নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জন্মসূত্রে মানব গোত্রভূক্ত; এজন্য প্রতিনিয়ত \'মানুষ\' হওয়ার প্রচেষ্টায় আছি। গল্পের \'বায়স্কোপ\' বইয়ের কারিগর।

কাওসার চৌধুরী

প্রবন্ধ ও ফিচার লেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। পাশাপাশি গল্প, অনুবাদ, কবিতা ও রম্য লেখি। আমি আশাবাদী মানুষ।

কাওসার চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

সার্টিফিকেট নয়; প্রয়োজন মেধা ও প্রতিভার সঠিক মূল্যায়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন (শিক্ষা)

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৪


বাংলাদেশে মেধা যাচাইয়ের সহজ উপায় হলো- ভুল হলেও অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতে পারা। এসএসসি, এইচএসসিতে গোল্ডেন এ+ পাওয়া। কোচিং সেন্টারে দিনকে রাত করে (উন্মাদ হয়ে) নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া। অনার্স ও মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়া। বিসিএস গাইড বই তোতাপাখির মতো মুখস্থ করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ক্যাডার সার্ভিসে চাকরি করা। পেশা হিসাবে নামের সাথে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যারিস্টার ইত্যাদি থাকা; পিএইচডি থাকলে তো কথাই নেই! আপনি এই ক্যাটাগরির বাইরে হলে আর যাই হোক সমাজের চোখে মেধাবী নয়। অতি সাধারন শিক্ষিত একজন কমদামী পাবলিক মাত্র।

মেধা ও প্রতিভা কী এক জিনিস?

মেধা হলো একজন মানুষের বিশেষ কিছু গুনাবলী ও দক্ষতা; অপরদিকে প্রতিভা হলো একজন মানুষের সৃজনশীল মানসিকতা ও অনেক দূরুহ কোন কাজে হাত দেওয়া বা আবিষ্কার করা; যা আগে কেউ করেনি, অথবা করলেও পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। তবে মেধা ও প্রতিভার মধ্যে সুক্ষ কিছু পার্থক্য থাকলেও এ দু'টির সমন্বয়ে মানুষের চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটে, নতুন নতুন আবিষ্কারের পথ সুগম হয় এবং অর্জিত শিক্ষা থেকে মানুষের উপলব্ধি হয়।

জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তা উপলব্ধি করাটাও জরুরী; যেমন, প্রতিভা ও মেধার পাশাপাশি তার বিকাশ করাটা জরুরী। জ্ঞানীরা চিন্তাশীল ও যুক্তিনির্ভর হয় বলে অন্যের যুক্তিপূর্ণ মতামতকে মর্যদা দেয়, আর যুক্তির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগায়; একাডেমিক শিক্ষায় অর্জিত সার্টিফিকেট; পিএইচডি ডিগ্রি এগুলো একাডেমিক স্বীকৃতি মাত্র। এগুলো অর্জনের পাশাপাশি মেধা, প্রতিভা, বোধশক্তি, চিন্তাশক্তি, আচরণ, সততা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলার সমন্বয় ঘটাতে হয়।

মানুষ যত জ্ঞানী হয় ততো ধীর হয়; বিনয়ী হয়; মনোযোগী হয়; ভাবুক হয়; যুক্তি নির্ভর হয়; মানবিক হয়; বিবেকবান হয়; স্বল্পভাষী হয়। একাডেমিক জ্ঞান অর্জন করে এটমিক বোমা তৈরী করে কয়েক লক্ষ মানুষকে মেরে ফেললে তাকে জ্ঞানী বলা যাবে না; তিনি জ্ঞান পাপী। কারণ, মেধা ও প্রতিভার সাথে তার বিবেক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা অর্জিত হয় নাই। একজন মেধাবীর আত্ম উপলবদ্ধির স্তর যত উপরে উঠবে তার জ্ঞানের পরিধি ততো বাড়বে।

তবে, জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানুষের অহঙ্কার বোধটিও বাড়তে থাকে; এটি মানুষের সহজাত ব্যধি। এ ব্যধিকে সতর্কতার সাথে দূরে সরিয়ে এগিয়ে যেতে হয়; না হলে এই রোগটি জ্ঞানীকে জ্ঞান পাপী বানিয়ে ছাড়বে। যিনি একে দমিয়ে রাখতে পারেন তিনিই সফল হন।

শিক্ষা এবং প্রকৃত শিক্ষার মধ্যে যেমন পার্থক্য আছে; ঠিক তেমনি মেধাবী ও প্রকৃত মেধাবী শব্দের মধ্যেও গুণগত পার্থক্য আছে। এ পার্থক্য আমরা অনেকেই বুঝি না, আবার বুঝলেও মেনে নেই না।

আমরা বুঝে অথবা না বুঝে বাচ্চাদেরকে শিশুকাল থেকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ঠেলে দেই। বাসা-বাড়িতে বাচ্চাদের সাথে ইংরেজিতে কথা বলি! যারা ছোট বয়স থেকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ার সুযোগ পাইনি তারা বড় হয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনা করি। এসব পড়াশুনার উদ্দেশ্য যতটুকু না জ্ঞান অর্জন করা তার চেয়ে অনেক বেশি অগ্রাধিকার থাকে ভাল করে ইংরেজি বলতে পারা। দেশে ভাল চাকরি পেতে ভাল ইংরেজি জানাদের কদর কম ইংরেজি জানাদের চেয়ে বহুগুনে বেশি।

যদিও বেশিরভাগ কাজে ইংরেজি জানাটা আবশ্যিক নয়।

সম্প্রতি টিভিতে একটি বিজ্ঞাপনে দেখলাম, এক শিল্পপতি তার কারখানার জন্য একটি স্থান পছন্দ করতে গেছেন; স্থানটি তার শিল্প প্রতিষ্ঠান করার উপযোগী। কিন্তু তারপরও তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন, কারণ এখানে তিনি স্মার্ট ম্যানেজার পাবেন না এই ভেবে। তখন বিজ্ঞাপনটিতে দেখা যায়, হঠাৎ সুন্দর পোশাক পরা এক নারীর ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে বলতে উপস্থিতি। ব্যাস, শিল্পপতির চিন্তা দূর হয়ে গেল, তিনি স্মার্ট এবং শিক্ষিতা ম্যানেজার পেয়ে গেলেন!

দুই-একটি শব্দ ইংরেজিতে বলতে পারাটা কি স্মার্ট বা শিক্ষিতের পরিচয় বহন করে?

..........মেধাবীও!

শুধুমাত্র একটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করার ভাবনা থেকে পড়াশুনা করলে তা কোন অবস্থাতে প্রকৃত শিক্ষা বলা যাবে না। আর যা প্রকৃত শিক্ষা নয়, তা দিয়ে মেধার বিকাশ ঘটে না। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন করা, ভাষা শিক্ষা নয়।


শিক্ষা মানসম্মত কিনা তা ভিন্ন বিষয়, তবে শিক্ষার মান যাচাইয়ে ইংরেজি ভাষা জানাটা একমাত্র সুচক হতে পারে না। বাংলায় লিখে যদি উদ্দেশ্যটা পূরণ হয়, তাহলে তা ইংরেজিতে লিখতে হবে কেন? আমি ইংরেজি শিক্ষার বিরোধিতা করছি না। দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নে ইংরেজি ভাষা শেখার প্রয়োজন আছে, তবে এটা ঠিক না ইংরেজি ভাষা না জানলে শিক্ষিত না। আমাদের দেশে উচ্চ শিক্ষা স্তরে শিক্ষার মাধ্যম হলো ইংরেজি ভাষা। ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে উচ্চ স্তরের শিক্ষাটা এদেশের শিক্ষার্থীরা কতটুকু হৃদয়াঙ্গম করতে পারছে তা দেখার বিষয়।

..........ভাবনার বিষয়!

এখন কিন্ডার গার্ডেন স্কুল বাংলাদেশের অন্যতম সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যেখান থাকার কথা ছিল সরকারের শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সেখানে হচ্ছে ব্যবসা। পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে এমন নির্লজ্জ ব্যবসা নেই। সেবা খাতগুলো যখন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন তা লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়। শিক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসা ও গণ পরিবহন তার নিষ্টুর উদাহরণ।

প্রাইমারি লেভেলের একটি বাচ্চাকে চৌদ্দ পনেরটি বই নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। তার সাথে খাতা-কলমসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র তো আছেই। এজন্য অনেক সময় বইয়ের ব্যাগ বহন করার জন্য বাবা-মা অথবা অন্য কেউ বাচ্চাটির সাথে যেতে হয়। অথচ শিশু শিক্ষা হওয়ার কথা ছিল আনন্দের। সে হেসে খেলে পড়াশুনা করবে, যাতে তার মনে শিক্ষাভীতি না আসে। ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে দেখেছি শিশুরা বই খাতা নিয়ে স্কুলে যায় না, তার প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো স্কুলে থাকে। তার পড়াশুনার পাঠ স্কুলেই শুরু, স্কুলেই শেষ। নেই হোমওয়ার্কের বাড়তি ঝামেলা। এজন্য মনের আনন্দে শিশুরা স্কুলে যায়।

আর আমাদের দেশে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। যত দামী স্কুল তত বেশী বই-খাতা ও হোমওয়ার্ক। এটা কেমন শিক্ষা ব্যাবস্থা? একটি বাচ্চার ওজনের চেয়ে বইয়ের ব্যাগের ওজন বেশি হবে কেন? তাহলে শিক্ষা কি শিশুদের জন্য বোঝা? যে বয়সে আনন্দের সাথে বাচ্চারা শিক্ষা অর্জন কারার কথা সে বয়সে আমরা শিশুদের মনে শিক্ষা ভীতি তৈরি করছি। শিক্ষা কী? তা বুঝে উঠার আগেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার পর পরীক্ষা নিচ্ছি, তোতা পাখির মত মুখস্থ করাচ্ছি, ভয় দেখিয়ে দিচ্ছি। আর উপরি উপদ্রব হিসেবে আছে বিভিন্ন সিস্টেমের গৃহশিক্ষকের ব্যাবস্থা।

সেকেন্ডারী শিক্ষা ব্যাবস্থা তো আরো ভয়াবহ। প্রতিদিন স্কুলগুলোতে ৬-৮ টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়, গড়ে একেকটি বিষয় ৩০-৩৫ মিনিট করে পড়ানো হয়, এতে করে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। মফস্বলের কোন কোন ক্লাসে তো ২০০-২৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী থাকে। একজন শিক্ষকের দ্বারা ইচ্ছা থাকলেও এত অল্প সময়ে বিপুল শিক্ষার্থীদের কোয়ালিটি সম্পন্ন শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। আছে শিক্ষক স্বল্পতা ও ছাত্র-ছাত্রীদের অপর্যাপ্ত বসার আসন । এছাড়া আছে কম দক্ষতাসম্পন্ন ও ফাঁকিবাজ শিক্ষকদের ছড়াছড়ি।

কিছু অসাধু শিক্ষক বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর জন্য শ্রেণীকক্ষে ঠিকমতো পাঠদান করে না। একটি ছাত্র যদি স্কুলে পড়ার পরও একই শিক্ষকের বাসায় সারা বছর প্রাইভেট পড়তে হয় তাহলে স্কুলের প্রয়োজন কেন? এমনও শোনা যায় স্কুলের শিক্ষকের বাসায় না পড়লে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা যায় না। আবার কোন কোন বেসরকারী স্কুল শিক্ষকদের এতো অল্প বেতন দেয়, তা শিক্ষকদের স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে শেষ হয়ে যায়। এজন্য অনেক সময় বাধ্য হয়ে তারা প্রাইভেট কোচিং করান।

ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত এত বিষয় পাঠ দান করা হয় সত্যি তা ভীতিকর। নবম শ্রেণীতে উঠলে তো আবার বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য কত যে শাখা প্রশাখা। আমাদের দেশের মুখস্ত নির্ভর শিক্ষা ব্যাবস্থা, যা আমাদের শিক্ষার মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য যেখানে হওয়ার কথা ছিল জ্ঞান অর্জন করা, গবেষনা করা, মূল্যবোধ সৃষ্টি করা; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা আজ পরীক্ষা ও চাকরি নির্ভর। যে দেশে লক্ষাধিক ছেলে মেয়ে এস এস সি পরীক্ষায় A+ পায়, সে দেশের শিক্ষা ব্যাবস্থা শুধু গলদপূর্ণই নয়, জাতির মেধা বিকাশের অন্তরায়ও বটে।


ছেলে মেয়েরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যদি স্কুলের পাঠ্যবই নিয়ে স্কুল আর শিক্ষকদের বাসায় বাসায় দৌড়ায় তাহলে তার সৃজনশীল মন মানষিকতা সৃষ্টি হবে কখন? সবাইকে বুঝতে হবে মানুষের জন্ম হয়নি শুধু পড়াশুনা করা জন্য। সরকার ও অভিবাবকদের দায়িত্ব ছাত্র/ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় বিনোদন ও খেলাধুলার পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা; তাদের শারিরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য যা অত্যাবশ্যক। সৃজনশীল মননের জন্য প্রয়োজন স্বাধীনভাবে চিন্তা শক্তিকে বিকশিত করার পর্যাপ্ত সময় ও পরিবেশ। কিন্তু পাগলাটে এ শিক্ষা ব্যবস্থা ছাত্র ছাত্রীদের সৃজনশীল ও স্বাধীন সত্তাকে বিকশিত হতে দিচ্ছে না। ছাত্র ছাত্রীদের পাশাপাশি বাবা মায়েরা সারা বছর ব্যস্থ থাকেন সন্তানদের পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের নেশায়। যত টাকা লাগুক এ+ যে পেতেই হবে।

এক সময় দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে নকলের মহাউৎসব চলতো; এখন নকল অনেকটা বন্ধ হলেও শুরু হয়েছে নতুন উপদ্রব! ডিজিটাল সিস্টেমে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা; অনেকটা ঘোষণা দিয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলে চড়া দামে প্রশ্ন বেঁচা কেনা! এ প্রশ্নের ক্রেতা কিন্তু ছাত্র/ছাত্রীরা নয়; সন্তানের গোল্ডেন পেলাসের ফ্যন্টাসিতে ভোগতে থাকা বাবা-মায়েরা। এমনও শুনা যায় পরীক্ষার পর বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারির যোগসাজোশে বড় অঙ্কের সেলামির বিনিময়ে পেলাসের (+) সুব্যবস্তা করা যায়; অভিযোগ আছে এতে কোন কোন স্কুল/কলেজের হেড মাস্টার/অধ্যক্ষ জড়িত!!

আর সৃজনশীলতার নামে আমাদের দেশে যা হচ্ছে তা প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়। এই শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষাও নয়, আবার সৃজননশীলও নয়। আর কোচিং বাণিজ্য নিয়ে কী আর লেখবো। শিক্ষাকে ক্লাসরুমে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যাবস্থার প্রচলন, প্রয়োজনীয় কিন্তু ছোট আকারের সিলেবাস তৈরী করা, চাকরি ও রিজাল্ট নির্ভর মেন্টালিটি পরিহার করে জ্ঞান নির্ভর ও গবেষনাধর্মী শিক্ষা ব্যাবস্থা শুরু করা। সর্বাপরি অভিবাবকদের সচেতন হওয়া, যাতে বাচ্চাদের প্রকৃত শিক্ষা অর্জন বাদ দিয়ে কত ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ছে এবং কতজন শিক্ষক/কোচিং সেন্টারে যাচ্ছে তা মুখ্য না হয়।

আপনি কী চান তা বাচ্চার উপর চাপিয়ে না দিয়ে, বরং সে কী চায়, কোন বিষয়টি তার পছন্দ বোঝার চেষ্টা করুন। বাসায় বাচ্চাদে সাথে নিজের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলা উচিৎ, এতে সম্পর্ক আর গাঢ় হবে। স্কুলে যাতে শুদ্ধ করে বাংলা শিখতে ও বলতে পারে সেজন্য শুরু থেকে শুদ্ধ উচ্চারণে বাংলা বর্ণমালা শেখানোর চেষ্টা করা প্রয়োজন। খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দিন, তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, সময় পেলে বাচ্চাদের নিয়ে তাদের পছন্দের জায়গায় ঘুরে আসুন। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং কৃষ্টি-কালচার নিয়ে আলোচনা করুন।

যাদের ছেলে মেয়ে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশুনা করে, খেয়াল রাখবেন যাতে শুদ্ধ করে বাংলা লেখতে, পড়তে ও কথা বলতে পারে। পৃথিবীর কোন সভ্য সমাজ নিজের মাতৃভাষা বাদ দিয়ে বিজাতীয় ভাষা চর্চা করে না। এজন্য সন্তান ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশুনা করে বলে বাংলার ব্যাপারে উদাসীন হলে চলবে না। শুধু ইংরজি কেন? সম্ভব হলে জাপানিজ, চায়নিজ, রাশিয়ান, কোরিয়ান, জার্মান, স্পেনিশ, পর্তুগিজ, ফ্রেঞ্চ ও ডাচ ইত্যাদি ভাষা চর্চায় উৎসাহ দিতে পারেন।

প্রতি বছর বাংলাদেশে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে গোল্ডেন এ+ ও এ+ পায়। তাহলে কী বলবো বাকিদের চেয়ে এরা অনেক বেশী মেধাবী?

..........জানে ও বুঝে?

