই কোন শুভাকাঙ্ক্ষী। তাই আজ সাদেকা শহরে এসে মেস বাড়িতে কাজ করে অসুস্থ ও অক্ষম স্বামী কে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। শহরে আসার পর তার "মা" পরপারে পাড়ি জমিয়েছে, কিন্তু টাকার অভাবে মাকে শেষ বারের মত দেখার সৌভাগ্য হয়নি সাদেকার ! তাতে কি? সাদেকা বেঁচে আছে। এই পৃথিবীর সমস্ত বাস্তবতা সে মেনে নিয়েছে।
২.
গ্রামের আট দশটা সচ্ছল পরিবারের মত মরিয়মদেরও একটা সুন্দর পরিবার ছিল। পাঁচ বোন, দুই ভাই! বড় শখ করে মরিয়মকে সুন্দর একটা পাত্র দেখে বিয়ে দিয়েছিলেন বাবা। বিয়ের পর মরিয়মের সংসার ভালোই চলছিল। প্রথম সন্তান হিসেবে ফুটফুটে একটা ছেলে কোল জুড়ে এসেছে। চারদিকে সুখ আর সুখ! হঠাৎই অজানা এক কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে মরিয়মের সংসারের সমস্ত সুখ শান্তি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। মরিয়মের সুদর্শন স্বামীটা পাশের গ্রামের এক বিবাহিত হিন্দু মহিলার পাল্লায় পড়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মরিয়মের দিকে স্বামীর আর কোন নজর নেই। কদিন পরেই মরিয়মের স্বামী সেই বিবাহিত হিন্দু মহিলাকে বিয়ে করে মরিয়মকে একটা সতিন উপহার দেয়। মরিয়মের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কোলজোড়ে ছোট্ট শিশু! ঐদিকে বৃদ্ধ বাবাও মারা গিয়েছে। দুই ভাইয়ের বউ বোনদেরকে সহ্য করতে পারেনা। তাই দুই ভাইও মরিয়মের পাশে নেই। এমতাবস্থায় মরিয়াম কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না। না পারছে স্বামীকে ছেড়ে দিতে, আর না পারছে বাবার বাড়ি চলে যেতে। মরিয়ম হাল ছাড়েনি! কোলের সন্তানকে সাথে নিয়ে বুকভরা সাহস নিয়ে পাড়ি জমিয়েছে শহরের পানে। শহরের এক দূর সম্পর্কীয় আত্মীয়ের কাছে আশ্রয় নিয়েছে। আত্মীয়র মাধ্যমে এক গার্মেন্টসে কাজ নিয়েছে। গার্মেন্টসে কাজের মাধ্যমে মরিয়মের অভিজ্ঞতা বাড়ছে, সাথে সাথে তার কোলের সন্তানটাও বড় হয়ে উঠেছে।
.
মানুষের জীবনের গল্প গুলো যখন শুনি তখন অবাক হয়ে যাই।এতো কঠিন মূহুর্তেও মানুষ গুলো কেমন করে স্থির থাকে বুঝে আসেনা। চারপাশের পরিচিত মানুষ গুলো যখন হায়না হয়ে যায়, খাদ্য হয়ে তাদের সামনে বেঁচে থাকার সাহস বা সাধ্য হয় ক'জনের!
.
পৃথিবীর সকল মানুষেরা ভালো থাকুক! সুখে থাকুক! শান্তির পায়রা ফিরে আসুক আপন নীড়ে!
২|
১৩ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৯:৫৮
রাজীব নুর বলেছেন: চারপাশে শুধু দুঃখ আর দুঃখ।
৩|
১৩ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১১:৪৮
কাব্য চৌধুরী বলেছেন: @স্বপ্নের শঙ্খচিল
কামনা করাটাই আমাদের শক্তি, আমাদের প্রেরনা ,আমাদের আশা আর এই আশা নিয়েই আমরা বেঁচে থাকি যুগ থেকে যুগান্তর!
৪|
১৩ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১১:৫১
কাব্য চৌধুরী বলেছেন: @রাজীব নুর
তবুও দু:খীরা বাঁচার স্বপন দেখে
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৯:৫৪
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: পৃথিবীর সকল মানুষেরা ভালো থাকুক! সুখে থাকুক!
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, আমরা কামনা করতে পারি, কিন্ত আমাদের তৈরী কিছু আইন কানুন ও আচরন সবাইকে ভালো থাকতে দেয় না ।