না, আমি তা মনে করি না। যে ছেলেটি শুধুমাত্র গোল্ডেন এ+ পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটি সিলেবাস দিনের পর দিন মুখস্ত করে গেল শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের আশায় তার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান থাকে ভাল রেজাল্ট, ভাল শিক্ষা অর্জন করা নয়। শিক্ষার উদ্দেশ্য নয় দিনের পর দিন শুধু নির্দিষ্ট সিলেবাস তোতাপাখির মতো মুখস্ত করে পরীক্ষার খাতায় লেখা। প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো যা পড়েছে তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা, নিজের মত করে জানা। এতে ছাত্রদের স্বাধীন সত্তার বিকাশ ঘটে।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য ছাত্ররা এ+ এর চিপায় পড়ে ভোর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত শুধু একাডেমিক বই নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তারা এত প্রেসারে থাকে যে, অন্য বিষয় নিয়ে ভাবনার সময়টা পর্যন্ত পায় না।


আমি মনে করি যে ছেলে-মেয়েটি কোনদিন কোন প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে যায়নি, এক্সক্লুসিভ সিলেবাস পড়েনি। একাডেমিক বই পড়াকে ধ্যানজ্ঞান না করে অপাঠ্য বই পড়ে, সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত রাখে, ডিবেট করে, গল্প/কবিতা লেখে ও পড়ে, খেলাধূলা করে, টিভিতে পছন্দের টিমের খেলা মন ভরে উপভোগ করে সে পরীক্ষায় 'বি-গ্রেড' পেলেও প্রকৃত মেধাবী।

পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে তাদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করা। জানার আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া। শেখার জন্য কৌতুহলী হওয়া। উন্নত দেশগুলোতে এভাবেই ছাত্র ছাত্রীদের মোটিভেট করা হয়। তারা পড়ালেখার জন্য ছাত্রদের উপর কোন চাপ প্রয়োগ করে না। ফলে ছেলেমেয়েরা আনন্দের সাথে শিক্ষা নেয়, জ্ঞান অর্জন করে। সিলেবাসের বাইরে গিয়ে নতুন নতুন জিনিস জানার চেষ্টা করে। তাদের সিলেবাসটাও আমাদের চেয়ে অনেক ছোট।

চাপিয়ে দিয়ে জোর করে হয়তো এ+ পাওয়ানো যায়। কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে হয় আনন্দের সাথে নিজের ইচ্ছায়। চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা ছেলেমেয়েদের ক্রিয়েটিভ আইডিয়াগুলো নষ্ট করে দেয়। এজন্য উন্নত দেশগুলোর তুলনায় আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি পড়াশুনা করলেও তাদের মতো গবেষক, সাইন্টিস্ট আর দার্শনিক হতে পারেনা। তারা রেজাল্ট দেখেনা, দেখে ক্রিয়েটিভিটি। আমরা বাচ্চাদের ক্রিয়েটিভ মাইন্ডকে ধ্বংস করে প্রাধান্য দেই ভাল রেজাল্ট আর ভাল চাকরিকে।

একটি ধাঁধা দেই; বলুন তো পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা প্রাইমারী ও সেকেন্ডারি শিক্ষা ব্যবস্থা কোন দেশে আছে? ভাবুন, ভাবতে থাকুন! এবার মনের মধ্যে ২-৩ টি দেশের নাম উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে; তাই না? তবে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবো আপনি যে দেশগুলোর কথা এই মুহুর্তে ভেবেছেন সে দেশগুলোর তালিকায় নিশ্চয়ই ফিনল্যান্ডের নাম নেই। হ্যা, স্কেন্ডিনেভিয়ান এ দেশটি গত বেশ কয়েক বছর থেকে তালিকায় শীর্ষে। গবেষণায় দেখা গেছে এই সফলতার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো দেশটির গ্রাম/শহর ভেদাভেদ না রেখে প্রতিটি স্কুলকে সমান গুরুত্ব দেওয়া; দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা দিয়ে পাঠদান করা; এছাড়া তাদের শ্রেণীকক্ষে সকল ছাত্রকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফিনিশ স্কুলগুলোতে খুব সামান্য হোমওয়ার্ক দেওয়া হয়; মূলত শ্রেণীকক্ষেই শিক্ষকরা পাঠদান শেষ করেন। এছাড়া পরীক্ষার কোন কড়াকড়ি নেই; শুধু ১৬ বছর বয়সের সময় বাধ্যতামূলক পরীক্ষা (জিসিএসই) নেওয়া হয়।

তালিকায় এর পরেই আছে যথাক্রমে, (২) সুইজারল্যান্ড; (৩) বেলজিয়াম; (৪) সিঙ্গাপুর; (৫) নেদারল্যান্ড; (৬) কাতার; (৭) আয়ারল্যান্ড; (৮) এস্তনিয়া; (৯) নিউজিল্যান্ড; (১০) জাপান। (The Independent, UK)

তবে উচ্চশিক্ষায় (বিশ্ববিদ্যালয়) যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পৃথিবীর অন্য যেকোন দেশের ইউনিভার্সিটির চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে। এরপর আছে যথাক্রমে, (৩) জার্মানী; (৪) অস্ট্রেলিয়া; (৫) কানাডা; (৬) ফ্রান্স; (৭) নেদারল্যান্ড; (৮) চায়না; (৯) দক্ষিণ কোরিয়া; এবং (১০) জাপান। এই তালিকাটি চারটি মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে; (ক) শিক্ষার গুনগত মান ও পদ্ধতি অর্থাৎ পৃথিবীর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষা ও গবেষণায় গুণগত তুলনা; (খ) পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থিতি; (গ) দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়া বা তালিকাভুক্ত হওয়া; (ঘ) দেশটির গড় মাথাপিছু আয়। (QS.uni.cou.Rnk)

আমরা গরু দেখে দেখে বড় হয়েছি তারপরও গাইড বই পড়ে গরুর রচনা মুখস্ত করি। একটা ছাত্রকে যদি বলা হত তুমি যেভাবে গরু দেখেছ সেভাবে গরুর বর্ণনা কর তাহলে তার মধ্যে চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটত। গরু নিয়ে ভাবত। অন্যের লেখা গরুর বর্ণনা কষ্ট করে মুখস্ত করতে হত না। আর এটাই ছাত্রদের থিংকার বানায়, গবেষক হওয়ার পথ প্রসারিত করে। এজন্য নোট বইয়ের বিরূদ্ধে আমার কঠোর অবস্থান। অন্যের লেখা পড়ে ভাবটা নিজের মধ্যে ধারণ করা যায় না। এজন্য গাইড বই মুখস্ত করতে হয়। মুখস্ত করা শিক্ষা হচ্ছে তলা বিহীন ঝুড়ি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াটি আরো পাগলাটে। এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েই ছেলমেয়েরা ভর্তি যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্য শুরু করে কোচিং সেন্টারগুলোতে দৌড়-ঝাঁপ। আমি এমনও ছাত্র দেখেছি এইচএসসি পরীক্ষা যেদিন শেষ হয়েছে সেদিন সারা রাত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি গাইড পড়েছে! এটা কী ছাত্রদের অসুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়? আর অসুস্থ মানসিকতা আসে অসুস্থ প্রতিযোগিতার জন্য। যার ফলে তার মধ্যে এক ধরণের অস্তিরতা বিরাজ করে। বাধ্য হয়ে পাঠ্য বই-গাইড আবার পড়ে। এতে আর যাই হোক মেধার বিকাশ হয় না।


অথচ এ সময়টাতে ছেলেমেয়েরা আনন্দ ফুর্তি করার কথা, পাঠ্য বই থেকে দূরে থাকার কথা, পছন্দর অপাঠ্য বইগুলো পড়ার কথা। কারণ পাঠ্য বইগুলো সে পড়েছে পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের আশায়। অনেক ছাত্র আছে শুধু পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য বাধ্য হয়ে এমন একটি বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করে যে বিষয়ে তার কোন আগ্রহ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্টদের কদর বরাবরই অনেক বেশি। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে ছেলেটি একই বিষয়ে অনেক বেশি পড়াশুনা করে ভাল ফলফল করলো তাকে আমরা সেভাবে মূল্যায়ন করি না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেবাসটা অনেক বড়। এজন্য তাদেরকে বিষয়ের গভীরে গিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের চেয়ে অনেক বেশি পড়তে হয়। জানতে হয়। তারপরও ভাল ফলাফল হয় না। চাকরির ইন্টারভিউতে সব সময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা অগ্রাধিকার পায় এতে তার বিষয়ভিত্তি জ্ঞান কম থাকলেও কোন সমস্যা নেই।

বাংলাদেশে নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াকেই অনেকে বড় যোগ্যতা মনে করেন, পরবর্তীতে লেখাপড়ায় তেমন মনযোগী না হলেও চলে।

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া মানে সোনার হরিন হাতে পাওয়া। যে প্রক্রিয়ায় পরীক্ষাটি হয়, এতে কী প্রকৃত মেধার বিকাশ ঘটে? ছাত্ররা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে যতটুকু পরিশ্রম করে তারচেয়ে বেশী পরিশ্রম করে বিসিএস গাইড আর বিসিএস পরীক্ষা কোচিং নিয়ে। বিসিএস কোচিং দেশের সেরা বিদ্যাপীট! স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে যদি বিসিএস কোচিং করে মেধা যাচাই করতে হয় তাহলে উচ্চশিক্ষার জন্য এতো এতো বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর প্রয়োজন কী? সবচেয়ে ভাল হয় এসএসসি পাশ করে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়া। এতে ছাত্রদের সময়টা বাঁচলো, সরকারেরও উচ্চশিক্ষায় হাজার হাজার কোটি টাকা খরছ সাশ্রয় হবে। আরেকটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, বর্তমানে বিসিএস সহ অন্যান্য নিয়োগ পদ্ধতিতে 'সর্ব বিষয়ে' মোটামুটি জানা একজনকে নেয়া হচ্ছে; তাহলে প্রশ্ন হলো, ব্যাচেলরে ৪ বছর আর মাস্টার্সে এক বছর পড়ার কি সত্যিকারের কোন দরকার ছিল? এগুলো শুধু শুধু সময়ের অপচয় নয় কী?

কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম যিনি বিসিএস পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়েছেন তিনি নাকি অনার্স ফ্যাইন্যাল পরীক্ষা দেওয়ার আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং করেছেন বলেই এই সাফল্য। সব কৃতিত্ব কোচিং সেন্টারের! এই যদি হয় মেধার বিকাশের চালচিত্র তাহলে জাতির কপালে নির্ঘাত দুঃখ আছে।

বিসিএস পরীক্ষার্থীরা গাইডের বদৌলতে জানেন, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েভের (www) আবিষ্কারক টিমথি বার্নার্স লির নাম। কিন্তু কোনদিন তাঁর আবিষ্কার ও গবেষণা নিয়ে পড়াশুনা করেন নাই। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিক এ্যারিস্টটলের নাম জানেন কিন্তু তাঁর জীবন ও দর্শন নিয়ে কোনদিন পড়াশুনা করেন নাই। পৃথিবী বিখ্যাত কবি শেক্সপিয়ারের নাম গাইড বইয়ে পড়েছেন কিন্তু একটি কবিতাও জীবনে পড়ে দেখেন নাই। নাম মুখস্ত করে আর যাই হোক মেধার বিকাশ কখনো সম্ভব নয়।

একজন ভাল গায়ক, একজন ভাল সাহিত্যক, একজন ভাল মেকানিক্স, একজন ভাল খেলোয়ায়ড়, একজন ভাল সমাজকর্মী যাদের একাডেমিক আহামরি কোন কৃতিত্ব নেই, তারা কী মেধাবী নয়?

কিছুদিন আগে বাংলাদেশের দু'জন শিক্ষার্থী ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। অথচ বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ হয়নি তাদের। এমনকি এ+ না থাকায় বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় ফরম ফিলাপ করতে পারেনি!

লন্ডনে কিছুদিন স্কুলে পড়ানোর সুযোগ হয়েছিল। ওদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাকে অবাক করেছে। ওরা কোন ছাত্রকে জোর করে পড়ায় না। ক্লাসে অন্যদের সাথে পেরে না উঠলে আলাদা করে কেয়ার করে। তারপরও না পারলে রেখে দেয়। শুধুমাত্র প্রকৃত মেধাবীদের এরা পুস করে আর ভাল করার জন্য। এ হার শতকরা ২৫-৩০%। কিন্তু কখনো এদেরে প্রেসার দেয় না। ছাত্ররা যাতে মনের আনন্দে পড়াশুনা করে তার ব্যবস্থা করে দেয়। এদের আলাদা কোচিং লাগে না, টিচারের বাসায় গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করা লাগে না। এমনকি বাসায় এসে সর্বোচ্চ ২-৩ ঘন্টা পড়াশুনা করে। গার্ডিয়ানদের কোন হেল্প লাগে না।

ওদের সিলেবাসটা আমাদের চেয়ে ছোট, বইয়ের সংখ্যাও অনেক কম। এরা এ+ এর ফ্যান্টাসিতে ভোগে না। স্কুল থেকে ছাত্রদের সহজাত প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করে। তাদের ইচ্ছার বিরূদ্ধে যায় না। এজন্য মেধাবীরা স্বাধীনভাবে তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে। এজন্য আমাদের ছাত্রদের তুলনায় এরা অনেক মেধাবী হয়। একেকটা ছাত্র একজন গবেষক হয়। কারণ ছোটবেলা থেকে ছাত্রদের এরা থিংকার বানায়, তোতাপাখি নয়।


আমরা জোর করে মেধাবী বানাতে চাই, আর ওরা মেধাবীদের চেনে গবেষক বানায়। এখানেই আমাদের সাথে তাদের পার্থক্য। তারা জানে মেধা হচ্ছে সহজাত। জোরাজুরিতে হয়ত পরীক্ষায় ফল আসে, কিন্তু দেশ ও জাতির কোন লাভ হয় না। ইউকেতে এখনো GCSE পাশের হার ৬০-৬৭% (Gcse.result.2017)। গত ৫-৭ বছর আগেও ছিল ৪০-৪৫%।

আমি অনেক মাদ্রাসা শিক্ষিত ছাত্রকে দেখেছি অত্যন্ত মেধাবী। দেশে হাজার হাজার মাদ্রাসা শিক্ষিত "ন্যাচারাল ট্যালেন্ট" ছাত্র-ছাত্রী আছে। আমরা তাদেরকে চিনি না। চেনার চেষ্টা পর্যন্ত করি না। একটা সহজ ট্যাগ লাগিয়ে দেই "মাদ্রাসা ছাত্র"। অবহেলা করি। এই অবহেলা আর সুযোগের অভাবে একটা সময় হতাশ হয়ে এই প্রতিভাগুলো ঝরে পড়ে। আমরা তাদেরকে উৎসাহ দেই না। আপনা লোক ভাবি না। অথচ এই ছেলেরাই সবচেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক হয়। দেশের জন্য ভাল কিছু করতে চায়। কিন্তু বিভাজন ও মানুষকে অবমূল্যায়নের রাজনীতি আর সামাজিক অঘোষিত প্রথা তাদেরকে দূরে ঠেলে দেয় চিরতরে, ফোকাস হওয়ার আগেই।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন লেখাপড়ায় ভীষণ অমনোযোগী। অনেকবার প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়েও পাশ করতে পারেন নাই। বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন, কিছুদিন আগে মারা যাওয়া এ শতাব্দীর সেরা বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং একাডেমিক ইয়ারগুলোতে ভাল ছাত্র ছিলেন না। মাওলানা ভাসানি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও মাজারি মানের ছাত্র ছিলেন। কাজী নজরুল ইসলাম তো পড়াশুনা করাই সুযোগ পান নাই। রুটির দোকানে চাকরি করেই শৈশবটা কেটেছে তার।

আপনি কী জানেন, টেকনোলজি জায়ান্ট এ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জব গ্রেজুয়েট নন। আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা চায়নিজ জ্যাক মা পড়ালেখায় খুব অমনোযোগী ছিলেন বলে চারবারে মেট্রিক পাশ করেন। ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্জ জোকারবার্গ তার উচ্ছৃঙ্খল আচরণের জন্য দুইটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাসপেন্ড হয়েছিলেন।

পৃথিবী বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের নাম নিশ্চয় শুনেছেন। নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী এ বিজ্ঞনী বিখ্যাত E=MC2 সূত্রের উদ্ভাবক (E=mc2)। এছাড়া বিজ্ঞান গবেষণায় ৩০০টির বেশি রিসার্চ পেপার আছে তাঁর। তিনি ছিলেন হাইস্কুল ড্রপআউট। আমেরিকার বিখ্যাত সাহিত্যিক মার্ক টুয়েন ছিলেন অল্পশিক্ষিত, একটি প্রিন্টিং প্রেসের কর্মচারী। বিশ্ব বিখ্যাত ব্রিটিশ কবি ও নাট্যকার উইলিয়াম সেক্সপিয়ার ১৩ বছর বয়সে পড়ালেখা বাদ দিয়েছিলেন। আর স্কুলে যান নাই। (Albert.Einstein)

সাধারন শিক্ষা আর উচ্চশিক্ষার মধ্যে অনেক গুণগত পার্থক্য আছে; ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা স্তর হলো সাধারন শিক্ষা; আর বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা হলো গবেষণামূলক শিক্ষা (যদিও এমনটি হয় না এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে)। যার ফলে লক্ষ লক্ষ উচ্চ শিক্ষিত মানুষের ভীড়ে হাতে গোনা কয়েকজন গবেষক, সমাজবিজ্ঞানী ও সাইন্টিস্ট পাওয়া যায়। উচ্চ শিক্ষা সার্টিফিকেট ধারীদের জন্য নয়; এটি প্রকৃত মেধাবী ও গবেষকদের বিচরণ ক্ষেত্র। গত কয়েক বছরে শিক্ষা ব্যবস্থা কোয়ালিটির চেয়ে কোয়ানটিটিকে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়ছে; ফলে শিক্ষার মান কমেছে, কিন্তু উচ্চ শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

পরীক্ষায় ভাল ফলাফলকারী অনেকেই মেধাবী এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের দেশে যে প্রক্রিয়ায় মেধা যাচাই করা হয় তা সঠিক নয়। দেশকে এগিয়ে নিতে প্রকৃত মেধাবীদের খুঁজে বের করতে হবে। তাদেরকে অনুপ্রেরণা দিতে হবে। নিজেদের প্রতিভা বিকাশের জন্য কাজের পরিবেশ করে দিতে হবে। স্বীকৃতি দিতে হবে। আর এভাবেই দেশ এগিয়ে যাবে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো সাথে পাল্লা দিয়ে।

সার্টিফিকেট তো আমাদের আছে.........
তাহলে আমরা কোথায় পিছিয়ে আছি; মেধায়? প্রতিভায়? জ্ঞানে?
নাকি, তিনটিতেই!!!



ফটো ক্রেডিট,
গুগল।

চাইলে পড়তে পারেন-
আমার সবচেয়ে পঠিত, লাইক ও কমেন্ট প্রাপ্ত পোস্ট।
গল্প লেখার সহজ পাঠ
সবচেয়ে পঠিত প্রবন্ধ।
আধুনিক কবিতার পাঠ (সমালোচনা)
আলোচিত ফিচার 'দি লাঞ্চিয়ন'।
ব্রিটেনের প্রবাস জীবন- স্মৃতিকথা।
সবচেয়ে পঠিত গল্প।
সবচেয়ে লাইকপ্রাপ্ত গল্প।
ছবি ব্লগ (লন্ডনের ডায়েরি-১)।

মন্তব্য ৯৮ টি রেটিং +২২/-০

মন্তব্য (৯৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:১০

সিগন্যাস বলেছেন: প্রিয় কাওসার ভাই
না পড়েই মন্তব্য করলাম । গতকাল জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ চরম উন্নতি হয়েছে । প্রথম বারের মতো বিজ্ঞানীরা মিলিয়ন বছর আগে মৃত এক প্রাণীর কোষকে জীবিত করতে পেরেছেন । আপনার কি মনে হয় এই প্রযুক্তি দিয়ে কি হাজার বছর আগে মৃত ব্যক্তিদের জীবিত করা যাবে?

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বায়োটেকনোলজির একটি ক্ষুদ্র অংশ। বায়োটেকনলজির অন্যান্য শাখা গুলো হল মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োস্ট্যাটিসটিক, ইমিউনোলজি, ওর্গানিক কেমিস্ট্রি, এনজাইমোলজি, ইনসিলিকো (কম্পিউটেশনাল) বায়োলজি, টিস্যু কালচার ইত্যাদি।

১৯৭২ সালে পল বার্গের রিকম্বিনেন্ট আবিষ্কার করেন ডিএনএ টেকনোলজি বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর । বায়োটেকনোলজি ব্যবহার করে এক কোষ থেকে সুনির্দিষ্ট জিন নিয়ে অন্য কোষে স্থাপন ও কর্মক্ষম করার ক্ষমতাকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে।

নামের শেষে ইঞ্জিনিয়ারিং যোগ করার কারণ হচ্ছে, জীববিজ্ঞানের কেবলমাত্র এ শাখাটিতেই নিজের ইচ্ছামত ডিজাইন করে একটি প্রাণী সৃষ্টি করা যায়, ডিজাইন করা যায় নিজের পছন্দের ই.কোলাই যে কিনা নিজের কথামত উঠবে বসবে। কাজটা অনেকটা একটা কম্পউটার প্রোগ্রাম ডিজাইন করার মতো।,

আসলে এ গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে; আরো কয়েক বছর গেলে হয়তো আরো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে; তবে মৃত ব্যক্তিকে জীবত করতে পারবে বলে মনে হয় না; তবে ভবিষ্যতে কী হবে কে বলতে পারে!!!

২| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৮

অচেনা হৃদি বলেছেন: অনেক বড় একটা লেখা পড়ে শেষ করলাম। ভাইয়া শুধু সমস্যা নিয়েই কথা বলেছেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কি কোন সম্ভাবনা নেই? সম্ভাবনা নিয়ে যদি একটু আলোচনা করতেন ভালো হত। তবে এতে লেখার পরিধি আরও বড় হয়ে যাবে।
শিক্ষাব্যবস্থায় সামগ্রিকভাবে অনেক সমস্যা আছে। একটি আর্টিকেলে সব সমস্যাকে আলোকপাত করতে গেলে অনেক তথ্য বাদ পড়তে পারে। অনুরোধ থাকবে শিক্ষাব্যবস্থার ভিন্ন ভিন্ন সেক্টরগুলো নিয়ে আলাদা আলাদা প্রবন্ধ লিখুন। যেমন-প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা ইত্যাদি। তাহলে অনেক বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। সিরিজ আকারে লিখলে মনে হয় সুন্দর হবে।

কষ্ট করে সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে ব্লগে উপহার দেয়ায় ভাইয়াকে ধন্যবাদ।

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



"ভাইয়া শুধু সমস্যা নিয়েই কথা বলেছেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কি কোন সম্ভাবনা নেই? সম্ভাবনা নিয়ে যদি একটু আলোচনা করতেন ভালো হত। তবে এতে লেখার পরিধি আরও বড় হয়ে যাবে।"

আমার পিচ্চি আপুটাকে লম্বা লেখাটি পড়িয়ে টায়ার্ড করে দিলাম :(!!! যাক, সে কথা ভাইয়ার লেখা বড় হলেও পড়তে হয় :-B। লেখায় সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ স্পেসিফিক না বললে ও ইংগিত আছে সমাধানের; এ বিষয়ে ডিটেলে আরেকটা পোস্ট দেব ভবিষ্যতে।

"অনুরোধ থাকবে শিক্ষাব্যবস্থার ভিন্ন ভিন্ন সেক্টরগুলো নিয়ে আলাদা আলাদা প্রবন্ধ লিখুন। যেমন-প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা ইত্যাদি। তাহলে অনেক বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। সিরিজ আকারে লিখলে মনে হয় সুন্দর হবে।"

সাজেশনটি মনে ধরেছে; এগুলো নিয়ে হয়তো ভবিষ্যতে লেখবো। তবে এ লেখাগুলো লেখতে অনেক সময় লাগে, অনেক ভাবনা লাগে আর সবচেয়ে বড় কথা প্রচুর পড়তে হয়। আশীর্বাদ রইলো, আপুর জন্য।

৩| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:০১

ভ্রমরের ডানা বলেছেন:



দেশে এসব আসতে কয়েক শত বছর লাগিতে পারে! এখানে এখনো উৎসব চলছে মূর্খতার...

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: শুভেচ্ছা রইলো,



দেশের তথাকথিত শিক্ষিত, শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কখনো নেতিবাচক কিছু লেখতে চাই না; তবু লিখতে হয়। সামাজিক অবক্ষয়গুলো আলোচনা না করলে হয়তো সংশোধনের সুযোগ আসবে না – তাই তুলে ধরা। শিক্ষায় আমাদের এই অবক্ষয় রাতারাতি হয়নি বা দু দশ বছরেও হয়নি। স্বাধীনতার পর ৭২ এর নকল করে পাশ করা শিক্ষিতরা আর মাঝখানের দীর্ঘ দিনের অনৈতিক নীতিহীনতা নিয়ে পাশ করা তথাকথিত শিক্ষিতরা আজ সমাজের উচ্চাসনগুলো দখল করে বসে হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রীর মত সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে, এতে করে রাষ্ট্রিয় মন্ত্রকগুলো ঠুঁটোজগন্নাথ হয়ে গেছে।

অনৈতিকতায় আচ্ছন্ন কোন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আদেশ নিষেধের প্রতি সম্মান দেখাচ্ছে না নিন্ম কর্মকর্তা কর্মচারীরা। সামগ্রিক দিক দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে যথেষ্ট অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নতি হলেও বর্তমানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে নাজুক অবস্থা। এ দিকে যদি মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টিপাত না করেন তবে ভয়াবহতা প্রকট রুপ নেবে। সাময়িকভাবে এখনো হয়তো তেমন বুঝা যাচ্ছে না – সামগ্রিক চিন্তায় হয়তো একসময় প্রকৃত শিক্ষিতের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ১০০% শিক্ষিতের দেশেও মূর্খতা হয়তো মারাত্মকভাবে সমাজকে বিধ্বস্ত করে দেবে।

আপনি ঠিকই বলেছেন, এখানে এখনো উৎসব চলছে মূর্খতার... :(

৪| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:১৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: অল্প পড়ে মন্তব্য করবোনা। সময় নিয়ে রাতের দিকে আসছি ।

শুভকামনা রইল।

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



প্রিয় ভাই রাতে লেখাটি পড়বেন জেনে মনটা ভরে গেল; লেখাটি আপনার ভাল লাগলেই হলো। রাতে কথা হবে। ভাল থাকবেন, গুরু।

৫| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৩৭

রাজীব নুর বলেছেন: যদি বলেন এই গুলা সরকারের কাজ, সরকার কিন্তু আপনার আমার সচেতনাতা বোধ তৈরি করতে পারবে না। এটা যার যার নিজের মধ্যে থাকতে হয়।
তাই বলছি হা হুতাশ না করে যা করা দরকার তাই করুন।

পোষ্টটি রেডি করতে আপনার খুব পরিশ্রম করতে হয়েছে। এজন্য আপনার পোষ্ট আমি খুব মন দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করি। এবং লিখেন নি সেগুলোও বুঝতে চেষ্টা করি।

মেধাবীরা বিদেশ চলে যায়। যুগ যুগ ধরে এমনটাই দেখছি।

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



রাজীব ভাই, শুভেচ্ছা নেবেন। আসলে প্রতিটি দেশের শিক্ষানীতি সরকারই করে; এর তদারকি, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার সিলেবাস, পাঠদান পদ্ধতি, পরীক্ষা নেওয়া ও সার্টিফিকেট দেওয়া ইত্যাদি কাজগুলো সরকারের হাতে। এর জন্য এর ব্যর্থতার দায়ভার ও সবার আগে সরকারকে নিতে হয়। আপনি, আমি চাইলেও এ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে পারবো না; সরকারের শিক্ষা পদ্ধতি আমরা মানতে বাধ্য।

পোস্টটি রেডি করতে অনেক দিন লেগেছে; অনেক সময় নিয়ে ভাবনা চিন্তা করে লেখেছি, যাতে লেখাটি মান সম্পন্ন হয়; পাঠকদের যাতে অযথা সময় নষ্ট না হয় সেদিকটিও খেয়াল ছিল; আমি লেখার জন্য লেখি না; এজন্য ভাল লেখতে অনেক পড়াশুনা করতে হয়; আশীর্বাদ করবেন, প্রিয় রাজীব ভাই।

৬| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৪০

করুণাধারা বলেছেন: অনেক বড় পোস্ট। যেটুকু পড়েছি, ভালো লেগেছে। পরে পুরোটা পড়ে মন্তব্য করবো

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



দিদি, শুভেচ্ছা রইলো। লেখাটি আপনার চোখে পড়েছে জেনে ভাল লাগলো। সময় করে পুরো লেখাটি পড়ে মতামত জানালে খুশি হব; আশীর্বাদ রইলো।

৭| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১২

গড়ল বলেছেন: মেধা ও শিক্ষা দুইটা আলাদা জিনিষ, আমরা আসলে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষ যাচাই করি, মেধা না। আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি হল শুধুমাত্র শিক্ষাদান করা, মেধার বিকাশ করা না। আর পড়ালেখা দিয়ে শুধুই শিক্ষা অর্জন করা যায় কিন্তু মেধার বিকাশ করা যায় না। আমি জাপানের শিক্ষা ব্যাবস্থা নিয়ে কিছু পোষ্ট দিয়েছিলাম জাস্ট বুঝানোর জন্য যে তারা তাদের শিশুদের কিভাবে গড়ে তুলে এবং তারা অবশ্যই মেধাবী হিসাবেই গড়ে উঠে। আর তাই আমরা নতুন কিছু সৃষ্টি করার চেষ্টা না করে কারণ সেই মেধা যেহেতু আমাদের নাই, তাদেরকে হুবহুব কেন অণুকরণ করছি না। তাতে অন্তত কিছু হলেও কাজ হতে পারে। মানে আমার উদ্দেশ্য ছিল সমস্যা সমাধান করার লক্ষে করণীয় সম্বন্ধে কিছু ধারণা দেওয়া।

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:০৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



"মেধা ও শিক্ষা দুইটা আলাদা জিনিষ, আমরা আসলে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষ যাচাই করি, মেধা না। আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি হল শুধুমাত্র শিক্ষাদান করা, মেধার বিকাশ করা না। আর পড়ালেখা দিয়ে শুধুই শিক্ষা অর্জন করা যায় কিন্তু মেধার বিকাশ করা যায় না।"

দাদা, আপনি ঠিকই বলেছেন। শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো মেধা ও প্রতিভার বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করা; শিক্ষার মাধ্যমে পাঠ্য বই থেকে জ্ঞান অর্জন করে অন্যান্য উৎস/অপাঠ্য বই থেকে শিক্ষা নেওয়া; এতে মেধা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটে। শুধু পাঠ্য বই তোতা পাখির মতো মুখস্থ করলে এ+/সার্টিফিকেট অর্জিত হয় মাত্র।

কমেন্টে ভাল লাগা রইলো, দাদা। আশীর্বাদ রইলো।

৮| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:০৫

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: বাংলাদেশের মত গরীব দেশে বাংলা , বাংলা করা সাজে না। আমাদের ইংরেজী শিখতেই হবে। কারণ, আমাদের সবাই দেশে চাকুরি পাবে না। আর বাইরে গেলে ইংরেজীর অবশ্যই দরকার। তবে স্কুল, কলেজে বিষয় আরো কমাতে হবে। ডিগ্রীতে গিয়ে হৈমন্তীর চরিত্র শেখার কোন মানে হয় না। গ্রামে গঞ্জে অনার্স, মাস্টার্স বন্ধ করতে হবে। বেশী বেশী মাস্টার্স পাস করার কারণে কেউ আর ছোট কাজ করতে চায় না। এত শিক্ষিত আর মেধাবী লইয়া আমরা কী করিব?

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:৪০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:




"বাংলাদেশের মত গরীব দেশে বাংলা , বাংলা করা সাজে না। আমাদের ইংরেজী শিখতেই হবে। কারণ, আমাদের সবাই দেশে চাকুরি পাবে না। আর বাইরে গেলে ইংরেজীর অবশ্যই দরকার। তবে স্কুল, কলেজে বিষয় আরো কমাতে হবে।"

আমি আপনার সাথে সহমত পোষণ করছি, তবে ইংরেজি সাহিত্যে বা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ার আগে উদ্দেশ্য হবে জ্ঞান অর্জন করা; শুধু মাত্র একটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা যাতে না হয়। ইংরেজি শিখতে কোচিং সেন্টার; ইন্টারনেট যথেষ্ট। এখন এগুলো যত না জ্ঞান অর্জন তার চেয়ে বেশি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাবা-মায়ের প্যাশন। পাশাপাশি, বাধ্যতামূলক বাংলাকে গুরুত্ব দিয়ে পড়তে ও লেখতে শেখাটা আবশ্যক। পৃথিবীর কোন সভ্য জাতি মাতৃভাষাকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে বিদেশী ভাষা শেখে না; তা যতই গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হোক না কেন।

"গ্রামে গঞ্জে অনার্স, মাস্টার্স বন্ধ করতে হবে। বেশী বেশী মাস্টার্স পাস করার কারণে কেউ আর ছোট কাজ করতে চায় না। এত শিক্ষিত আর মেধাবী লইয়া আমরা কী করিব?"

খুব দরকারী একটি বিষয়ে বলেছেন; উচ্চশিক্ষা হবে গবেষণাধর্মী। এতে ছাত্রদের মেধা ও চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটবে; উদ্ভাবনী শক্তি বাড়বে; আমার মনে সার্টিফিকেট সর্বস্ব মাস্টারস্ কোর্সগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ।

শুভ রাত্রি ।

৯| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:২১

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: অসাধারন প্রবন্ধ।
জাতির জন্য দিক নির্দেশনা মূলক।
সমস্যা হলো যাদের নির্দেশনা নেবার কথা তারাই বুঝতে চায়না।

বিট্রিশের কলোনিয়াল ক্লার্ক কনসেপ্ট থেকে বেরিয়ে আসা অতি জরুরী।
শিক্ষা কমিশনের নামে গালভরা বুলি আর বিবৃতিই সার। অথচ এই ছোট্ট প্রবন্ধটাই হতে পারে
শিক্ষানীতি প্রণয়নের বেসিক থিম। কে বোঝাবে কারে?
অথচ বোঝাটা খুবই জরুরী। কারণ আজকে বুঝলে তার ফল পেতেও আমাদের ২-৩ প্রজন্ম লেগে যাবে।

প্রিয়তে রেখে দিলাম।

+++

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:৫৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:


ধন্যবাদ, বিদ্রোহী ভৃগু ভাই।
"বিট্রিশের কলোনিয়াল ক্লার্ক কনসেপ্ট থেকে বেরিয়ে আসা অতি জরুরী। শিক্ষা কমিশনের নামে গালভরা বুলি আর বিবৃতিই সার। অথচ এই ছোট্ট প্রবন্ধটাই হতে পারে শিক্ষানীতি প্রণয়নের বেসিক থিম। কে বোঝাবে কারে? অথচ বোঝাটা খুবই জরুরী। কারণ আজকে বুঝলে তার ফল পেতেও আমাদের ২-৩ প্রজন্ম লেগে যাবে।"

আমরা শত শত বছর বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর অধীনস্থ গোলাম ছিলাম; সর্বশেষ উপনিবেশিক শাসন ছিল ব্রিটিশদের। আমাদের পূর্বপূরুষরা খুব আগ্রহ নিয়ে তখন ইংরেজি শিখতেন, সাদা চামড়ার শাসকদের চাটুকারীতা, কেরানিগিরি আর পিওনের চাকরি করার জন্য; এজন্য তাদেরকে দোষ দিয়েও লাভ নেই; তখন বাঙালিদের এগুলোই ছিল সর্বোচ্চ পদ পদবী X(!!! তখন "গুড মর্নিং স্যার" বলতে বলতে মুখে ফেনা উঠতো X(; এখন তো সে দিন নেই তারপরও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গোলামী মানসিকতা এখনো রয়ে গেছে।

শুভ রাত্রি।

১০| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:৪৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: গুরু,
রাত জেগে বসে থেকে পিঠ ব্যাথা করে বিশাল চ্যাপ্টার লিখেছেন সবই বুঝলাম - কিন্তু সারা রাত রামায়ণ গল্পের পর বলছি “সীতা কার বাপ” আমার আমাদের তো সার্টিফিকেটই লাগবে, তাও জিপিএ পাইপ আর তার ব্যাবস্থা করবেন দেশের [email protected]@R SIRS কোচিং ! এখন নামের ভেতর @ বর্ণ তাও একটা না তিনি দুই দুইটা @ নিয়ে বসে আছেন, এখন কেনো আমরা তা জানি না, আপনি একটা ব্যাক্ষা দিবেন আশা করি । এই @ কোচিং বন্ধ না হলে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে ফাঁসী লেগে যাবে, আার এত্তো এত্তো জিপিএ পাইপ দিয়ে বাংলাদেশ কি করবে - তা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অবস্যেই খুশীর হুমকি !!!

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১:১৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



"কিন্তু সারা রাত রামায়ণ গল্পের পর বলছি “সীতা কার বাপ” আমার আমাদের তো সার্টিফিকেটই লাগবে, তাও জিপিএ পাইপ আর তার ব্যাবস্থা করবেন দেশের [email protected]@R SIRS কোচিং"............

গুরু, কি আর বলবো বলুন? মানুষ গড়ার কারিগররা তো :(...গু...রু...জ...ন...:( তিনাদের বিষয়ে বেয়াদপি করা মানায় না; তারপরও বলবো, এর জন্য দায়ী দেশের সরকার এবং তাদের মাথা মোটা বুদ্ধিজীবি সমাজ; যাদের পরামর্শে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ তলানিতে গিয়ে টেকেছে; এত্তো এত্তো এ+ পেলাস দিয়ে জাতি করিবে; ইহাকে মাথায় রাখিলে উকুনে খেয়ে ফেলবে; পায়ে রাখিলে অমর্যাদা হবে; তার চেয়ে বরং এই গরমে শরবত বানিয়ে গিলে ফেলাটাই উত্তম।

একটি জাতির মাঝে বেশিরভাগ মানুষ কম বোধসম্পন্ন হলে; সেখানের পাবলিক শিক্ষা ফেনটাসিতে ভোগে; গার্ডিয়ানরা ভাল শিক্ষা আর ভাল স্কুল বলতে বুঝেন, যে স্কুলে বেতন বেশি; চান্স পেতে অনেক খরছ হয়; পয়সা ওয়ালাদের ছেলে মেয়েরা পড়ে; টিচারের বাসায় বাসায় দিনকে রাত করে রকেটের গতিতে সারাদিন ছুটতে হয় ইহাই ভাল ইসকুল X(

একটা উদাহরণ দেই, হঠাৎ করে কেউ বড় লোক হলে দেখবেন এমন দামী কিছু পোষাক পরবে, যা তার সাথে মানায় না; তবে তিনি তা বুঝেন না। আর মহিলারা হঠাৎ কাঁচা পয়সার মালিক হলে হাই হিল পরে শপিং করতে যান!!!

শুভ রাত্রি।

১১| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:২০

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় কাওসারভাই,

প্রথমে অল্প কিছু পড়ে কমেন্ট দিয়েছিলাম। এখন সবটা পড়লাম। এবার যে আর কমেন্ট দেওয়ার জায়গাই খুঁজে পাচ্ছিনা। এক কথায় অসাধারণ!! মনে হল উপরের হেড লাইনের উপর কোনও রিসার্চ পেপার পড়ছি। তবে এমন কমেন্টে আমার মত কম মেধার পড়ুয়ার বেশি বকাটা পোষ্টের ওজন কমাতে বাধ্য।

আপনি গুরুকুলের যথার্থ গুরুদেব। আমাদের একলব্য।

শুভকামনা গুরুদেবকে।

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১:৩১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



"তবে এমন কমেন্টে আমার মত কম মেধার পড়ুয়ার বেশি বকাটা পোষ্টের ওজন কমাতে বাধ্য।".......... বড় ভাই কী এমনিতেই বলি? যিনি জ্ঞানে গুনে এগিয়ে থাকেন; তিনিই তো গুরুজন, বড় ভাই। আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন ও বুঝেন বলেই আমার বিশ্বাস।

নতুন প্রজন্মকে শেখার মানসিকতা থেকে দূরে ঠেলে দেয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ও মুল্যায়ন ব্যবস্থার দায়ও কম নয়। গাঠনিক মূল্যায়নকে দূরে ঠেলে রেখে প্রান্তিক আর আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নকেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পিইসি আর জেএসসি পরীক্ষা আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের সার্টিফিকেট সর্বস্বতার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। অথচ এই স্তরে গাঠনিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিখনকে দৃঢ় করাটাই জরুরি ছিল।

শিশুদের মূল্যায়নে সকল আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করে অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বেছে নেয়া দরকার। শিশুদের এমনভাবে মূল্যায়ন করতে হবে যেন তারা বুঝতে না পারে যে তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কারণ আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন শিশুদের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি করে, তাদের স্বাভাবিক শিখনের গতির ব্যাঘাত ঘটে। অথচ সেটাই করা হচ্ছে এখানে। শিশুদের পাস, গ্রেডিং, পার্সেন্টেজ শেখানো হচ্ছে। এই যে অন্যায্য প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে সেটা শিশুদের মানসিকভাবে অবসাদ্গ্রস্ত করছে। তারা সহাপাঠীদের বন্ধুর পরিবর্তে প্রতিযোগী ভাবতে উত্সাহিত হচ্ছে। সহযোগিতার পরিবর্তে স্বার্থপরতা আর আত্মভাবনায় বিভোর হচ্ছে।

শুভ রাত্রি।

১২| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:৩১

আখেনাটেন বলেছেন: সবটুকু পড়তে পারলাম না। যতটুকু পড়লাম বেশ ভালো লিখেছেন। তবে টপিক স্পেসিফিক করে অল্প করে লিখলে পড়ে শেষ করাটাও পাঠকের জন্য মনে হয় সুবিধা হয়। অবশ্য এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।

শিক্ষা নিয়ে আমাদের দেশে ভাবনার লোক অলৌকিকভাবে কমে গেছে। এটা একটা জাতির জন্য অশনি সংকেত। কবে পলিসি মেকারদের বোধোদয় হবে কে জানে?

*আর আপনার করা বায়োটেকনোলজি সম্পর্কিত প্রথম মন্তব্যের প্রতিউত্তরটা আবার একটু চেক করা উচিত মনে হয়। তথ্যে কিছু গণ্ডগোল আছে। মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োস্ট্যাটিসটিক এগুলো বায়োটেকের শাখা না। বরং বলতে পারেন বায়োকেমেস্ট্রির একটি শাখা/অংশ হচ্ছে বায়োটেক। আর বায়োটেকের শাখা/পার্ট বলতে মেডিকেল বায়োটেক, ই্ন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেক, এনভাইরনমেন্টাল বায়োটেক, এনিমেল ও প্লান্ট বায়োটেক ইত্যাদি।

শুভকামনা আপনার জন্য।

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ২:৩৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



আখেনাটেন ভাই, আপনি মনযোগ দিয়ে লেখাটি পড়েছেন জেনে ভাল লাগলো; আর কমেনট করার জন্য কৃতজ্ঞতা রইলো।

*আর আপনার করা বায়োটেকনোলজি সম্পর্কিত প্রথম মন্তব্যের প্রতিউত্তরটা আবার একটু চেক করা উচিত মনে হয়। তথ্যে কিছু গণ্ডগোল আছে। মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োস্ট্যাটিসটিক এগুলো বায়োটেকের শাখা না।"

আসলে এ বিষয়ে আমি খুব একটা জানি না; আপনাকে ধন্যবাদ ভুলটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য; আমি এ বিষয়ে আরেকটু পড়াশুনা করবো;

শুভ রাত্রি।

১৩| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:৩৪

ইমরান আশফাক বলেছেন: একমত, অনেকদিন ধরেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্হা নিয়ে আলোচনা চলছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। দলীয় লেজুড়বৃত্তি ছাড়া কোথাও কোন সুযোগ পাবেন না। যাদের দায়িত্ব এই ব্যবস্হার পরিবর্তনের তারা তা করবেন না। কেন করবেন? যেখানে তারা নিজেরাই এই ব্যবস্হার বেনিফিসিয়ারী বা সুবিধাভোগী।

আপাতত: নিয়ম করা উচিৎ কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের কোন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট বা কোচিং পড়াতে পারবেন না। এতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে। আর পড়াশুনার সিস্টেমটা আমূল পরিবর্তনের জন্য সমাজের প্রতিটা খাত থেকে গ্রহনযোগ্য প্রতিনিধিদের নিয়ে একটা কমিটি গঠন করে তাদের সুপারিশ নেয়া এবং আরও যাচাইবাছাই করে একটা সমন্বিত শিক্ষাপদ্ধতি গ্রহন করা। নির্দিষ্ট সময় অন্তর এই প্রদ্ধতিটির মূল্যায়ন করতে হবে, যুগের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্যে।

বিদ্যার্থীদের অন্তত: ৬০-৭০ ভাগকে কারিগরী লাইনে পাঠাতে হবে। ছাত্রদের হোমওয়ার্ক একদম কমিয়ে দিতে হবে। স্কুলঘরে পরিস্কার করানোর শিক্ষা দিতে হবে। স্কুলে খেলার মাঠের ব্যবস্হা থাকতে হবে এবং তাদের শাররিক শিক্ষা বা কসরৎ বাধ্যতামূলক করতে হবে। বইর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে।

ইংরেজী এমন ভাবে শিখাতে হবে যেন তারা ইংরেজীতে কথাবার্তা বলতে পারে, সকলকে ইংরেজী সাহিত্যে বূৎপত্তি অর্জন করতে দেয়ার দরকার নেই।

আর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষনা বাধ্যতামূলক করা উচিৎ। হয়তো শতকরা দশজন গবেষনায় সফল হবে কিন্তু ঐ দশজনকে খুজে বের করার জন্য বাকী নব্বইজনকেও সুযোগ দিতে হবে। আর প্রকৃত গবেষকরা যেন আয়-রোজগারের জন্য অন্য কিছু চিন্তা করতে না পারে সে জন্যে তাদের উপযুক্ত পরিতোষকের ব্যবস্হা করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলিকে সরকারের উপর নির্ভর না করে নিজেস্ব উদ্যোগেই আয়-রোজগারের ব্যবস্হা করতে হবে, বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে। নামমাত্র টিউশন ফি নিয়ে বৎসরের পর বৎসর আদুভাইগুলিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পালন করার কোন দরকার নেই।

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ২:৫৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



শিক্ষা ও গবেষণাখাতে সর্বনিম্ন ব্যয় করে কেবল বাংলাদেশই। এ খাতে মোট জাতীয় আয়ের দশমিক এক শতাংশও বরাদ্দ থাকে না। বিশ্বের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি গবেষণাকে প্রাধান্য দান করলেও আমাদের দেশে গবেষণাখাত সবচাইতে অবহেলিত। ইউজিসি’র ২০১৬ সনের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, দেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি ১৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার জন্য এক টাকাও বরাদ্দ রাখে নাই। এর মধ্যে সরকারি ১০টি আর বেসরকারি ৩১টি। আর নামেমাত্র বরাদ্দ রাখা হইয়াছে ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মোট ১৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৮১টিতে গবেষণা খাতের বরাদ্দ একবারেই নগণ্য। একসময় মৌলিক গবেষণায় নেতৃত্বদান করিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। গবেষণায় অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও মিলিয়াছে পুরাতন কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেই ঐতিহ্য ভুলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এখন কেবল ডিগ্রি প্রদানের কারখানায় পরিণত হয়েছে।

অপ্রিয় হইলেও সত্য যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিনে দিনে অজ্ঞানতার ‘ভাগাড়ে’ পরিণত হচ্ছে। শিক্ষকদের অনেকেই এখন সংকীর্ণ দলীয় লেজুড়বৃত্তি, টেলিভিশনের টক-শোতে ফাঁকা জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতাবাজি আর বিদেশি কনসালটেন্সি কিংবা এনজিওগুলিতে টাকার ধান্দায় ব্যস্ত সময় ব্যয় করছেন। কিন্তু গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াইলেই কি তা যথাযথভাবে ব্যয় হবে, মান বাড়বে? সন্দেহ থেকে যায় যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যত্সামান্য গবেষণা বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় করতে পারে না। বস্তুত, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ গবেষণাবান্ধব নয়। শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রকাশনা গুরুত্ব না পাওয়ার কারণে শিক্ষকরা গবেষণায় উৎসাহিত হচ্ছে না। একজন শিক্ষক যদি মানসম্মত গবেষণা ও প্রকাশনা ছাড়াই নামমাত্র প্রকাশনা ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিবেচনায় অধ্যাপক হয়ে যান, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই গবেষণা কার্যক্রমে মনোযোগী হবেন না। তদুপরি রয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। একটি গবেষণা প্রস্তাব জমাদান হতে গবেষণা প্রতিবেদন পেশ করা পর্যন্ত অর্থ বরাদ্দ ও অনুমোদন পেতে যে পরিমাণ নাকানিচুবানি খেতে হয় তাতে অনেকেই গবেষণায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন এবং উন্নতির সহজ রাস্তায় হাঁটা শুরু করেন। তাই, একদিকে গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধি যেমন জরুরি, তেমনি এমন এক গবেষণাবান্ধব উচ্চশিক্ষা কাঠামো ও পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন যাতে শিক্ষকেরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গবেষণায় মনোযোগী হতে পারেন।

গড়ল ভাই, লেখাটি পড়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
শুভ রাত্রি।

১৪| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:০৩

চঞ্চল হরিণী বলেছেন: অনেক পরিশ্রম করে খুব ভালো একটি বিশ্লেষণী পোস্ট তৈরি করেছেন। অনেক বছর ধরে বিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অসঙ্গতি নিয়ে বিভিন্ন সময় সুধীজনরা যেসব বিষোদগার করেছেন, আমরা নিজেরা বন্ধুমহলে যেসব আলোচনা করেছি, নিজেদের উপলব্ধিতে যেসব এসেছে সবকিছু বিস্তৃতভাবে এই পোস্টে উঠে এসেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ। ধন্যবাদ দিলে কম হয়ে যায়। প্রাণঢালা শুভকামনা আপনার জন্য। এখন কোন প্রক্রিয়ায় সমাধান হবে এবং কে বা কারা সমাধান করবে এদুটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৩:০০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



চঞ্চল হরিণী আপু, লেখাটি পড়ায় কৃতজ্ঞতা রইলো। আসলে আমি দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত; এজন্য মন থেকে খুব অস্বস্তি অনুভব করছিলাম; তাই লেখতে বসা; আমি দেশে বিদেশে পড়াশুনার অভিজ্ঞতা আর পড়ানোর সামান্য অভিজ্ঞতার আলোকে আর্টিকেলটি লেখেছি; এজন্য সময়ের পাশাপাশি অনেক ভাবনা চিন্তা করতে হয়েছে; আশীর্বাদ রইলো আপনার জন্য।

শুভ রাত্রি ।

১৫| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৩:৪১

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: আমার জ্ঞ্যানের বাহিরে।। তবে এটা ঠিক যে, এমন তথ্যপূর্ন লিখতে থাকলে শিখরে পৌছাবেনই।। সেই শুভেচ্ছা রইলো।।

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ ভোর ৪:১৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, ভাই। এতো ব্যস্থতার মাঝেও আমার লেখাটি পড়েছেন; এজন্য কৃতজ্ঞতা রইলো। এখন মানুষের ব্যস্ততা অনেক বেশি, বিনোদনের ক্ষেত্র অনেক। এজন্য মান সম্পন্ন লেখা না হলে ভাল মানের পাঠকরা পড়বে না; এছাড়া একজন লেখক হিসাবে আমার দায়বদ্ধতা হলো পাঠকের সন্তুষ্টি অর্জন করা; বিশ্বাসের মর্যাদা রাখা। এজন্য আমি প্রতিটি লেখায় আগের লেখাকে ছাড়িয়ে যেতে চাই। চাই বিষয়ের আরো আরো সমৃদ্ধ পোস্ট লেখতে। যতদিন লেখবো আমার এ প্রচেষ্টা থাকবে।

শুভ রাত্রি।

১৬| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৩:৫৪

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: প্রথমেই আমি ভুটা ভাঙ্গিয়ে দেই।। আমি ভাই,।।

একজন লেখক হিসাবে আমার দায়বদ্ধতা হলো পাঠকের সন্তুষ্টি অর্জন করা; বিশ্বাসের মর্যাদা রাখা। খুব ভাল লাগা একটি কথা।। কয়জন বোঝে?? এখানে ফলোয়ার আর পাঠক দিয়েই বিচার হয়।।

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ ভোর ৪:১৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



স্যরি, ভাই মিসটেক হয়ে গেছে। পরিচয় হয়নি তাই আমিও একটু দ্বিধায় ছিলাম। আমি আসলে চাই না পাঠকদের ঠকাতে; উনাদের মূল্যবান সময়টা নষ্ট করতে; হয়তো পাঠকরা আমাকে বিশ্বাস করেন বলেই আমার লম্বা লেখাগুলো পড়েন; আমাকে উৎসাহ দেন। এজন্য আমার উচিৎ লেখার মান প্রতিনিয়ত ভাল করার চেষ্টা করা; আমি নিষ্টার সাথে তাই করছি মাত্র।

আশীর্বাদ করবেন ।

১৭| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ ভোর ৪:১৯

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: আমি কি তাই কামনা করি নি, শুধু পরচয় ছাড়া??

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ ভোর ৪:২৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



একজন লেখকের পরিচয় তার লেখার কোয়ালিটিতে; এজন্য লেখকরা বেশিরভাগ সময় পর্দার আড়ালে থাকলেও শুধু তাদের লেখা পড়ে; দিকনির্দেশনা পড়ে; সাহিত্য ও গবেষণা পেপার গুলো পড়েই আমরা সম্মান করি। নাম মানুষকে বড় করে না; মানুষ নামকে বড় করে। লেখকদের বেলায় এ কথাগুলো শতভাগ সত্য।

"আমি কি তাই কামনা করিনি, শুধু পরিচয় ছাড়ায়"....... আপনি তাই করেছেন, এজন্য কৃতজ্ঞতা রইলো ভাই।

১৮| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:৫৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: গুরু,
আজকে থেকে ৩০ বছর আগে থেকে শুরু হয়েছিলো কৃষিবিমুখ কার্যক্রম সেই কার্যক্রমের একটি হচ্ছে আকাশ টিভি সংস্কৃতি ! বর্তমানে চাল ডাল গম পেয়াজ রশুন আদা সহ গরু মহিষ ও সবই দৈনন্দিন বাজার আমদানী নির্ভর, বর্তমানে যেই কার্যক্রম চলছে তার নমুনা আগামী বিশ-ত্রিশ বছর পর পাওয়া যাবে শিক্ষাবিমুখ একটা জাতী !!! ফলাফল: - মাদকাশক্ত, ইন্টারনেট আশক্ত, আকাশ টিভি আশক্ত সহ নোংরা রাজনীতি ও নানা ধরনের গোলোযোগ কাজে লিপ্ত জাতী !!!

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:৪৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



"আজকে থেকে ৩০ বছর আগে থেকে শুরু হয়েছিলো কৃষিবিমুখ কার্যক্রম সেই কার্যক্রমের একটি হচ্ছে আকাশ টিভি সংস্কৃতি ! বর্তমানে চাল ডাল গম পেয়াজ রশুন আদা সহ গরু মহিষ ও সবই দৈনন্দিন বাজার আমদানী নির্ভর, বর্তমানে যেই কার্যক্রম চলছে তার নমুনা আগামী বিশ-ত্রিশ বছর পর পাওয়া যাবে শিক্ষাবিমুখ একটা জাতী !!! ফলাফল: - মাদকাশক্ত, ইন্টারনেট আশক্ত, আকাশ টিভি আশক্ত সহ নোংরা রাজনীতি ও নানা ধরনের গোলোযোগ কাজে লিপ্ত জাতী" !!!

গুরু, আপনি দারুন একটি কথা বলেছেন; চাল, ডাল, গরু, মহিষ না হয় আমদানী করা গেলে, কিন্তু মেধা কেমনে আমদানী হবে??? আমরা তো মেধা ও মেধাবীদের এমনিতেই সহ্য করতে পারি না; এজন্য হাতে গোনা যে অল্প সংখ্যক মেধাবী আছেন তারা বিভিন্ন দেশে গিয়ে সিটিজেনশিপ নিয়ে সে দেশের মেধার যোগান দেন; আর যারা দেশে থাকেন এদের কারো নামের সাথে সুদখোর, কারো নামের সাথে নাস্তিক ট্যাগ লাগিয়ে শেষ করে দেই X(; যে দেশে মেধাবীর কদর নেই সে দেশে মেধাবীরা জন্ম নেয় না।

দেশের মেধা পাচার অনেকটা দুধ বিক্রি করে গাঁজা কিনে খাওয়ার মতো।

১৯| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:৪১

লায়নহার্ট বলেছেন: {সার্টিফিকেট নয়; প্রয়োজন মেধা ও প্রতিভার সঠিক মূল্যায়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন.......তো মূল্যায়ন ও পরিবর্তনটি কিভাবে করবেন? একটা হালকা সমালোচনা করি। আপনার লেখাটি যারা পুরোটা পড়বে তাদের হতাশ হতে হবে। সমস্যার আলোচনা নিরপেক্ষভাবে করলে যৌক্তিক আশার আলো দেখাতে হয়। আর আপনি যাদের সাথে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার তুলনা করছেন তাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী আমাদের ভৌগলিক অবস্থানটিও জানে না। মোটা দাগে জানে, একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে}

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:০৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, লায়ন হার্ট ভাই। আমি এখানে বিভিন্ন দেশের প্রচলিত শিক্ষার কাঠামো, সরকারের শিক্ষানীতি, সিলেবাস ও পাঠদান ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি; তারা কেন সফল হচ্ছে আর আমরা কেন পারছি না তা তুলে ধরেছি; আপনি কি জানেন, এসব উন্নত দেশগুলোতে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শিক্ষা ফ্রি তে দেওয়া হয়; অপরদিকে আমরা তৃতীয় বিশ্বের দেশ হলেও শিক্ষা খাতে আমাদের গার্ডিয়ানদের প্রতি বছর প্রচুর টাকা খরছ করতে হয়; এজন্য ধনী দেশগুলোর চেয়ে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যায় অনেক বেশি; কিন্তু এই ব্যয় অনুপাতে দেশের ছেলে মেয়েদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটছে না। এটাই হচ্ছে মূল বিষয়।

আসলে দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ধনী দেশের তকমা লাগানোর প্রয়োজন নেই; তৃতীয় বিশ্বের ট্যাগ লাগিয়েও তা করা সম্ভব; আমি তাই বলার চেষ্টা করেছি এখানে। প্রয়োজন কিছু শিক্ষার গুণগত মানের পরিবর্তন; এতে গার্ডিয়ানদের খরছ কমবে; পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়বে।।

২০| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:১১

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
আপনার ভাবনা, প্রশ্নগুলো আমার মাথায়ও ঘুরপাক খাচ্ছিলো বহুদিন যাবত।
আমিতো আপনার মত এত গুছিয়ে ডিটেইল লিখতে পারিনা ...

দেশ একটা, ভাষা একই, এরপরও শিক্ষার মাধ্যম কতগুলো।

১। প্রচলিত বাংলা মাধ্যম
২। ইংরেজি মাধ্যম
৩। বাংলা মাধ্যম - ইংলিশ ভার্শন (২০০৪ এ প্রবর্তিত)
৪। ক্যাডেট কলেজ - মিলিটারি ইংলিশ মাধ্যম
৫। মাদ্রাসা - ফার্সি মাধ্যম
৬। আলিয়া মাদ্রাসা - বাংলা মাধ্যম (এম্পিও। সরকারি টেক্সটবুক ও সিলেবাস)
৭। কওমি মাদ্রাসা, ফার্সি-উর্দু মাধ্যম
৮। কওমি মাদ্রাসা হাফিজিয়া আরবি-উর্দু মাধ্যম
৯। কওমি মাদ্রাসা, দেওবন্ধি/দারুল উলুম, ফার্সি-উর্দু -আরবি-বাংলা মাধ্যম।
১০ ক্যাডেট মাদ্রাসা, ইংরেজি-বাংলা মাধ্যম।


শিক্ষার মাধ্যম কতগুলো উদ্ভট উটের পিঠে?

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:৩৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



হাসান ভাই, শুভেচ্ছা রইলো। আমার ছোটবেলার খুব ঘনিষ্ট এক বন্ধু তিন বছর আগে একটি ছেলে সন্তানের বাবা হয়েছে, তার সাথে দেখা হলে শুধু ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে, পড়ালেখার বিষয়াদি নিয়ে কথা বলে; ভেতরে ভেতরে খুব উদ্বিঘ্ন দেখায় তাকে। সে একটি কলেজের প্রভাষক, তার স্ত্রী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। যদিও ছেলেটির স্কুলে ভর্তির বয়স এখনো দুই-তিন বছর বাকি! বড় হলে ছেলেকে কোথায় ভর্তি করবে; স্কুলে না মাদ্রাসায়? মাদ্রাসায় হলে কওমি না আলিয়ায়? স্কুলে হলে বাংলা না ইংলিশ মিডিয়ামে? বাংলায় হলে সরকারী প্রাইমারিতে না প্রাইভেট স্কুলে? ইংলিশ মিডিয়াম হলে বৃটিশ কারিকুলাম না বাংলাদেশী সিলেবাসে ইংলিশ মিডিয়ামে? নাকি ক্যাডেট কলেজে? আরো কত কী সিস্টেম এ বঙ্গে আছে!

আসলে প্রশ্নগুলো কোন একজন অভিবাবকের নয়, এটা পুরো দেশেরই সাম্যক চিত্র। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সঠিক গাইডলাইন না থাকায় দেশের অভিবাবকরা কমিবেশি এমন সমস্যার মোকাবেলা করছেন; ভয় পাচ্ছেন বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিনিয়ত। ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার সঠিক মাধ্যম কোনটি তা নিয়ে সন্দিহান সবাই।

বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছে, তা বহু বছর আগে। এজন্য সরকারের তরফ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে কোন ছেলে-মেয়ে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়, বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের উদাসীনতা এবং সরকারি স্কুলগুলোর নিম্নমান ও অপ্রতুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য কিন্ডার গার্ডেন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। কোন কোন স্কুলে তো এসব শিশুদের রীতিমত ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে, লিখিত পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি করা হয়। স্বাধীনতার এত বছর পরও শিশুদের জন্য সমমান ও একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা আজও আমরা চালু করতে পারলাম না।

এজন্য ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদের মনে মানুষের শ্রেণী বৈষম্যের বিষ রোপিত হয়। যারা দামী স্কুলে পড়ে তাদের কাছে কমদামী স্কুলের বাচ্চাদের 'ছোটলোক' মনে হয়। যারা দামী গাড়ি নিয়ে স্কুলে যায় তাদের কাছে হেঁটে আসা সহপাঠীকে 'কামলা শ্রেণীর' মনে হয়। তবে এ শ্রেণী বৈষম্যটা শুরু হয় পরিবার থেকে। বাচ্চাটি ঘরের কাজের মেয়েটার সাথে বাবা-মায়ের ইতরামী দেখে এই মেয়েটিকে মানুষ নয় 'ভিন্ন প্রজাতির' ভাবতে শেখে। নিজেও পিচ্চি বয়স থেকে তার চেয়ে বয়সে অনেক বড় মেয়েটিকে গালি দেয়, তুই-তুকারী করে। এখানেই 'অমানুষ' হওয়ার প্রাথমিক শিক্ষাটা হাতে কলমে পায় সে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এগুলো ডালপালা মেলে বিশাল আকার ধারণ করে।

স্বাধীনতার এতো বছর পরও আমরা শিশুদের জন্য একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে পারলাম না। হাসান ভাই, শিক্ষা ব্যবস্থার স্তর আর বৈষম্য দেশের মানুষদের মানবিক ও বোধের জায়গায় বিভক্তি নিয়ে আসছে; ছোট বেলা থেকেই একটি ধনী পরিবারের ছেলে মেয়ের কাছে শ্রেণী বৈষম্যের বীজ বপন শুরু হয়; এরা সমাজের নীচু তলার বাচ্চাদের সাথে মেশার সুযোগ পায় না; অনেক সময় বারণ করা হয় পরিবার থেকে। ফলাফল স্বরুপ বড় হয়ে সেই ছেলেটি এরোগেন্ট ও সেলফিশ হয়। আর ধনী ও দরিদ্রের মাঝে মোটাদাগে পার্থক্য ফুটে উঠে।

আপনি যথার্থই বলেছেন, "শিক্ষার মাধ্যম কতগুলো উদ্ভট উটের পিঠে"?

২১| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:১৯

লায়নহার্ট বলেছেন: {এই সরকারের বিনা মূল্যে বই বিতরণ করাটা সত্যিকার অর্থেই একটা ভালো পদক্ষেপ ছিলো। স্বীকার করতে হবে}

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:৪০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



"সরকারের বিনা মূল্যে বই বিতরণ করাটা সত্যিকার অর্থেই একটা ভালো পদক্ষেপ ছিলো।" ......... এটা নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ। এজন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই।

২২| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:২২

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
আপনার পোষ্টে কমেন্টে মেধা নিয়ে অনেক লেখা .. মন্তব্য থাকলেও কোথাও বহুল আলোচিত সেই 'কোটা' শব্দটি নেই।
ব্লগারদের মন-মানস থেকে 'কোটাভুত' শেষ পর্যন্ত দূর করতে পারলাম নাকি?
ধন্যবাদ।

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:৩৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



আপনি তো দেখি কমেন্টগুলো মনযোগ দিয়ে পড়েছেন!!! আসলে এ বিষয়টি মনে হয় রাজনীতিকরণ করা হয়েছে; এজন্য পাবলিক ও বিষয়টি নিয়ে দোয়াশার মধ্যে আছে। সরকারের উচিৎ হবে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এর একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধান করতে; না হলে অন্য পক্ষগুলো এর সুযোগ নেবে।

২৩| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:২৯

ধ্রুবক আলো বলেছেন: খুব সুন্দর সময়োপোযোগী পোষ্ট।

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, ধ্রুবক আলো ভাই। আসলে শিক্ষা নিয়ে অভিবাবকদের মধ্যে এক ধরণের অস্তিরতা দেখা যাচ্ছে; সঠিক আর বেটিক শিক্ষা বুজার মতো গার্ডিয়ান এদেশে খুবই কম; আর এর পালে হাওয়া লেগেছে সরকারের উদাসীনতা ও অসম শিক্ষানীতির কারণে।

২৪| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৭

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন অপরিহার্য। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা স্রেফ সার্টিফিকেটওয়ালা শিক্ষিত তৈরি করা। যাদের বেশিরভাগেরই কিছু করার ক্ষমতা থাকবে না।
২০০৯ এর ঘটনা মনে পড়ে গেলো। তখন সম্ভবত সবেমাত্র সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয়েছে। আমার জেএসসি পরীক্ষার্থী ছোট ভাইটাকে এলাকার এক বড়ভাই গণিত পড়াতেন। স্কুলের সাময়িক পরীক্ষায় গণিতে ০০ পেয়েছে শুনে ঐ বড়ভাই আর আমি স্কুলে গেলাম। দেখি ৪৮ জনের মধ্যে সর্বোত্তম মার্ক ১২। এবং অনেক সমস্যার সমাধান নিয়ে স্বয়ং গণিতের স্যারও দ্বিধান্বিত।

পরে শুনলাম, এই সমস্যা প্রায় সাবজেক্টে সব শিক্ষকদের।

উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপশনাল সাবজেক্ট হিসেবে কম্পিউটার, উচ্চতরগণিত, কৃষিশিক্ষা আরো কি কি যেনো আছে। কম্পিউটার আর কৃষিশিক্ষাটা যদি ঠিকমতো আয়ত্ত করতে পারতো তাহলেও দেশের বেকারত্ব কিছুটা কমতো।

গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয় নিয়ে লিখার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাই।

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:৫৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



সৃজনশীল পদ্ধতি প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের নোটবই, গাইড বই, গৃহশিক্ষকতা ও কোচিং নির্ভরতা কমানো ছিল মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু আজ বাস্তবে আমরা দেখছি, নোটবই, গাইড বই লুপ্ত তো হয়ইনি; বরং যে নোটবই ছিল ২৫ ফর্মার, এখন তা হয়েছে ৫০ ফর্মার। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে কোচিং সেন্টার। আর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে গৃহশিক্ষকের রুটিন হয়েছে ক্লাস রুটিনের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এর কারণ অল্প কথায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

তবে সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, এ পর্যন্ত এই পদ্ধতির মূল চেতনাটি শিক্ষার্থীদের হৃদয় স্পর্শ করতে পারেনি। না পারার দায় কেবল এই পদ্ধতির নয়, এ দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক সমাজের, শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের এবং অতি উৎসাহী, অতি যত্নবান অভিভাবকদেরও।

সৃজনশীল পরীক্ষাপদ্ধতিতে শিক্ষকের একটি গুরুদায়িত্ব সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা। যথার্থ সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ কাজ। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ শিক্ষকের সৃজনের সামর্থ্যের ঘাটতি আছে। অধিকাংশ শিক্ষকই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেন নোট ও গাইড বইয়ের ওপর নির্ভর করে। কেউ কেউ কম্পিউটার ফাইলে সংরক্ষিত আগের প্রশ্ন কিছুটা পরিমার্জন ও পরিশোধন করে দায়িত্ব সমাধা করেন। এ ছাড়া নোট ও গাইড যারা লেখেন, তাঁরাও তো সবাই যথার্থ সৃজনশীল নন। ফলে এ পদ্ধতি প্রবর্তনের পর থেকে গতানুগতিকতারই চর্বিতচর্বণ চলছে।

অতএব, যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃজনশীল পদ্ধতির প্রবর্তন হয়েছে, আজও তার সার্থক বাস্তবায়ন ঘটছে না। আমরা প্রতিবছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ও বোর্ডে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরীক্ষা নিচ্ছি, ফলাফলের উত্তরোত্তর সাফল্যে আত্মপ্রসাদও লাভ করছি। কিন্তু এক বিরাট শূন্যতা থেকে যাচ্ছে, সেটা কেউই আন্তরিকভাবে তলিয়ে দেখছি না।

এ বিষয়টি নিয়ে চমৎকার একটি কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে; সময় এসেছে এ বিষয়গুলো নিয়ে আবার নতুন করে চিন্তা ভাবনা করার। আশীর্বাদ রইলো জুনায়েদ ভাই।

২৫| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৩

চাঁদগাজী বলেছেন:


শিক্ষা নিয়ে সবাই লিখেন; বাংলাদেশ কেন শিক্ষায় পেছনে, সেটা বুঝা বেশ কঠিন বিষয়; মনে হয়, সেটাই লেখার মুল বিষয় হওয়ার দরকার ছিলো।

আপনি লন্ডনে কোন ডিগ্রি লেভেলে লেখাপড়া করেছেন; প্রাইমারী, হাইস্কুল, ব্যাচেলর, মাষ্টার্স, ডক্টোরেল?
আপনি লন্ডনের স্কুলে পড়ালেখার পদ্ধতির উপর আজগুবি কিছু কথা উল্লেখ করেছেন!

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:০৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



বাংলাদেশ কেন শিক্ষায় পিছিয়ে আছে তা আমার লেখাটি একটু মনযোগ দিয়ে পড়লে পাঠকরা বুঝতে পারবেন; এ বিষয়টি পুরো লেখায় ফুটে উঠেছে; হয়তো সরাসরি কারণগুলো বলা হয়নি, তারপরও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

আমি লন্ডনে কি নিয়ে বা কোন ক্লাসে পড়েছি, পড়িয়েছি এ বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক; এজন্য এর উত্তর দেওয়ার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই; আমি যা লেখেছি, নিজের জানা থেকেই লেখেছি; আপনার এ বিষয়ে জানা থাকলে লেখতে পারেন।

যাক আজকে আমার শিরোনামে কোন ভুল হয়নি, প্রথম লাইনেও সম্ভবত ভুল টুল নেই!! ভুলটা হয়েছে লন্ডনে পড়তে গিয়ে সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে "আজগুবি"লেখায়; যাক আমার লেখায় ভুলের সংখ্যাটা কমছে, এটাই আমার জন্য বিরাট পাওনা।

গত পরশু দেখলাম শিরোনামজনিত জটিলতায় আপনি একটি পোস্ট সরিয়ে নিয়েছেন!! আপনার তো লেখার শিরোনামে কোন ত্রুটি থাকার কথা না, ভুল হতেই পারে না!!!

২৬| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৩

চাঁদগাজী বলেছেন:


লেখক বলেছেন, "গত পরশু দেখলাম শিরোনামজনিত জটিলতায় আপনি একটি পোস্ট সরিয়ে নিয়েছেন!! আপনার তো লেখার শিরোনামে কোন ত্রুটি থাকার কথা না, ভুল হতেই পারে না!!! "

-আমার লেখার শিরোনামে ভুল ছিলো না, উহা শেখ সাহেবকে বিতর্কিত করছিলো, যথাসম্ভব; লেখার শিরোনাম শেখ সাহেবকে বিতর্কিত করলে, এবং তা ব্লগ পরিচালনায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের থেকে আপত্তি হিসেবে এলে, সেই আপত্তিকে সন্মান দেখানো উচিত বলে আমি মনে করেছি!

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



আমি আপনার লেখাটি পড়েছি; শিরোনামটা ছিল মূলত প্রতীকী অর্থে। তবে ব্লগ কর্তৃপক্ষ হয়তো ভুল বোঝাবুঝি যাতে না হয় সেজন্য কমেন্ট করেছিলেন; আপনার লেখার মূল বিষয়বস্তু আমার ভাল লেগেছে; আমার জানার পরিধিটাও বাড়িয়ে নিয়েছি; আসলে ভুল হয় বলেই আমরা শিখতে পারি, ভুল হয় বলেই আমরা তা শুধরিয়ে মানুষ হতে পারি; ভুল আছে বলেই পৃথিবীর মানুষগুলো বৈচিত্র্যময়¡¡

২৭| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


লেখক লিখেছেন, " আমি লন্ডনে কি নিয়ে বা কোন ক্লাসে পড়েছি, পড়িয়েছি এ বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক; এজন্য এর উত্তর দেওয়ার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই; আমি যা লেখেছি, নিজের জানা থেকেই লেখেছি; আপনার এ বিষয়ে জানা থাকলে লেখতে পারেন। "

-কোন বাংগালী যদি বলেন যে, উনি লন্ডনে পড়েছেন, একটা স্বাভাবিক প্রশ্ন আসে, আপনি কোন সাবজেক্টে, কি ডিগ্রি করেছেন? এটা মোটেই অপ্রাসংগিক নয়, কারণ আপনি নিজের থেকে উল্লেখ করেছেন যে, আপনি লন্ডনে পড়েছেন। আপনার পড়ালেখার বিষয়, ডিগ্রী যদি গোপনীয় রাখার মতো বিষয় হয়, গোপন রাখুন!

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



আসলে ভুল বুঝবেন না; আমি এ বিষয়টি ব্লগে বলতে চাইনি; এজন্য বলেছি। শুধু এটুকু বলবো, BBA, MBA, PGD, CA (Q) লন্ডনে করা; এছাড়া.........!! এ টুকু থাক।।

২৮| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৬

নীলপরি বলেছেন: খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লিখেছেন আর ঠিকই বলেছেন ।++

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই কবে তোতাকাহিনী লিখে গেছেন । আজও সিস্টেমটা সেই তোতাকাহিনীর মতোই আছে ।

শুভকামনা

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



"রাজা বলিলেন, ‘একবার পাখিটাকে আনো তো, দেখি।’

পাখি আসিল। সঙ্গে কোতোয়াল আসিল, পাইক আসিল, ঘোড়সওয়ার আসিল। রাজা পাখিটাকে টিপিলেন, সে হাঁ করিল না, হু করিল না। কেবল তার পেটের মধ্যে পুঁথির শুকনো পাতা খস্‌‍খস্ গজ্‌‍গজ্ করিতে লাগিল।

বাহিরে নববসন্তের দক্ষিণহাওয়ায় কিশলয়গুলি দীর্ঘনিশ্বাসে মুকুলিত বনের আকাশ আকুল করিয়া দিল।"

আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাটা মনে হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের তোতাকাহিনীকেও হার মানাবে। লেখাটি পড়ায়, কমেন্ট করায় এবং +++ য়ে কৃতজ্ঞতা রইলো।

২৯| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:০৪

বলেছেন:
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা- এক কথায় বলতে গেলে অন্ধের হাতি দর্শনের মতো
সংবিধান সবার জন্য শিক্ষা এবং সমশিক্ষার কথা বলেছে৷ কিন্তু আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্য দেখি৷ শিক্ষার ব্যাপক বাণিজ্যিকীকরণ লক্ষ্যণীয়৷ অবকাঠামো, আর্থিক এবং বিষয়গত বৈষম্য শিক্ষাকে সার্বজনীন করতে পারিনি

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে স্কুল-কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন আছে?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি মূলত সংসদ সদস্য, সরকার দলীয় রাজনীতিবিদ, প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে৷ বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ, ভর্তি এবং উন্নয়নমূলক কাজ তাদের নিয়ন্ত্রণেই হয়৷ ফলে এই কমিটির প্রধান বা সদস্য হওয়া লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:২১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



"সংবিধান সবার জন্য শিক্ষা এবং সমশিক্ষার কথা বলেছে৷ কিন্তু আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্য দেখি৷ শিক্ষার ব্যাপক বাণিজ্যিকীকরণ লক্ষ্যণীয়৷ অবকাঠামো, আর্থিক এবং বিষয়গত বৈষম্য শিক্ষাকে সার্বজনীন করতে পারিনি"..............

একমুখী শিক্ষানীতি করতে না পারা এবং সবার জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না হওয়াটাই এদেশের শিক্ষানীতির সবচেয়ে বড় দূর্বল দিক; যার পরিণতিতে শিক্ষা হয়ে গেছে পণ্য; শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা হলো সবচেয়ে লাভজনক ইনভেস্টমেন্ট ¡¡¡

"শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি মূলত সংসদ সদস্য, সরকার দলীয় রাজনীতিবিদ, প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে৷ বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ, ভর্তি এবং উন্নয়নমূলক কাজ তাদের নিয়ন্ত্রণেই হয়৷ ফলে এই কমিটির প্রধান বা সদস্য হওয়া লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে"........

একদম ঠিক বলেছেন; ইদানিং তো স্কুল কলেজের ম্যানেজিং কমিটির ইলেকশনে মেম্বার চেয়ারম্যানের মতো রীতিমত পোস্টারিং ও মাইকিং করে প্রচারণা চালানো হয়; আছে দলবল নিয়ে কেনবাস; এগুলোতে রাজনীতিও চলে পুরোদমে; এটা থামাতে হবে। ইলেকশনের দিন চলে মারামারি, হাতাহাতি এবং কারচুপি ¡¡¡

লেখাটি পড়ায় এবং মন্তব্যে কৃতজ্ঞতা রইলো প্রিয় " রহমান লতিফ" ভাই।

৩০| ২৭ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:১৩

বলেছেন: আপনার গভীর চিন্তা ও লেখার মান দ্বারা আপনার ডিগ্রী ওশিক্ষার স্তর সহজেই অনুমান করা যায়,

আপনি উচু মানের লেখক এবং দার্শনিক /'
অভিবাদন--hats off--salute
চলুক কলম

২৮ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:০২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



রহমান লতিফ ভাই, লজ্জায় ফেলে দিলেন!!! আমি একজন সাধারন পাঠক; আর একজন পাঠক হিসাবে অর্জিত জ্ঞান, কৌতুহল আর ভাবনা থেকেই কিছু একটা লেখার চেষ্টা করি। লেখক হওয়া যোগ্যতা বা জ্ঞান কোনটিই আমার নেই; আর দার্শনিক!!! এমন ভাবনা থাকাটাই আমার জন্য পাপ:(। আপনি আমাকে পছন্দ করেন বলেই এই কথাগুলো বলেছেন।

আশীর্বাদ করবেন, যাতে লেখায় এবং লেখা নিয়ে ভাবনায় বেশি সময় দিতে পারি; সত্যি সত্যি ভাল কিছু লেখতে পারি; পাঠকদের খুশি করতে পারি; শুভ কামনা রইলো, আপনার জন্য।

৩১| ২৮ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:১৬

বলেছেন: আপনার লিখনিতে গভীর চিন্তাধারার ছাপ আছে তাতে
কোন সন্দেহ নেই,

২৮ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:২৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



আমি ছোটবেলা থেকেই খুব চুপচাপ; হয়তো কিছুটা ভাবুকও!!! তবে লেখালেখির বিষয়ে বেশ সিরিয়াস; এখানে কোয়ালিটির ব্যাপারে কোন ছাড় নেই; এজন্য ভাবুক মনটা সব সময় ব্যস্ত থাকে; আশীর্বাদ করবেন, যাতে ভাবুক মনটির ভাবনার বিষয়গুলো সময়োপযোগী হয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপকারী হয়;

৩২| ২৮ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:২৩

ইব্‌রাহীম আই কে বলেছেন: রাবরের মতই সময়োপযোগী লেখা। পড়ে অনেক কিছুই জানলাম।

অনেক দিন আপনার লেখা পড়লাম, সেই সাথে সালাম গ্রহণ করবেন।

২৮ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:৩৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ইব্‌রাহীম আই কে ভাই, শুভেচ্ছা রইলো। হ্যা, অনেকদিন পর আপনাকে পেলাম; আশা করি ভাল আছেন। আপনার লেখাগুলো আমি পড়ি, আপনি ভাল লেখেন; আশীর্বাদ করি যাতে আরো ভাল লেখতে পারেন। লেখাটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

৩৩| ২৮ শে জুলাই, ২০১৮ ভোর ৪:২৪

এস এম মামুন অর রশীদ বলেছেন: আপনার পরিশ্রমী পোস্টের শিরোনামে ইমোগুলো বেখাপ্পা দেখায়। ইমো বাদ দিন।

এছাড়া প্রবন্ধধর্মী দীর্ঘ পোস্টের প্রবাহ মসৃণ রাখতে পোস্ট "সুনির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক" শিরোনামে ভাগ করলে ভালো হয়। তা না হলে পোস্ট পড়ে পাঠক হয়তো সাময়িক আনন্দ পাবেন, কিন্তু মূল বক্তব্যের প্রতি তার মনোযোগ হারিয়ে যাবে।

২৮ শে জুলাই, ২০১৮ ভোর ৪:৩৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



"এছাড়া প্রবন্ধধর্মী দীর্ঘ পোস্টের প্রবাহ মসৃণ রাখতে পোস্ট "সুনির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক" শিরোনামে ভাগ করলে ভালো হয়। তা না হলে পোস্ট পড়ে পাঠক হয়তো সাময়িক আনন্দ পাবেন, কিন্তু মূল বক্তব্যের প্রতি তার মনোযোগ হারিয়ে যাবে।".....

ধন্যবাদ, এস এম মামুন অর রশীদ সাহেব। আসলে প্রথমে ভেবেছিলাম লেখাটি দুই পর্বে দেব; কিন্তু দুই পর্বে লেখলে হয়তো অনেক পাঠক মিস করতে পারেন, বা একই বিষয় দুইবার পড়াটি হয়তো অনেক পাঠকের ভাল না লাগতে পারে এজন্য অনেক ভেবে শেষ পর্যন্ত লেখাটি এক পর্বে পোস্ট করি; আর হ্যা, প্যারা আকারে শিরোনাম দিয়ে লেখাটি আলাদা করলে হয়তো পাঠকদের বিষয়বস্তু বুিঝতে আরেকটু সুবিধা হতো। আপনার সুন্দর এ পরামর্শটি মাথায় রাখবো।

আর শিরোনামের ইমোগুলো সরিয়ে দেব; এভাবে মাঝে মাঝে কমেন্ট করে পরামর্শ দিলে খুশি হবো; শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য।

শুভ রাত্রি।

৩৪| ২৮ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:৫৬

মিথী_মারজান বলেছেন: বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়ন জরুরী প্রয়োজন।
সার্টিফিকেটের তো আসলে প্রয়োজন আছে যেহেতু এটা একজন শিক্ষার্থীর মেধা মূল্যায়ণের সনদ।
তবে এক্ষেত্রে পড়ালেখার মান এবং পরীক্ষা পদ্ধতি সৎ ও স্বচ্ছ হতে হবে।

২৮ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:০২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে তাদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করা। জানার আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া। শেখার জন্য কৌতুহলী হওয়া। উন্নত দেশগুলোতে এভাবেই ছাত্র ছাত্রীদের মোটিভেট করা হয়। তারা পড়ালেখার জন্য ছাত্রদের উপর কোন চাপ প্রয়োগ করে না। ফলে ছেলেমেয়েরা আনন্দের সাথে শিক্ষা নেয়, জ্ঞান অর্জন করে। সিলেবাসের বাইরে গিয়ে নতুন নতুন জিনিস জানার চেষ্টা করে। তাদের সিলেবাসটাও আমাদের চেয়ে অনেক ছোট।

চাপিয়ে দিয়ে জোর করে হয়তো এ+ পাওয়ানো যায়। কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে হয় আনন্দের সাথে নিজের ইচ্ছায়। চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা ছেলেমেয়েদের ক্রিয়েটিভ আইডিয়াগুলো নষ্ট করে দেয়। এজন্য উন্নত দেশগুলোর তুলনায় আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি পড়াশুনা করলেও তাদের মতো গবেষক, সাইন্টিস্ট আর দার্শনিক হতে পারেনা। তারা রেজাল্ট দেখেনা, দেখে ক্রিয়েটিভিটি। আমরা বাচ্চাদের ক্রিয়েটিভ মাইন্ডকে ধ্বংস করে প্রাধান্য দেই ভাল রেজাল্ট আর ভাল চাকরিকে।

ছেলে মেয়েরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যদি স্কুলের পাঠ্যবই নিয়ে স্কুল আর শিক্ষকদের বাসায় বাসায় দৌড়ায় তাহলে তার সৃজনশীল মন মানষিকতা সৃষ্টি হবে কখন? সবাইকে বুঝতে হবে মানুষের জন্ম হয়নি শুধু পড়াশুনা করা জন্য। সরকার ও অভিবাবকদের দায়িত্ব ছাত্র/ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় বিনোদন ও খেলাধুলার পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা; তাদের শারিরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য যা অত্যাবশ্যক। সৃজনশীল মননের জন্য প্রয়োজন স্বাধীনভাবে চিন্তা শক্তিকে বিকশিত করার পর্যাপ্ত সময় ও পরিবেশ। কিন্তু পাগলাটে এ শিক্ষা ব্যবস্থা ছাত্র ছাত্রীদের সৃজনশীল ও স্বাধীন সত্তাকে বিকশিত হতে দিচ্ছে না। ছাত্র ছাত্রীদের পাশাপাশি বাবা মায়েরা সারা বছর ব্যস্থ থাকেন সন্তানদের পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের নেশায়। যত টাকা লাগুক এ+ যে পেতেই হবে।

আাপু, শুভেচ্ছা রইলো; একমাস হয়ে গেল আপনার কোন লেখা পাচ্ছি না। হয়তো ব্যস্ত আছেন, আশা করবো শীঘ্রই নতুন লেখা পাব; শুভ কামনা রইলো।

৩৫| ২৮ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৪৮

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন:
লেখার প্রথম লাইনটা পড়েই হাসি পেল । আমি নিজেও এটা মনে করি, এবং দেখিও ঠিক অমনটি। আর কিছু থাক আর না থাক একটু অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতে পারলেই হল। তাহলেই সে মেধাবী আর স্মার্ট।

আগে এস এস সি আর এইচ এস সি পরীক্ষার ফলাফলের দিনে কেমন অন্যরকম এক উত্তেজনা বিরাজ করতো ফলাফল নিয়ে। কিন্তু এখন আর তা নেই কারন এ যেন জানা কথা যে পরীক্ষা দিলেই এ প্লাস পাবে। আর এ প্লাস না পেলে সে ফলাফল যেন কোন ফলাফলই না। সে ছাত্র ছাত্রী যেন কোন পর্যায়েই পরেনা।

মেধা ও প্রতিভার খুব চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন ভাইয়া। আর হা, শিক্ষা আর প্রকৃত শিক্ষা এক নয়। আমরা বেশীরভাগ মানুষ শুধু সার্টিফিকেট ধারী শিক্ষিত, মন মানসিকতা আর আচার আচরণের দিক দিয়ে নয়।

বিজ্ঞাপন টি দেখে আমিও এটা ভেবেছি, যে পরিষ্কার পোশাক পড়ে একটু ইংরেজি বলতে পারলেই সে দক্ষ হয়ে গেল ? মানুষ তো দক্ষ হবে তার কাজে, কথা আর পোশাকে নয়।

আর হা, সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি হয়েও দেখছি সেই আগের মত মুখস্ত করতে হচ্ছে ছাত্র ছাত্রী দের। বরং আগের যেমন শুধুমাত্র অনুশীলনীর প্রশ্ন গুলো পড়তে হতো এখন সেখানে গাইড বই এর আরও একশোটা প্রশ্ন মুখস্ত করতে হয়।

এখনকার স্কুলের বাচ্চাগুলোকে দেখলে আসলেই খুব মায়া লাগে। পড়াশোনা আর ভারী ভারী বই এর চাপে ওদের শৈশব শেষ।

চমৎকার একটি লেখা লিখেছেন ভাইয়া। সবার উচিত লেখাটি পড়া ও বিষয়গুলো উপলব্ধি করা।

২৮ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:২০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



আমার আপুটা অবশেষে আসলো এবং ফলাফল স্বরুপ চমৎকার দীর্ঘ একটি কমেন্ট পেলাম। আসলে আমাদের দেশের মানুষ পশ্চিমাদের হুবহু কপি করতে চায়; এজন্য ভুলভাবে ইংরেজিতে কথা বললেও মানুষ তাকে বাহবা দেয়; বাংলা ঠিকমত বলতে না পারলেও সমস্যা নেই, ইংরেজি জানলেই হলো। অনেক চাকরিদাতাও এই দোষে দুষ্ট; এমন মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে; না হলে সমস্যা আছে।

আগের আর সেদিনটি নেই; এখন এসএসসি আর এইচএসসির ফলাফল নিয়ে কারো কোন আগ্রহ নেই; মাঠে ২২ জনের জায়গায় ২২ হাজার ফুটবলার খেলতে শুরু করলে তাকে আর প্রতিযোগিতা বলে না; এমন খেলায় কোন দর্শক থাকে না। এখন এ+ আর সৃজনশীল পদ্ধতি হলো দেশের গলার কাঁটা; এতে শিক্ষিত হুহু করে বাড়ছে, কিন্তু প্রকৃত মেধাবীর সংখ্যা কমছে।

আর বিজ্ঞাপনটি দেখলেই আমার মাথায় হাই প্রেশার উঠে যায় X(

আর সৃজনশীলতার নামে আমাদের দেশে যা হচ্ছে তা প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়। এই শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষাও নয়, আবার সৃজননশীলও নয়। আর কোচিং বাণিজ্য নিয়ে কী আর লেখবো। শিক্ষাকে ক্লাসরুমে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যাবস্থার প্রচলন, প্রয়োজনীয় কিন্তু ছোট আকারের সিলেবাস তৈরী করা, চাকরি ও রিজাল্ট নির্ভর মেন্টালিটি পরিহার করে জ্ঞান নির্ভর ও গবেষনাধর্মী শিক্ষা ব্যাবস্থা শুরু করা।

সর্বাপরি অভিবাবকদের সচেতন হওয়া, যাতে বাচ্চাদের প্রকৃত শিক্ষা অর্জন বাদ দিয়ে কত ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ছে এবং কতজন শিক্ষক/কোচিং সেন্টারে যাচ্ছে তা মুখ্য না হয়।

প্রাইমারি লেভেলের একটি বাচ্চাকে চৌদ্দ পনেরটি বই নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। তার সাথে খাতা-কলমসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র তো আছেই। এজন্য অনেক সময় বইয়ের ব্যাগ বহন করার জন্য বাবা-মা অথবা অন্য কেউ বাচ্চাটির সাথে যেতে হয়। অথচ শিশু শিক্ষা হওয়ার কথা ছিল আনন্দের। সে হেসে খেলে পড়াশুনা করবে, যাতে তার মনে শিক্ষাভীতি না আসে।

ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে দেখেছি শিশুরা বই খাতা নিয়ে স্কুলে যায় না, তার প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো স্কুলে থাকে। তার পড়াশুনার পাঠ স্কুলেই শুরু, স্কুলেই শেষ। নেই হোমওয়ার্কের বাড়তি ঝামেলা। এজন্য মনের আনন্দে শিশুরা স্কুলে যায়।

লেখাটি পড়ে এতো সুন্দর একটি কমেন্ট করার জন্য কৃতজ্ঞতা রইলো, আপু।

৩৬| ২৮ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:৪১

আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেছেন: ভালো কথা বলেছেন। সুগঠিত কথা।

২৮ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:২৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা মানে ভাল ছাত্র হওয়া বুঝায় না। এটা যদি হতো তাহলে ৯০% এ+ প্রাপ্ত ছেলে মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে ফেল করত না। আপনি কয়টা জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন এটা মুখ্য বিষয় নয়।

এটা যদি হতো তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষকরা অন্যের গবেষণা পত্র হুবহু নকল করতেন না, নিজে থেকে গবেষণা করতেন। আসল কথা হলো আপনি এত বছর পড়াশুনা করে নিজে কী অর্জন করেছেন এবং সমাজ ও রাষ্ট্র আপনার কাছ থেকে কি পেয়েছে।

খোঁজ নিলে দেখা যায় পৃথিবীর বেশীরভাগ খ্যাতিমান সাইন্টিস্ট, দার্শনিক, সমাজ কর্মী ও চিকিৎসা বিজ্ঞানী নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনদিন পড়াশুনা করেন নাই। এদের বেশিরভাগের একাডেমিক শিক্ষার প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না, এজন্য ক্লাসের পরীক্ষায় তাদের ফলাফল আশানুরুপ হতো না।

আজ পর্যন্ত কোন বিজ্ঞানী ও গবেষক প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়ালেখা করে সফলতা পান নাই।। সফলতা আসে নিজের সৃজনশীল চিন্তা-চেতনা, গবেষণা ও সঠিক দিকনির্দেশনার ফলে।

ধন্যবাদ, আব্দুল্লাহ্ আল মামুন ভাই। শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য।

৩৭| ২৮ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:৫৫

নুরুন নাহার লিলিয়ান বলেছেন: খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লাম । অনেক সুন্দর করে আমাদের চারপাশের কঠিন সত্য তুলে ধরেছেন শেষের দিকের কথা গুলো বেশি ভাল লেগেছে । তবে ভাই আজকাল মানুষ মানবিকতায় অনেক পিছিয়ে .।.। আপনার জন্য শুভ কামনা ।

২৮ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতি বদলানো দরকার, পাঠ্যক্রম বদলানো দরকার, শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার। বদলানো দরকার শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ। খোলা আকাশের নিচে আর যাই হোক ডিজিটাল কন্টেন্ট কিংবা সৃজনশীল পদ্ধতি হয় না। পৃথিবীর যারা বিখ্যাত মানুষ তারা কেউই সৃজনশীল পদ্ধতির পাস নয়। বহু জ্ঞানী-গুণী যেমন লালন-হাসন-গগন-রবীন্দ্র-নজরুল সৃজনশীল পাস নয়, তারা নিজেরাই সৃজনশীলতার উদাহরণ। বাংলাদেশে কোনোদিনই শিক্ষার উন্নয়ন আশা করা ঠিক হবে না যদি না।

এখনকার সিস্টেমটা এতই অদ্ভুত যে, বাংলাদেশে প্রাইমারি স্কুলে ফেলের সংখ্যা নেই বললেই চলে (বেশিরভাগ পাস করে বা করানো হয়)। তাহলে কি আমাদের শিক্ষা অনেক এগিয়ে গেছে বলবো? সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও আসলে আমরা অনেকখানি পিছিয়ে গেছি। অনেকখানি ক্ষতি হয়ে গেছে আমাদের। এখন সবাই পাস চায়, জ্ঞান চায় না। পাস এখন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এক নম্বর চাওয়া। শিক্ষার গুণগত মান যাই হোক না কেন সংখ্যাগত মান বৃদ্ধিতে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকার সদা তৎপর। এখন একটা ফাইভের শিশুকে আঠারো ঘণ্টা লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় (শুধু ঘুমানো ও প্রাতঃকৃত্য ছাড়া)। অবশ্যই তার কোচিং করানোর অর্থ জোগান দিতে হয়। বাবা/মা, কাজের ছেলে বা মেয়েতার দেখাশোনার জন্য ব্যস্ত থাকতে হয়।

সংখ্যাগত পাস না বাড়িয়ে গুণগত পাস বাড়াতে হবে। কোচিং, গাইড বই, প্রশ্ন ফাঁসের মতো ব্যবস্থা থেকে রক্ষা পেতে হলে এমন পদ্ধতি আবিষ্কার করতে হবে, যাতে টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করা যায়। শিক্ষা সংক্রান্ত সকল প্রতিষ্ঠানের অবাধ দুর্নীতি নির্মূল করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে দেশের কোনো উন্নয়ন ফলপ্রসূ হবে না। আগে মানুষকে মানুষ বানাতে হবে। মানুষ যদি সত্যিকারের মানুষ হয়, উন্নয়ন অবশ্যই সম্ভব।

ধন্যবাদ, নুরুন নাহার লিলিয়ান আপু। শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য।

৩৮| ২৮ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৩২

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: বিষয়ের সাথে তথ্যের সামন্জস্যতা নেই। আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থার ত্রুটি:

১) মুখস্থচর্চার ওপর নির্ভরশীলতা

বিদেশেও মুখস্থ চর্চা আছে কিন্তু সেগুলো প্রায়োগিক ও প্রেজেন্টেশন নির্ভর। আমরা সবাইকে ডাক্তার ইন্জিনিয়ার বানাতে চাই কিন্তু ওরা বানাতে যে যেটা মন চায়। নিম্ন মাধ্যমিক বা ডগীস লেভেলে ফিনিশ বেস্ট কারন ওদের ক্লাসে হোমওয়ার্ক নাই। নির্দিষ্ট কোনো ক্লাস নেই। তবে সবাইকে কিছু তৈরী করতে বলে। শিক্ষকরা বন্ধু হয়ে তাদের সাথে গ্রুপ স্টাডি করে। স্কুলে ঢুকলে মনে হবে পার্কে আসছেন। ইউরোপের বেশীর ভাগ দেশ উচ্চ মাধ্যমিকে বোলোগনা সিস্টেম চালু করছে। কোনো পরীক্ষা নেই। যারা টোকনিক্যাল লাইন তাদের সব প্রজেক্ট বেজড যারা ননটেক তাদের সেমিনার প্রেজেন্টেসন বেজড। এনালাইট্ক প্রবলেম সলভিং ও নতুন কিছু তৈরীর ওপর মনোযোগ এদের বেশী। আমরা এখনো গল্প কবিতা মুখস্থ আর এক্সাম নিয়ে পড়ে আছি

২) ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে দ্বন্দ্ব

আমরা কিছুদিন আগে যৌনশিক্ষা চালু করলেও মেয়েদের মাসিকের ব্যাপারটা পুরো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তার ওপর পাঠ্যুস্তকে মিথ্যা ধর্মের কথা ঢুকিয়ে সব শেষ করে দিয়েছে কিন্ত নৈতিক অবক্ষয় খোদ মাদ্রাসাগুলোতেই মহামারী রূপ নিছে। সবার আগে মাদ্রাসা আর ধর্ম নিম্ন মাধ্যমিকে নিষিদ্ধ করে শুধু মাত্র ভার্সিটির নৃতত্বে সীমাবদ্ধ করাটাই এর একমাত্র সমাধান। উন্নত দেশগুলো তাই করেছে। বর্বর জঙ্গিমুসলমানদের দাবীর মুখে জার্মান ইসলাম শিক্ষা স্বল্প মেয়াদে রাখলে সেটাকে তারা নিজেদের মতো যেভাবে পরিবর্তন পরিশীলিত এবং জঙ্গি মিথজিবী উপকরন সমুহ নিয়ন্ত্রন করেছে সেটাও অনুসরনীয় তবে মাদ্রাসা শিক্ষা তাতে বড় অন্তরায়

৩) মেধার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী শক্তির অগ্রগন্যতা

আমাদের দেশে এখনো মেধার ক্ষেত্রে শেরে বাংলার মতো মুখস্থবিদ্যাকে মাপকাঠি ধরা হয়। প্রশাসনের দুর্নীতি সরিয়ে পুরোপুরি উদ্ভাবনী ভাবধারার মানুষদের সম্পৃক্ত করতে না পারলে মেধাপাচার চলবেই

৪) গবেষনার একমাত্র স্থান হবে বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষনার জন্য তাকে ধারাবাহিক প্রনোদনা এবং চাকুরীর শর্তযুক্ত ও প্রেরনাদায়ী প্যাকেজের ব্যাবস্থা। সেক্ষেত্রে বাজেটে গবেষনার জন্য আলাদা আর্থিক সংকুলানের ব্যাবস্থা রাখা আবশ্যক ও বর্তমান বিসিএস প্রথার বিলুপ্তি একমাত্র উপায়। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের কথা ভেবে দেখা যেতে পারে যেটা কিনা মার্কিন ও কানাডীয় প্রশাসন করে থাকে

২৮ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, উদাসী স্বপ্ন ভাই। আপনি লেখায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার চারটি ত্রুটির কথা তুলে ধরেছেন; এগুলো হলো- (১) মুখস্থচর্চার ওপর নির্ভরশীলতা; (২) ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে দ্বন্দ্ব; (৩) মেধার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী শক্তির অগ্রগন্যতা; (৪) গবেষনা ইত্যাদি।

একটু মনযোগ দিয়ে পড়লে আপনি দেখবেন আমি এ বিষয়গুলোর পাশাপাশি আরো অনেক ফ্যাক্ট নিয়ে আলোচনা করেছি; তবে এগুলো পয়েন্ট আকারে বলিনি; বিষয়টির গভীরে গিয়ে তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি; আশা করি, মনযোগ দিয়ে পড়লে আপনি আমাদের শিক্ষার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারবেন।

আর ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের অমিল আগেও ছিল; এখনও আছে; ভবিষ্যতেও থাকবে। বিজ্ঞান হলো মানুষের দীর্ঘদিনের গবেষণার ফল এবং তা পরীক্ষিত ও যুক্তিনির্ভর; অপরদিকে ধর্ম হলো বিশ্বাস; এখানে দ্বিমত করার কোন সুযোগ নেই, বাধ্যতামূলক মেনে নিতে হয়। এজন্য আধুনিক বিজ্ঞান নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে ধর্মীয় বিশ্বাসের একটি কনফ্লিক্ট আছে।

কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

৩৯| ২৮ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩২

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: কাওসার চৌধুরি দারুন একটা বিষয়ের উপর তথ্যবহুল পোস্ট।

কেন জানি অন্য ধরণের কমেন্ট করার ইচ্ছা জাগছে।

আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা সর্বভৌমত্ব আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এটা কয়জন মানুষ বুঝে? স্বাধীনতার পর এত বাজে অবস্থার বিচার বিভাগ, মিডিয়া, নির্বাচন কমিশন ১৫৪ কলঙ্ক সম্বলিত সংসদ, সোনা চুরি কয়লা চুরি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পিটানো কোটার বিরুধী সব দিল্লীর মসনদ থেকে দেশের নিয়ন্ত্রণ এত বাজে শাসক গোস্ঠী যারা সমর্থন করে। তারা কী রায় দূর্লভ, জগৎ শেঠ নয়। বাংলাদেশীর কি জাতিগত কোন দোষ আছে নাকি। অপরের চামচামি করার।জাতিগত ভাবে আমরা অন্যদেশের গুলামি করি কিনা। :(

স্বৈরাচারদের প্রত্যাখান করে না কেন মানুষ। #:-S

২৮ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ স্যার; লেখাটি পাঠে, মন্তব্যে এবং প্লাসে প্রীত হলাম। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, কিন্তু মেরুদণ্ডহীন শিক্ষা জাতিকে পিছিয়ে দেয়; বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় ঠিকতে পারে না; এ শিক্ষা হয়ে উঠে কাগক সর্বস্ব, এখানে মেধা ও প্রতিভার কোন বিকাশ ঘটে না।

"আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা সর্বভৌমত্ব আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এটা কয়জন মানুষ বুঝে? স্বাধীনতার পর এত বাজে অবস্থার বিচার বিভাগ, মিডিয়া, নির্বাচন কমিশন ১৫৪ কলঙ্ক সম্বলিত সংসদ, সোনা চুরি কয়লা চুরি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পিটানো কোটার বিরুধী সব দিল্লীর মসনদ থেকে দেশের নিয়ন্ত্রণ এত বাজে শাসক গোস্ঠী যারা সমর্থন করে।"

এগুলো সত্যি জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়; একটি জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে লাগে প্রজ্ঞা, দূরদর্শীতা, নেতৃত্বগুণ, দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা আর মেধা; আর এ গুনাবলী অর্জন করতে লাগে শিক্ষা ও গবেষণা। এর কোন বিকল্প নেই। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাঝে এসব গুণাবলীর বালাই নেই; এদেশে নেতা হতে লাগে গ্রুপিং রাজনীতি, কালো টাকা, পেশীশক্তি, খুণখারাপির অভিজ্ঞতা, চাটুকারী মানসিকতা এবং গলাবাজিতে পারদর্শীতা।

ফলাফল স্বরুপ আমরা পাই; মগজহীন একদল নেতা/নেত্রী; যার বাস্তব উদাহরণ আজকের বাংলাদেশের দুর্দশা, লুটপাট আর বোগাস নেতৃত্ব। ভাল, মেধাবী আর বিচক্ষণ মানুষজন রাজনীতিতে না আসলে এ থেকে মুক্তির কোন পথ খোলা নেই।

বর্তমানে দেশে রাজনীতির নামে যা হচ্ছে; বেগম সাহেবা থাকলেও তাই হতো। কারণ, এদেশে পাওয়ার পলিটিক্স চলে; ক্ষমতাকে ঠিকিয়ে রাখতে এরা সব করতে পারে। দু'দলই মূদ্রার এপিট/ওপিট। ছোট্ট এ জীবনে দু'পিটই দেখা হয়ে গেছে। এদের একটি পক্ষ খারাপ হলে অপর পক্ষটি খারাপের মধ্যে তুলনামূলক কম খারাপ হয়; এই পার্থক্য খুব সামান্য।

৪০| ২৮ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:৩৫

আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেছেন: শিক্ষা / রাজনীতি / মেধা বিক্রি।

সব একসাথে চলে কি করে।
বাংলাদেশ । ছাত্ররা রাজনীতি করে। গাজা খায়।
ভাই ভাই করে। করে চামচামি।।

২৯ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১:৩৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্রদের নেতা বানাতে চায় না, পিকেটার বানায়। হলগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় না, দখল করতে শেখায়। ভদ্রভাবে কথা বলতে শেখায় না, মিথ্যা গলাবাজি শেখায়। স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখায় না, দলকানা বানায়। হাতে কলম তুলে দেয় না, অস্ত্র চালাতে শেখায়। সমাজকর্মী বানায় না, চান্দাবাজি শেখায়। নীতি ও আদর্শ শেখায় না, সন্ত্রাসের পাঠ শেখায়। সমাজের সবাইকে নিয়ে চলতে শেখায় না, অন্য মত ও পথকে কঠোর হস্তে দমন করতে শেখায়। দেশপ্রেম শেখায় না, লুটপাট শেখায়। সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে না, মিথ্যা চেতনা আর মিথ্যা ইতিহাস শেখায়। সত্যবাদিতার শিক্ষা দেয় না, মিথ্যা মিথ্যা আশ্বাস দিতে শেখায়। ফলশ্রুতিতে এতো এতো প্রেকটিক্যাল পরীক্ষা দিতে দিতে পরিণত বয়সে ছাত্রটি হয়ে উঠে দক্ষ পলিটিশিয়ান, পাকনা গুটিবাজ।।

৪১| ২৯ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ২:৪১

রাকু হাসান বলেছেন: এমন পোস্ট আমার চোখ এড়িয়ে গেল !! কয়েকদিন ধরে আপনার পোস্ট না দেখে ,এসে দেখি ,এত সুন্দর বিশ্লেষণ ধর্মী পোস্ট দিয়ে রেখেছেন ।

এত মূল্যবান একটি লেখার মন্তব্য আমি কি করতে পারি জানি না । তবে এটা নিশ্চিত যে ,জানতে পেরেছি । আপনার ভবনাগুলো অতিসুন্দর । এমন করে বিষয়গুলোকেন ভাবছে না নীতি নির্ধারকরা । এত সব লেখা হয় ,সবগুলো চোখ এড়িয়ে যায় কেন ?

এ শিক্ষা ঘুণে ধরা ব্যবস্থার মাসুল আমরা আর কত দিন দিব । সত্যিই ছোট বাচ্চারা তাদের ব্যাগ নিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয় । সরকারের প্রায় সকল সেবা প্রতিষ্ঠান আজ ব্যবসার অন্যতম মাধ্যম । চাইলেই নিয়ন্ত্রণ আনতে পারে ,কিন্তু আনছে না ,কেননা ক্ষমতাসীনরাও এ থেকে মুনাফা পাচ্ছে ।

‘বিসিএস একটি সামাজিক ব্যাধি’ এ ব্যবস্থা পরিবর্তন না করলে । আশার আলো জন্য আশা করাও ভুল । একজন শিক্ষার্থী কখন কম্পিউটার রে সিএসসি থাকার পরও ইমেল আইডি খুলতে পারে , প্রোগ্রামিংয়ের অ ,আ, বুঝে না । অর্নাস পড়ুয়া শিক্ষার্থী ব্লগের নাম শুনবেই না ,বা বুঝি না ,ইত্যাদি মন্তব্য করবে ! এগুলো কিসের ইঙ্গিত বহন করে তাহলে ।

কিছূ টা হলেও দূরন্ত শৈশব কাটানোর সৌভাগ্য হয়েছে। গল্পকরার মত । এখন স্মৃতিচারণে ভাল লাগা কাজ করে । কিন্তু এ নতুন প্রজন্ম ! তারা কি গল্প করবে আগত প্রজন্মের কাছে !! তাদের মানসিক বিকাশ হচ্ছে না । অনেক শিক্ষার্থী বাংলা রচনাও মুখস্ত করতে দেখি, চিন্তা করা যায় , এটা তো কমন বিষয় ,সবার বুঝার কথা, উন্নত দেশগুলো যেখানে শিক্ষাকে চাপিয়ে দেয় না ,সেখানে বাংলাদেশ কে ?

এসব ভাবলে মন টা খারাপ হয়ে যায় খুব । অাপনার পোস্টের যে কোন প্রশংসা করলে সেটা কম হয়ে যাবে আমার কাছে । প্রিয়তে নিলাম , লিখুক অনেক দিন ,অামাদের মাঝে । শুভকামনা ,ভালবাসা দোয়া ,সব কিছু থাকবে আপনার প্রতি শ্রদ্ধাভাজন ভাই অামার ।

শুভরাত্রি ।

২৯ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৩:০০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



আমার প্রিয় ভাইকে পেয়ে ভাল লাগলো; আর আপনার দীর্ঘ মন্তব্যটি তো খুবই মানসম্মত। এত সুন্দর একটি মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা রইলো।

"এ শিক্ষা ঘুণে ধরা ব্যবস্থার মাসুল আমরা আর কত দিন দিব । সত্যিই ছোট বাচ্চারা তাদের ব্যাগ নিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয় । সরকারের প্রায় সকল সেবা প্রতিষ্ঠান আজ ব্যবসার অন্যতম মাধ্যম । চাইলেই নিয়ন্ত্রণ আনতে পারে ,কিন্তু আনছে না ,কেননা ক্ষমতাসীনরাও এ থেকে মুনাফা পাচ্ছে।"

আমাদের শিক্ষানীতির মধ্যে বহুত গলদ আছে; শিশু শিক্ষা হওয়ার কথা ছিল একমুখী এবং পুরোপুরি সরকারী নিয়ন্ত্রণাধীন; দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য তা হয়নি। ফলে শিক্ষা হয়ে গেছে পণ্য, আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে শিল্প প্রতিষ্ঠানX(!!

বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে; সঠিক মেধা যাচাই এভাবে সম্ভব নয়। আপনি খুব দরকারী একটি কথা বলেছেন; এ প্রজন্ম হলো ফেইসবুক গবেষক X(; ইউটিউব বিশেষজ্ঞ X((; প্রোগ্রামিংয়ের সময় কই?

কিন্তু এ নতুন প্রজন্ম! তারা কি গল্প করবে আগত প্রজন্মের কাছে¡¡¡¡ ঠিক বলেছেন।

শুভ রাত্রি।

৪২| ২৯ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৩:১৬

অর্থনীতিবিদ বলেছেন: বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বিতর্কিত বহুদিন থেকেই। নীতি নির্ধারকদের উদ্ভট সব সিদ্ধান্ত প্রায় সময়ই গিনিপিগ বানিয়েছে বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের।

২৯ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছে, তা বহু বছর আগে। এজন্য সরকারের তরফ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে কোন ছেলে-মেয়ে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়, বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের উদাসীনতা এবং সরকারি স্কুলগুলোর নিম্নমান ও অপ্রতুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য কিন্ডার গার্ডেন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। কোন কোন স্কুলে তো এসব শিশুদের রীতিমত ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে, লিখিত পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি করা হয়। স্বাধীনতার এত বছর পরও শিশুদের জন্য সমমান ও একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা আজও আমরা চালু করতে পারলাম না।

এজন্য ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদের মনে মানুষের শ্রেণী বৈষম্যের বিষ রোপিত হয়। যারা দামী স্কুলে পড়ে তাদের কাছে কমদামী স্কুলের বাচ্চাদের 'ছোটলোক' মনে হয়। যারা দামী গাড়ি নিয়ে স্কুলে যায় তাদের কাছে হেঁটে আসা সহপাঠীকে 'কামলা শ্রেণীর' মনে হয়। তবে এ শ্রেণী বৈষম্যটা শুরু হয় পরিবার থেকে। বাচ্চাটি ঘরের কাজের মেয়েটার সাথে বাবা-মায়ের ইতরামী দেখে এই মেয়েটিকে মানুষ নয় 'ভিন্ন প্রজাতির' ভাবতে শেখে। নিজেও পিচ্চি বয়স থেকে তার চেয়ে বয়সে অনেক বড় মেয়েটিকে গালি দেয়, তুই-তুকারী করে। এখানেই 'অমানুষ' হওয়ার প্রাথমিক শিক্ষাটা হাতে কলমে পায় সে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এগুলো ডালপালা মেলে বিশাল আকার ধারণ করে।

স্বাধীনতার এতো বছর পরও আমরা শিশুদের জন্য একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে পারলাম না। হাসান ভাই, শিক্ষা ব্যবস্থার স্তর আর বৈষম্য দেশের মানুষদের মানবিক ও বোধের জায়গায় বিভক্তি নিয়ে আসছে; ছোট বেলা থেকেই একটি ধনী পরিবারের ছেলে মেয়ের কাছে শ্রেণী বৈষম্যের বীজ বপন শুরু হয়; এরা সমাজের নীচু তলার বাচ্চাদের সাথে মেশার সুযোগ পায় না; অনেক সময় বারণ করা হয় পরিবার থেকে। ফলাফল স্বরুপ বড় হয়ে সেই ছেলেটি এরোগেন্ট ও সেলফিশ হয়। আর ধনী ও দরিদ্রের মাঝে মোটাদাগে পার্থক্য ফুটে উঠে।

ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা, প্রিয় অর্থনীতিবিদ ভাই।

৪৩| ২৯ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৪

লাবণ্য ২ বলেছেন: এই পোস্টটি আমি আগেই পড়েছিলাম।এদেশের শিক্ষাব্যবস্থার উপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লেখা।আপনার প্রবন্ধগুলো আমি পড়ি কিন্তু মন্তব্য করি না।বুঝতে পারিনা কি মন্তব্য করবো।এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা মুখস্থ বিদ্যা নির্ভর।আর মুখস্থ বিদ্যায় সার্টিফিকেট অর্জন সম্ভব; কিন্তু মেধার বিকাশ ঘটে না।

২৯ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



কে বলে আপনি পারেন না; এই তো চমৎকার একটি কমেন্ট করলেন। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখেন; মন খুলে, সময় নিয়ে লেখুন দেখবেন লেখতে পারবেন; ব্লগে কমেন্ট না করলে পরিচিতি বাড়বে না। সময় সুযোগে ব্লগে লেখবেন, ব্লগারদের যে লেখাগুলো পছন্দ হয় সেগুলোতে কমেন্ট করবেন।

শুভ কামনা রইলো.............

৪৪| ৩০ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:২৬

করুণাধারা বলেছেন: আবার ফিরে এলাম। আপনি বরাবরের মতই গবেষণাধর্মী দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন, একবার বসে পড়ে উঠলে পুরোটা মাথায় রাখতে পারিনি। মনে হয় ভিতরে ছোট ছোট সাবহেড দিয়ে বিষয় ভাগ করলে ভালো হতো, যেমন কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা, প্রাইমারি শিক্ষা এগুলো একটা সাবহেডে।

খুব অদ্ভুত কথা এই যে, আমাদের একটা শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে। সেই শিক্ষানীতিতে আছে, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত একই রকম শিক্ষা থাকবে অর্থাৎ কিন্ডারগার্ডেন, সরকারি-বেসরকারি সব স্কুলে একই রকম লেখাপড়া হবে। সেই শিক্ষানীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে কোচিং বাণিজ্য। কোচিং বাণিজ্য কে সফল করতে আনা হয়েছে নতুন নতুন সব পরীক্ষা, পিএসসি জেএসসি এইসব।

দীর্ঘ সময় ব্যয় করে তথ্যবহুল এই প্রবন্ধ লিখেছেন। অনেক ধন্যবাদ। আমাদের শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা যদি এভাবে ভাবতেন!

৩১ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ২:৪২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



"আপনি বরাবরের মতই গবেষণাধর্মী দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন, একবার বসে পড়ে উঠলে পুরোটা মাথায় রাখতে পারিনি। মনে হয় ভিতরে ছোট ছোট সাবহেড দিয়ে বিষয় ভাগ করলে ভালো হতো, যেমন কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা, প্রাইমারি শিক্ষা এগুলো একটা সাবহেডে।"

ধন্যবাদ আপু, আপনার সুচিন্তিত মতামত পেয়ে খুশি হলাম; আপনার এ পরামর্শটি ফলো করার চেষ্টা করবো; লেখাটি পড়েছেন জেনে খুব ভাল লাগলো।

আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতি বদলানো দরকার, পাঠ্যক্রম বদলানো দরকার, শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার। বদলানো দরকার শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ। খোলা আকাশের নিচে আর যাই হোক ডিজিটাল কন্টেন্ট কিংবা সৃজনশীল পদ্ধতি হয় না। পৃথিবীর যারা বিখ্যাত মানুষ তারা কেউই সৃজনশীল পদ্ধতির পাস নয়। বহু জ্ঞানী-গুণী যেমন লালন-হাসন-গগন-রবীন্দ্র-নজরুল সৃজনশীল পাস নয়, তারা নিজেরাই সৃজনশীলতার উদাহরণ। বাংলাদেশে কোনোদিনই শিক্ষার উন্নয়ন আশা করা ঠিক হবে না যদি না।

এখনকার সিস্টেমটা এতই অদ্ভুত যে, বাংলাদেশে প্রাইমারি স্কুলে ফেলের সংখ্যা নেই বললেই চলে (বেশিরভাগ পাস করে বা করানো হয়)। তাহলে কি আমাদের শিক্ষা অনেক এগিয়ে গেছে বলবো? সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও আসলে আমরা অনেকখানি পিছিয়ে গেছি। অনেকখানি ক্ষতি হয়ে গেছে আমাদের। এখন সবাই পাস চায়, জ্ঞান চায় না। পাস এখন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এক নম্বর চাওয়া। শিক্ষার গুণগত মান যাই হোক না কেন সংখ্যাগত মান বৃদ্ধিতে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকার সদা তৎপর। এখন একটা ফাইভের শিশুকে আঠারো ঘণ্টা লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় (শুধু ঘুমানো ও প্রাতঃকৃত্য ছাড়া)। অবশ্যই তার কোচিং করানোর অর্থ জোগান দিতে হয়। বাবা/মা, কাজের ছেলে বা মেয়েতার দেখাশোনার জন্য ব্যস্ত থাকতে হয়।

সংখ্যাগত পাস না বাড়িয়ে গুণগত পাস বাড়াতে হবে। কোচিং, গাইড বই, প্রশ্ন ফাঁসের মতো ব্যবস্থা থেকে রক্ষা পেতে হলে এমন পদ্ধতি আবিষ্কার করতে হবে, যাতে টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করা যায়। শিক্ষা সংক্রান্ত সকল প্রতিষ্ঠানের অবাধ দুর্নীতি নির্মূল করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে দেশের কোনো উন্নয়ন ফলপ্রসূ হবে না। আগে মানুষকে মানুষ বানাতে হবে। মানুষ যদি সত্যিকারের মানুষ হয়, উন্নয়ন অবশ্যই সম্ভব।

শুভ রাত্রি ।

৪৫| ৩০ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:৪৪

পাঠকের প্রতিক্রিয়া ! বলেছেন: ইয়েস! ইয়েস!
অবশেষে পুরোটাই পড়া শেষ হলো। :)
লেখাটা কেমন জানি স্যারের লেকচার, লেকচার মনে হল...:P

@ সার্টিফিকেট তো আমাদের আছে.........তাহলে আমরা কোথায় পিছিয়ে আছি; মেধায়? প্রতিভায়?জ্ঞানে?নাকি, তিনটিতেই!!!
...সবগুলোতেই:(

@ আমি মনে করি যে ছেলে-মেয়েটি কোনদিন কোন প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে যায়নি, এক্সক্লুসিভ সিলেবাস পড়েনি। একাডেমিক বই পড়াকে ধ্যানজ্ঞান না করে অপাঠ্য বই পড়ে, সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত রাখে, ডিবেট করে, গল্প/কবিতা লেখে ও পড়ে, খেলাধূলা করে, টিভিতে পছন্দের টিমের খেলা মন ভরে উপভোগ করে সে পরীক্ষায় 'বি-গ্রেড' পেলেও প্রকৃত মেধাবী।
... ঠিক ঠিক।

এখন প্রশ্ন হল ঘন্টাটা বাঁধবে কে?? (এর সমাধান করবে কে?):(



পুনশ্চঃ
একবার পড়ে ভুলে গিয়েছি!:(
কালকে আরেক বার পড়ে কমেন্ট করবানি।
ভালো থাকবেন স্যার, ভাইয়া, বন্ধু;)

৩১ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৩:০১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



"বলেছেন: ইয়েস! ইয়েস!
অবশেষে পুরোটাই পড়া শেষ হলো। :)
লেখাটা কেমন জানি স্যারের লেকচার, লেকচার মনে হল"...:P

জানেমন দোস্ত B-) B-)¡¡ লেখাটি তো শিক্ষা নিয়ে তাই হয়তো টিচার টিচার লাগছে!! হাজার হোক, লেখক একজন নাইট ইসকুলের শিক্ষকও বটে B-)......

@ সার্টিফিকেট তো আমাদের আছে.........তাহলে আমরা কোথায় পিছিয়ে আছি; মেধায়? প্রতিভায়?জ্ঞানে?নাকি, তিনটিতেই!!!

(৪৫) নম্বর পোস্টে এসে উত্তরটি পেলাম!! এজন্যইতো মানুষ বলে ওস্তাদের মাইর শেষ রাইত!!!

@ "আমি মনে করি যে ছেলে-মেয়েটি কোনদিন কোন প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে যায়নি, এক্সক্লুসিভ সিলেবাস পড়েনি। একাডেমিক বই পড়াকে ধ্যানজ্ঞান না করে অপাঠ্য বই পড়ে, সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত রাখে, ডিবেট করে, গল্প/কবিতা লেখে ও পড়ে, খেলাধূলা করে, টিভিতে পছন্দের টিমের খেলা মন ভরে উপভোগ করে সে পরীক্ষায় 'বি-গ্রেড' পেলেও প্রকৃত মেধাবী।"...........

এটি আমার লেখার অন্যতম পিক পয়েন্ট; কৃতজ্ঞতা রইলো এটি তুলে ধরার জন্য।

"এখন প্রশ্ন হল ঘন্টাটা বাঁধবে কে"??

কাজটি খুব কঠিন নয়; প্রয়োজন একজন দক্ষ দেশ পরিচালনাকারি প্রধানমন্ত্রী আর শিক্ষা বুঝে এমন কিছু শিক্ষাবিদ আর মিনিস্টার; আর শিক্ষা উপদেষ্টা হিুসাবে এই অধম!!!

আমি জানি, লম্বা লেখা আপনি পড়তে পছন্দ করেন না; তারপরও মনযোগ দিয়ে লেখাটি পড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা রইলো; আরেকটি কথা নতুন লেখা কই?????

৪৬| ৩১ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:২৮

পাঠকের প্রতিক্রিয়া ! বলেছেন: লেখক, আপনার লেখার প্রতিটি প্যারা আলোচনার দাবি রাখে। যেমন...

১@ ছেলে মেয়েরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যদি স্কুলেরপাঠ্যবই নিয়ে স্কুল আর শিক্ষকদের বাসায় বাসায় দৌড়ায় তাহলে তার সৃজনশীল মন মানষিকতা সৃষ্টি হবে কখন?

২@একজন ভাল গায়ক, একজন ভাল সাহিত্যক, একজন ভাল মেকানিক্স, একজন ভাল খেলোয়ায়ড়, একজন ভাল সমাজকর্মী যাদের একাডেমিক আহামরি কোন কৃতিত্ব নেই, তারা কী মেধাবী নয়?

৩@ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্টদের কদর বরাবরই অনেক বেশি।
... আমাদের ক্যাম্পাসে মাস্টার্সের আগেই এরা টিচার হয়ে যায়। কোন ট্রেনিং নেই। ম্যাওপ্যাও করে পড়ায়....X(
(আমি একজনকে পছন্দ করতাম। মানে আগে ভালো লাগতো না, কিন্তু আমার দুজন বন্ধুর পিড়াপিড়িতে কখন যে পছন্দ করে ফেলেছিলাম।:P ওর রেজাল্ট আমার চেয়ে ভালো। বাপরে! সে কী তার ভাব! পরে ঠিক করলুম, "ধূর, বুড়িকে কে বিয়ে করবে? সে দুরে গিয়ে মরুক!):P


@ সন্তান ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশুনা করে বলে বাংলার ব্যাপারে উদাসীন হলে চলবে না।
.. আমার এক ছাত্রী ছিল। এক ভার্সিটির প্রফেসরের মেয়ে। বাংলা ঠিকমত বলতে পারতো না।

অফটপিকঃ
আমার আসলে মন্তব্য করতে গেলে গল্প চলে আসে। আমার লিখতে/পোস্ট দিতে ভালোলাগে না। তবে আড্ডা, গল্প, বিতর্ক এসবে কোন ক্লান্তি নেই। আর আমাকে লিখতে হবে কেন? আপনাদের লেখাই তো আমার মনের কথা! আমার একটা প্ল্যান আছে। বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবো। সেটা ইঁদুর হয়ে নয়, স্বয়ং বিড়াল হয়ে।;) তাই ভিজে বিড়াল সাজতে হবে....

ঠিক করে বলেন তো, আপনি এখন কোথায়? দেশে?

৩১ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:০২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:




১@ ছেলে মেয়েরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যদি স্কুলেরপাঠ্যবই নিয়ে স্কুল আর শিক্ষকদের বাসায় বাসায় দৌড়ায় তাহলে তার সৃজনশীল মন মানষিকতা সৃষ্টি হবে কখন?

২@একজন ভাল গায়ক, একজন ভাল সাহিত্যক, একজন ভাল মেকানিক্স, একজন ভাল খেলোয়ায়ড়, একজন ভাল সমাজকর্মী যাদের একাডেমিক আহামরি কোন কৃতিত্ব নেই, তারা কী মেধাবী নয়?

৩@ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্টদের কদর বরাবরই অনেক বেশি।

আবারো কৃতজ্ঞতা এ পয়েন্টগুলো হাইলাইট করার জন্য; "আমি একজনকে পছন্দ করতাম। মানে আগে ভালো লাগতো না, কিন্তু আমার দুজন বন্ধুর পিড়াপিড়িতে কখন যে পছন্দ করে ফেলেছিলাম।:P ওর রেজাল্ট আমার চেয়ে ভালো। বাপরে! সে কী তার ভাব!"............. দোস্ত, আফনে বালা খরছইন। কেলাসের বালা ছাতরি সব সময় বালা বউ অয় না; এখন বয়সও বাড়ছে, বুদ্ধিও ফাখছে; নিজর লাগি বালা বউ ফাওয়া খঠিন অইত নায়!!!

@ সন্তান ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশুনা করে বলে বাংলার ব্যাপারে উদাসীন হলে চলবে না।
.. আমার এক ছাত্রী ছিল। এক ভার্সিটির প্রফেসরের মেয়ে। বাংলা ঠিকমত বলতে পারতো না।

এ বিষয়ে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে; বাংলা শেখাতে বাধ্য করতে হবে; আর উচ্চবিলাসী বাবা-মা কে বুঝাতে হবে।

"আর আমাকে লিখতে হবে কেন?........ আপনাকে লেখতে হবে; কারণ এই অধম আপনার লেখার বড় ভক্ত; কমেন্টের পাশাপাশি সপ্তাহে একবার লেখুন।

সত্যি সত্যি আমি এখন দেশে আছি!!!

৪৭| ১৬ ই আগস্ট, ২০১৮ ভোর ৪:১০

পল্লব কুমার বলেছেন: রবি ঠাকুরের একটা বইয়ে পড়েছিলাম, " যারা সারাদিন শুধুই পড়াশুনো করে, তারা শুধু পড়েই যায়। পড়াটা হজম করে না।" আপনার লিখাটি পড়বার সময় বারবার এই কথা মনে আসছিল।

খুব সুন্দর করে বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন। যদিও অনেক বড় লিখা, কিন্তু পড়ে ভাল লেগেছে। অনেক ধন্যবাদ।

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ চিন্তা করতে চায় না। অনেকটা গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে তারা মানসিক শান্তি পায়। আর চিন্তা করে লাভ কি! জ্ঞানী বিবেকবান হয়ে কি লাভ! আমরা কি জ্ঞানীর কদর করতে জানি! অতি সামাজিক দায়বদ্ধতা আর বিবেকবোধ দেখাতে গেলে দেখা যাবে আপনি আর এই সমাজেই থাকতে পারতেছেন না। তাই এই সমাজে পড়াশুনো বেশী হজম করতে গেলেও বিপদ। শেষমেশ না আবার দেশান্তরি হইতে হয়। আর দিনশেষে অই সারাদিন বই গিলে বিসিএস এ ফাস্ট হওয়া মানুষেই সবাই সমাদর করে। জেনে বুঝে সমাদৃত হতে কেই বা না চায়!!

কিন্তু আপনি জানেন এই সমাদর, এই জ্ঞানের মূল্য কতটুকু। জ্ঞানচর্চা, মেধার বিকাশকে যদি আমরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতাম, তাহলে আমাদের সমাজ আজ এই অবস্থায় আসতো না।


পুনশ্চঃ আমি ব্লগে নতুন হলেও আপনার প্রায় প্রতিটি লিখাই আমি পড়েছি। সবগুলোই ভালো লেগেছে। কিন্তু কোনোদিন কমেন্ট করা হয় না। আজ একখানা করে দিলুম।

১৭ ই আগস্ট, ২০১৮ ভোর ৪:১০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:
দাদা, শুভেচ্ছা রইলো ৷রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টিকই বলেছেন ৷একটু আগে বিখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটি সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম; তিনিও বলেছেন এ বিষয়টি নিয়ে ৷

শিক্ষা ও গবেষণাখাতে সর্বনিম্ন ব্যয় করে কেবল বাংলাদেশই। এ খাতে মোট জাতীয় আয়ের দশমিক এক শতাংশও বরাদ্দ থাকে না। বিশ্বের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি গবেষণাকে প্রাধান্য দান করলেও আমাদের দেশে গবেষণাখাত সবচাইতে অবহেলিত। ইউজিসি’র ২০১৬ সনের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, দেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি ১৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার জন্য এক টাকাও বরাদ্দ রাখে নাই। এর মধ্যে সরকারি ১০টি আর বেসরকারি ৩১টি। আর নামেমাত্র বরাদ্দ রাখা হইয়াছে ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মোট ১৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৮১টিতে গবেষণা খাতের বরাদ্দ একবারেই নগণ্য। একসময় মৌলিক গবেষণায় নেতৃত্বদান করিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। গবেষণায় অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও মিলিয়াছে পুরাতন কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেই ঐতিহ্য ভুলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এখন কেবল ডিগ্রি প্রদানের কারখানায় পরিণত হয়েছে।

অপ্রিয় হইলেও সত্য যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিনে দিনে অজ্ঞানতার ‘ভাগাড়ে’ পরিণত হচ্ছে। শিক্ষকদের অনেকেই এখন সংকীর্ণ দলীয় লেজুড়বৃত্তি, টেলিভিশনের টক-শোতে ফাঁকা জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতাবাজি আর বিদেশি কনসালটেন্সি কিংবা এনজিওগুলিতে টাকার ধান্দায় ব্যস্ত সময় ব্যয় করছেন। কিন্তু গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াইলেই কি তা যথাযথভাবে ব্যয় হবে, মান বাড়বে? সন্দেহ থেকে যায় যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যত্সামান্য গবেষণা বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় করতে পারে না। বস্তুত, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ গবেষণাবান্ধব নয়।

শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রকাশনা গুরুত্ব না পাওয়ার কারণে শিক্ষকরা গবেষণায় উৎসাহিত হচ্ছে না। একজন শিক্ষক যদি মানসম্মত গবেষণা ও প্রকাশনা ছাড়াই নামমাত্র প্রকাশনা ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিবেচনায় অধ্যাপক হয়ে যান, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই গবেষণা কার্যক্রমে মনোযোগী হবেন না। তদুপরি রয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। একটি গবেষণা প্রস্তাব জমাদান হতে গবেষণা প্রতিবেদন পেশ করা পর্যন্ত অর্থ বরাদ্দ ও অনুমোদন পেতে যে পরিমাণ নাকানিচুবানি খেতে হয় তাতে অনেকেই গবেষণায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন এবং উন্নতির সহজ রাস্তায় হাঁটা শুরু করেন। তাই, একদিকে গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধি যেমন জরুরি, তেমনি এমন এক গবেষণাবান্ধব উচ্চশিক্ষা কাঠামো ও পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন যাতে শিক্ষকেরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গবেষণায় মনোযোগী হতে পারেন।

আমার লেখাগুলো চুপিচুপি পড়েন এজন্য কৃতজ্ঞতা রইলো দাদা; শুভ কামনা সব সময়, ভাল থাকবেন ৷

৪৮| ১৭ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১১:১৬

মোঃ আল মামুন শাহ্ বলেছেন: অসাধারণ। কি সুখ ও বিশ্লেষণ আপনার!

১৭ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১১:৩২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:
শুভেচ্ছা রইলো, মামুন ভাই ৷খুঁজে খুঁজে ব্লগ পড়েছেন এজন্য ধন্যবাদ ৷বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্তা ত্রুটিপূর্ণ; ইহা ছেলে মেয়েদের মেধা বিকাশের অন্তরায়; আমি নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে চেষ্টা করেছি বিষয়টি তুলে ধরতে, মানুষকে সচেতন করতে ৷

আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো ৷

৪৯| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:২৬

সূরযো বলেছেন: নাম্বার এর ইঁদুর দৌড়ে বাচ্চাদেরকে জোর করে ঠেলে দেয়ার ব্যাপারটি আমি কখনোই মেনে নিতে পারিনি। পোস্ট টি পড়ে Dorothy Leigh Sayers এর রচনা The Lost Tools of Learning এর কথা মনে পরে গেলো। অসম্ভব ভালো লাগার মতো একটি পোস্ট উপহার দেয়ার জন্য অভিনন্দন।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ভোর ৫:৩৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা রইলো ভাইজান৷দারুন একটি মন্তব্য দিয়ে আমাকে প্রেরণা দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ৷লেখাটি আপনার মতো গুণী মানুষের ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম৷শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য ৷

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.